Monday, October 3, 2016

গল্প: অদৃশ্য হাত

0 comments
একটা স্বপ্ন সে প্রায়ই দেখে। ইসতিয়াকের পাখা গজিয়েছে। পরীদের মত। সেই পাখা দিয়ে সে উড়ে বেড়াচ্ছে তার বাড়ির ছাদের উপর দিয়ে – খোলা রাস্তা, গাছপালা সবকিছুর উপর দিয়ে। এক ঝাক কবুতর আর কয়েকটা শালিক সাই সাই করে ছুটে চলে যায় তার পাশ দিয়ে। এভাবে অনেকক্ষণ পরীর মত পাখাগুলো মেলে উড়ে বেড়ায় সে, নিজের ইচ্ছেমত। একসময় সে উড়ে যেতে চায় আরো উপরে, আকাশের দিকে, যতদূর চোখ যায় – ওর মন চায় সূর্যটাকে ছুঁতে। উড়তে উড়তে সে চলে আসে একদম মেঘের রাজ্যে। মেঘের পর মেঘ কাটিয়ে সে উড়ে যায় দুরন্ত গতিতে। একসময় সে থামে। তার কি যেন একটা মনে হয় – দম বন্ধ হয়ে আসতে চায় তার। সে ফিরে যেতে চায় তার বাড়িতে, মাকে দেখতে। এমন সময় মেঘের মধ্য থেকে একটা হাত এসে তার হাতটা ধরে ফেলে। হাতটা অদ্ভুত নরম একটা হাত, কিন্তু ধরাটা খুব শক্ত, যেন সে পড়ে যেতে নিচ্ছে আর তাকে খুব শক্ত করে ধরে রেখেছে সেই হাতটা, বাঁচানোর জন্য। সে ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখতে চায়, কে তার হাতটা এমনভাবে ধরলো। চেহারাটা দেখতে যাবে ঠিক সেসময়ে তার ঘুমটা ভেঙে যায়। প্রতিদিনই এমনটা হয়।



+++++++++++++++


ইসতিয়াক ভার্সিটিতে এসেছে। ওর প্রতিদিনের অভ্যাস। অন্যমনষ্ক হয়ে সে তাকিয়ে আছে সুবর্ণার দিকে। সুবর্ণা অবশ্য খেয়াল করে না কখনো ব্যাপারটা। শুধু আনমনে মাঝে মাঝে কানের উপর এসে যাওয়া চুলগুলো সরিয়ে নেয় সে। তারপর আবার কথায় মনযোগ দেয়। হাতের নড়াচড়ায় চুড়ির আওয়াজটা স্পষ্ট শুনতে পায় ইসতিয়াক। কি বলবে বুঝে পায় না ইসতিয়াক। মনে মনে সে শুধু সৃষ্টিকর্তার প্রশংসা করে – কি নিপুন হাত তার!

সুবর্ণা তার কেউ হয় না। শুধুই ক্লাসমেট। ক্লাসমেটও না। তাদের সেকশন ভিন্ন। সৃষ্টিকর্তার খেলার নিয়মেই তাদের দেখা হয়ে যায় একদিন। ভাগ্যের সেই খেলাই আবার তাদেরকে নিয়ে এসে আজ বসিয়ে দিয়েছে ক্যান্টিনে! অবশ্য তারা একা নয়। তাদের সাথে বাগড়া দিতে এসেছে তারই আরেক ক্লাসমেট, সুবর্ণার ক্লাসেরই একটা ছেলে। অবশ্য সে এতে বিরক্ত হয় না। সে জানে যে অন্যকেউ থাকলে সুবর্ণা লক্ষ্য করবে না – আর সে সুযোগে আনমনে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারবে সে সুবর্ণার দিকে। তাই সে মেনে নিয়েছে ব্যাপারটা। ইসতিয়াক এক দৃষ্টিতে শুধু চেয়ে আছে ওর দিকে। মনে মনে শুধু ভাবছে, “তুই তো কিনেই নিয়েছিস আমায়!”

হঠাৎ টুংটাং শব্দে ইসতিয়াকের ধ্যান ভেঙে গেল। ক্যান্টিনের বয়টা চা নিয়ে এসেছে। ইসতিয়াক কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। নিজেকে সামলে নিতে নিতে গুনে দেখলো, দু'কাপ চা এসেছে। প্রথমে দুকাপেরই অর্ডার দেয়া হয়েছিল, ওরা দুজনই শুধু ছিল তখন। ঐ ছেলেটা আসার পর আর নতুন করে অর্ডার দেয়া হয় নি। বাগড়া দিক আর যা-ই দিক – চা কম থাকাটা সইবে না ঐ ছেলেটার। তাই সে তাড়াতাড়ি করে বলল, "মামা, আরেক কাপ লাগবে যে!”

বলতে বলতে নিজের কাপটা সুবর্ণার ক্লাসমেটের সামনে দিয়ে দিল। সুবর্ণা শুধু চায়ের কাপের দিকে এক পলক তাকালো, তারপর আবারও তার কথায় ব্যস্ত হয়ে গেল। বয়টা মাথা নাড়িয়ে চলে গেল, চা আনতে। ইসতিয়াক ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল, সুবর্ণার ডিস্টার্ব হয় নি তো?! নাহ, সুবর্ণার মধ্যবয়স্ক যুবতী চোখগুলো দিয়ে সে তাকিয়ে আছে ওর ক্লাসমেটের দিকে, খুব ভাল মনযোগ ওর। কিন্তু দুর্ভাগ্য! ইসতিয়াকের চোখগুলো সুবর্ণার মধ্যে আরেকবার ডুবে যেতে নিলো, ঠিক মুহূর্তেই সুবর্ণা তার দিকে তাকালো। "ইসতিয়াক ভাই, আজ উঠি। ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।"

একটু হতচকিত হয়ে সে বলল, “আরে, চা-টা তো শেষ করো… ভাই আপনি তো নিলেনই না।"

ছেলেটা তাড়াহুড়োয় শুধু বলল, “আজ না, আরেকদিন হবে।”

সুবর্ণা বলল, “আচ্ছা ইসতিয়াক ভাই, আসি।”

ইসতিয়াক চাইছিল সুবর্ণা আরেকটু থাকুক, আরেকটু কথা বলুক, আরেকটু তার নয়ন জুড়ানো চোখগুলোতে হারিয়ে যেতে পারুক সে। কিন্তু ভাগ্য সেই সুযোগ দিল না।

আসলে ইসতিয়াক সুবর্ণার জীবনে কিছুই না। সুবর্ণা যে সুন্দর গান গাইতে পারে সেটা শুনলে যে কেউ ওর জন্য পাগল হয়ে যাবে। সুবর্ণা সবকিছুতেই খুব ভাল। লেখাপড়ায়ও বেশ। তার একটা সুন্দর গুণ হচ্ছে সে সবার সাথে কথা বলে, বিপদে-আপদে সবার পাশে থাকার চেষ্টা করে। এভাবেই তো তার সাথে পরিচয় ইসতিয়াকের। ফার্স্ট ইয়ার ফাইনালের দিন সে কলম আনতে ভুলে গিয়েছিল। অনেক অন্যমনস্ক তো সে! তার ঠিত পাশেই সিট পড়েছিল সুবর্ণার – ভাগ্য যে কিভাবে মিলিয়ে দিল তাদের! তখন সুবর্ণা একটা কলম ধার দিয়েছিল। অদ্ভুত ব্যাপার হল কলমটা হাতে নেয়ার সময় ইসতিয়াকের মধ্যে কেমন যেন একটা উপলব্ধি কাজ করল। মনে হচ্ছিল যেন সারাজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা সত্য যেন সে উপলব্ধি করতে পেরেছে। অদ্ভুত ব্যাপার হল এই উপলব্ধিটা আর কখনো জীবনে কোন মেয়ের কাছ থেকে সে পায় নি। মনে মনে বলে সে, “বিশ্বাস কর, আমি তোর দেহের প্রেমে পড়ি নি রে, অন্যদের মত। আমি তোর মনের প্রেমে পড়েছি। তুই খুব ভালো একটা মেয়ে।”

চায়ের দাম দিয়ে সে উঠে গেল ক্যান্টিন থেকে।

ইসতিয়াকেরও ক্লাস আছে। তবে আধাঘণ্টা পর। কি করবে আর, সে লাইব্রেরির দিকে রওনা হল। ভার্সিটিতে তার আর কোন ক্লোজ বন্ধুও নেই, যে আড্ডা দিবে। তাই সে লাইব্রেরিতেই বেশিরভাগ সময় কাটায়।

লাইব্রেরিতে গিয়েই সে গ্রিক মিথোলজির মানে গ্রিক পুরাণের বইটা নিয়ে বসলো। ইংরেজি সাহিত্যে পড়ে সে। সুবর্ণাও পড়ে একই বিষয়ে। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রদের গ্রিক পুরাণের এসব কাহিনী জানা থাকা লাগে, নাহলে তো লোকে হাসবে! যদিও এগুলো কোনদিন সত্য ছিল না, শুধুই গল্প, তবে পড়তে কিন্তু খুব মজার। তখনকার গ্রিক লোকেরা দেব দেবীতে বিশ্বাস করতো। সেই দেব দেবীরা নাকি থাকতো "অলিমপাস” নামে এক পাহাড়ের উপরে। একেক দেবতার ছিল একেকরকম ক্ষমতা। কেউ ছিল যুদ্ধের দেবতা, কেউবা প্রকৃতির। তাদের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি, বাক-বিতণ্ডা আর প্রেম – এই সব নিয়েই যত কাহিনী। প্রসঙ্গ বোঝাতে বইয়ের পাতায় পাতায় অসংখ্য দেব দেবীর ছবি দেয়া আছে বইটায়। এক পাতায় লেখা, আরেক পাতায় ছবি। ছবিগুলো অবশ্য মোটেও শালীন নয়। সেসব ছবি দেখলে যেকোন মৌলভী টাইপ লোক দশবার তওবা করবে! কিন্তু লেখাপড়ার বিষয় তো, পড়তে তো হবেই।

পাতা উল্টাতে উল্টাতে একসময় ইসতিয়াক এসে পড়ে ভালোবাসার দেবতা কিউপিডের পাতায়। কিউপিড নাকি মানুষের মধ্যে ভালোবাসা জাগাতে পারতো। দেবতা হলেও সে বাচ্চা শিশুর রূপ ধারণ করতো এবং তার পিঠে তীর নিয়ে ঘুরে বেড়াতো। যার ভেতরে ভালোবাসা জাগ্রত করতে চাইতো তাকে তার জাদুময় একটা তীর মেরে বসতো। তীরের জাদুতে তখন সেই লোকটার ভিতরে ভালোবাসার আবেগ চলে আসতো!

সুবর্ণা বোধহয় তাকে ঠিক এমনই একটা তীর ছুড়ে মেরেছে! এজন্যই বোধহয় সে এতটা চাইতে শুরু করেছে সুবর্ণাকে। যদিও সুবর্ণা কিছুই জানে না এসবের। এত কাছে থেকেও সে জানে না কোনকিছু – ব্যাপারটা কেমন যেন লাগে ইসতিয়াকের। কাছের এক বন্ধুকে যেমন আরেক বন্ধু কোন খবর জানাতে চায়, ঠিক তেমনি বলে ফেলতে ইচ্ছে করে, “এ্যাই জানিস! আমার না তোকে ভাল লাগে। কেন জানিস? তুই অন্যদের থেকে অন্যরকম তো, তাই।” ভেবে মনে মনে হাসে ইসতিয়াক। কিন্তু না, জানানো যাবে না। সে চায় তার বলাটা স্পেশাল হোক। এটা নিয়েই সে ভাবে শুধু আজকাল। সে অন্যদের মত শুধু কয়েকটা মুখস্থ শব্দ বলতে চায় না। তার ভালোবাসা তো আর অন্যদের মত নয়, অন্যদের মত প্রকাশ করলে চলবে না। মনে মনে বলে সে, "কিভাবে বলি তোকে? কিভাবে বলি ভালোবাসি?”

++++++++++++++++

আবারও সেই স্বপ্ন।

আজকাল বেড়ে গেছে স্বপ্নটা। এখন সে প্রতিদিন দেখে স্বপ্নটা। ঐ আগের স্বপ্নই। কিন্তু কোনদিন সেই চেহারাটা দেখতে পায় না সে।

একদিন এক পলক দেখেছিল চেহারাটা। কিন্তু ইসতিয়াকের মা সেদিন এমনভাবে তাকে ঘুম থেকে ডেকেছিল যে কবরস্থানের লাশও বোধহয় উঠে যাবে। উঠে দেখলো ডাকের তোড়ে সে সব ভুলে গেছে।

ওঠার পর দাত ব্রাশ করতে করতে সে মনে করার চেষ্টা করলো চেহারাটা। কিন্তু নাহ্! কিছুতেই মনে পড়লো না।

+++++++++++++++++

ক্যাম্পাসে তুমুল বৃষ্টি। সকালে রোদ ছিল, কিন্তু বেলা গড়াতে গড়াতে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। ক্যাম্পাসের খোলা আকাশের নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছেলে মেয়েগুলো সব দৌড়ে দৌড়ে দালানের আশ্রয়ে চলে আসতে শুরু করলো – বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য।

ইসতিয়াক এতক্ষণ দেখছিল এসব কাণ্ড। তার মত আরো অনেকে ভীড় জমিয়েছে করিডোরে, বৃষ্টি দেখবে বলে। ভিড়ের জোড়ে রেলিংয়ের কাছে যাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক কষ্টে মোটামুটি ঠেলে ঠুলে সে রেলিংয়ের কাছে চলে আসলো। সারাজীবনে অনেক বৃষ্টি দেখেছে সে। কিন্তু এই বৃষ্টিটার মায়া কেন যেন অন্যরকম লাগলো তার কাছে। বোকার মত ফ্যাল ফ্যাল করে সে দেখছিল বৃষ্টির দৃশ্য। কেন যেন আজ বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটাকে কাছে গিয়ে স্পর্শ করতে ইচ্ছে করছে তার। কি অপরূপ সুন্দর সে দৃশ্য! হাত বাইরে দিয়ে কয়েকটা বৃষ্টির ফোঁটাকে অনুভব করতে চাইলো। কিন্তু মনে হয় পারলো না।

এমন সময় তার খেয়াল হল, সুবর্ণা কোথায়? সে কি এসেছে আজ? মনে মনে ভাবে সে, “যখন তোকে খুব দরকার,  তখনই পাই না কাছে।"

নাহ! যে করেই হোক-- আজ খুঁজতেই হবে সুবর্ণাকে। করিডোরে থাকা মেয়ে ছেলেগুলোকে প্রায় ঠেলেঠুলে সে খুঁজতে লাগলো সুবর্ণাকে। তার যেন কোন রুমে ক্লাস আজ? খুঁজতে খুঁজতে মনে হল পুরো ভার্সিটিটা অন্যদিনের চেয়ে আজ অনেক বড় হয়ে গেছে। এত বড় ভার্সিটিতে কিভাবে খুঁজে করবে সে আজ সুবর্ণাকে?

প্রায় দৌড়াতে দৌড়াতে ইসতিয়াক এসে পড়লো সুবর্ণার ক্লাসরুমের কাছে। ক্লাসরুমের দরজায় দেখা হয়ে গেল সুবর্ণার এক ক্লাসমেটের সাথে। ক্লাসমেটকে হাঁপাতে হাঁপাতে জিজ্ঞেস করলো, “সুবর্ণা কোথায়? জানো কিছু?”

“কি জানি ভাই, বলতে পারলাম না।”

ক্লাসরুমের ভেতরে ঢুকে দেখে প্রায় জনশূণ্য রুম। সবাই বাইরে বৃষ্টিমুখর পরিবেশ উপভোগ করছে। গুটিকয়েক লোকজন ক্লাসের ভিতর ছিল। তারা এদিক সেদিক অলস সময় কাটাচ্ছিল। কেউ কেউ আড্ডা দিচ্ছিল, আর কেউ মোবাইল ফোনে ব্যস্ত। কিন্তু কোথাও সুবর্ণাকে দেখা যাচ্ছে না। একজনকে কাছে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলো, “ভায়া, সুবর্ণাকে দেখেছেন? আজ এসেছে ও?”

সে বলল, “হ্যাঁ, একটু আগে তো এখানেই ছিল। এখন...”

ইসতিয়াক শুধু বললো, “ধন্যবাদ...” বলেই ছুটে পালিয়ে গেল ক্লাসরুম থেকে। সে জানে কোথায় গেছে সে।

যে দালানটাতে এতক্ষণ ছিল সে, তার ঠিক পিছনেই একটা বড় ফুটবল মাঠ। সেখানটাতে অনেক সময় কাটিয়েছে ইসতিয়াক আর সুবর্ণা। তার মন বলছে ওখানেই তাকে পাবে সে। মোটামুটি আরেকটা দৌড় লাগালো সে।

হুম, ঠিক তাই। আসলেই একদম পারফেক্ট। এরকমটাই চাইছিল সে। পরিবেশটা একেবারে কল্পলোকের মত। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। বিশাল এক সবুজ মাঠ, ঘাসে ঢাকা। লোকজন বলতে গেলে নেই। একজোড়া স্যান্ডেল হাতে নিয়ে কে যেন একজন দাড়িয়ে আছে। পড়নে তার একটা নীল – নাহ, আকাশী রঙয়ের জামা, আর দুহাতে নীল রঙয়ের চুড়ি। বিশাল সেই সবুজ মাঠের বুকে ছোট্ট সেই মানুষটাকে একটা নীল-আকাশী পরীর মত লাগছিল।

ইসতিয়াক ধীরে ধীরে কাছে যায় তার, একদম ধীর পায়ে – যাতে সে টের না পায়। হাঁটতে গিয়ে মনে হচ্ছিল সামান্য ঘাসও যেন অনেক উচু গর্জন করছে আজ -- তার নীরব উপস্থিতি যেন প্রকাশ করে দিতে চাইছে ঐ পরীটার কাছে। তারপরও ঘাসের উপর পা বুলিয়ে ধীরপায়ে সে এগিয়ে গেল, ঐ পরীটার দিকে। একসময় সে এসে পড়লো প্রায় তার পাশাপাশি। আড়চোখে সে তাকিয়ে দেখতে পেল পরীটা চোখ বন্ধ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে – বাম হাতে স্যান্ডেল জোড়া ধরা আর ডান হাত দিয়ে বাম হাতটাকে ধরে রেখেছে। মাথাটা আলতোভাবে অন্যপাশে হেলে রেখেছে। তার ঘাড়ের চামড়ার উপর অলসভাবে কিছু ভেজা চুল এসে বিশ্রাম নিচ্ছে। চুলগুলো সরে যাওয়ায় দেখতে পেল, তার কানে একটা নীল ঝালর যেন তারই অপেক্ষায় দোল খাইছে মাঝে মাঝে।

ইসতিয়াক মনে মনে বললো, “আমি পারবো না। আমি পারবো না রে। আমায় মাফ করে দিস।”

বৃষ্টির মাঝেও মেঘের দল ভর করলো তার মনে। বেদনার বৃষ্টিস্নাত হতাশা নিয়ে সে ফিরে যেতে চাইলো। সে পা বাড়ালো উল্টো দিকে। শুধু শুধুই জামা কাপড় ভিজিয়েছে সে… বন্ধুরা দেখলে তো হাসবে। ব্যাগে থাকা রুমালটা দিয়ে মাথাটা মুছে ফেলতে হবে, নাহলে ঠাণ্ডা লেগে যাবে--এগুলোই ভাবছিল সে। হঠাৎ করে একটা হাত এসে তার হাতটা ধরে ফেললো। হাতটা অদ্ভুত নরম একটা হাত, কিন্তু ধরাটা খুব শক্ত, যেন সে পড়ে যেতে নিচ্ছে সে অবস্থায় তাকে খুব শক্ত করে ধরে রেখেছে সেই হাতটা, বাঁচানোর জন্য। তাহলে কি ইসতিয়াকের আনমনে তাকিয়ে থাকা সবই বুঝতে পেরেছিল সে?

আদনান শামীম, ১৯/০২/২০১৬
এডিট: ১২/০৭/২০১৬
Continue reading ...
Blogger Tricks

Thursday, May 7, 2015

গল্প: রাহির গল্প

1 comments
রাহির গল্প

রাহির সাথে সুমনের দেখা হয় না অনেক দিন। দুপুরগুলো খুব নীরবে কাটে তার। খুব নীরব। মাঝে মাঝে মনে হয় পুরো পৃথিবীটাই তার সাথে রাগ করে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। কি অদ্ভুত নিস্তব্ধ শহর -- সে অবাক হয়। রোদটাও কেমন যেন বাজে রকমের একঘেয়ে। ভরা দুপুরের নীরবতাকে কিছুটা হালকা করতে কিছু তৃষ্ণার্ত কাক কোথায় যেন কা-কা করে বেড়ায় মাঝে মধ্যে। কিন্তু সেটা রাহির মনে এতটুকু স্বস্তি দেয় না।

বড় একা রাহি। নীরব দুপুর যেন তার একাকীত্বকে আরো ঘণীভূত করে দেয়। তার মনের দুঃখগুলো এই একাকীত্বের সুযোগে যেন আতশীকাচেঁর মধ্য দিয়ে বড় হয়ে দেখা দেয়। মাঝে মাঝে এই দুঃখগুলোকে ভুলে থাকতে চায় সে। আবার মাঝে মাঝে হাল ছেড়ে দেয়। মাঝে মাঝে হেডফোনে গান শুনে মনকে ভুলিয়ে রাখে।

“কি হয়েছে তোর?” – আগে প্রায়ই জিজ্ঞেস করতেন রাহির মা। রাহির মা অতটা শিক্ষিত না। রাহি এখন স্কুল কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। রাহির মা তাই তার শিক্ষিত মেয়েকে তেমন একটা ঘাটাতে সাহস পান না। বলে বলে ক্লান্ত হয়ে একসময় তিনি তার নিজের কাজে মন দেন।

রাহি প্রায় একমাস হল ভার্সিটিতে যায় না। কেউ তাকে ফোনও দেয় না -- তার ফোন বন্ধ তাই। কি যেন হয়েছে তার, শুধু বাসায় বসে দিনযাপন করে সে। ঠিকমত খায় না, কথা বলে না। ঘড়ির কাঁটা বা ক্যালেন্ডার – কোনটার হিসেবের দিকেই তার কোন মন নেই।

রাহি শুধু ভাবে। মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেয়। বিশ্রাম নিয়ে তারপর আবার ভাবে। কি ভুল করেছিল সে? তার সঙ্গে যা হয়েছে তা তো অন্যকারো সাথেও হতে পারতো। তার সাথেই কেন। তারপর কিছুক্ষণ সবকিছু চুপ। একদম নিশ্চুপ। যেন পুরো পৃথিবীটা তার পরবর্তী কথা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছে। তারপর পুরো জীবনটা ভেসে উঠে তার মনের কল্পনায়।

রাহির আজ একটু ভাল লাগছে। মাসখানেক পর সে আজ প্রথমবার গোসল করলো। অনেক হালকা লাগছে তার এখন। মনে হচ্ছে শরীরের ময়লার সাথে তার মনের সব দুশ্চিন্তাগুলোও ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। মনটা অনেক ফুরফুরে হয়ে গেছে। এখনই পৃথিবীটাকে জয় করে ফেলতে মন চাইছে তার।

এমনই মুহূর্তে জানালায় হালকা একটা টোকার মত আওয়াজ হল। রাহির চুলে তখনো তোয়ালে জড়ানো। জানালাটা বারান্দার সাথে। সে আলতো পায়ে জানালার কাছে গেল। একটু ইতস্তত করে জানালা দিয়ে তাকালো। নাহ্ বোঝা যাচ্ছে না। তার হালকা ভেজা গায়ে তখনো পসাধনীর ছোঁয়া লাগেনি। কিন্তু তা-ও তার কৌতুহল সইলো না। ওড়নাটা গায়ে জড়িয়ে বারান্দার দিকে এগিয়ে গেল। টোকাটা কিছুই নয়। শহরে এরকম কত শব্দ শোনা যায়। কিন্তু কেন যেন তার মনে হচ্ছে এই টোকাটা অন্যরকম ছিল। সে বারান্দার দিকে পা বাড়াতে বাড়াতে ভাবছিল ঢিলটা যে মেরেছিল সে খুব ঝানু। নাহলে বারান্দা টপকে এই ঢিল... একি!

রাহি যেন অবশ হয়ে গেল। তার স্থির চোখ দুটোতে ভয় আর ঘৃণাভরা এক অভিব্যক্তি। সে অবাক-নির্বিকার। সেই কুৎসিত চেহারাটা... ইস! যাকে সে একমাস ধরে ভোলার চেষ্টা করেছে, সেই ভয় এখন তার সামনে।

কি করবে এখন সে? বুঝতে পারছে না। আকস্মিকতায় সে বসে পড়ে বারান্দায়ই। তার বুক থেকে গলা বেয়ে কান্না আসতে চাইছে। সেটা সে মুখে হাত চেপে সইছে।

কি করবে এখন রাহি? নিশ্চুপ-নির্বিকার সে চুপচাপ বসে রইল। কতক্ষণ কেটে গেছে সে জানে না। কতক্ষণ? এক সেকেন্ড, দুই সেকেন্ড, দুই ঘণ্টা? জানে না। সবকিছু যেন তার নতুন মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে এই পৃথিবীর আকাশ, পৃথিবীর বাতাস সবকিছুই নতুন। এই নতুন বাতাসে শ্বাস আঁটকে যাচ্ছে তার। এই পৃথিবীর আকাশ চিড়ে যদি অন্য কোথাও যেতে পারতো সে। যদি নতুন কোন এক গ্রহে বসবাস শুরু করতো সে। শুধু একা, আর কেউ থাকবে না।

“রাহি!” হঠাৎ তার নিজের নাম শুনে চমকে ওঠে রাহি। পিছনে ফিরে দেখে তার মা। “খেতে আসবি না? খেয়ে নে চল।” রাহি তার মায়ের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। কয়েক মুহূর্ত পর তার খেয়াল হয় সেই আগন্তুকের। ভীতচোখে সে তাকায় রাস্তার দিকে। কই, কোন মানুষ তো নেই! তাহলে কি কুৎসিত মানুষটা কেবলই তার কল্পনা?

“হুম, আসছি” মার দিকে না তাকিয়েই সে জবাব দেয়। তার মা চলে যায় আর সে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। যদিও তীব্র অপরাধবোধ তার মন থেকে কাটে না, কিন্তু ক্ষণিকের জন্য স্বস্তি পায় সে।

নাহ্ সব তার মনের ভুল। নিজেকে আনমনে দোষারোপ করে সে – পাগলী, ও তোমার বাসা চিনবে কি করে? তুমি কি ওকে কখনো বাসায় এনেছ? উহুম, মোটেও না। নিজেকে দোষারোপ করতে করতেই সে উঠে পড়ে খেতে যাবে বলে। নিজেকে সামলে নেয় সে। নিজেকে বোঝায়, কিচ্ছু হয়নি, কিচ্ছু হয়নি। আসলে সব মনের ভুল। সে কখনো... একি! ঢিলটা এলো কোত্থেকে বারান্দায়?

।।।

কতক্ষণ ধরে ঘুমানোর চেষ্টা করছে সে। কিন্তু ঘুম আসছে না। শুধু এপাশ আর ওপাশ। চোখ বন্ধ, কিন্তু ঘুম আসছে না। ভুলে থাকার চেষ্টা করছে রাহি, কিন্তু বার বার সেই চেহারাটা ভেসে উঠছে মনে। কুৎসিত ভয়ংকর সেই চেহারাটা।

অথচ সেদিনও চেহারাটা কত প্রিয় ছিল। ভার্সিটির সবচেয়ে প্রিয় মানুষ ছিল সে। তাকে ছাড়া ক্যান্টিনে খাওয়া, আড্ডা -ভাবাই যেত না। সবসময় হাসিমুখটা কেমন এখন কুৎসিত লাগে তার কাছে। ভাগ্যিস সুমনকে সে পেয়েছে ভাবার জন্য। নাহলে সেই কুৎসিত মুখটা তার জীবনকে আরো বিষিয়ে দিতে পারতো।

করিডোরে সেই ঘটনাটা হওয়ার পর থেকেই তাকে এড়িয়ে চলে রাহি। সে তাকে কতবার বলেছে, “দ্যাখ, তুই এগুলো করিস না। লোকে আমাকে খারাপ ভাববে।” মারুফ কিন্তু নাছোরবান্দা, সে বলে “লোকে মাইন্ড করলে আমার কি? আমি তো তোর ফ্রেন্ড।” রাহি কিছু বলতে পারে না। বলতে পারে না যে হঠাৎ হঠাৎ তার হাত ধরাটা রাহির সহ্য হয় না রাহির। সুমন দেখে ফেললে কি হবে! – সে তো রাতে ঘুমাতেই পারবে না। ও একটু সেনসিটিভ কিনা! তবে ছেলে খুব ভাল।

দুই বছর যাবত রাহি-সুমনের প্রেম চলছে, অথচ মারুফরা কিছুই জানে না। লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করছে তারা দু দু’টি বছর। রাহি খুব ভালোবাসে সুমনকে, কিন্তু সুমন তা জানে না। সুমন জানে সে ভেবে দেখছে!

রাহি মাঝে মাঝে ভাবে, মানুষ এত ভাল হয় কি করে? সুমনকে সে যা-তা বলে, অথচ সে বেহায়ার মত আবার তার কাছে আসে। সে কোন দোষ না করলেও রাহির কাছে সে উল্টো ক্ষমা চায়। মনে মনে হাসে রাহি, “বোকা ছেলে!”

তবে এই বোকা ছেলেটাকেই মন দিয়ে ফেলেছে সে! কেন যেন তাকে দেখলে আর কাউকে ভাল লাগে না, আর কাউকে নিয়ে ভাবতে ইচ্ছে করে না। সুমনকে ভেবে ভেবে সে বোধহয় দিন পার করে দিতে পারবে কিন্তু ওর ভাবনা ফুরোবে না!

এই ভালোবাসার গল্পে মারুফ এসেছে কাবাবে হাড্ডির মত। ওকে যে কিভাবে বোঝাবে সে। বন্ধু মানুষ, কিছু বলতেও পারে না। তবে ওর সাহচর্য ভাল লাগে তার। ও খুব ফানি তো! ওকে ছাড়া আড্ডাই জমে না। কিন্তু মারুফ যে এমন একটা জঘণ্য কাজ করবে সেটা সে ভাবতেও পারে নি। না না। মনকে বোঝায় সে, “কিচ্ছু হয় নি। সব কল্পনা। সবকিছু ঠিক আছে।”

কিন্তু মন তো বাধা মানে না। মারুফকে নিয়ে এখনও তার চিন্তা শেষ হয়নি। কেন এমন করলো মারুফ? ওকে তো সে বিশ্বাস করেছিল।

নাহ্, আর ভাল লাগছে না। সে উঠে চলে গেল বারান্দায়। আজকের জোৎন্সাটা না অসাধারণ! মনে মনে সে কল্পনা করে, সুমন এসে তার হাতটা ধরলো। সুমন তার দিকে হাসিমুখ নিয়ে তাকিয়ে আছে। খুব ভাল লাগছে রাহির। ঠিক তখনই একটা হালকা বাতাসের ছোঁয়া এসে তাকে স্বর্গীয় আনন্দ দিয়ে গেল।

।।।

সকালে রাহির ঘুম ভাঙে তার মার ডাকে। “রাহি! রাহি! এই রাহি ওঠ তো। দ্যাখ কে এসেছে তোর সাথে দেখা করতে!”

রাহি বিরক্ত। “কে?”

“আরে ওঠ তো।”

“কে আসবে আমার সাথে দেখা করতে?” বলে পাশ ফিরে ঘুমানোর চেষ্টা করে সে।

“আরে তোর ভার্সিটি থেকে একটা ছেলে এসেছে।” একথা শুনে সে ঝট করে উঠে পড়লো। মনে মনে ভাবলো, সুমন না তো? এবার আর সে ভুল করবে না। ক্ষমা চেয়ে নিবে সে। মারুফ যা করেছে তা সবকিছু বলে দেবে। প্রয়োজন হলে পা ধরে ক্ষমা চাইবে সে।

উত্তেজনায় তার গলা ধরে আসছে। কোন রকমে বলল, “কোথায়?”

“ড্রইংরুমে বসে আছে। সে কে হয় রে তোর? চিনিস তো?” তার মা-ও বুঝতে পারছে না কি ব্যাপার স্যাপার।

রাহি যেন তার মার কথাটা শুনতেই পায় নি। সে কি করবে বুঝতে পারছে না। সুমন এতদিন পর এসেছে, আর সে এভাবে দেখা করবে। পাগলীর মত দেখাচ্ছে তাকে। আয়নায় তার নিজের চেহারা দেখে লজ্জা পায় সে। কিন্তু সেটা মা-কে বুঝতে দেয় না।

সে বুঝতে পারছে না এখন সে কি করবে। মেকাপ করবে? হাতমুখ ধুবে? কাপড় কি চেঞ্জ করবে? তাকে সুন্দর দেখা গেলে হয়তো সুমন তাকে ক্ষমা করে দেবে। সে যখন এসব ভাবছিল ঠিক তখনই হঠাৎ করে কোথা থেকে যেন একটা ফেরেশতা বলে উঠলো, “রাহি, অনেস্ট হ। যেভাবে আছিস সেভাবে যা। ওকে ভুলিয়ে ভালিয়ে ক্ষমা নিস না।” অনেক ভেবে চিন্তে সে কেবল হাত মুখ ধুয়ে, চুলটা আছড়ে নিল। রাহি যখন চুল আছড়াচ্ছিল, তখন আয়নার ওপারের রাহির সাথে তার চোখাচোখি হচ্ছিল। সেই মনের ফেরেশতা তখন বলল, “তুই নষ্টা। তুই নষ্ট হয়ে গেছিস। ও তোকে জীবনেও ক্ষমা করবে না। ...তুই অনেক ছোট হয়ে গেলি রে!” কথাগুলো শুনে তার একটু ভয় হচ্ছিল। সে যদি তাকে ক্ষমা না করে? সুমনকে ছাড়া সে বাঁচবে কি করে?

রাহি মাকে বলল, “মা, তুমিও চলো আমার সাথে।” আবার কি একটা ভেবে বলল, “থাক তুমি ভেতরে চলে যাও, আমি না ডাকলে এসো না।”

সে একাই ড্রইংরুমের দিকে হাঁটা দিল। হাঁটতে হাঁটতে সে ভাবছে, কিভাবে কথাগুলো বলবে। সে পারবে – মনে মনে ভাবছে সে। কলেজজীবনে বাণিজ্য মেলায় সেলস গার্লের কাজ করেছিল সে, এয়ার কন্ডিশনের। আঠারোটা সেল করেছিল সে! সবাইকে টেক্কা দিয়েছিল তার সেলের পরিমাণ। সে কথায় না পারলে, আর কে পারবে? মনের ফেরেশতা আবার বলল, “কথা দিয়েই কি সব হয়? তুই তো নষ্টা। তোর কথায় কেউ বিশ্বাস করবে না।... ক্ষমা পাবি না... ক্ষমা পাবি না... নষ্টা মেয়ে।” এখন তার মনে পড়লো, কি নিষ্ঠুর আচরণ করত সে সুমনের সাথে। সুমনের সাথে রাগ করে সে কথা বলতো না, সে ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করতো না। কি নিষ্ঠুর এক নির্দয় মেয়ে ছিল সে। তার আরো ভাল মেয়ে পাওনা ছিল। রাহির চেয়ে মারিয়াকে সুমনের সাথে বেশি মানাতো। মারিয়া নামে একটা মেয়ে পড়ে ওর ক্লাসে। মেয়েটা অনেক ভদ্র। ওকে খুব পছন্দ হত সুমনের...

এসব ছাইপাশ ভাবতে ভাবতে সে একসময় ড্রইংরুমের পর্দার সামনে চলে এলো। পর্দার ওপারেই সুমন তার জন্য অপেক্ষা করছে। একটা বড় শ্বাস নিল, তারপর নিশ্বাস ছাড়লো। আর সইলো না, পর্দা সরিয়ে ফেলল সে। সরিয়ে ও যা দেখলো তাতে সে নিজেকে আর বিশ্বাস করতে পারল না। ওর জন্য সে এত প্রস্তুতি নিল, এই দানবটার জন্য? একটু ধাতস্ত হতেই ভাবলো এই হায়েনাটা আমার ঠিকানা পেল কি করে? সেকি মাকে সব বলে দিল নাতো? নষ্টা মেয়ের গল্পটা কি সবার জানা হয়ে গেল তাহলে? নিজের অজান্তেই সে বসে পড়লো কাছের একটা সোফায়।

“কেন এসেছিস?” চোখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল সে। “তোকে আমি চিনি না। তুই চলে যা।”

“কেন? কথা বলবি না?” মারুফের নির্লিপ্ত উত্তর।

রাহির মুখ ঘৃণায় ভরে উঠলো, “তোকে আমি পুলিশে দিব।”

“রাহি, দোস্ত, একটা কথা শোন। দ্যাখ, তুই আমাকে ভুল বুঝছিস।”

রাহি দাড়িয়ে গেল, “তুই বেরিয়ে যা।” চোখগুলো তার মাতালের মত লাল হয়ে গেছে। “আর জীবনে কখনো আমার সাথে কথা বলবি না।”

রাহি ভেতরে চলে যাচ্ছিল। তখনই মারুফ বলল, “রাহি, আমরা ফান করেছিলাম। সেদিন আসলে কিছুই হয় নি।”

“কি?” রাহি অবাক।

“তুই যেদিন আমাদের সাথে বেরিয়েছিলি সেদিন ঘুরতে ঘুরতে তুই অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলি। তুই জ্ঞান হারানোর পর আমি আমার ডাক্তার বন্ধুকে ফোন দিয়ে সিম্পটম বললাম। সে বলল চিন্তার কোন কারণ নেই, কাছাকাছি কোন হাসপাতালে নিয়ে গেলেই হবে। আমি তখন দেখলাম যে তোর অবস্থা বেগতিক, হাসপাতালে নিতে গেলে সময় লাগবে। তখন আমার বন্ধু একটা ইঞ্জেকশনের নাম বলল। সেটা কাছের একটা ফার্মেসি থেকে নিয়ে এসে পুশ করে দিলাম।”

মারুফ একটু থেমে লক্ষ্য করল রাহির অবস্থা। রাহি একটু একটু করে শান্ত হচ্ছে। “তুই তো জানিস আমি কেমন। ভাবলাম এই তো সুযোগ। তুই ওঠার পর কাহিনী বানালাম যে আমি ড্রাগ ডিলার। ভার্সিটির সব সুন্দরীদের কাছে আমি ড্রাগস বিক্রি করি। সুন্দরী হওয়ার জন্য এই ড্রাগস সবাই নেয়। ভার্সিটিতে এটা খুব জনপ্রিয়। ... আমি তোকে এই ড্রাগ পুশ করে এডিকটেড বানিয়ে দিয়েছি। ... আরে আরে!”

কথাটা শেষ হওয়ার আগেই সোফার বালিশ দিয়ে মারুফকে মারা শুরু করে দিল রাহি।

“তুইও বোকা, এসব গালগপ্পো বিশ্বাস করে আনারের মত সুন্দর চেহারাটাকে পেয়ারার মত বানিয়ে রেখেছিস! সুন্দর হওয়ার জন্য আবার ড্রাগস! হাহাহা!” মারুফের মুখে শয়তানের হাসি।

“তুই জানিস, আমি কি অবস্থার মধ্যে কাটিয়েছি। আমি তো আত্মহত্যাও করতে পারতাম, ঠিক না?” এখনও রাগ আছে রাহির।

“আমি তোর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তোর ফোন বন্ধ পেয়েছি। এতদিন ফোন বন্ধ, ভার্সিটিও যাস না – এসব দেখে খোঁজ নিলাম তোর বান্ধবীদের কাছ থেকে। তারপর নিজেই সেদিন চলে এসেছিলাম তোর বাসায়।”

রাহির রাগ তখনও থামে নি। মারুফ বলছেই, “সেদিন জানিস, আমি তোকে খুব ভয় পেয়েছিলাম রে! ভয়ে তোর দরজা পর্যন্ত আসতে পারি নাই। তাই জানালায় ঢিল ছুড়েছিলাম। তুই আসলি না। ... থাকতে না পেরে আজ বাসায় চলে এলাম। স্যরি, মাফ করে দে।”

“এতদিন পর এসেছিস ক্ষমা চাইতে? আমি তোকে কক্ষনো...”

“আমি জানি আমি ভুল করেছি। কিন্তু আমি এত বোকা না। আমি প্রস্তুতি নিয়েই এসেছি। দরজার বাইরেই ওকে দাড় করিয়ে রেখেছি!”

ও বুঝতে পারছে না, ওর কান কি ধোকা দিল? সে বলতে কে? মারুফ কি তাহলে আগে থেকেই জানতো? সব চিন্তা বাদ। সে আজ সবকিছু উসুল করে নিবে, এতদিন সে কোথায় ছিল? দেখি হতচ্ছাড়াটা কোথায়। দরজা খুলে সে দেখে রেলিংয়ে ঠেস দিয়ে দাড়িয়ে আছে সুমন।

রাহির রাগ কোথায় যেন উবে গেল। রাহি কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই নিজেকে আবিষ্কার করলো সুমনের আলিঙ্গনে। রাহি জানে না কতক্ষণ কেটেছে। রাহি শুধু অনুভব করছে। রাহি তার কানের কাছে গিয়ে বলল, “ভালোবাসি।”

সুমন মনে মনে অনেক খুশি হয়েছে, কিন্তু সেটা লুকাতে চাইলো। “এতদিন লাগলো?”

সে এখন অনুভবে ব্যস্ত। এতকিছু বলার সময় নেই তার, “স্যরি।” মিনিটখানেক পর বলল, “প্রমিস। আর কক্ষনো এমন করবো না।”

“এখন থেকে কিন্তু প্রতিদিন বলতে হবে।”

“আচ্ছা।”, সম্মতির সুর রাহির গলায়।

সুমন জিজ্ঞেস করে, “কোনটা বলবে বুঝেছ?”

“স্যরি।”

____________________________________
( লিখেছেন আদনান শামীম )
Continue reading ...

Monday, May 4, 2015

অনুবাদ: হারতে হারতে জেতার উপায়

0 comments
আমি আমার শৈশবকালের অনেকটাই আঁকার মধ্যে কাটিয়েছি। যখন আমি কলেজে ভর্তি হলাম, তখন আমি পেন্সিলের ব্যবহার বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করেছি। আমার শিক্ষক ছিলেন খুব ভাল একজন শিল্পী, নাম উইল রেইম্যান।

তাকে খুশি করার জন্য আমি আমার সবচেয়ে ভাল কৌশলগুলো আমার কাজে দেখানোর চেষ্টা করছিলাম: বিভিন্ন রকম লাইন, বিভিন্ন শেড মিলিয়ে দেয়া। একদিন আমি মনযোগ দিয়ে আঁকছিলাম। হঠাৎ করে আমার স্কেচ প্যাডের উপর টুপ করে কি যেন একটা পড়লো। দেখি সেটা একটা মেকানিকাল ড্রাফটিং পেন।

“এখন থেকে এটা দিয়ে আঁকবে” রেইম্যান স্যার বললেন। আর তিনি শয়তানের মত একটা হাসি দিয়ে চলে গেলেন।

উফ, কলমটাকে যে আমি কি পরিমাণ ঘৃণা করতাম! সেটা দিয়ে শুধু একইরকম গাঢ় কালো লাইন আঁকা যেত। এতে করে আমার পেন্সিলের বিভিন্ন চালাকিগুলো কাজে লাগাতে পারছিলাম না। আপনি হয়তো ভাবছেন যে আমার শিক্ষক আমাকে সাহায্য করতেন অথবা, একটু ছাড় দিতেন। কিন্তু না। তিনি আমার কুৎসিত কালির আচড়ে আঁকা ড্রইংগুলো দেখে চিৎকার করে বলতেন, “ওহ ঈশ্বর,” আর মাথাটা হাত দিয়ে এমনভাবে চেপে ধরে হেঁটে চলে যেতেন যেন তার মাথায় মাইগ্রেনের ব্যাথা আছে। এর ফলে আমার আর্টের গ্রেডে রীতিমত ধ্বস নামলো। আমি ভীষণ হতাশ হয়ে গেলাম।



কয়েক সপ্তাহ পরে, আমি যখন আরেকটা ক্লাসে আমার কলঙ্কিত কুৎসিত কলমটি নিয়ে বসে ছিলাম, তখন একটা ঘটনা ঘটলো। ক্লাসের মাঝেই আনমনে, আমি কলমটা হাতে নিয়ে খাতার উপর নাড়ছিলাম। পরে দেখি, ওগুলো অদ্ভুত সব চিহ্ন তৈরি করেছে। কিছু বৃত্ত, অর্ধ্ববৃত্ত, দাগ ইত্যাদি।

এই ঘটনার পর আমি পরবর্তী যে ছবিটি আঁকলাম সেটি একটি প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিল। প্রতিযোগিতার একজন বিচারক জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তুমি কিভাবে বুঝলে যে ড্রাফটিং পেন দিয়ে এরকম ছবি আঁকা যায়?”

আমি জবাব দিয়েছিলাম। “আমি ব্যর্থ হয়েছিলাম। বার বার, অনেকবার।”

তারপর থেকে আমি অনেকবার ব্যর্থতাকে আনন্দের সাথে গ্রহণ করেছি, আমার নিজের এবং অন্যদের ক্ষেত্রে। আমার জীবনের বিদ্যালয়ে আমি শিখেছি সফল ও ব্যর্থ মানুষদের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়। পার্থক্যটা হলো যে সফল মানুষেরা ব্যর্থ হন বেশি

আপনি যদি ব্যর্থতাকে একটি দৈত্য হিসেবে চিন্তা করে থাকেন, যেটি আপনার পেছনে তেড়ে আসছে, অথবা আপনার জীবনকে পুরোই ধ্বংস করে দিয়েছে, তাহলে আরেকবার একটু ভাবুন। সেই দৈত্যটিই আপনার জন্য উপকারি এক শিক্ষক হতে পারে। আপনাকে হয়তো সে এমন সব সফলতার মুখ দেখিয়ে দিতে পারে যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।

হেরে যাবার ইচ্ছাকৃত বেদনা

আমার কুকুর-পালা বন্ধু লরা। সে বিভিন্ন জাতের কুকুর লালন পালন করে। তার মধ্যে অনেকগুলো পুরষ্কার জেতা কুকুরও আছে। এক বিকালে তার সাথে ডগ পার্কে দেখা। তাকে খুব বিষন্ন মনে হচ্ছিল।

“কি হয়েছে?” আমি লরাকে জিজ্ঞেস করলাম। আমাদের কুকুর দুটো তখন একসাথে খেলছিল।

লরা বললো “টমি,” মাথা নেড়ে কুকুরটাকে দেখালো। সুন্দর করে আচড়ানো তার লোমশ একটা কুকুর।  “সে গতকালের শো-তে প্লেস করে নি। একটা... প্লেসও... করলো না! আর সে হারতে পছন্দ করে না!” তার কণ্ঠস্বর এতটাই তিক্ত ছিল যে আমি রীতিমত অবাক হলাম। সে বললো, “শো-তে ওর প্রথম হওয়া উচিৎ ছিল। তাকে দেখ, সে সব দিক থেকে পারফেক্ট!”

আমি টমির দিকে তাকালাম। সে সুন্দর – এটা ঠিক। কিন্তু পারফেক্ট? কি জানি? ওর পাগুলো অনেক লম্বা ছিল। তার মধ্যে কি এমন সৌন্দর্য্য আছে? আরে বাবা, কুকুর তো ককুরই।

আমার মনে হয় আমাদের কথা যদি টমি বুঝতে পারতো তাহলে সে-ও সম্মত হত। আমার মনে হয় না সে হারতে অপছন্দ করে। দেখলাম, সে কোত্থেকে যেন একটা ভাঙা ফ্রিসবি পেয়েছে। সেটা পেয়ে সে খুব খুশি। মনে হচ্ছিল যেন সে স্বয়ং ঈশ্বরের দেখা পেয়েছে।

বাস্তবে যা ঘটেছে সেটার কারণে লরা বিষন্ন হয় নি, বিষন্ন হয়েছে সফলতা এবং ব্যর্থতা সম্পর্কে তার ভুল ধারণার কারণে। এই বুদ্ধিটুকু টমির নেই। তাই টমি তার জীবনকে উপভোগ করতে পারছিল। ডগ শোতে গিয়ে কখনো জিতছে, কখনো হারছে, ডগ পার্কে এসে খোড়াখুড়ি করছে – টমির দৃষ্টিতে সবকিছুই সুন্দরভাবে চলছিল।

যাই হোক, লরার ব্যর্থতার চিন্তা এইসব অভিজ্ঞতাকে ম্লান করে দিয়েছে। ভালো হয়েছে যে সে আরেকটি ফাঁদ এড়িয়ে যেতে পেরেছে। ফাঁদটি হল সফলতা।

লাও জু বলেছেন, “সফলতা ব্যর্থতার মতই ক্ষতিকারক।” এবং যেকোনো লাইফ কোচ [যারা জীবন সম্পর্কে গাইডলাইন দেন] জানেন যে এটা সত্যি। আমি কতবার যে বলতে শুনেছি, “আমি যে চাকরি করছি সেটা আমার ভাল লাগে না। কিন্তু আমি সেটায় দক্ষ। আমি যা করতে চাই সেটা যদি শুরু করি তাহলে আবার শূণ্য থেকে সব শুরু করতে হবে। এবং এটা করতে গিয়ে আমি ব্যর্থও হতে পারি।” [ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে তারা সফল হওয়ার চেষ্টা করছেন না।]

ব্যর্থতার মাঝে বসবাস করলে আমাদের দুঃখ বাড়তে পারে, কিন্তু সফলতার মাঝে বসবাস করলে তাতে আমরা শোকেজে সাজানো পুতুলের মত হয়ে যেতে পারি। জোর করে আঁটকে রাখবো নিজেদের এই চিন্তা করে যে “আমি তো এটাতে দক্ষ।”

এটা একটু অদ্ভুত। কারণ গবেষকগণ রিপোর্ট করেছেন যে তৃপ্তি নির্ভর করে চ্যালেঞ্জের উপর। যত কঠিন চ্যালেঞ্জ জেতা যাবে তত বেশি তৃপ্তি। একটু চিন্তা করুন: যে কম্পিউটার গেমটিতে আপনি সহজেই জিততে পারেন সেটা বোরিং। কিন্তু যেটা আপনি মাঝে সাজে, অনেক কায়দা কসরতের পর জিততে পারেন সেটায় মজা পান।

সেসব গেমসে ঝুঁকি কম থাকে, তাই প্রায় সবাই ব্যর্থ হবার ঝুঁকি নিতে চায়। কিন্তু যখন আমরা আরো সিরিয়াস ব্যাপারগুলো নিয়ে ভাবতে নিই, যেমন ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি বা সন্তান লালন-পালন করা, তখনই আমরা জেঁকে বসি, নড়তে চাই না এবং ব্যর্থতাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে চাই না। যাই হোক, এটা তো আর সম্ভব নয়। বাস্তব হলো, আমরা ব্যর্থ হবোই। কিন্তু তারপরও আমরা ব্যর্থতাকে স্বীকার করতে চাই না। আর এভাবে সবকিছুকে আরো জটিল বানিয়ে ফেলি।

সেদিন ট্যামি আমার বাসায় এলো। তাকে অনেক বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। কারণ তার ১৭ বছর বয়স্ক ছেলে জেসন – যাকে সে পারফেক্ট স্নেহ দিয়ে লালন পালন করেছে, মাতৃত্বের সকল নিয়ম পারফেক্টলি মেনে – সেই জেসনকে মদ খাওয়ার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে।

“আমি ব্যর্থ হয়েছি” ট্যামি ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো, “আমি জেসনকে ব্যর্থ করেছি; আমি নিজেকে ব্যর্থ করেছি!”
“হুম,” আমি বললাম। “তুমি ঠিকই বলেছো।”

ট্যামি আমার দিকে এমনভাবে তাকালো যেন আমি তাকে চড় মেরেছি। আমি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললাম, “তুমি জীবনে হাজারবার ব্যর্থ হয়েছো, আবার তুমি হাজারবার বিজয়ীও হয়েছো। মাতৃত্বের জগতে স্বাগতম! এটাই তো মায়েদের কাজ। তুমি কি এমন কোনো মা-কে চেনো যে কখনোই তার সন্তানকে ব্যর্থ হতে দেখে নি?”

“অবশ্যই,” ট্যামি মাথা নেড়ে বললো। “কান্ট্রিক্লাবের আমার অনেক বন্ধু আছে যারা পারফেক্ট মা।” সে আরো বেশি কাঁদতে লাগলো। “আর তারা খারাপ মাদেরকে নিয়ে অনেক বাজে কথা বলে। এখন তারা আমাকে নিয়ে বাজে কথা বলবে, কারণ জেসন...” সে চোখের পানিতে যেন হাবুডুবু খাচ্ছিল।

“বলো তো,” আমি বললাম, “তুমি কি ক্লাবের সেই মহিলাদেরকে পছন্দ করো?”

হঠাৎ তার কান্না থেমে গেল। অনেকক্ষণ সে চুপ করে রইলো। তারপর আমার চোখের সামনেই ট্যামি অন্যরকম হয়ে গেল। সে সোজা হয়ে বসলো।

“একদম না,” সে বললো। “আমি আসলে তাদের কাউকেই পছন্দ করি না।”

“আমি তোমার কথাটা বিশ্বাস করলাম,” আমি ট্যামিকে বললাম। “আমি তোমার বন্ধুদেরকে চিনি না। কিন্তু আমাকে যদি কিছুক্ষণ আগে যেরকম তুমি ছিলে, সেরকম কারো সাথে থাকতে হত, তাহলে আমিও ড্রিংক করা শুরু করতাম।”

“আমি তো সেরকমই,” ট্যামি ঠাট্টার সুরে বললো। “আর ড্রিংক করতে আমার আপত্তি নেই।”

“শোনো শোনো,” আমি বললাম। “এখন তুমি বাড়ি যাও এবং জেসনের কাছে ক্ষমা চাও। সেসব মায়েদেরকে নকল করার জন্য ক্ষমা চাইবে যাদের তুমি পছন্দই করো না। বাস্তবে যা হওয়া সম্ভব তা নিয়ে চিন্তা করো – টিনেজাররা এটাই পছন্দ করে। তুমি যতক্ষণ তাদের সাথে বাস্তবিক আচরণ করবে, ততক্ষণ তুমি মা হিসেবে সফল হতে পারবে। যতই তুমি পারফেক্ট হতে যাবে ততই ব্যর্থ হবে। এবং যখনই তুমি এটা স্বীকার করবে যে তুমি ব্যর্থ, তুমি আবার সফল হবে।”

ট্যামি আমার দিকে আড়চোখে তাকালো। “তুমি কি আমাকে মা হিসেবে ব্যর্থ হতে বলছো?”

“তুমি যখন ব্যর্থ হও,” আমি বললাম “তোমার কি ব্যর্থ হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে?”

“না, উপায় থাকে না... কিন্তু ব্যর্থতা স্বীকার করে নেব? মা হিসেবে? আমি পারবো না।”

“অবশ্যই পারবে,” আমি বললাম। “এটা করবে: এটা চিন্তা করো যে তুমি জেসনকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছো। চিন্তা করে দেখো তো, তুমি কি বিষন্ন হয়ে যাচ্ছো না – এটা ভেবে, যে হায় এ কি হলো?”

ট্যামি মাথা নেড়ে সায় দিল।

“আচ্ছা, এখন উৎফুল্ল হও, আর ‘হায়’ বলার বদলে বলো, ‘যা হওয়ার হয়েছে ...’ ”

আমি ট্যামির দিকে তাকিয়ে রইলাম। সে মনে করেছিল আমি কিছু বলবো, কিন্তু চুপ করে রইলাম।

ট্যামি হাসলো। “আমি এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না” সে বললো। “আমি ভেবেছিলাম তোমার কাছ থেকে উপদেশ নেব যে আমার সন্তানকে কিভাবে ঠিক করা যায়। আর সব শুনে তুমি বললে ‘যা হওয়ার হয়েছে’?”

“যাহ! তাই তো” আমি বললাম। “আমি তোমাকে ব্যর্থ করেছি।” আমি একটা গভীর শ্বাস নিলাম আর রিল্যাক্স করলাম। “যা হওয়ার হয়েছে...”

ট্যামি আমার দিকে আরো একবার তাকিয়ে রইল। সে বললো, “তোমার মুখ থেকে ‘যা হওয়ার হয়েছে’ কথাটা শুনে তোমার প্রতি আমার আস্থা বেড়ে গেল।”

এটা হচ্ছে নিজের ব্যর্থতাকে স্বীকার করে নেয়ার সুবিধা। আপনি সবকিছু ঠিকঠাকভাবে করার পরও ব্যর্থ হয়েছেন। আপনার এই ব্যর্থতাটুকু খোলাখুলিভাবে, সবার সামনে স্বীকার করে নিলে – একটু অনুশোচনার সাথে – যে আমি চেষ্টা করেছি কিন্তু সফল হই নি – শুধু এতটুকুই আপনার জীবনে একটা বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এতে করে আপনি ক্ষমাশীলতা, বিশ্বাস, সম্মান আর সম্পর্কের এক সীমাহীন ফসল পাবেন। যেগুলো আপনার জিতলে পাওয়ার কথা ছিল, সেগুলোই আপনি হেরে গিয়ে পাচ্ছেন। অদ্ভুত,তাই না?

সম্পর্কের বৈচিত্র

আমি ধন্যবাদ দিই মা হিসেবে আমার ব্যর্থতাকে। আমার ছেলে এ্যাডাম। যদিও আমি কম বয়সে গর্ভধারণ করেছিলাম, তবে কখনো ধূমপান করি নি, মদ ছুয়ে দেখি নি, তারপরও এ্যাডাম একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্ম নিয়েছে। সে মানসিকভাবে অস্বাভাবিক। আমি তাকে ভাল ছাত্র, ব্যয়ামবীর, রকেট বিজ্ঞানী বানাতে পারি নি। এত বড় ব্যর্থতাকে কোনকিছু দিয়েই পূরণ করতে পারছিলাম না। মা হিসেবে অনেক ভেঙে পড়েছিলাম।

তখনই আমি শিখেছি, সমস্যা যত বড়, তাতে ব্যর্থতা ততটাই উপকার বয়ে নিয়ে আসে। উপকারটা হচ্ছে: সফলতা থেকে স্বাধীনতা। একজন ভাগ্যবান লোক তার শত্রুর কাছ থেকে পালিয়ে বেঁচে যায়। আর সত্যিকার ভাগ্যবান সে-ই যে (কবি রুমির ভাষায়) ”পালিয়ে একটা বাড়িতে ঢোকে আর অন্যদের জন্য দরজা খুলে দেয়।”

এটা ছোট বা বড় যেকোন আকারে হতে পারে। যেই দিন আমার পেন্সিলপ্রেমী মন ব্যর্থতাকে স্বীকার করে নিল আর মেকানিকাল কলমটিকে কাগজের উপর নাচতে দিল, সেটা অঙ্কনের একটা নতুন দরজা খুলে দিল।

আমার সন্তানকে আমি “স্বাভাবিক” জীবন দিতে পারি নি এই ধারণাটি আমার অনেক উপকার করেছে। “সফল মায়েদের সন্তানরা বুদ্ধিমান হয়” এবং “আমার বাচ্চারা কখনো হারতে পারবে না” এসব উদ্ভট যুক্তি থেকে আমি মুক্তি পেয়েছি।

আমার সন্তান পারফেক্ট নয় এটা একটু হতাশ হওয়ার মতই কথা। কিন্তু যখন আমি বুঝতে পারলাম, তখন সফলতা আর ব্যর্থতা সম্পর্কে আগে যা জানতাম সবকিছুই অস্পষ্ট হয়ে গেল। নতুন করে ভাবতে শিখলাম। সফলতা আর ব্যর্থতাকে তখন তুচ্ছ মনে হল, যেমনটা আমেরিকান ক্যানেল ক্লাব পারফেক্ট “পুডল”-এর সংজ্ঞা দিয়েছিল। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে আনন্দ লুকিয়ে রয়েছে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই –এবং অন্য কোনকিছুতে নয়।

আমি দেখছি যে ট্যামি এটা পেয়েছে। জেসনের উচ্ছৃঙ্খলতা ট্যামির জীবনে একটা উপহার হিসেবে এসেছে। যেরকমটা অনেক মাকেই এই উপহার করেছে: কোমল, প্রফুল্ল, শান্ত, উন্নত, সাহসী। কবি এন্টোনিও মাসাডোর ভাষায়:
গতরাতে যখন আমি ঘুমাচ্ছিলাম
স্বপ্নে দেখলাম – আমার ভুলগুলোকে! –
দেখলাম একটা মৌচাক
আমার হৃদয়ে স্থান নিয়েছে।
এবং স্বর্ণালি মৌমাছিগুলো
তৈরি করছিল সাদা মোম
আর মিষ্টি মধু
আমারই করা ভুলগুলো থেকে


আমি এটা বলবো না যে আমি ব্যর্থ হওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যে ব্যর্থতা আসবেই। তাই আমি স্বস্তি পাই ব্যর্থতা এলে কি করতে হবে সেটা জেনে। আপনার ক্ষেত্রেও এটা কাজ করবে। রিল্যাক্স করুন। নিশ্বাস ছাড়ুন। “হায়”-কে বিদায় দিন, আর “যা হওয়ার হয়েছে”-কে আলিঙ্গন করুন। তারপর যে দরজাই পাবেন তাতে ঢুকে চলতে শুরু করুন।

উপরে নামা

কলেজের শেষের দিকে মেকানিকাল কলম আমার সবচেয়ে প্রিয় আঁকার মাধ্যম হয়ে গিয়েছিল। চেষ্টা এবং ভুল (এবং ভুল, এবং আরো ভুল) করতে করতে এমন অবস্থা হয়েছিল যে তখন মেকানিকাল কলমকে আমার হাতেরই একটা অংশ হিসেবে মনে হত। আমি বোকা ছিলাম বলে রেইম্যান স্যারের আরেকটা ক্লাসে ভর্তি হলাম। একদিন সকালে যখন আমি আঁকছিলাম, আমার খাতার উপর টুপ করে কি একটা পড়লো। জিনিসটা ছিল জল রঙের ব্রাশ।

“এখন থেকে এটা দিয়ে আঁকবে” স্যার বললেন। “তোমার কাছে এটা অসহ্য লাগবে। তুমি একটা দাগ দিবে, আধঘণ্টা পর দেখবে সেটা অন্যরকম হয়ে গেছে।”

আমি ব্রাশটা হাতে নিলাম। আর বললাম “আপনি তো আমাকে সাহায্য করবেন না, তাই না?”

“দেখ, উত্তরটা এভাবে দেয়া যায়,” রেইম্যান স্যার বললেন “তুমি যত তাড়াতাড়ি তোমার প্রথম ৫০০০ ভুল করবে, তত তাড়াতাড়ি পরের ৫০০০ ভুল করতে পারবে।” এরপর তিনি শয়তানের মত একটা হাসি দিয়ে চলে গেলেন। তিনি আমাকে ব্যর্থতার সাথে আরেকবার নৃত্যের ব্যবস্থা করে দিয়ে চলে গেলেন। তিনি অনুৎসাহী শিল্পীদের উৎসাহিত করেন। তিনি সব শিক্ষকের বড় শিক্ষক।

লিখেছেন: Martha Beck (ডিসেম্বর ২০০৭ সালের “O, The Oprah Magazine”-এ প্রকাশিত: http://www.oprah.com/oprahs-lifeclass/How-to-Turn-a-Failure-Into-Success )
অনুবাদ: আদনান শামীম
( Illustration: Brett Ryder )
Continue reading ...

Sunday, April 19, 2015

KDE-তে ইউনিজয় লেয়াউটে বাংলা লেখার পদ্ধতি (অবশেষে!!)

0 comments
অবশেষে KDEতে বাংলা লিখতে পারলাম!

অনেক দিন আগে থেকেই কেডিই (KDE) ডেস্কটপ আমার প্রিয়। যারা একবার KDE চালিয়েছেন, তারা বোধহয় আর অন্য কোন ডেস্কটপ চালাতে চাইবেন না। কেডিই অত্যন্ত ক্রিয়েটিভলি ডিজাইনকৃত একটি ডেস্কটপ এবং এর Effects থেকে শুরু করে Widgets, Window management সবকিছুই যেন অন্যরকম। এটা যারা ব্যবহার করেন নি তাদেরকে বোঝানো দায়। তবে একটা কারণে কেডিই আমি অপছন্দ করতাম। সেটা হচ্ছে আগে এতে unijoy লেয়াউটে বাংলা লেখার নিয়মটা জানতাম না। অনেক খুঁজে, অনেক কষ্টে একটা টিউটোরিয়াল লিখছি যেটা অনুসরণ করে কেডিইতে স্বাচ্ছন্দ্যে বাংলা লিখতে পারবেন।



[** এই টিউটোরিয়ালটি শুধুমাত্র কেডিই ডেস্কটপ ব্যবহার করে এমন লিনাক্স ডিস্ট্রোতে কাজ করবে। যেমন: Kubuntu, Linux Mint KDE, Netrunner ইত্যাদি। আপনি কেডিই ছাড়া অন্য DE ব্যবহার করে থাকলে এখানে দেখুন। ]

স্টেপ-১: ibus + বাংলা লেয়াউট ইন্সটল করুন:

এটা খুবই সোজা। শুধু টার্মিনাল/Konsole খুলে রান করুন (রান করুন মানে কপি-পেস্ট করুন আর এন্টার চাপুন):
sudo apt-get install ibus-m17n m17n-db m17n-contrib ibus ibus-gtk ibus-qt4

স্টেপ-২: ibus-কে সিস্টেমের ডিফল্ট লেয়াউট সুইচার হিসেবে সেট করুন

এটাও খুবই সহজ।

টার্মিনাল/Konsole-এ রান করুন:
sudo apt-get install im-switch

তারপর আবার রান করুন:
im-switch -s ibus

(এতে এরর দেখালেও আপাতত সমস্যা হবে না। আমার ক্ষেত্রেও এরর দিয়েছে।)

এবার রান করুন:
kate ~/.bashrc

এখন কেট নামের টেক্সট এডিটরে একটি ফাইল খুলবে। এর সবার নিচে এই লেখাগুলো পেস্ট করুন:
export XMODIFIERS="@im=ibus"
export GTK_IM_MODULE=ibus
export QT4_IM_MODULE=ibus
export QT_IM_MODULE=ibus

স্টেপ-৩: সিস্টেম ট্রের জন্য একটু জাদু

অনেক সময় অনেকে ibus সেটাপ করেন ঠিকই, কিন্তু সিস্টেম ট্রেতে এর আইকন দেখা যায় না। এর সমাধান আছে নিচের কমান্ডটাতে-- Konsole-এ এটা রান করুন:

sudo apt-get install --reinstall ibus ibus-gtk ibus-qt4 gnome-icon-theme gnome-icon-theme-full

এখন ibus ঠিকমত রান হবে।

স্টেপ-৪: ibus কনফিগার করা

এই কাজটা কিন্তু মোটেও কঠিন নয়। Alt+F2 চাপুন। এখন নিচের লেখাটি টাইপ করুন এবং এন্টার চাপুন:
ibus-setup

এতে ibus সেটিংস খুলবে। আপনি এর প্রথম ট্যাব থেকে ভাষা সুইচ করার জন্য কিবোর্ড শর্টকাটটি পরিবর্তন করতে পারবেন।

যা-ই হোক, এখন Input Method ট্যাবে যান। "Customize active input methods" চেকবক্সে চেক দিন।
- এখন আপনি এখানে যে ড্রপডাউন বক্সটি আছে তাতে ক্লিক করুন,
- তারপর Show all input methods-এ ক্লিক করুন।



- ড্রপডাউনটি বন্ধ হয়ে যাবে। এখন আবার ড্রপডাউনে ক্লিক করুন,
- তারপর Bengali-এর পাশের যে তীর আছে সেটিতে ক্লিক করুন,
- unijoy - m17n সিলেক্ট করুন।


- Add বাটনে ক্লিক করুন।

এভাবে English (US) কিবোর্ডটিও Add করে নিন:
- ড্রপডাউন ক্লিক -> English-এর পাশের তীরে ক্লিক -> English (US) -> Add-এ ক্লিক।

ব্যস! OK করে বেরিয়ে আসুন।

স্টেপ-৫: ibus-কে স্টার্টআপে রান করা

- System Settings -এ যান
- Startup and Shutdown -এ যান
- Autostart ট্যাবে থাকা অবস্থায় "Add Program..." বাটনে ক্লিক করুন
- কপি পেস্ট করুন: ibus-daemon তারপর OK করুন
- এখন Properties ডায়লগ খুলবে। এখানে নিম্নের তথ্য দিন:
Name: ibus-daemon
Description: Starts IBus or whatever...
Command: ibus-daemon --desktop=kde



- OK করে করে বের হয়ে আসুন।

কাজ শেষ! এখন লগআউট করে লগইন করুন অথবা রিস্টার্ট করুন।
রিস্টার্ট দেয়ার পর যদি সিস্টেম ট্রেতে (স্ক্রিনের ডানদিকের নিচে) ibus এর আইকন এসেছে, তাহলে বুঝবেন যে আপনার কমান্ডগুলোতে কাজ হয়েছে।

স্টেপ-৬: বাংলা লেখা

এখন কাজ সহজ। ibus এর ডিফল্ট সুইচিং কিবোর্ড শর্টকাট হল Ctrl+Space. এই কি-টি চাপলে দেখবেন সিস্টেম ট্রেতে আইকন পরিবর্তন হচ্ছে। যখন "ক UNIJ" লেখা আইকন দেখতে পাবেন তখন বাংলা লেখা হবে।


Unijoy Bangla icon on system tray

যেখানে বাংলা লিখতে চান সেখানে ফোকাস নিন/ক্লিক করুন। যদি "ক" আইকনটি না এসে থাকে তাহলে Ctrl+Space চাপুন এবং বাংলায় লিখুন। আবার Ctrl+Space চাপলে ইংরেজি আসবে।

এভাবে খুব সহজেই কেডিইতে বাংলা লেখা যাবে।

Ref:
http://www.rmitc.org/
Continue reading ...

Thursday, October 30, 2014

উবুন্টুতে XAMPP ইন্সটল করার উপায় (গ্রাফিকাল প্যানেল শর্টকাটসহ!!)

1 comments
ওয়েব ডেভেলপমেন্টের জন্য XAMPP/জ্যাম্প খুব প্রয়োজনীয় একটি সফটওয়্যার। এটি আমাদের জন্য আমাদের কম্পিউটারেই একটি লোকাল সার্ভার তৈরি করে যাতে আমরা ওয়েবসার্ভারে আপলোড না করেই ওয়েবভিত্তিক সফটওয়্যারগুলোকে কম্পিউটারেই টেস্ট করতে পারি।

আর উবুন্ট হচ্ছে প্রোগ্রামারদের দ্বারা তৈরি প্রোগ্রামিংয়ের জন্য বেস্ট এনভায়রনমেন্ট। উবুন্টু হচ্ছে উইন্ডোজের মতই একটি অপারেটিং সিস্টেম। এটি হার্ডডিস্কে অথবা চাইলে পেন ড্রাইভেও সেটাপ করা যায়। ওয়েব ডেভেলপাররা যেহেতু প্রোগ্রামিং করে থাকেন, কাজেই উবুন্টু আর XAMPP এর মেলবন্ধনটা বেশ ভালই হবে।

তাহলে আজ জেনে নিন কিভাবে উবুন্টুতে XAMPP ইন্সটল করতে হবে। শুধু তাই নয়। আমরা জানবো কিভাবে কমান্ড লাইন ছাড়াই জ্যাম্প চালু ও বন্ধ করতে হয়।



স্টেপ-১: আসল কাজ, ইন্সটলেশন!

১. প্রথমেই https://www.apachefriends.org/download.html ঠিকানায় গিয়ে XAMPP এর লিনাক্স ভার্সন নামিয়ে নিন। এতে আপনি .run এক্সটেনশনযুক্ত একটি ফাইল পাবেন।



এখানে দ্রস্টব্য, আমি 1.8.3 ভার্ষনটি নামিয়েছি। 1.8.3এর আগের ভার্সনগুলোর ইন্সটল করার পদ্ধতি এই ভার্ষনের তুলনায় ভিন্ন। তাই আপনিও 1.8.3 বা তার পরের ভার্সন নামানোর চেষ্টা করুন।

২. ধরি আপনি ডাউনলোড করার পর এটি আপনার হোম ফোল্ডারের Downloads ফোল্ডারে আছে। (তাহলে xampp-linux-1.8.3-1-installer.run ফাইলটির লোকেশন হল ~/Downloads/xampp-linux-1.8.3-1-installer.run )



এটি একটি এক্সিকিউটেবল ফাইল। কিন্তু লিনাক্সে এক্সিকিউটেবল ফাইল চালানোর জন্য একে এক্সিকিউট করার পারমিশন দিতে হয়। তাই এটিকে রান করার জন্য একে রাইট ক্লিক করুন এবং Properties এ যান। তারপর Permissions ট্যাব-এ গিয়ে Allow executing file as program এ চেক দিয়ে close চাপুন।



৩. এখন ফাইল ব্রাউজার খোলা রেখেই টার্মিনাল ওপেন করুন (Ctrl+Alt+T)। তাতে টাইপ করুন sudo তারপর একটি স্পেস দিন। এখনই এন্টার চাপবেন না। XAMPP ফাইলটিকে টার্মিনালের উপর ড্র্যাগ করে ড্রপ করুন। এবার এন্টার চাপুন।


এতে আপনি উইন্ডোজের যেকোন সফটওয়্যার ইন্সটলের মতই একটি উইজার্ড পাবেন।


এতে Next next দিয়ে যান তাহলেও হবে। তবে আমি সাদারণত Select Components পেজে এসে XAMPP developer files এ চেক তুলে দিই। ওতে স্পেস কিছুটা কম ইউজ হয়। কিন্তু আপনি সেটা দিয়ে রাখতে পারেন।

সবশেষে Finish পেজ-এ আমি সাধারণত Run XAMPP now অপশনটি তুলে দিই। তবে এটা আপনার ইচ্ছা।

এখন আপনি যদি ফাইল ব্রাউজারের Computer এর ক্লিক করে /opt/lampp ডিরেক্টরিতে যান। এখানেই আপনার XAMPP ইন্সটল হয়েছে। ডিরেক্টরিতে lampp দেখে ঘাবড়াবেন না। XAMPP এর লিনাক্স ভার্সনকে LAMPP বলা হয়। দুটো একই জিনিস!

স্টেপ-২: গ্রাফিকালি জ্যাম্প রান করা

আপনি যদি কমান্ড লাইনের ফ্যান হন তাহলে টার্মিনালে sudo /opt/lampp/lampp start রান করেই জ্যাম্প স্টার্ট করতে পারবেন। কিন্তু সবাই তো আর কমান্ডলাইনে অভ্যস্ত নন। তাই তাদের জন্য গ্রাফিকাল ইন্টারফেসে জ্যাম্প ব্যবহারের উপায় বাতলে দিচ্ছি।

১. প্রথমত বলে রাখি আমরা XAMPP Control Panel ব্যবহার করবো। এটির একটি ডিপেন্ডেন্সি আছে। এটি ইন্সটল না করলে জ্যাম্প কন্ট্রোল প্যানেল রানই করবে না (তখন Error importing pygtk2 and pygtk2-libglade এরকম একটি এরর দেখায়)। তাই এটি ইন্সটল করতে টার্মিনালে (Ctrl+Alt+T) রান করুন:

sudo apt-get update && sudo apt-get install python-glade2

এতে ডিপেন্ডেন্সিটি ইন্সটল হয়ে যাবে।

২. এখন gedit (বা অন্য কোন প্লেইন টেক্সট এডিটর) খুলুন এবং নিচের কমান্ডটি তাতে কপি করুন।

[Desktop Entry]
Encoding=UTF-8
Name=Xampp Control Panel
Comment=Start or Stop XAMPP
Exec=sudo python /opt/lampp/share/xampp-control-panel/xampp-control-panel.py
Icon=/opt/lampp/htdocs/favicon.ico
Categories=Application;Development;Web
Version=1.0
Type=Application
Terminal=0


৩. তারপর File - Save-এ যান। Home-এ ক্লিক করুন। এবার Ctrl+H চাপুন। এতে হিডেন ডিরেক্টরিগুলো দেখাবে। এখন .local/share/applications এ গিয়ে ফাইলটিকে xampp.desktop নামে সেভ করুন।

এখন ড্যাশে গিয়ে xampp লিখে সার্চ করুন। তাহলেই XAMPP Control Panel পাবেন। ওটা রান করুন।


এতে বড় একটি Start XAMPP বাটনটিতে ক্লিক করুন, এতে XAMPP চালু হবে। (আপনি যদি আগেই স্টার্ট করে থাকেন তাহলে সেখানে Stop লেখা আসবে।)

ব্যস! হয়ে গেল জ্যাম্প ইন্সটল! এখন আপনি জ্যাম্প ব্যবহার করতে পারবেন সবচেয়ে সিকিউরড এনভায়রনমেন্টে।

Ref:
http://askubuntu.com/questions/444623/xampp-control-panel-can-not-launch
Continue reading ...

Thursday, September 11, 2014

Homemade HD video - 3

0 comments
Hi again. I am writing about my adventures in Homemade video making. Previously I was in a dillema. I chose Canon 650d as my favorite option, but then I found out that the camera was out of stock. It will take a week or two to reach another lot in Dhaka from Singapore.

In the meanwhile father was forcing me to buy quickly. I didn't know what to do. I was still doing my research. With my research and my conscience, I found out the situation as a sign! A sign that is telling me to buy 700d. I researched some more, and when I read in depth review of 700d, I found out that it is a good choice for me. I don't want a noisy lense to do my video. I want a silent one. I also want a latest model. Why buy a model that is 2 years old? 700d was 1 year old, so I should go for it. And who knows which bugs are fixed from 600d to its new version. Rebel series (500d through 700d) is a popular series. But choosing from the best of the best is hard task. I did it at last!

So, I decided to buy 700d. But is it original? If I buy from the importers, I should get the original one for sure. The Canon dealer in Bangladesh is J.A.N. Associates. I contacted them. They sell 700d but they sell it with 18-135mm lense. And they won't sell body only. That would cost a fortune! 78000 BDT!! That brought in a lot of sweat in my body!

I contacted my old friend Royal, who helped me get a generous discount on my Nikon point & shoot. He tried his best and let me a discount of generous amount, but it still isn't good for me. I want the original, but my budget won't let me have it. How dreadful!

Unfortunately I had to choose the Bashundhara version. 700d would still cost me 52500 BDT. But that felt okey. I went from 40k to 52k. I think that's enough.

I went on a special day to Bashundhara City and bought it. Canon 700d with a tripod (52500 + 1600 BDT). I bought mine from Camera Zone which is a reputed camera store in Dhaka. But they provide 5 years service warranty only. Whereas other stores offer 1 year replacement warranty + 5 year service warranty. They explained it as well, that others sell a warranty-replaced camera to another person, but they don't.

In the way of going to Camera Zone I also went to the Fujifilm camera store. The cameras were original royal vintage cameras - Japan-made. For professionals, they are a gem. But as a beginner I couldn't get a clear idea about them. They felt like old to me. That's just me. But my father was impressed by one model. It was certainly a tough body camera but I couldn't make my mind for it.

When I reached home that day, it felt awesome. It felt like I had a weapon to shoot. Not humans, but pictures! I felt like the world is in my hands. There's no other feeling that can be compared to that.

At the very first day I tried my camera out, to be honest, I was dissapointed. I couldn't take pictures that are good enough. They either are too dark of too bright. Back then I thought that I am an amateur and that's why I couldn't take photos. But now I understand that it was because it was a new camera. With the same settings, I kept testing the camera day after day and it got better. Maybe it takes time to normalize its potential.

I started to read the camera manual and as I was soring through the pages, I got amazed with the features of this little device. And soon I found out a way to do timelapse, a way to make fast forward video. I'll talk about it in my later post.
Continue reading ...

Tuesday, July 22, 2014

Homemade HD video - 2

0 comments
Hello. Previously I wrote about my little journey on the way to HD home-made video making. I said that my father understood the need for a professional camera. I thought to myself, professional video cameras used by TV channels and video production firms are not cheap. They are going to cost me 2 lakhs minimum. So it is not an option for me. I only had a budget of 40k BDT.

I heard that DSLRs have a good video quality. I also saw some tutorials on recording videos on DSLRs. I checked the facebook page of Camera House recommended by my friend Rony from my versity. The good thing is that they regularly posted camera price list. So I looked at the list and saw Nikon D3200. It was 32500 BDT. Definitely on my budget. And I thought I don't need a high end DSLR for my shooting. So it seemed okey to me.

I was lucky that I had a photographer collegue, Razib vai. He told me that Canon is better for video recording than Nikons. Then a confusion was in my mind. I shot with a Nikon point & shoot before and it was great. I also know its functions very well. It is easy for me to use. But Canon would feel alien to me.

I started my research on the internet. After searching for one month, I found out that his words were true. Canon is better for video. I compared the pictures on both Nikon and Canon cameras available in most review sites. It seems that Canon has a cleaner look in the pictures too. It impressed me.

Now that I selected Canon to be my camera of choice, it is up to the model that I should buy. Again, lots and lots of choices, lots of specifications to look for. It is bewildering how you choose a model and then a couple thousand taka extra can give you more of the cool features you want. Finding a balance between the price and features is really hard.

I researched a lot... a loooottt. I cannot even emphasize how much I researched about the models available in the market. I watched a lot of review videos, manuals, read reviews, asked friends and so on.

When I was reasearching, a camera just took my mind away. I always looked for a beginner friendly camera that is in my price range and it had features that pro cameras have. I found Canon 650d. It has a touch screen and the screen was articulating (that means it can be rotated). It has built in HDR which the cheaper models didn't have. It has full time auto focus and a wide variety of choices of lenses. It can record FUll HD videos at 24/30/60 frame per second. 24 frames per second is film standard and 60p is a good choice for slow motion, which could be utilized to show slow motion of the excercise if I needed that. It was nearly a professional featured camera and with a latest DIGIC5 processor that even the higher ends don't have. I am fond of latest technologies and it fit my needs.

But it was 50,500 BDT back then. My budget was 40k. I had to convince my father to increase the budget. That was a hard thing for me.

I decided to buy 650d. But after a week or so, I found its successor model - Canon 700d. In the reviews I found it had no new significant features. But when I dug deeper I found out that it had updated quite many things. First, the 18-55mm kit lense is noise free. It is of STM type which it has a Stepper Motor. In an STM lense the focusing happens inside the lense so there is no noise when it tries to focus. Previously, 18-55mm lenses used to create great noise that got into the video (through the internal mic).

Secondly, my friend Rony told me I should buy a 700d because it is a newer model. If I need it to repair someday, the parts should be more available. The price difference is just 2,000 BDT. But to me that was something huge. So I refused to change my decision and I still was with 650d.

One day I visited Bashundhara City at Panthapath, Dhaka. (I heard that it is the best place for buying Cameras.) I found out that 650d is out of market. Alas! My favorite camera was out of market. I thought maybe it was because it is after the Pahela Baishakh. I was in a great shock. What did I do? May be I will tell you in my next post.
Continue reading ...
 

Blogroll

Translate This Blog

Copyright © আদনানের ব্লগ Design by BTDesigner | Blogger Theme by BTDesigner | Powered by Blogger