Wednesday, May 15, 2013

উবুন্টু 13.04: ব্যবহারের জন্য কাজের কিছু টিপস

0 comments
উবুন্টু ১৩.০৪ ব্যবহারের আগে প্রস্তুত করে নিন
উবুন্টু ১৩.০৪ ব্যবহার করে অনেক মজা পাচ্ছি। আগে যেমন উুবুন্টু'র ইউনিটিকে স্লো মনে হত, এখন তা মনে হচ্ছে না। উইন্ডো সুইচিং এবং সাইডবারের কিছু ফিচার দেখে আমি মুগ্ধ। কিন্তু কিছু ডিফল্ট সেটিংস পরিবর্তন করে নিলে আপনার অভিজ্ঞতা আরো আনন্দদায়ক ও আরামদায়ক হবে। এগুলোরই একটি সংক্ষিপ্ত লিস্ট এই পোস্টে দিচ্ছি।

১২.১০-এর ঝক্কি আর ঝামেলা

১২.১০ (Quantal Quetzal) ব্যবহার করে আমি হতাশ হয়েছিলাম। পেনড্রাইভ থেকে চালিয়ে দেখি NTFS ড্রাইভ মাউন্ট হয় না। অর্থাৎ আমি আমার হার্ডডিস্ক এ্যাক্সেস করতে পারছি না! পরে আমার ল্যাপটপে সার্চ দিয়ে সমাধান বের করলাম পরে এক্সেস করতে পারলাম। আর ১২.১০ কে আমার ল্যাপটপে ইউজ করতে গিয়ে দেখি সেটি কমান্ড লাইনে বুট হয়! গ্রাফিকাল উন্টারফেসই আসে না!! গ্রাফিকাল ইন্টারফেস আনার জন্য আবার একটা ফাইল এডিট করতে হয়। তারপরও পারফরমেন্স ভাল নয়, ভিডিও থেমে থেমে দেখায়। এসব ঝামেলার জন্য ১২.১০ থেকে ১০০ হাত দূরে ছিলাম। ১২.০৪.১ ই ব্যবহার করছিলাম। যদিও নতুন নতুন ফিচারগুলো মিস করছিলাম।

১৩.০৪-এর সুবিধা

তবে ১৩.০৪ (Raring Ringtail) দেখে আমার মন ভরে গেল। ইউনিটি ইন্টারফেস এখন আর আগের মত বোরিং রঙের মনে হচ্ছিল না। সবকিছুই কেমন যেন উজ্জ্বল-ঝলমলে। সাইডবার এ্যানিমেশনগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক ফাস্ট। হার্ডডিস্ক ড্রাইভগুলো সব সাইডবারেই স্থান পাচ্ছে। উইন্ডো সুইচিং এখন আগের চেয়ে ফাস্ট হয়েছে। কোনো প্রোগ্রামের (যেমন ফাইল ম্যানেজারের অনেকগুলো উইন্ডো খোলা থাকলে) তার আইকনের উপর মাউস রেখে মাউস স্ক্রল করলেই সুইচ করা যাবে সবগুলো উইন্ডোর মধ্যে। আবার ক্লিক করলে Compiz Spread আকারে সব উইন্ডো স্ক্রিনে আসবে (যেটি আগের ভার্সনগুলোর মত ঝামেলাজনক নয়, বরং অনেক ফাস্ট যা কাজে বাধা সৃষ্টি করে না।)

ড্যাশে এখন স্টুপিড টাইপিং করা যাবে এবং তারপরও সঠিক প্রোগ্রামটি খুঁজে বের করতে পারবে। যেমন: rite লিখলেও, যদিও সেটি বানান ভুল তারপরও LiberOffice Writer এনে দেখাবে। ড্যাশের কোন প্রোগ্রামে রাইট ক্লিক করলে প্রোগ্রামটি সম্পর্কে বিস্তারিত দেখাবে।

আমি ১৩.০৪ ব্যবহার করবো বলে ঠিক করেছি। তবে এটির কিছু ফিচার এবং সেটিংস ঠিকঠাক করে নিলে এটি আরো বেশি ব্যবহার-উপযোগী হবে।

পেনড্রাইভে উবুন্টু ইন্সটল করার পদ্ধতি

আপনার যদি ২জিবি বা তার বেশি স্পেসওয়ালা পেন ড্রাইভ থেকে থাকে তাহলে এটি দিয়ে আপনি কম্পিউটারে উবুন্টু ব্যবহার করতে পারবেন। এমনকি আপনার ইন্সটল করা সমস্ত সফটওয়্যার ও সেটিংসও আপনার পেনড্রাইভে সংরক্ষিত থাকবে। আপনি জাস্ট যেকোন কম্পিউটারে BIOS সেটাপের Boot অপশন থেকে পেনড্রাইভকে এনাবল করে, বা পেনড্রাইভ ডিভাইসটিকে লিস্টের উপরে নিয়ে পেনড্রাইভটি থেকে উবুন্টু চালু করতে পারবেন। এবং কাজ শেষে আপনার উবুন্টুটিকে পকেটে নিয়ে ঘুরতে পারবেন! কোনো কম্পিউটারে হার্ডডিস্ক নেই? সমস্যা নেই! পেনড্রাইভটি দিয়ে দিব্যি সেই কম্পিউটারটি চালাতে পারবেন, হার্ডডিস্ক ছাড়াই!!

এজন্য আপনার পেনড্রাইভে 1.5GB এর মত বা তার বেশি জায়গা থাকতে হবে। আপনি এতে অন্যান্য ফাইলও রাখতে পারবেন নরমাল পেনড্রাইভের মতই। (তবে ফরম্যাট করলে কিন্তু সব ফাইল চলে যাবে।) প্রথমেই Ubuntu.com থেকে ubuntu 13.04 এর desktop ISO টি নামিয়ে নিন। তারপর এই ওয়েবপেজ থেকে Universal USB Installer ডাউনলোড করুন। এখন Universal USB Installer (UUI) চালু করুন।


Ubuntu 13.04 সিলেক্ট করুন। আপনার পেন ড্রাইভের ড্রাইভ লেটারটি দেখিয়ে দিন। (Format অপশনটি ডিস্যাবল করে রাখলে আপনার পেনড্রাইভে থাকা ফাইলগুলোর কিছু হবে না।) এখন Persistent ফাইল তৈরির অপশনও দেখতে পাবেন। আপনার সেটিংস ও সফটওয়্যার সেভ করে রাখার জন্য  একটি Persistent ফাইলের প্রয়োজন হবে (ফাইলটির নাম হবে casper-rw)। এটি আপনি পরে রিসাইজও করতে পারবেন। চাইলে মুছে আবার নতুন করে তৈরিও করতে পারবেন। এজন্য TopoResize নামে একটি প্রোগ্রাম রয়েছে। (বিস্তারিত এখানে)

পারসিস্টেন্ট ফাইলটি মোটামুটিভাবে 600MB রাখা উচিৎ। তবে আপনি যদি আরো সফটওয়্যার ইন্সটল করতে চান তাহলে এটিকে 4GB পর্যন্ত ম্যাক্সিমাম বাড়াতে পারবেন। Create বাটনে ক্লিক করুন। একসময় পেন ড্রাইভটি তৈরি হয়ে যাবে।

Try/Install Screen দূর করা

উবুন্টুর পেনড্রাইভটি লোড করলে দেখবেন প্রতিবার একটি Try It / Install Ubuntu এরকম একটি ডায়লগবক্স এসে আপনাকে বিরক্ত করবে। Ubiquity নামক এই সেটাপ অপশনটিকে ডিস্যাবল করার জন্য বুট অপশনে quiet যোগ করে দিন। যারা জানেন না তাদের জন্য পদ্ধতিটা বলছি:
বুট হবার সময় দেখবেন একসময় খালি স্ক্রিনে নিচের দিকে একটা কিবোর্ড আর একটা মানুষের চিহ্ন আছে। সেই স্ক্রিনটি আসা মাত্রই দেরি না করে যেকোন একটি Key প্রেস করুন। ভাষা নির্বাচনের জন্য এন্টার চাপুন। এখন F6 চাপুন, তারপর Esc চাপুন। এখন আপনি বুট প্যারামিটারগুলো দেখতে পাবেন। এখন একটা স্পেস চেপে quiet লিখে এন্টার চাপুন। এখন আপনার দেয়া বুট প্যারামিটার অনুযায়ী বুট হবে। দেখবেন Ubiquity আর আসছে না।

যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে এটাকে স্থায়ীভাবে বুট অপশনে যোগ করে দিতে পারেন। আপনার পেনড্রাইভের syslinux/txt.cfg ফাইলের label live লাইনটির নিচে দেখুন splash -- লেখা আছে। splash কথাটির পরে quiet শব্দটি যোগ করে দিয়ে সেভ করুন। খেয়াল রাখবেন যেন quiet শব্দটির আগে ও পরে অন্তত একটি স্পেস থাকে। (সূত্র)

আমার ওয়ালপেপার পরিবর্তনের পরও দেখছিলাম যে রিবুটের পর উবুন্টু সেটি মনে রাখছে না। এটি ব্যবহার করে দেখলাম আমার ওয়ালপেপার মনে রাখছে! ভালই হল, এক ঢিলে দুই পাখি!

ড্যাশে অনলাইন বিজ্ঞাপন/ওয়েবসাইট সার্ভিস বন্ধ করা

উবুন্টু ১৩.০৪-এ ড্যাশে আপনি যখন সার্চ করবেন তখন আপনার সার্চ টার্ম অনুযায়ী বিভিন্ন বিজ্ঞাপন বা ওয়েবসাইট থেকে ডাটা নিয়ে আসবে। এতে করে আপনার প্রাইভেসি লঙ্ঘিত হতে পারে বা আপনার ইন্টারনেট খরচ বেড়ে যেতে পারে। এজন্য:

ড্যাশে গিয়ে সার্চ করুন privacy এবং Privacy তে ক্লিক করুন। When searching in the dash: include online search results এর ডান পাশে সুইচটি Off করে দিন।

সোয়াপ ফাইল কমিয়ে উবুন্টুকে ফাস্ট করা (+ল্যাপটপকে ঠাণ্ডা রাখা)

উবুন্টু ডিফল্ট হিসেবে সোয়াপ সেটিংস 60 করে রাখে। এতে করে হার্ডডিস্কে বেশিবার এ্যাক্সেস করতে হয় আর তখন পিসি স্লো হয়ে যায়, কারণ হার্ডডিস্ক র‍্যামের তুলনায় স্লো। তাই বেশিরভাগ কাজ যেন র‍্যামেই হয় সেজন্য সোয়াপ সেটিংস কমিয়ে রাখা উচিৎ। এতে একদিকে যেমন কম্পিউটার ফাস্ট হবে তেমনি হার্ডডিস্কের উপর চাপ কমবে। এছাড়াও যারা ল্যাপটপে উবুন্টু ব্যবহার করতে চান তারা অবশ্যই এটি সেট করতে ভুলবেন না (এতে ল্যাপটপ দীর্ঘক্ষণ ঠাণ্ডা থাকবে)।

টার্মিনাল খুলুন (Ctrl+Alt+T) এবং রান করুন:
cat /proc/sys/vm/swappiness

এখন আপনার Swap সেটিংস বা Swappiness দেখাবে। 60 হচ্ছে ডিফল্ট সেটিংস। আমরা এটিকে কমাবো।

রান করুন:
gksudo gedit /etc/sysctl.conf

সবার নিচের লাইনে কপি-পেস্ট করুন:
# Decrease swap usage to a workable level
vm.swappiness=10

(বি.দ্র.: যদি আপনার RAM 1GB এর কম হয় তাহলে 10 এর জায়গায় 5 দিন।)

সেভ করে বেরিয়ে আসুন এবং রিস্টার্ট করুন। রিস্টার্টের পর cat /proc/sys/vm/swappiness রান করে দেখুন এখন 10 বা 5 দেখাবে, যেটি আপনি সেট করেছেন।

(বিস্তারিত দেখুন এখানে)

সফটওয়্যার রেপো আপডেট করে ইন্সটলের প্রস্তুতি নেয়া

ডিফল্ট হিসেবে সফটওয়্যারের ডাটাবেজটিতে সবগুলো রেপো সোর্স ব্যবহৃত হয় না। আমরা এভাবে সব সফটওয়্যার ইন্সটল করতে পারবো না। এজন্য আমাদেরকে সব সফটওয়্যারের ডাটা আপডেট করতে হবে।

ড্যাশ খুলে সার্চ করুন software । Software & Updates -এ ক্লিক করুন। এখানে main, universe, restricted, multiverse এবং source code এই ৫টি চেকবক্সে চেক/টিক দিন। মিরর সার্ভার অপশনে বাংলাদেশের কোনো মিরর (যেমন: ispros.com.bd) সিলেক্ট করে দিলে ডাউনলোড স্পিড ভালো পাবেন। Close এ ক্লিক করুন।

এখন দুটি উপায়ে আপডেট করতে পারেন:
১. ড্যাশে গিয়ে update লিখুন এবং Software Updater এ ক্লিক করে... অথবা
২. Terminal এ sudo apt-get update রান করতে পারেন।

এখন Software Center বা sudo apt-get install xxxyyyzzz এর মাধ্যমে সফটওয়্যার ইন্সটল করতে পারবেন।

ইউনিটি অনেক স্লো হলে করণীয় (বিকল্প Gnome ইন্টারফেস ব্যবহার)

Unity2D এখন বিলুপ্ত। এখন ইউনিটির ইন্টারফেস থ্রিডি ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে চলে, তাই এটির নাম Unity3D। অনেক সময় গ্রাফিক্স কার্ড থ্রিডি ক্যাপাবল/GPU enabled না হলে ইউনিটি অনেক স্লো কাজ করতে পারে। ইউনিটি থ্রিডি যারা চালাতে পারেন না তাদেরকে বলা হয় Xubuntu বা Lubuntu চালানোর জন্য। কিন্তু আমি একটা উপায় বের করেছি। এজন্য বিকল্প Gnome ইন্টারফেস ব্যবহার করা যেতে পারে। আমি এটা আমার Live USB পেনড্রাইভের জন্য ব্যবহার করি। যখনই কোনো কম্পিউটারে ইউনিটি স্লো হবে তখনই লগআউট করে Gnome ইন্টারফেসে লগইন করি। আমার ইন্সটল করা সব সফটওয়্যারই সেখানে ব্যবহার করা যায়, তবে ফাস্ট এনভায়রনমেন্টে!

(এখানে আরেকটি অপশন আছে যেটি আমার ক্ষ্রেত্রে কাজ করে নি। তবে ট্রাই করে দেখতে পারেন।)

এজন্য টার্মিনালে রান করুন:
sudo apt-get install gnome-panel

এখন লগআউট করুন (উপরে ডানদিকে কাঁটার মত চিহ্নওয়ালা System menu টি থেকে লগআউট অপশনটি পাবেন)।
[[[
আপনি যদি LiveUSB থেকে উবুন্টু রান করেন তাহলে হয়তো লগআউটের অপশনটি পাবেন না। লগআউটের জন্য টার্মিনালের একটি কমান্ড রয়েছে:
/usr/lib/indicator-session/gtk-logout-helper --logout

লগআউটের কাজটি সহজ করতে-
Alt+F2 চাপুন এবং রান করুন:
gedit ~/.bash_aliases
ফাইলটিতে নিচের লাইনটি যোগ করুন:
alias log-out="/usr/lib/indicator-session/gtk-logout-helper --logout"
সেভ করুন এবং জিএডিট ক্লোজ করুন।
এখন আপনি টার্মিনাল বা Alt+F2 Run Dialog-এ log-out লিখলেই লগ আউট করতে পারবেন।
]]]

এখন লগইন স্ক্রিন দেখতে পাবেন। এখানে উবুন্টুর চিহ্ন ওয়ালা বাটনটিতে ক্লিক করুন এবং GNOME Fallback (No effects) এ ক্লিক করুন। তারপর আপনার উইজারনেম আর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। (LiveUSB তে ইউজারনেম চাইলে ubuntu লিখে এন্টার করুন এবং পাওয়ার্ড চাইলে কিছু না লিখে এন্টার চাপুন।)

ডেস্কটপে রাইট ক্লিক মেনু এনাবল করা

উবুন্টু ১৩.০৪-এ ডেস্কটপে রাইট ক্লিক মেনু ডিফল্ট হিসেবে ডিস্যাবল করা থাকে। অবাক হবার মতই কথা! তবে সেটিকে এনাবল করার জন্য টার্মিনালে রান করুন:
gsettings set org.gnome.desktop.background show-desktop-icons true

এরপর রিস্টার্ট করুন।

ওয়ালপেপার এনাবল করা

উবুন্টু ১৩.০৪ এ ওয়ালপেপার সেটিংস সেভ হয়ে থাকে না। সেভ করে রাখার জন্য:
gsettings set org.gnome.settings-daemon.plugins.background active true

এরপর রিস্টার্ট করুন।

স্টার্টআপ এ্যাপ্লিকেশন বাছাই করা (স্টার্টআপ ফাস্ট করুন)

ড্যাশ থেকে startup লিখে Startup Applications এ যান। এখানে উবুন্টু স্টার্ট হবার সময় যত এ্যাপ্লিকেশন লোড হয় সেগুলো এখানে দেখানোর কথা। অনেকটা উইন্ডোজের msconfig এর মত। দেখবেন সেটি খালি। তাহলে কি উবুন্টু চালু হবার সময় কিছুই রান হয় না? হয়, কিন্তু সেগুলো লুকানো অবস্থায় থাকে।

উইন্ডোটি ক্লোজ করে টার্মিনালে রান করুন:
sudo sed -i 's/NoDisplay=true/NoDisplay=false/g' /etc/xdg/autostart/*.desktop

এটি একবার রান করলেই যথেষ্ট, পরবর্তীতে আর রান করতে হবে না।

এখন আবার Startup Applications এ যান। এখন দেখবেন সেখানে সব আইটেম দেখাচ্ছে। আমি এখান থেকে যেসব ফিচার ব্যবহার করি না সেগুলো ডিস্যাবল করে দিয়েছি। যেমন: Backup monitor, Ubuntu One, Update Notifier ইত্যাদি। আপনার ক্ষেত্রে ডিস্যাবল করা আইটেমগুলো অন্যরকম হতে পারে কারণ সবাই একই ফিচার ব্যবহার করে না। আপনি যেগুলো ব্যবহার করেন না সেগুলো ডিসাবল করে দেখতে পারেন। তবে এটা করবেন নিজ দায়িত্বে। যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে আমি দায়ী নই!

টার্মিনাল নির্দিষ্ট ডিরেক্টরিতে ওপেন করুন রাইট ক্লিক করে

ডিরেক্টরির ভিতরের ডিরেক্টরি, তার ভিতর আবার ডিরেক্টরি। এমন অবস্থায় cd করে সবচেয়ে গভীরের ডিরেক্টরিতে যাওয়া যে কতটা বিরক্তিকর ও সময়ের কাজ তা অনেকেই জানেন। এজন্য একটি প্যাকেজ আছে যেটি ইন্সটল করে নিলে যেকোন ফোল্ডারে টার্মিনাল ওপেন করা যাবে। সফটওয়্যারটি হচ্ছে nautilus-open-terminal। ইন্সটল করতে টার্মিনালে রান করুন:

sudo apt-get install nautilus-open-terminal

তারপর নটিলাসকে রিসেট করার জন্য রান করুন:

nautilus -q

অডিও ভিডিও কোডেক সাপোর্ট

উবুন্টুতে ডিফল্ট হিসেবে অডিও ভিডিও কোডেক ইন্সটল করা থাকে না। তাই কমন মিডিয়া ফাইল যেমন mp3, wma, wav, mp4, avi, flv, mkv ফাইলগুলো চালানো যায় না। এজন্য নিচের কমান্ডটি রান করুন:

sudo apt-get install ubuntu-restricted-extras

আমার এটাতেই হয়ে যায়। তবে অনেকে এনক্রিপটেড ডিভিডি চালান যেজন্য আরো কিছু কাজ করতে হবে। বিস্তারিত এখানে দেখুন

VLC Media Player ইন্সটল করা

VLC Media Player এমন একটি প্লেয়ার যেটিতে সব ফরম্যাটের অডিও-ভিডিও চলে। এটি খুব জনপ্রিয় একটি মিডিয়া প্লেয়ার তা নিশ্চয়ই আর বলার প্রয়োজন নেই।

VLC Media Player ক্রস-প্লাটফর্ম। তাই উবুন্টুর নেটিভ ভার্সন ব্যবহার করতে পারবেন। ইন্সটলের জন্য রান করুন:
sudo apt-get install vlc

যদি আপনি ভাল ফ্রেম রেটে ভিডিও দেখতে না পান তাহলে নিচে "স্লো ভিডিও সমস্যার সমাধান" শিরোনামটি দেখুন।

ফ্ল্যাশ প্লেয়ার ইন্সটল করা


টার্মিনাল খুলে রান করুন:
sudo apt-get -y install adobe-flashplugin

ইন্সটল হবার পর এই পেজে যান। এখানে যদি ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সন দেখায় (যেমন 11.2.xyz) তাহলে বুঝবেন যে ফ্ল্যাশ প্লেয়ার ইন্সটল হয়েছে।

এতে কাজ না হলে এখানে দেখুন

ইউনিজয় দিয়ে বাংলায় টাইপ করা

আমরা বাংলা লিখতে বিজয় কিবোর্ড লেয়াউটে অভ্যস্থ। বাংলাদেশে বিজয় লেযাউট মুদ্রিত কিবোর্ড দেদারসে পাওয়া যায়। ইউনিকোডে লিখতে গেলে ইউনিজয় লেয়াউটটা বিজয়ের কাছাকাছি যায়। উবুন্টুতে ইউনিজয় দিয়ে টাইপ করা যায় সহজেই।

টার্মিনালে রান করুন:
sudo apt-get install ibus-m17n m17n-db m17n-contrib ibus-gtk

এখন ড্যাশ খুলে ibus রান করুন। ibus কে স্টার্টআপে Service হিসেবে চালু করবে কিনা এরকম একটি ম্যাসেজ আসবে। তাতে Yes চাপুন। এখন যে ডায়লগটি আসবে তার Input Method ট্যাবে যান এবং Customize active input methods চেকবক্সে চেক দিন। Select an input method ড্রপডাউন মেনু থেকে Bengali > unijoy (m17n) এ ক্লিক করুন। Add বাটনে ক্লিক করুন।
(স্ক্রিনশটসহ বিস্তারিত দেখুন এখানে)

এখন চাইলে আপনি ওকে করে বেরিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু এতে করে Ctrl+Space চেপে আপনাকে টাইপের ভাষা পরিবর্তন করতে হবে। তবে আপনি যদি উইন্ডোজের মত Left Alt + Left Shift দিয়ে টাইপের ভাষা পরিবর্তন করতে চান তাহলে একটু কষ্ট করতে হবে। General ট্যাবে গিয়ে Next Input Method বক্সের কিবোর্ড শর্টকাটটিকে Control+Alt+Shift_L এ রূপান্তরিত করুন। তারপর Enable or Disable বক্সে Alt+Shift_L যোগ করুন।

যদি উবুন্টুর নিজস্ব কিবোর্ড লেয়াউট অপশনটি আপনার পথে বাধা সৃষ্টি করে তাহলে সেটিতে ক্লিক করুন, Keyboard Layout Settings... এ যান এবং English (US) অপশনটি ছাড়া সবগুলো লেয়াউট একে একে সিলেক্ট করে মাইনাস (-) চিহ্নিত বাটনটি দিয়ে ডিলিট করে দিন।

স্লো ভিডিও সমস্যার সমাধান

উবুন্টুর ডিফল্ট মিডিয়া প্লেয়ার হচ্ছে Totem। এটির ভিডিও প্লেব্যাক ভালই, তবে লো কনফিগারেশনে এটিতে ভিডিও দেখতে গেলে খবর হয়ে যায়। ভিডিও এমন আঁটকে আঁটকে চলবে যে ভিডিও দেখার মজাই চলে যাবে। আমার HPMini 110TU, N2600 Intel Atom dualcore 2GHz, 2 GB RAM, GMA3600 -তে এই সমষ্যা হয়, কারণ Intel বাদরামি করে গ্রাফিক্সকার্ড GMA3600 এর ড্রাইভার আপডেট করে নি। তাই GPUটা পুরোই অকাজের রয়ে গেছে। এজন্য অবশ্য ইন্টেলের নামে অনেকে অনেক অভিযোগও করেছে, কিন্তু কোনো লাভ হয় নি।

Parole নামে একটি মিডিয়া প্লেয়ার আছে যেটি Totem এর চাইতেও ভাল ফ্রেম রেটে ভিডিও দেখাতে পারে। Parole, Xubuntu এর ডিফল্ট মিডিয়া প্লেয়ার। সেখান থেকেই এর সন্ধান পাওয়া।

টার্মিনাল খুলে রান করুন:
sudo apt-get install parole

এতে প্যারোল মিডিয়া প্লেয়ার ইন্সটল হবে। এটি চালু করুন এবং ভিডিও চালিয়ে টেস্ট করুন। যদি কোনো ম্যাসেজ দিয়ে প্লে না হয় তাহলে নিচের কমান্ডটি একবারই রান করুন:
parole --xv false

প্যারোল বন্ধ করে আবার চালু করুন এবং টেস্ট করুন। আশা করি কাজ হবে।

System Program Problem Detected এরর ম্যাসেজ দূর করা

এটা ইদানীংকার উবুন্টুগুলোতে খুব দেখা যায়। ১০.১০ বা তার আগের উবুন্টুগুলোতে এটা আসতো না। সবচেয়ে বিরক্তিকর ব্যাপার হল এটি একবার দেখালেই শেষ না। রিবুট করার পরও একই এরর বার বার দেখায়। এই বিরক্তিকর অবস্থা দূর করার জন্য টার্মিনালে রান করুন:
sudo rm /var/crash/*

(সূত্র)

Ubuntu has experienced an internal error বা The application xyz has closed unexpectedly এরর ম্যাসেজ দূর করা (Apport ডিস্যাবল করা)


Apport নামে একটি প্রোগ্রাম কোনো এ্যাপ্লিকেশন ক্র্যাশ করলে ক্র্যাশটি সম্পর্কে তথ্য উবুন্টু টিমের কাছে পাঠায়। এটির কোনো প্রয়োজন নেই। তাই এটি ডিস্যাবল করতে পারেন।

টার্মিনালে রান করুন:
sudo gedit /etc/default/apport

enabled=1 লাইনটির 1 মুছে 0 লিখে সেভ করে বেরিয়ে আসুন। রিস্টার্ট করুন বা লগআউট করে লগইন করুন। (সূত্র)

মাইক্রোসফট অফিস ২০০৭ ইন্সটল করা

আমরা যারা লেখালেখি করি তারা মাইক্রোসফট অফিস ব্যবহার করি। যদিও উবুন্টুতে LibreOffice ডিফল্ট হিসেবে ইন্সটল করা থাকে তবে কম্প্যাবিলিটির কথা চিন্তা করে এমএস অফিসও ইন্সটল করতে পারেন। এমএস অফিস ইন্সটল করার জন্য আপনার পারসিসটেন্স স্টোরেজ ফাইলটি (casper-rw) -তে কমপক্ষে ১ থেকে ১.৫জিবি জায়গা খালি থাকা উচিৎ। কত স্পেস খালি আছে তা দেখতে উবুন্টু থেকে ফাইল ম্যানেজার খুলে Computer অপশনে ক্লিক করুন। এখন খালি জায়গায় রাইট ক্লিক করে Properties এ ক্লিক করলে Free Space কতটুকু আছে  তা দেখতে পাবেন। আর ইন্সটল করার সময় আজেবাজে জিনিস যেমন Groove,Infopath,Outlook ইত্যাদি Do not install দিয়ে দেয়া ভাল। এতে করে আপনার স্পেস খামখা নষ্ট হবে না। এজন্য Install Now না দিয়ে Custom Install দিলে ভাল।

Wine+Winetricks ইন্সটল করুন:
sudo apt-get install wine1.4 winetricks wine-gecko1.4

ওয়াইন ইন্সটল হবার পর আপনার অফিস ২০০৭ এর সিডি প্রবেশ করান (বা নোটবুকের ক্ষেত্রে পেনড্রাইভে কপি করে নিতে পারেন)। এখন Setup.exe তে রাইট ক্লিক করে Wine Program Loader সিলেক্ট করুন। এখন আপনি উইন্ডোজের মতই সেটাপটি করতে পারবেন। (তবে আরো ভাল একটি গাইডের জন্য এখানে বিস্তারিত দেখুন)

(আমি এতে বিজয় ২০০৩ কাজ করাতে পারি নি। যদিও Puppy Linux এ wine1.1 দিয়ে খুব ভালই বিজয়ে টাইপ করতে পেরেছি। উবুন্টুতেও wine1.1 দিয়ে বিজয় ২০০৩ কাজ করতে পারে। ট্রাই করে দেখতে পারেন।)

দরকারী কিছু সফটওয়্যার

উবুন্টু ব্যবহার করতে গেলে কিছু কমন সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। উইন্ডোজের সফটওয়্যারগুলো Wine দিয়ে সেটাপ+চালানো সম্ভব। তবে আপনি যদি নেটিভ সফটওয়্যার চান তাহলে উবুন্টুতে বিকল্প সফটওয়্যার রয়েছে:

[ উইন্ডোজের সফটওয়্যার -> উবুন্টুতে বিকল্প ]
ফটোশপ -> Gimp
ইলাস্ট্রেটর -> Inkscape
CoolEdit/Sony SoundForge -> Audacity
VLC Media Player -> VLC Media Player (ভিএলসির উবুন্টু ভার্সনও আছে!)
CuteFTP -> Filezilla
কোয়ার্ক এক্সপ্রেস -> Scribus
থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স/Maya -> Blender
Adobe Premier/Sony Vegas -> Avidemux
গুগল টক/Yahoo! ম্যাসেঞ্জার/MSN Messenger -> Pidgin
Opera -> Opera
Google Chrome -> Chromium / Iron
WAMPP -> XAMPP
WinZip/WinRAR -> 7-zip
Adobe Acrobat Reader -> Evince (ডিফল্ট), SumatraPDF
Adobe Acrobat -> PDFEdit
MS Office Frontpage -> Kompozer

এছাড়াও...
ওয়েবক্যামের জন্য -> guvcview / cheese
টিভি কার্ড ব্যবহারের জন্য -> TVTime
এনক্রিপশনের জন্য -> TrueCrypt
এ্যাপলিকেশন ডেভেলপমেন্টের জন্য -> Eclipse, Netbeans, Lazarus, Monodevelop
Source code/plain text এডিট করার জন্য  -> Editra, Medit, SciteTE
হিসাব রাখার জন্য -> Homebank (ব্যক্তিগত), GnuCash (প্রাতিষ্ঠানিক)
এ্যানিমেশন তৈরি করার জন্য -> Synfig
ফ্রিহ্যান্ড আঁকার জন্য ->  MyPaint, Pencil, Xara Xtreme for Linux
এবং আরো হাজার হাজার এ্যাপস রয়েছে আপনার নির্দিষ্ট কাজের জন্য। সফটওয়্যার সেন্টারে গিয়ে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত সফটওয়্যার।

Software Center থেকে সার্চ করে খুব সহজেই এগুলো ইন্সটল করতে পারবেন। সফটওয়্যারের পেজ থেকে File মেনু থেকে Install দিতে হবে (Install বাটনটি কাজ করে না)।

আরো কিছু কাজের লিংক

উবুন্টুতে কিছু কমন bug বা ত্রুটি আছে। এগুলোর সমাধান পেতে পারেন এখানে
Ubuntu 13.04 এ কিছু জানা শোনা ত্রুটি আছে যেগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন এখানে
এখানে একটা মেগা পোস্ট আছে উবুন্টু ১৩.০৪ নিয়ে: To do list after installing Ubuntu 13.04

Continue reading ...

Sunday, April 28, 2013

উবুন্টুতে ল্যাপটপ ঠান্ডা রাখার উপায়+ফাস্টও হবে

1 comments
আমি আমার এইচপিমিনি ল্যাপটপটিতে উইন্ডোজ ৭ এর পাশাপাশি পেন ড্রাইভ দিয়ে উবুন্টু (এবং Xubuntu, Lubuntu, Mint) চালাই। কিন্তু একটা ব্যাপার লক্ষ্য করতাম। উইন্ডোজ চালালে যতটা না ল্যাপটপ গরম হয়, তার চেয়ে বেশি গরম হয় উবুন্টু চালালে। ব্যাপারটা আমাকে বেশ ভাবাতো। ভাবতাম, উবুন্টু চালিয়ে  কম্পিউটারের ক্ষতি হচ্ছে না তো? তবে নেটে সার্চ দিয়ে এরকম কোন ক্ষতির খবর পেলাম না।

কিন্তু আর যাই হোক, ল্যাপটপ এতটা গরম হওয়া তো ভাল কথা নয়। মাঝে মাঝে গরম হয়ে এমন অবস্থা হত যে টাচপ্যাডে ছুঁলে ভয় লাগতো। কিন্তু কয়েকদিন আগে এর একটা সমাধান পেলাম। তাই সমাধানটা শেয়ার করছি।

ল্যাপটপ গরম হবার কারণ


আসলে ল্যাপটপ গরম হয় এর কারণ হচ্ছে হার্ডডিস্ক বেশি ব্যবহার হওয়া। পেনড্রাইভ থেকে উবুন্টু চালালেও এর Swap file settings এর কারণে বিভিন্ন তথ্য র‍্যামে না রেখে হার্ডডিস্কে রাইট হয়। বার বার হার্ডডিস্ক এ্যাক্সেস করার কারণে এটি গরম হয়ে যায়। এই Swap সেটিংস কমিয়ে একটি পর্যায়ে নিয়ে আসলে তখন হার্ডডিস্ক কম এ্যাক্সেস হবে এবং গরমও কম হবে। সোয়াপ সেটিং কমিয়ে আমি দেখেছি, উবুন্টু চালালে উইন্ডোজের চাইতেও কম গরম হয়।
(Swap সেটিংসকে আদুরে ভাষায় Swappiness ও বলা হয়।)

স্লো হবার কারণ

আরেকটি জানার বিষয় হল হার্ডডিস্কের গতি র‍্যামের চাইতে কম। র‍্যামকে এমনভাবেই তৈরি করা হয়েছে যাতে এতে খুব দ্রুত তথ্য সংরক্ষণ ও পরিবর্তন করা যায়।

সোয়াপ সংরক্ষিত থাকে হার্ডডিস্কে। তাই সোয়াপ বেশি ব্যবহৃত হলে উবুন্টু স্লো কাজ করে। সোয়াপ কম ব্যবহৃত হলে র‍্যামে বেশিরভাগ কাজ হবে । এতে কম্পিউটার ফাস্ট কাজ করবে।


সমাধান

প্রথমে আসুন দেখে নিই আপনার বর্তমান সোয়াপ সেটিংস কত সেট করা আছে
Ctrl+Alt+T চেপে টার্মিনাল ওপেন করুন।এখন নিচের কমান্ডটি টাইপ করে এন্টার চাপুন:
cat /proc/sys/vm/swappiness

60 দেখানোর কথা। এই ভ্যালুটি ৬০ দেয়া অযৌক্তিক, তারপরও এটি ডিফল্ট হিসেবে সেট করা থাকে।


এখন টার্মিনালে (অথবা Alt+F2 চেপে) রান করুন:
gksudo gedit /etc/sysctl.conf

আপনি যদি Xubuntu, Lubuntu, Kubuntu বা অন্য লিনাক্সে এটি ট্রাই করতে চান তাহলে gedit এর জায়গায় আপনার টেক্সট এডিটরের নাম দিন (যেমন: Lubuntu হলে leafpad)।

যে টেক্সট ফাইলটি ওপেন হবে তার একদম শেষে গিয়ে নিচের লাইনগুলো যোগ করে দিন এবং সেভ করুন:
# Decrease swap usage to a workable level
vm.swappiness=10
উপরে 10 এর জায়গায় কি হবে সেটা দেখুন:
এখন, আপনার র‍্যাম যদি ১গিগাবাইট বা তার বেশি হয় তাহলে 10 ই রাখুন
আর ১ গিগাবাইটের কম হলে 5 দেয়া উচিৎ।

এখন সেভ করে বেরিয়ে আসার পর রিস্টার্ট করুন। আপনার ল্যাপটপ এখন অনেক দীর্ঘ সময় ঠাণ্ডা থাকবে এবং অনেক প্রোগ্রাম চালালেও আগের মত স্লো হবে না।

আরেকটা ছোট টিপস

যদি আপনার ল্যাপটপ কুলার না থেকে থাকে বা কেনার সামর্থ্য বা ইচ্ছা না থাকে তাহলে একটা কাজ করতে পারেন। যখন বাসায় ল্যাপটপ ব্যবহার করেন তখন নিশ্চয়ই আপনার ধারেকাছে অনেক বই থাকে। একই সাইজের দুটি বই নিয়ে ল্যাপটপের দুপাশে দুটি নিয়ে তার উপর ল্যাপটপ বসান। এতে ল্যাপটপ ঠাণ্ডা থাকবে।

আর ল্যাপটপের বাতাস বের হবার জায়গা (Air vent) যেন ঢাকা না পড়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

মনে রাখবেন, আপনার মাথা ঠাণ্ডা রাখার জন্য ল্যাপটপের মাথা (থুক্কু বডি) ঠাণ্ডা রাখা জরুরী! :-)

রেফ:
https://sites.google.com/site/easylinuxtipsproject/first
Continue reading ...

Monday, March 18, 2013

Ascii-Hex-Ascii Converter code

0 comments
In programming, we need Hexadecimal codes for many reasons. At least Computer Science students need no introduction to the fun of converting to Hex codes. Here is a fun experiment on how to convert ASCII text to Hex code and vice-versa. It is written in Free Pascal and can be easily used in Lazarus (or may be Delphi as well).

This is written as a snippet. So come on, use it how you want to! Use it in a console application or a GUI interface, it will just work.

Function for converting Ascii (String) to Hex:


Function TForm1.StrToHex(s: String): String;
Var
  i: Integer;
  ch: Char;
Begin
  Result:=''; i:=1;
  While i<=Length(s) Do Begin
       ch := s[i];
       Result := Result+IntToHex(ord(ch), 2);
       Inc(i);
  end;

End;

Function to convert Hex to Ascii:


Function TForm1.HexToStr(s: String): String;
Var i: Integer;
Begin
  Result:=''; i:=1;
  While i<Length(s) Do Begin
    Result:=Result+Chr(StrToIntDef('$'+Copy(s,i,2),0));
    Inc(i,2);
  End;
End;

Don't forget to add the declaration at the top of the unit. You may put your cursor on the function name and press Ctrl+Shift+C. This will automatically add the declaration at the top. (But mind the TForm1 part)


Feel free to comment on this snippet if you have some improvements on this code or have found a bug.

Ref:
http://www.lazarus.freepascal.org/index.php?topic=4807.0

Continue reading ...

Tuesday, February 26, 2013

উবুন্টুতে দুই ক্লিকে ইন্টারনেটে কানেক্ট করার পদ্ধতি

0 comments
ইন্টারনেটের গুরুত্ব আপনার কাছে আর কি বলবো। আপনি এই মুহূর্তে একটি ব্লগ সাইট পড়ছেন। আপনি নিশ্চয়ই সুবিধাটা ভাল করেই জানেন।

ইউএসবি মোডেম দিয়ে উবুন্টুতে নেট কানেক্ট করা একটু কষ্টের। (এই কষ্টটা সিটিসেল/জুম ব্যবহারকারীদের জন্য বেশী। গ্রামীন বা বাংলালিংকের মোডেম দিয়ে নাকি এই পদ্ধতিতে কানেক্ট করা যায়। তবে আমি কখনো চেষ্টা করি নি।) কিন্তু (GSM) মোবাইল দিয়ে নেট কানেক্ট করা উইন্ডোজের চাইতে সহজ। শুধু ৫ থেকে ৬টা ক্লিক করেই সেটাপ, আর দুই ক্লিকে কানেক্ট করা যায়! এর চেয়ে সহজ আর কি হতে পারে।

আমি Symphony SOAP FT10 সেট দিয়ে রবির সিম ব্যবহার করে নেট কানেক্ট করেছি। তবে মোডেম সাপোর্ট করে এমন যেকোন সেট দিয়েই এভাবে ব্রাউজ করা সম্ভব। চায়না যেকোন মোবাইল দিয়ে আশা করি এভাবে অনায়াসে কানেক্ট করতে পারবেন।

ইন্টারনেট থাকলে লিনাক্সের সত্যিকার শক্তিটি উপলব্ধি করা যায়। তাহলে আর দেরী না করে শুরু করুন। এজন্য লাগবে:

১. একটি EDGE/GPRS সাপোর্টেড মোবাইল ফোন সেট যেটি কম পোর্টের সাহায্যে  মোডেম হিসেবে ব্যবহার করা যায়;
২. একটি GSM সিম (সিটিসেল ছাড়া যেকোন সিম);
৩. মোবাইলটির জন্য ডাটা কেবল;
৪. এবং উবুন্টু তো লাগবেই!

স্টেপ-১: ইন্টারনেট প্যাক কিনুন:

প্রথমে ডিফল্ট হিসেবে সিমগুলোতে Pay per use প্ল্যান এক্টিভেট করা থাকে। এটি মোবাইলের অল্প স্বল্প ব্রাউজের জন্য ভাল। কিন্তু কম্পিউটারে ব্রাউজ করতে গেলে ডাটা তো একটু বেশি লাগবেই। তাছাড়া ডাউনলোড করলে তো কথাই নেই। তাই আপনাকে মেগাবাইটের প্যাকেজে মাইগ্রেট করতে হবে। তখন আপনি সাশ্রয়ী রেটে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

আপনার সিম অনুযায়ী সেটাপ ভিন্ন হবে। তাই আমি এখানে বিস্তারিত উল্লেখ করছি না।

রবি

রবির দুটি প্যাক আমার খুব পছন্দের। একটি হচ্ছে ২০০মেগাবাইট @ ৫০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১ দিন। আরেকটি হচ্ছে ৪০০মেগাবাইট @ ৫০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ২দিন (রাত ১টা থেকে সকাল ৬টা)। দ্বিতীয় প্যাকটি আমি যতবারই ব্যবহার করেছি অনেকটা আনলিমিটেডের মতই ব্রাউজ করেছি এবং পুরোটা কোনবারই শেষ করতে পারি নি।

এছাড়াও রেগুলার ব্যবহারের জন্য আরেকটি প্যাক হল ১জিবি @ ২৭৫৳+ভ্যাট, মেয়াদ ৩০ দিন। সাশ্রয়ী আরেকটি প্যাক হচ্ছে ১০০মেগাবাইট @ ১০০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ৩০ দিন। এরকম ৩ জিবি থেকে ৫ জিবি পর্যন্ত Monthly packs আছে।

বিস্তারিত এখানে

গ্রামীণফোন

অনেক প্যাকেজ আছে। যদিও দাম একটু বেশি। ৯৯মেগাবাইট @ ৯৯৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১৫দিন একটি প্যাকেজ রয়েছে যেটি অনেকে পছন্দ করতে পারেন। রাতে যারা ব্রাউজ করতে চান তাদের জন্য ৫জিবি @ ২৫০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১ মাস (P3) প্ল্যানটি নিতে পারেন।১জিবি @ ৩০০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১ মাস (P6) দিয়ে রেগুলার ব্যবহার করতে পারেন।
বিস্তারিত এখানে

বাংলালিংক

এদেরও অনেক প্যাক আছে। ২০০ মেগাবাইট @ ৫০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১ দিন (P4) প্যাকটি হঠাৎ ব্যবহারের জন্য ভাল। তাদের P11 প্যাকটি একটু ভিন্ন - আনলিমিটেড ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা এবং বাকি সময় ১.০৩৳+ভ্যাট @ ২০৳। সকাল বেলা একটু বাদশাহী ভাব দেখাতে এই প্যাকটি মন্দ নয়। এছাড়াও রয়েছে ১ জিবি @ ২৭৫৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১মাস (P6)। যারা রাত জাগা পাখি তাদের জন্য আনলিমিটেড, রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা @ ৩০০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১ মাস (P3) প্ল্যানটি বেশ লোভনীয়। (সপ্তাহে ৩জিবির বেশি ব্রাউজ করলে অবশ্য একটু সমস্যা আছে।)
বিস্তারিত এখানে

টেলিটক

টেলিটকের প্যাকগুলো বেশ সাশ্রয়ী। ২জি/৩জি দুই প্রকার সিমের জন্য বিভিন্ন প্যাক  আছে। যারা ৩জি সিম ব্যবহার করছেন তারা ১জিবি পাবেন @ ১৭৫৳+ভ্যাট, মেয়াদ ৩০ দিন!! আরো অনেক প্ল্রান আছে যেগুলোতে ৫১২কেবিপিএস, ১এমবিপিএস, ২এমবিপিএস পর্যন্ত স্পিড পাওয়া যাবে। ২জির জন্য : ২৫০মেগাবাইট @ ১০০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১৫দিন (D4)। ১জিবি @ ২০০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ৩০দিন (D5)। আনলিমিটেড @ ৬০০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ৩০দিন (D6)।
বিস্তারিত এখানে

স্টেপ-২: সেটাপ করুন

১. প্রথমে ডাটা কেবল দিয়ে আপনার মোবাইলটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করুন।

২. লিস্ট থেকে COM port সিলেক্ট করুন।

৩. এখন নোটওয়ার্ক ইন্ডিকেটর আইকনে ক্লিক করে New mobile broadband (GSM) connection... মেনুতে ক্লিক করুন।

Click the  network indicator and then click new...

৪. Continue চাপুন।

৫. দেশ সিলেক্ট করুন... Bangladesh

৬. আপনার টেলিকম প্রতিষ্ঠান সিলেক্ট করুন। এখানে কিন্তু বাংলাদেশের সব টেলিকম কোম্পানিই আছে। অবাক হচ্ছেন? উবুন্টু অনেক আধুনিক এবং লোকালাইজেশন ফ্রেন্ডলি।

৭. APN সিলেক্ট করুন। এখানে উল্লেখ্য, আপনি যদি ঠিকমত এপিএন না দেন তাহলে আপনার বিল বেশি আসতে পারে। কাজেই সাবধানে এপিএনটি দিন। প্রয়োজনে উপরে বিস্তারিত লিংকগুলো থেকে প্যাকের জন্য সঠিক এপিএনটি জেনে নিন।


৮. এখন আপনার নেট কানেক্ট হবার চেষ্টা হবে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই নেট কানকশন পেয়ে যাবে


স্টেপ-৩: কানেক্ট করা

প্রথমবারে তো অটোমেটিক কানেক্ট হয়ে গেল। কিন্তু পরেরবার কিভাবে কানেক্ট করবেন? পদ্ধতিটি দেখে নিন।

১. আগের মতই ডাটা কেবল দিয়ে মোবাইলটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করুন এবং মোডেমের জন্য মোড সিলেক্ট করুন (Com port)।

২. শুধু নেটওয়ার্ক ইন্ডিকেটরে ক্লিক করে আপনার তৈরি করা কানেকশনটিতে ক্লিক করুন... ব্যস! কিছুক্ষণের মধ্যেই উপভোগ করুন ইন্টারনেট।



কানেক্ট হয়ে গেলে নেটওয়ার্ক বার দেখতে পাবেন, যেটি দেখাবে কতটুকু স্ট্রং নেটওয়ার্ক সিগনাল পাচ্ছে। এখন উপভোগ করুন একদম নিরাপদ ব্রাউজিং, কোনো ভাইরাসের টেনশন ছাড়া!

উবুন্টুতে এভাবে ইন্টারনেটে কানেক্ট করা খুব সহজ। শুধু হাতের কাছে একটা মোডেম সাপোর্টেড ফোন থাকলেই হল। এই কানেক্ট করার কাজটা উইন্ডোজে করতে গেলে খবর হয়ে যেত। মোবাইলের ড্রাইভার ছাড়া কানেক্ট করা ইম্পসিবল হত।

কানেক্ট করা অবস্থায় সিমটা এনগেজড দেখাবে এই আরকি! এই পদ্ধতিতে Lubuntu, Xubuntu, Kubuntu, Linux Mint ইত্যাদি ডিস্ট্রতে খুব সহজেই নেটে কানেক্ট করা সম্ভব।

(সতর্কতা: মোবাইলে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। লিথিয়াম আয়ন বা লিআয়ন ব্যাটারি তাপে এর ক্ষমতা অনেক তাড়াতাড়ি হারায়। মোবাইল দিয়ে নেট ব্যবহার করলে মোবাইল অত্যধিক গরম হয়ে যায়। এতে করে ব্যাটারিতে তাপ পৌছে গিয়ে ব্যাটারির কিছুটা ক্ষতি করতে পারে।)
Continue reading ...

Saturday, February 23, 2013

Windows key দিয়ে লুবুন্টু মেনু (Start Menu) খোলার পদ্ধতি

0 comments
আমরা যারা উইন্ডোজ ব্যবহার করে অভ্যস্ত তারা উইন্ডোজ বাটনের বেশ ফ্যান তা নয়। তবে আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা স্টার্ট মেনুটি কিবোর্ডের মধ্যে থাকা উইন্ডোজ বাটনটি দিয়ে খুলতে পছন্দ করেন। এই কাজটুকুই যদি না করা যেত তাহলে কেনই বা এই বাটনটি কিবোর্ডে দেয়া হয়, তাই না?

Lubuntuতে ডিফল্ট হিসেবে উইন্ডোজ কি-টির কোনো ফাংশন দেয়া নেই। তাই সেটি সারাদিন টিপলেও কোন লাভ হয়না। তবে... লিনাক্সের প্রায় সবকিছুই কাস্টোমাইজেবল। তাই উইন্ডোজ কি-টিকে দিয়ে আমরা লুবুন্টুর স্টার্ট মেনু খোলাতে পারবো। এজন্য নিচের গাইডলাইন অনুসরণ করুন:


  • Windows+E চেপে প্যাকম্যান ফাইল ম্যানেজার (এক্সপ্লোরার) ওপেন করুন
  • Ctrl+H চেপে হিডেন ফাইল শো করুন
  • এরপর .config তারপর openbox ফোল্ডারে যান। (তাহলে আমরা পৌছে যাবো /home/lubuntu/.config/openbox ফোল্ডারে)

  • এবারে lubuntu-rc.xml ফাইলটিতে ডাবল ক্লিক করুন।
  • Ctrl+F চাপুন এবং  লিখে এন্টার চাপুন। একটি লাইন খুঁজে পাবেন।

  • এই লাইনটির পরে এই কোডগুলো পেস্ট করুন:
<keybind key="Super_L"> <action name="Execute"> <command>lxpanelctl menu</command> </action> </keybind>
   

        (সতর্কতা: পেস্ট করার সময় লক্ষ্য রাখবেন যেন অন্য কোনো এবং এর মাঝে যেন কোডটি পেস্ট না হয়। এই xml টি উল্টোপাল্টা হলে কিন্তু লুবুন্টু রান নাও হতে পারে।সবচেয়ে ভাল হয় যদি আপনি ফাইলটির ব্যাকআপ রেখে দেন। )
  • File - Save মেনুতে ক্লিক করে অথবা Ctrl+S চেপে ফাইলটি সেভ করুন
  • এরপর Ctrl+Alt+T চেপে openbox --reconfigure কমান্ডটি লিখে এন্টার চাপুন। এখন উইন্ডোজ বাটনটি চাপলে লুবুন্টু মেনু (স্টার্ট মেনু) দেখতে পাবেন।

 এই তো! এখন আপনার স্টার্ট মেনুটি খুব সহজে খুলতে  পারবেন। মাঝে মাঝে মাউস দিয়ে কাজ করতে আলসেমী লাগলে উইন্ডোজ বাটন চেপেই স্টার্ট মেনু খুলতে পারবেন।

(এই টিপটি লুবুন্টু ১২.১০ এ সফলভাবে টেস্ট করা হয়েছে। তবে এর আগের বা পরের ভার্সনেও এটি ব্যবহৃত  হতে পারে।)

Ref:
Continue reading ...

Thursday, February 14, 2013

স্লো কানেকশনে ফাস্ট ব্রাউজ করুন (Image+HTML Compression)

0 comments
To gain speed you will have to compress the websites that you surf
বাংলাদেশে ফাস্ট ইন্টারনেটের কোন অস্তিত্ব নেই। যেখানে ১ এমবিপিএস কানেকশনকে উন্নয়নের জন্য রিকোয়্যারমেন্ট হিসেবে ধরা হয় সেখানে ৫১২ কেবিপিএস স্পিডই ঠিকমত পাওয়া যায় না। ডাউনলোড স্পিড কানেকশন ভেদে ১৫ থেকে ৩০ কেবিপিএস এর মধ্যে পাওয়া যায়। এমনও হয়েছে যে রাত ৮টার পর স্পিডটা কমে ১০ ভাগের এক ভাগ হয়ে গেছে (আর ডাউনলোড হয়ে যায় ২.৫০ কেবিপিএসের সেই পুরোনো আমলের ডায়াল আপ কানেকশনের মত)।

তাহলে কি করবেন? একটা উপায় আছে। আপনি যে ওয়েবসাইটগুলো ব্রাউজ করেন তা স্লো লোড হবার পিছনের কারণটা নিয়ে চিন্তা করুন তো। ওয়েবসাইটে যে ইমেজগুলো থাকে সেগুলোই স্লো লোডের পিছনে দায়ী। তাছাড়া মাঝে মাঝে পেজের HTML কোডও অনেক দীর্ঘ হয়। এটাও একটা কারণ। এজন্য ওয়েবসাইটগুলোতে যে ইমেজগুলো আছে সেগুলোকে কমপ্রেস করে ডাউনলোড করলে তাহলে আপনি ফাস্ট ব্রাউজ করতে পারবেন। আর তাছাড়া HTML কমপ্রেসও অনেক কাজের।

সমাধান ১: অপেরা + টারবো


অপেরার টারবো প্রযুক্তিটি এই কাজটি অনেক আগেই করে ফেলেছে। অপেরার ৯.১০ ভার্সন থেকেই Opera Browser এ যোগ হয়েছে এই টারবো নামে প্রযুক্তি, যেটি ডিফল্ট হিসেবে নিষ্ক্রিয় থাকে। এটি এনাবল করে নিলে আপনি যত ওয়েবসাইট ব্রাউজ করবেন সেগুলোর ইমেজগুলো কমপ্রেস হয়ে ডাউনলোড হবে। এতে করে ব্রাউজ করতে পারবেন দ্রুত। অপেরা ব্যবহার করে দেখেছি যে এতে খুব কম মেগাবাইট (ব্যান্ডওয়াইডথ) কাটে। আপনি ৬ মেগাবাইটে মোটামুটি সারাদিনের ব্রাউজ সারতে পারবেন। এতে করে আপনি ইন্টারনেটের বিলও কমাতে পারবেন।

Opera.com থেকে অপেরা ব্রাউজারটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিন।

অপেরা চালু করে নিচে বামদিকে একটি মিটারের মত চিহ্ন আছে। সেটি টারবোর আইকন। সেটিতে ক্লিক করে টারবো এনাবল করা যাবে।
enable opera turbo by clicking in the meter icon at the bottom


অপেরা ক্রস প্লাটফর্ম। এটি উইন্ডোজ/লিনাক্স/ম্যাক/এ্যানড্রোয়েড/চায়না ফোনগুলোতেও ব্যবহার করতে পারবেন।

সমাধান ২: টুনেল (ক্রস প্লাটফর্ম, ক্রস ব্রাউজার)


স্পিড তো এক কথা, মাস শেষে বিলও তো দিতে হবে। বিল কমানো আর স্পিড যদি পেতে চান এবং তা হয়তো ফায়ারফক্স বা ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার বা ক্রোম (ক্রোমিয়াম/আয়রন) অথবা প্রক্সি ব্যবহার করতে পারে এমন যেকোন ব্রাউজারে তাহলে আপনার লাগবে Toonel নামে ছোট্ট একটি সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটি জাভা দিয়ে তৈরি এজন্য এটি উইন্ডোজ, লিনাক্স, ম্যাক ওএস এবং জাভা সাপোর্টেড দুনিয়ার যেকোন অপারেটিং সিস্টেমে চলবে।

স্টেপ ১. এজন্য প্রথমে আপনার কম্পিউটারে Java Runtime Environment (JRE) থাকতে হবে। এটি টেস্ট করার সহজ উপায় হচ্ছে আপনার কন্ট্রোল প্যানেলে গিয়ে দেখুন যে জাভা নামে সেখানে কোনো আইটেম আছে কিনা।

থাকলে বুঝবেন যে আপনার কম্পিউটারে JRE ইন্সটল করা আছে। আর না থাকলে নিচের লিংক থেকে Offline ভার্সনটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করুন:
http://www.java.com/en/download/manual.jsp

স্টেপ ২. এখন http://toonel.net/download.html এই ওয়েবসাইটে গিয়ে টুনেল ডাউনলোড করুন। উইন্ডোজ/লিনাক্স/ম্যাকের জন্য Toonel Generic Swing Packageটি ডাউনলোড করুন। এতে একটি JAR ফাইল (toonel.jar) ডাউনলোড হবে।

স্টেপ ৩. ডাউনলোডকৃত জার ফাইলটিতে ডাবল ক্লিক করুন। এতে করে টুনেল অপেন হবে। এখন Web ট্যাবে গিয়ে দুটি সেটিংস স্ক্রিনশটের মত করে পরিবর্তন করুন। JPEG Quality যত কম দেবেন স্পিড তত বেশি পাবেন, তবে ততই কমপ্রেস লো কোয়ালিটির ইমেজ পাবেন।


স্টেপ ৪. এখন Mapping ট্যাবে গিয়ে 127.0.0.1 এ ক্লিক করুন। এখানে দুটি তথ্য থাকার কথা:
Hostname: 127.0.0.1
Port: 8080
এই তথ্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ। এখন আবার Stats ট্যাবে যান।


স্টেপ ৪: প্রক্সি সেটাপ করা:

ফায়ারফক্সের জন্য


ফায়ারফক্সের Option অপেন করুন। Advanced ট্যাবে গিয়ে Network ট্যাব থেকে Settings এ যান।

Manual অপশনটিতে ক্লিক করুন এবং Host name ও Port তথ্য দুটি প্রদান করুন।







যখন টুনেল ব্যবহার করতে না চাইবেন তখন Options - Advanced - Network - Settings এ গিয়ে No proxy দিতে হবে।

ক্রোম/আয়রন/ক্রোমিয়াম-এর জন্য


১. রেঞ্চ মেনুটিতে ক্লিক করুন এবং অপশনস এ যান

২. Under the hood এ যান। তারপর Network এ গিয়ে Change proxy settings বাটনে ক্লিক করুন।
যে ডায়লগ ব্ক্সটি আসবে তাতে আপনি প্রক্সি সেটিংস ঠিক করে দিতে পারবেন।

যখন টুনেল ব্যবহার করতে চান না তখন এই সেটিংস ডিস্যাবল করে দিতে হবে।

Toonel is saving lots of megabytes
Toonel দিয়ে ব্রাউজ করাতে এখানে ২৭% ডাটা ডাউনলোড করা লাগে নি


তাহলে তো হলই! যেকোন ব্রাউজারেই আপনি ফাস্ট ব্রাউজ করতে পারবেন। আর বিল বাঁচানোর জন্য আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবেন না! :-P
Continue reading ...

আমরা কি আসলেই ভালোবাসা চিনি?

5 comments
ভালোবাসা মানে কি? –এই প্রশ্নটার উত্তর দিতে অনেককে শুনেছি। বিভিন্ন সময়ে একেকজন একেকভাবে ভালোবাসাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। কেউ কেউ একে বলেছেন ‘এটি একটি আবেগ যার কারণে আমাদের কাউকে ভালো লাগে।’ কেউ কেউ বলেছেন, ‘কাউকে মন থেকে স্নেহ, মায়া, মমতা দেয়াই ভালোবাসা।’ অনেকে আবার আক্ষেপের সুরে বলেছেন, ‘ভালোবাসা হচ্ছে সিগারেটের মত, যার পরিণাম হচ্ছে পোড়া ছাই।’

আমি বিভিন্নজনের সাথে ভালোবাসা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দেখি যে তারা অনেক ভুল ধারণা নিয়ে আছেন। অনেকে কাউকে দেখে পছন্দ হলে বলে ফেলেন, ‘আমি তাকে ভালোবেসে ফেলেছি।’ আসলে এটা ঠিক নয়। এটা ভালোবাসা নয়। এটা হচ্ছে ভালো লাগা।

আমার মতে কাউকে ভালোবাসতে গেলে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। আমার এখনও মনে আছে- রঙ পেন্সিল একাডেমির বর্ষবরণ ১৪১৮ অনুষ্ঠান যেদিন হল সেদিনই বিকালে আমি আমার বন্ধু মেহেদীকে নিয়ে ছাদে গিয়েছিলাম। সেদিন কথায় কথায় ভালোবাসা নিয়ে কথা উঠলো। আমি মেহেদীকে ভালোবাসা সম্পর্কে যা বলেছিলাম – আমার মনে হয় তা সংরক্ষণ করে রাখা দরকার। তাই এই লেখা।

ভালোবাসা খারাপ নয়। ভালোবাসা অশ্লীলও নয়। ভালোবাসা হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম একটি অনুভূতি। ভালোবাসা যদি খারাপ কিছুই হত তাহলে আমি রঙ পেন্সিল একাডেমির ছোট ছোট বাচ্চাদের সামনে ভালোবাসা নিয়ে কথা বলতে পারতাম না।

আপনি যদি অশ্লীলতা নিয়ে বিব্রতবোধ করে থাকেন তবে আপনাকে আস্বস্ত করছি যে এই প্রবন্ধটি অশ্লীল নয়। ভালোবাসা সম্পর্কে আমি শুধু ততটুকুই লিখছি যতটুকু প্রতিটি নর-নারীরই জানা থাকা প্রয়োজন।

আপনি যদি ভালোবাসা নিয়ে কোনো সন্দেহে থেকে থাকেন, আমার মনে হয় আপনার এই প্রবন্ধটি পড়ে দেখা উচিৎ। এতে আপনি হয়তো এটাও জানতে পারবেন যে আপনি কাউকে ভালোবাসেন কিনা বা কাউকে ভালোবাসার পথে আপনি
কতটুকু দূরে। আবার আপনি যদি ভালোবাসা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ (!) হন তাহলে আমার এই থিউরি সম্পর্কে আলোচনা, সমালোচনাও করতে পারবেন।

আমার মতে ভালোবাসার কিছু ধাপ আছে:


এই ধাপগুলো সবার জন্য এক না-ও হতে পারে। কেউ কেউ ভালো লাগা থেকে সরাসরি যোগাযোগ বা ভালোবাসার ধাপে চলে যেতে পারেন। আবার অনেকে যোগাযোগ থেকে শুরু করে ভালোবাসায় যেতে পারেন। আবার অনেকে হয়তো Crush-এ এসেই শেষ! মূল কথা, এটি ফ্লেক্সিবল (পরিবর্তনশীল)।

এবার ধাপগুলো সম্পর্কে একটু বলি।

১ম ধাপ – ভালো লাগা: ভালো লাগা বলতে বোঝায় ভালো লাগা আরকি। কাউকে খারাপ না লাগা। কাউকে পছন্দ হওয়া। কারো সাথে সময় কাটাতে ইচ্ছে করা।
আমরা প্রতিদিনই বিভিন্ন ছেলে-মেয়েকে দেখি। এদের মধ্যে অনেককেই আমাদের দেখে ভালো লাগে। এক্ষেত্রে বাহ্যিক যে সৌন্দর্য্য, সেটিই প্রাধান্য পায়। অনেক সময় চেহারার এক্সপ্রেশন (ভাবভঙ্গি), পোশাক-আশাক, কথা বলার ধরণ আমাদের ভালো লাগে। অনেকে ভালো লাগাকে ভালোবাসা বলে ভুল করেন। আসলে ভালোবাসা অনেক বড় জিনিস। এটি শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্য্যের উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি না হওয়াটাই স্বাভাবিক। মনের চিন্তারও মিল থাকা জরুরী।

ভালো লাগার রেশটা ভালো লাগা পর্যন্তই শেষ। যদি সেটা দীর্ঘায়িত হয় তখন তাহলে চলে যাবে পরবর্তী ধাপে—

২য় ধাপ – Crush: Crush মানে হচ্ছে কাউকে ভুলতে না পারা। ভালো লাগাটা কাটতে না চাইলে তখন সেটা হয়ে যায় Crush.
Crush হচ্ছে একটা অস্থায়ী অনুভূতি। কারো জন্য সাময়িক চাওয়া। এটাকে সময় দিলে এমনিতেই কেটে যায়। অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে Crush –এর ভুক্তিতে উদাহরণ দেয়া আছে: He’s got a crush on his history teacher. সেই উদাহরণটির মতই বলা যায়, crush যে কোন সময় যে কোন অবস্থায়ই হতে পারে। টিচারের প্রতিও Crush হতে পারে, আবার বয়সে খুব বড় এমন কারো প্রতিও Crush হতে পারে। তবে এটা সিরিয়াস নাকি শুধুই সাময়িক আবেগ সেটাও ভেবে দেখার বিষয়।

আচ্ছা, আমরা যদি আমাদের আলোচিত দুটো ধাপ একটি সিনেমার মাধ্যমে দেখি, তাহলে কেমন হয়? আসুন দেখি। তবে ঘাবড়াবেন না। এতে অশ্লীল কিছু নেই। কোনো নাচ-গান নেই। আটার বস্তা, চাউলের বস্তাসদৃশ নায়িকা নেই। আছে শুধু সুন্দর একটা আবেগের evolution (বিবর্তন), বেড়ে উঠা।

ধরি, আমাদের সিনেমার নায়ক মিহির। তার এইচএসসি পরীক্ষা সবেমাত্র শেষ হল। এখন তার হাতে অফুরন্ত সময়। এমন একটা সময়ে মিহিরের ছোট মামার বিয়ের কথা শুরু হল। মিহির তো মহাখুশি – ছোটমামার জন্য মেয়ে দেখতে বিভিন্ন পাত্রীর বাসায় যাবে, অবসর সময়ও কেটে যাবে। একসময় পাত্রী দেখা শুরু হল। মিহির তার মামাকে নিয়ে মুরব্বীসমেত বিভিন্ন বাড়িতে যেতে লাগলো।

একদিন ছোটমামাকে নিয়ে মিহির গেল সম্ভ্রান্ত পরিবারের এক মেয়েকে দেখতে। ছোটমামার মেয়েটাকে পছন্দ হল। পাত্রীর একটা ছোট বোন ছিল – নাম লাবণ্য। বয়স তারই মত। মিহিরের যেন কি হল। এটা হয়তো চারিদিকে বিয়ে বিয়ে আমেজেরই ফল – মিহিরের লাবণ্যকে খুব ভালো লাগলো। অবশ্য লাবণ্যের সাথে মিহিরের কোনো কথাবার্তা হয় নি। শুধু এমনিতেই দেখা, দেখে ভালো লাগা।

পাত্রী ঐ মেয়েটার সাথে ছোটমামার বিয়ে ঠিক হল। ছোটমামার ইচ্ছে ছিল খুব বেশি আয়োজন না করে বিয়েটা সেড়ে ফেলা। কিন্তু কনেপক্ষ ব্যাপারটা মানবেই না। ধনী পরিবারের মেয়ে – তাই ঠিক হল ধুমধাম করে বিয়ে দিবে মেয়েটার।

বিয়ের আয়োজন বেশ ভালই হয়েছে। মিহিরও আয়োজনে হাত লাগিয়ে এখন বেশ একটু অবসর। তার এক বন্ধুর সাথে কথা বলছিল। এমন সময় লাবণ্যকে দেখতে পেল মিহির। বিয়ের আয়োজনের সাথে মানিয়ে আজ একটা লাল শাড়ি পড়েছে সে। মিহির তো দেখে যেন তাকে চিনতেই পারছিল না। দেখে কথা বলার লোভ সামলাতে পারলো না। এগিয়ে গেল কথা বলার জন্য। বেশ কথাবার্তা, হাসি-ঠাট্টা হল তাদের মাঝে। তারা খুব ভাল বন্ধু হয়ে গেল একে অপরের। দুজনের মোবাইল নাম্বার বিনিময় করলো।

সেদিনের অনুষ্ঠানের পর মিহির লাবন্যকে ভুলতে পারছিল না। তাকে ফোন করবে কিনা ভেবে পাচ্ছিল না। ফোন করলে যদি আবার কিছু হয়, যদি সম্পর্কটা আরো খারাপ হয়ে যায়? ভাবতে ভাবতে বৌভাতের দিন চলে এলো। আগামীকাল বৌভাত। যা থাকে কপালে ভেবে লাবন্যকে ফোন দিল সে। যা ভেবেছিল সেরকম কিছু হল না। বরং খুব ভাল লাগলো লাবণ্যের সাথে কথা বলে। সে এখন যেন আর দেখা করার জন্য অপেক্ষা করতে পারছে না। আমাদের নায়ক মশাই বোধহয় তাহলে Crush-এ পড়েছে! হুম? কি বলেন?

৩য় ধাপ – যোগাযোগ বা Communication: Crush-এর পরে এই ধাপটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগে যদি গলদ হয়ে যায় তাহলে আগের ধাপগুলোর যত বৈশিষ্ট্য ছিল, উপকার ছিল সব হারাতে হয়।

যোগাযোগ বলতে এক পক্ষের একটি কথা বা মনের ভাব অন্য পক্ষকে জানানো বোঝায়।

যোগাযোগ ফোনের মাধ্যমে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে, সরাসরি দেখা করে, এসএমএসের মাধ্যমে বা অন্য কোনো মাধ্যমে হতে পারে। আর শুধু কথা বলাই যোগাযোগ নয়, মনের ভাব প্রকাশ করাও যোগাযোগের মধ্যে পড়ে। অনেক সময় দেখা যায় eye contact (চোখের চাহনি) অনেক কিছু বলে দেয়। আমাদের চোখেরও একটা ভাষা আছে। এই ভাষা দিয়ে আমরা অনেক কিছু বোঝাতে পারি। এবং এর জন্য চোখ টিপও দেয়ার প্রয়োজন হয় না, আমাদের মনের ভিতরের আবেগই এর জন্য যথেষ্ট।

আমরা যখন কোনো কারণে আনন্দিত হই তখন আমাদের চোখে একরকম Spark দেখা দেয়, একটা অন্যরকম রূপ দেখা দেয়। অনেকে হাসলে মনে হয় যেন চোখও হাসছে। অনেক সময় একটা মুচকি হাসি দিয়েও অনেক কিছু বলা যায়। অনেক সময় নীরব থেকেও অনেক কিছু প্রকাশ করা যায় – শুধু চোখে চোখ রেখেই সেটা সম্ভব হতে পারে।

এখন আমাদের সিনেমাতে আবার ফিরে যাই। বৌভাতে মিহির আর লাবণ্যের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে গেল। মিহির জানতে পারলো যে লাবণ্যও এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তারা দুজনে মিলে ঠিক করলো যে তারা একই ভার্সিটি ভর্তি কোচিংয়ে ভর্তি হবে।

কোচিংয়ের ক্লাস শেষে কাছেই একটা পার্কে বসে তারা। এবং বই-খাতা খুলে ক্লাসের পড়াগুলো নিয়ে আলোচনা করে। পড়ার মাঝে মাঝে একটু হাসি ঠাট্টা, একটু গল্প-গুজব তো আছেই। আর বাসায় ফিরে কল, এসএমএস তো আছেই।

মাঝে মাঝে একে অপরের বাসায়ও যায় তারা – গ্রুপ স্টাডি করার জন্য। এভাবে দুই পরিবারের মধ্যেও ভাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়ে গেল।

ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা সামনে। ফরম তুলতে হবে, পূরণ করতে হবে, জমা দিতে হবে – অনেক কাজ! লাবণ্য একটু দিশেহারা হয়ে গেছে, কিভাবে এতগুলো কাজ করবে সে। মিহির লাবণ্যকে আশ্বাস দিলো – সবকিছুতে ও-ই সাহায্য করবে। মিহির অনেক ঝুট ঝামেলার পর ফরম পূরণ করে ইন্টারনেটে জমা দিল। লাবণ্য শুধু লাইনে দাড়িয়ে এডমিট কার্ডটা তুলে আনলো।

যোগাযোগ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমায়। আমরা যোগাযোগের আগে ভাবি অমুক লোকটা জানি কেমন। কিন্তু যোগাযোগের পর দেখি যে হয়তো লোকটি সেরকম নয়। ভালোবাসার জন্য যোগাযোগটা জরুরী। ভুল বোঝাবুঝি দূরে রাখতে যোগাযোগ রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।

৪র্থ ধাপ – ভালোবাসা: হুম, এইতো! এতক্ষণ যেটার জন্য ধৈর্য্য ধরে ছিলেন – সেই আবেগ, যেটি আমাদেরকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়, স্বপ্ন দেখতে শেখায়, ত্যাগ-তিতীক্ষা-ধৈর্য্য শেখায়। এখন সেই আবেগ নিয়েই আমরা কথা বলবো।

আমি এই প্রবন্ধে ভালোবাসা শুধু প্রণয় অর্থে ব্যবহার করেছি। কিন্তু ভালোবাসা স্নেহ, মায়া, মমতা থেকেও আসে। নতুন একটি শিশুর জন্ম হলে মা তাকে লালন পালন করে। শিশুটি সময়ে অসময়ে জ্বালাতন করে – কাঁদে, ঠিকমত ঘুমায় না, খায় না ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এতকিছুর পরও যে কারণে মা তার সন্তানটিকে ফেলে রেখে যেতে পারে না তা হল – ভালোবাসা।

অনেক সময় ভালোবাসা আসে শ্রদ্ধা, সম্মান থেকে। যেমন: আমরা আমাদের বাবা-মা, দাদা-দাদীকে শ্রদ্ধাভরে ভালবাসি।

প্রণয় অর্থেই হোক, আর মায়া-মমতা-সম্মান অর্থেই হোক, ভালবাসা মানে হল কারো ভাল চাওয়া।

এখন আবার একটু প্রণয়ের দিকেই ফিরে আসি। যখন একটা ছেলে একটা মেয়েকে ভালোবাসে তখন তারা একে অপরের ব্যাপারে care করে, ভাবে। একজন আরেকজনের ব্যাপারে ছোটখাট বিষয় নিয়েও মাথা ঘামায়। একজন আরেকজনের ক্ষতি দেখতে পারে না বরং সবসময় তার ভাল চিন্তা করে। একজন আরেকজনকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে। একে অপরকে সবসময় দেখতে ইচ্ছে করে, একসাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত মনের ভিতর আগলে রাখতে ইচ্ছে করে। একজন আরেকজনকে দেখলে বুকের ভেতরে একটা শান্তির অনুভূতি সৃষ্টি হয়। একজন আরেকজনের দিকে তাকালে মনে হয় যেন, ‘দুচোখ ভরে দেখি।’ ভালোবাসা মানে জাস্ট আপন করে পাওয়া – একে অপরের প্রতি অধিকার সৃষ্টি হওয়া। এই তো! আরো কিছু আছে কি? থাকতেই পারে। তাই আপনার ভাবনাগুলোর জন্য কিছুটা জায়গা ফাঁকা রাখলাম, অনেকটা বিরতির মত। এই বিরতিতে আপনিও একটু ভাবুন, আপনার কাছে ভালোবাসা মানে কি।

...

...

...

আমাদের সিনেমার নায়ক নায়িকাদের মধ্যে কিন্তু এখন ভালোলাগাটা অনেক গভীর হয়েছে। তারা একজন আরেকজনকে না দেখে থাকতে পারে না। ওদের ভাগ্য ভাল যে ওরা দুজনেই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছে, যদিও দুজনে ভিন্ন বিষয়ে লেখাপড়া করছে।

ফার্স্ট ইয়ারের শেষের দিকে তারা এখন। ছোটমামার শ্বশুরবাড়ির ওদিক থেকে একটা বনভোজনের প্রস্তাব এলো। ছোটমামাও না করতে পারলো না। কিন্তু সমস্যা হল সিট নিয়ে। সব আত্মীয়-স্বজনকে জায়গা দিতে গেলে মিহিরের আর জায়গা হয় না। অবস্থাটা এমন যে মিহিরকে নিতে গেলে আরেকটা বাস শুধু ওর জন্য ভাড়া করতে হবে। এদিকে মিহির না গেলে লাবণ্যও যাবে না।

ভালোবাসার অন্যতম আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে Sacrifice (ত্যাগ স্বীকার করা)। ভালোবাসার মানুষটির জন্য অনেক সুবিধা ছেড়ে দেয়া বরং অনেকটা আনন্দের বিষয় হয়ে থাকে। যেমন: বাবা-মায়েরা নিজেদের জন্য খরচ না করে সন্তানদের জন্য খরচ করে। বাবা-মায়েদের ভালোবাসা আসলে ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

যাই হোক, পরে একদম বলতে গেলে শেষ মুহূর্তে দেখা গেল মেজো মামার অফিসে একটা জরুরী কাজ চলে এসেছে। ওনাকে সপ্তাহখানেকের জন্য দেশের বাইরে যেতে হবে। তাই ওনার সিটটা এখন মিহিরের জন্য খালি। ব্যস! লাবণ্য মিহির দুজনেই মহাখুশি – তারা একসাথে কক্সবাজার যাবে।

যাওয়ার পথে অনেক মজা হল। গান-বাজনা-কৌতুক, এটা সেটা করতে করতে কক্সবাজার এসে হাজির। কক্সবাজারের সি-বিচটা এর আগে মিহির লাবণ্য কখনো দেখে নি, অন্তত সামনা সামনি নয়। সমুদ্র সৈকতটা এক অদ্ভুত জায়গা। সমুদ্রের গর্জন, খোলা বাতাস, আর মানুষের কলকাকলিতে ভরপুর। মন-প্রায় উভয়ই জুড়িয়ে যায়।

লাবণ্য মিহির কিছুক্ষণ খালিপায়ে বিচের বালিতে হাটলো। মাঝে মাঝেই সমুদ্রের ঢেউ এসে তাদের পা ভিজিয়ে দিলো। সময় যে কোনদিক দিয়ে ফুরিয়ে গেল তারা টেরই পায় নি। একসময় সূর্যাস্তের সময় হয়ে এলো। তারা বিচের একটু পেছনের দিকে এসে পড়েছিল। একটু একাকী কথা বলার জন্য। সেখানে দাড়িয়ে তারা সূর্যাস্ত দেখছিল। নিজ চোখে না দেখলে বোঝার উপায় নেই যে সূর্যাস্তের দৃশ্যটা কত মনোমুগ্ধকর। সূর্যটা আস্তে আস্তে সমুদ্রের বুকে বিলীন হয়ে যাচ্ছিল।

মিহির লাবণ্যের দিকে তাকালো। লাবণ্যের সেদিকে খেয়াল নেই। লাবণ্য একাগ্রচিত্তে সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করছিল। সূর্যের যতটুকু আলো অবশিষ্ট ছিল তার মধ্যেই লাবণ্যের চেহারাটা অদ্ভুত সুন্দর লাগছিল। কি যেন কি হয়ে গেল, হঠাৎ করে সে লাবণ্যের মুখোমুখি এসে হাটু গেড়ে বসে পড়লো। মিহির নরম গলায় বললো, ‘আমি অনেকদিন চেষ্টা করেছি বলার। কিন্তু আজ যদি না বলি তাহলে কখনোই হয়তো বলা হবে না। ... লাবণ্য, আমি তোমায় ভালবাসি।’

লাবণ্য হাত ধরে মিহিরকে তুললো, আর বললো, ‘আমিও তোমায় ভালবাসি। আমিও তোমার মনের কথা জানার অনেক চেষ্টা করেছি। আমিও তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম।’

...

আপনারা কি লাবণ্য আর মিহিরের মধ্যে থাকা ভালোবাসা টের পেয়েছেন? যদি সেই ভালোবাসা বুঝতে পারেন তাহলে আমার লেখা স্বার্থক হয়েছে।


আমি এই লেখাটি এজন্য লিখলাম কারণ আমি বর্তমান প্রজন্মের মাঝে ভালোবাসার ব্যাপারে অনেক ভুল ধারণা দেখেছি। আমি চেষ্টা করেছি শুদ্ধ ভালোবাসা কি সেটা বোঝাতে। অনেকে প্রেম করাকে একটা “যোগ্যতা” মনে করে। এবং প্রেমের সংখ্যা নিয়ে গর্ব করে। এটা আসলে ছোট মনের পরিচয় প্রকাশ করে।

অনেক ছেলে-মেয়েকে আমি একসাথে বসে থাকতে দেখেছি অথচ তাদের মধ্যে শুধু ভালো লাগা দেখতে পেয়েছি, ভালোবাসা নয়।

ভালোবাসা দেখানোর প্রয়োজন হয় না, ভালোবাসা এমনিতেই প্রকাশ পায়।

ভালোবাসার জন্য তাড়াহুড়ো করা উচিৎ নয়। বন্ধু বান্ধবরা যতই বলুক ‘তুই এ্যাফেয়ার করিস না ক্যান? ব্যাকডেটেড কোথাকার!’ তাদের কথায় কান দিতে নেই। আমাকেও এরকম অনেক কথা শুনতে হয়েছে। এবং এটা একরকম বিরক্তিকর ব্যাপার। চাইলেই কাউকে ভালোবাসা যায় না। জোর করে কাউকে ভালোবাসা যায় না। এজন্য মনের ভেতর থেকে অনুভূতি তৈরি হওয়া প্রয়োজন।

আমি মানবপ্রমে বিশ্বাসী, অর্থাৎ সবাইকে ভালোবাসি। আমি যখন কথা বলি তখন প্রতি মুহূর্তেই খেয়াল রাখি যেন সামনের মানুষটিকে আমি দুঃখ না দিই। আমার নিতান্ত অপছন্দের না হলে আমি কাউকে ঘৃণা করি না। আমি আমার Teenage বয়সটা রাসূল (স.)-এর মত হওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি জানি ওনার মত আমি হতে পারবো না, কিন্তু অন্তত চেষ্টা করে দেখতে তো ক্ষতি নেই। তিনি একজন মানবপ্রেমী ছিলেন। সবসময়ই সবার সাথে ভদ্র আচরণ করতেন।  আমিও চেষ্টা করি যথাসম্ভব উত্তেজিত না হয়ে সবার সাথে মিশতে। (লজ্জার কথা আর কি বলবো, আমি একজন introvert. সামাজিকতা অত ভাল পারি না। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাই।)

আমি কখনো কাউকে সেরকম অর্থে ভালোবেসেছি কিনা –অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করে। আমি সন্দিহান – কিভাবে উত্তরটা দিব। উত্তরটা দেয়ার পর হয়তো এই লেখাটা আপনার কাছে বিশ্বাসযোগ্য হবে না। তাই উত্তরটা লেখায় না নিয়ে আমার কাছ থেকে সামনা সামনি পেলে বোধহয় ভালো হয়।

ভালোবাসা আমাদের চারিদিকেই আছে। এটাকে মুরব্বীরাও অস্বীকার করতে পারবেন না। ভালোবাসা অশ্লীল নয়, কিন্তু আমরা সেটাকে অশ্লীল বানিয়ে ফেলেছি। আধুনিকতার নামে আমরা ভালোবাসাকে একরকম Torture করছি। ‘ডেট করলাম, ডাম্প করলাম’ এরকম একটা যুগে ভালোবাসার শালীন রূপটার দেখা পাওয়াও আসলে কঠিন। তারপরও আমি চেষ্টা করেছি আমার দৃষ্টি থেকে ভালোবাসার আসল রুপটা আপনাদেরকে দেয়ার জন্য। ভালোবাসা কোনো পাপ নয়, এটা একটা glue যেটা পৃথিবীকে এখনও একসাথে করে রেখেছে, মনুষ্যত্ব টিকিয়ে রেখেছে। একজন অন্ধ মানুষ রাস্তা পার না হতে পারলে আমরা তাকে পার করে দিই – এটা ভালোবাসারই রূপ।

আমরা জেনে, না জেনে অনেককে ভালোবাসি। ভালোবাসা আমাদের মাঝে আছে। কিন্তু আমরা বুঝতে পারি না এর উপস্থিতিটা কোথায়। অথবা বুঝতে পারলেও সেটাকে নোংরা বানিয়ে ফেলি।

সবকিছুতেই আমরা ভেজাল মিশিয়ে ফেলেছি, ইবাদতেও পর্যন্ত। কিন্তু অন্তত একটা জিনিস তো খাঁটি থাকা উচিৎ, কি বলেন?

আদনান শামীম

(২৯ আগস্ট ২০১১)
Continue reading ...

Sunday, February 3, 2013

What I stand for... (আমার নিজের সংজ্ঞা)

2 comments
জীবনে অনেক সংজ্ঞা পড়েছি। কিন্তু নিজের সংজ্ঞা নিয়ে কখনো ভাবি নি। কথায় আছে- নিজেকে জানো (Know thyself). কথাটা অনেকবার শুনেও কখনো নিজেকে জানার চেষ্টা করি নি। আজ বিকেলে হঠাৎ করেই নিজেকে আবিষ্কার করতে ইচ্ছা করলো। তাই এই লেখা। এই আবিষ্কারটি কোন ল্যাবে ক্ষণিকের প্রচেষ্টায় উৎপন্ন নয়, বরং সারাজীবনের চড়াই উৎরাইয়ের মাধ্যমে তৈরি।

এই লেখাকে অনেকে দাম্ভিক মনে করতে পারেন। তবে এটি সে অর্থে লেখা নয়। এটি নিজেকে বড় প্রমাণ করার জন্য নয় বরং ক্ষুদ্রতার অস্বীকৃতিস্বরূপ লেখা।

গ্রিক ভাষায় লেখা γνῶθι σεαυτόν (Know thyself) [~wikipedia]


আমি আর্ট / শৈল্পিক কাজ পছন্দ করি


শৈল্পিক সৌন্দর্য সবসময়ই আমাকে আকর্ষণ করে। আর্ট ছাড়া আমাদের জীবন তো রসকষহীন, মলিন। আমাদের বাসস্থান থেকে শুরু করে আমাদের পরনের জামা কাপড় পর্যন্ত শিল্পকর্ম। আর্ট আমাদের জীবনে বৈচিত্র নিয়ে আসে। আর্ট/শিল্প হচ্ছে নিজেকে প্রকাশ করার পন্থা। আমি নিজে যদ্দুর শিল্পকে বুঝি তাতে মনে হয়, শিল্প হচ্ছে নিজের মত করে কোন কিছুকে প্রকাশ করা। তা একটি চিত্রকর্মই হোক, ভাস্কর্যই হোক, বা সুন্দর করে কথা বলাই হোক।

আমি ক্রিয়েটিভ কাজ পছন্দ করি


হঠাৎ করে যদি একটি সুন্দর করে আঁকা ছবি দেখি, যদি দেখি তাতে ক্রিয়েটিভিটি আছে, তাতে আমার চোখ অনেকক্ষণ আঁটকে থাকে। কোন একটা ক্রিয়েটিভ বিজ্ঞাপন বা মিউজিক ভিডিও দেখলে সেটি সংগ্রহ করতে ইচ্ছে করে এবং তা বার বার দেখি। এগুলোই তো আমার জীবনের অন্যতম ইন্সপিরেশন।

বিভিন্ন থিউরিকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পছন্দ করি


বিভিন্ন মানুষের সুশৃঙ্খল বিশ্বাসগুলোকে আমরা সাধারণত বই-পুস্তকে থিউরি আকারে পাই। নানাজনের নানা বিশ্বাস রয়েছে। সেগুলোর বাস্তব জীবনে প্রয়োগ এবং সময় অনুযায়ী এর নতুন ইমপ্লিমেন্টেশন নিয়ে ভাবতে পছন্দ করি। বিভিন্ন সংজ্ঞা নিয়েও প্রায়ই ভাবি। যেমন কিছুক্ষণ আগেও একটি মিউজিক ভিডিও দেখতে দেখতে সাহিত্যের সংজ্ঞা নিয়ে ভাবছিলাম। জীবনের বিভিন্ন দিককে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করাকে সাহিত্য বলে - এমনটাই জেনেছি। আবার আমার লিটারেচার পড়ুয়া ভাইয়ের কাছ থেকে জেনেছি সাহিত্য শুধু লেখা অব্স্থায়ই থাকবে - এমনটা নয়। একটি বক্তৃতা বা অডিও রেকর্ডিংও সাহিত্য হতে পারে - যদি সেটি জীবনের বিভিন্ন দিককে তুলে ধরে। আমি যে মিউজিক ভিডিওটি দেখছিলাম তা পুরোই একটি সাহিত্যকর্মের মত। এর প্রতিটি ফ্রেমেই যেন শৈল্পিক সৌন্দর্য, ক্রিয়েটিভিটি এবং জীবনের বিভিন্ন দিক ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে। ভিডিওটি ছিল Royksopp এর Only this moment. আমি একেও সাহিত্যই বলবো, হোক তা একটি ভিডিও। (পরে অবশ্য উইকিপিডিয়ায় "Literature" আর্টিকেলে দেখতে পেলাম যে আজকাল prose হিসেবে ফিল্ম, ভিডিও এমনকি সিরিয়ালকেও সাহিত্যের কাতারে ফেলা হয়।)

সবসময় নিজেকে উন্নত করতে চাই (জীবনকে, ক্যারিয়ারকে) ["সবকিছুই ভাল হবে এবং হতে থাকবে..."]


আমি আমার স্কুল জীবনে চারটি স্কুলে পড়েছি। এবং প্রতিবারই দেখেছি নতুন স্কুলটি আগেরটির চেয়ে একটু উন্নত। কলেজ হিসেবে ইমপিরিয়াল কলেজ ছিল সর্বশেষ স্কুল থেকে একটু প্রসিদ্ধ এবং বিবিএ করছি সিটি কলেজ থেকে যেটি ইমপিরিয়াল থেকে আরেকটু প্রসিদ্ধ। আমার ক্যারিয়ার এখনো বলতে গেলে শুরুই হয় নি। আমি বর্তমানে রঙ পেন্সিল একাডেমিতে শখের একটা শিক্ষকতার চাকরি করি। তাই বলে ক্যারিয়ার নিয়ে পজিটিভ চিন্তা করতে পারবো না তা তো নয়। ... ক্যারিয়ারের চেয়ে উপরে হচ্ছে জীবন। জীবনকেও ক্রমাগত "আপডেট" করে চলেছি। অনেককিছু শিখছি, আয়ত্ব করছি, বুঝছি এবং এগিয়ে চলছি। দিন শেষে বলতে পারি অনেক সুখে আছি, কারণ সকল জ্ঞানীর উপরে আছেন যিনি তার উপর আমার বিশ্বাস আছে অনেক। তিনি আমাকে কখনো নিরাশ করেননি। ক্ষাণিকের অন্ধকার দিলেও পরক্ষণেই তার চেয়েও বেশি আলো দিয়ে জীবনকে ভরে দিয়েছেন। যিনি অহংকার করার একাই অধিকার রাখেন অথচ অহংকার করেন না - আমি তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।

ব্যক্তিত্বকে উন্নত করতে চাই


ব্যক্তিত্বের একটা বড় দিক হচ্ছে কথা, অর্থাৎ কণ্ঠস্বর দিয়ে কতিপয় শব্দের উচ্চারণ। অথচ আমি অবাক হই যখন এই নিছক কয়েকটি শব্দের উচ্চারণ দিয়ে পৃথিবীতে বিশাল ঝড় তোলা যায়। বিভিন্ন বিপ্লবের পেছনে রয়েছে কিছু  অমূল্য শব্দের উচ্চারণ। ...আমি আমার নিজের মত করে নিজেকে গড়ে তুলেছি, আমার নিজের ধ্যান ধারণা দিয়ে। আমি নিজেকে গড়ে তুলতে চাই এমনভাবে যেন আমি সেই শব্দের উচ্চারণের মাধ্যমে মানুষের চেহারায় আলোর ঝলকানি এনে দিতে পারি। আমার জীবনে পাওয়া ক্ষীণ আলোটিকে হাজারগুণে ম্যাগনিফাই করে ছড়িয়ে দিতে চাই অন্যের মাঝে। অন্যকে ছোট করে নয়, বরং পৃথিবীতে তার প্রয়োজনটি উপলব্ধি করিয়ে তার মন জয় করতে চাই। এবং আমার মনে হয় আমি পেরেছিও।

সত্যকে প্রাধান্য দেই / সৎ মানুষকে ভালবাসি / সৎ মানুষের জন্য অতিরিক্ত কিছু করতে আমার আপত্তি নেই


মিথ্যা জীবনের জটিলতা বাড়ায়। মিথ্যা মানুষকে মানুষের বিপরীত বানিয়ে ফেলে। মানুষ যা নয় তাকে দিয়ে তাই করায় - যেমনটা শয়তান করায়। পথভ্রষ্ট হবার চেয়ে পথ চেনা ভাল এবং তাতে পদচারণা ভাল। ভাল সবসময় মানুষের হৃদয়ে ভালরই অনুভূতি জাগায়। আমি এমন মানুষ পছন্দ করি না, যার সাথে কথা বলতে গেলে সাবধানে কথা বলতে হবে, যে আমাকে আমার নিজের কথা দিয়েই আঁটকানোর চেষ্টা করবে সবসময়, আমার চলার পথে বাধা হয়ে দাড়াবে, আমাকে ডাবানোর চেষ্টা করবে। আমি আমার বন্ধু চয়নের সময় সাধারণত খেয়াল করি যে সে লেখাপড়ার ব্যাপারে সিরিয়াস কিনা এবং সে সততাকে প্রাধান্য দেয় কিনা। এধরণের মানুষ সাধারণত কারো ক্ষতি করতে চায় না। আমার সৎ বন্ধুদের জন্য আমি অনেক কিছুই করি যা হয়তো না করলেও চলতো।

আমি যতই নিচে ডেবে যাই ততই উপরে উঠতে পছন্দ করি (Phoenix এর মত)


আত্মার উপলব্ধির চেয়ে বড় কিছু আর নেই। যে ভেতর থেকে উন্নত তাকে কেউ কখনো ছোট করতে পারে না। আমি অনেকবার ডেবে গেছি। মনে হয়েছে যে আর উঠতে পারবো না। কিন্তু ধৈর্য্য রেখেছি সবসময়। কারণ ডেবে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার আগেও হয়েছে। শেষমেশ উঠে এসেছি। মিথোলজিতে একটা অদ্ভূত পাখির কথা লেখা আছে। নাম ফিনিক্স। সেই পাখিটি নতুন একটি ফিনিক্সের জন্ম দেয়ার জন্য নিজের দেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার থেকে আবার নতুন একটি ফিনিক্স জন্ম নেয়। আমি সেই যেন ফিনিক্স পাখির ছাইভষ্ম হয়ে যাই মাঝে মাঝে। আবার সেখান থেকে উঠে আসি। ইস! কখনো যদি এমন একটি পাখি পালতে পারতাম!

নিজের সম্পর্কে নতুন কিছু শিখতে / জানতে পছন্দ করি (এবং প্রতিনিয়তই শিখছি) ...and feel good about myself. ["Rediscovering myself."]


আমাকে যিনি তৈরি করেছেন, তিনি আমাকে এমনভাবে তৈরি করেছেন যে আমি কখনো পুরোনো হই না! প্রতিনিয়তই নতুন কিছু শিখছি - এই আমার ব্যাপারেই। নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করছি। আমার গুণগুলো, আমার দোষগুলো জানতে পেরে আমি আরো উন্নত করছি নিজেকে। নিরন্তর।

নিজে যা বুঝি তাতে বিশ্বাস করি / নিজের জ্ঞানকে প্রাধান্য দেই, ধারণাগুলোকে প্রাধান্য দেই [ অন্যের বিশ্বাসগুলো আমাকে ডাবিয়ে ফেলতে পারে। তবে আমার জ্ঞান যদি আমাকে বলে তাহলে আমার ধারণা পরিবর্তন করতে পিছপা হই না। ]


নিজের ভাল নাকি পাগলেও বুঝে - আর আমি তো... পাগল। মানে হচ্ছে আমি পাগল নই। শুনেছি পাগল কোনদিন নিজেকে পাগল বলে না, তাই বললাম আরকি! যাই হোক, আমি দেখেছি আমার মত অবস্থানে এসে অন্যরা যেখানে ভেঙে পড়ে, আমার মনে হয় আমার যাত্রা সেখান থেকেই যেন আরো তরান্বিত হয়। নদীর স্রোতকে রুখে দিলে যেমন সেটি আরো তীব্র বেগে ছুটে চলতে চায় সেরকমই। ...অন্য মানুষের সাথে আমার বিশ্বাসগুলো অনেকসময় মিলে না। আমি নিজের বিশ্বাসগুলোকে নিজের মত করে তৈরি করেছি। মানুষের বিশ্বাসগুলো নিয়েছি, কিন্তু নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী না হলে নয়। অন্যরা কোনকিছুকে তুচ্ছ করলেও আমি হয়তো সেটারই নতুন উপযোগ খুঁজে পেতে চাই।

আমার বিশ্বাসগুলো অনেক সিম্পল। যেমন আমি বিশ্বাস করি বন্ধু চয়নের ব্যাপারে লেখাপড়া আর সততা - এদুটো দেখলেই চলে। বাকি সবকিছু অটোমেটিক মিলে যাবে। -এটা আমার বিশ্বাস। অন্যকেউ কিছু বললে হুট করে তা বিশ্বাস করার কোন মানে নেই। কোরআন শরীফের বাংলা অনুবাদগুলো এত জঘণ্য, যে কোরআনের অর্থ জানার ইচ্ছাই প্রায় চলে গিয়েছিল। ভুলভাল অনুবাদ আমি হুট করে বিশ্বাস করি নি। কিছুদিন ঘেটে আমি খুঁজে পেলাম "Tafsir Ibn Katheer" (ইংরেজি pdf) এবং কোরআনের প্রতি আমার ধারণাই পাল্টে গেল। তখন আমি আরো দ্বিগুণ বিশ্বাসের সাথে অনুবাদ পড়তে লাগলাম।

I enjoy my silent intelligence (and am ashamed of my babblings)


আমি ছোটবেলা থেকেই কথা কম বলি। যদিও আমার লেখা দেখে তা মনে হয় না! দুঃখিত আমি লেখার সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমার এক জ্ঞানী-গুণী স্যার বলেছিলেন, কেউ খুব বেশি কথা বলা মানে এই নয় যে সে খুব জ্ঞানী হয়ে গেছে এবং তার আশেপাশের চুপচাপ মানুষগুলো নির্বোধ।

ক্রিয়েটিভ চিন্তা করতে পছন্দ করি


আমি অন্যদের মত করে সবকিছু না করে আমার নিজের মত করে করতে পছন্দ করি। এবং ক্রিয়েটিভ চিন্তা করতে পছন্দ করি। হয়তো স্টপ মোশন এ্যানিমেশন, স্কেচ, ফিল্মমেকিং, ডিজাইন, টেকনোলজি নিয়ে চিন্তা করছি। কখন যে খাবার দাবার ঠাণ্ডা হয়ে পানি হয়ে গেছে তা খেয়াল নেই। আর আম্মার বকুনি!

নিজেকে ক্রিয়েটিভলি প্রকাশ করতে পছন্দ করি (through creative works)


প্রতিটি মানুষই আলাদা। তার নিজেকে প্রকাশ করাটাও তাই আলাদা হওয়া উচিৎ। আমি ক্রিয়েটিভিটিকে প্রাধান্য দেই। আমার কাজেও ক্রিয়েটিভিটি আনতে পছন্দ করি।

মানুষের আচরণকে ব্যাখ্যা করতে পছন্দ করি


মানুষের প্রতিটি আচরণের পেছনেই একটি কারণ থাকে। আমি আচরণের এভোলিউশন নিয়ে ভাবতে পছন্দ করি। মানুষ আজকে যা, তা আসলে তার জীবনে ঘটে যাওয়া সব ঘটনার সামারি। সে সেরকমই আচরণ করবে যার প্রভাব তার উপর সবচেয়ে বেশি। কেউ একজন হয়তো গরিব মানুষ দেখতে পারে না। তাকে সমাজ হয়তো ভাল চোখে দেখতে পারবে না। কিন্তু হয়তো এমন ঘটনা তার জীবনে ঘটেছে যে সে গরিবদেরকে বিশ্বাস করতে পারে না। হয়তো কোন মানুষ তাকে দারিদ্র্যতা দেখিয়ে তার সাথে প্রতারণা করেছে। তার আচরণই বলে দেবে সে কোন ঘটনার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছে।

I am proud about my family


আমার আব্বার কাছে ছোটবেলায় যখন টাকা চাইতাম তখন হুট করে আমাকে দিত না। আমাকে হয়তো আব্বার ব্যায়ামের মেশিন বা আরাম কেদারাটা পরিষ্কার করতে দিত, অথবা ঘরের কোন কাজ। পরিষ্কার করতে পারলে তখন টাকা পেতাম। এতে করে আমার মধ্যে কখনো অহংকার কাজ করেনি। বরং শ্রমের মূল্য বুঝতে শিখেছি। আমার আম্মা কখনো কারো সাথে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে কখনো ঝগড়া করে নি। অন্তত আমি দেখি নি। সবসময়ই ধীরস্থির এবং শান্ত বলেই জানি। আমার আম্মার কাছ থেকে আমি ধৈর্য্যের শিক্ষা পেয়েছি। আমার আব্বা-আম্মা দুজনেই আমার গর্বের কারণ। তারাই আমার ভিত তৈরি করেছেন - যার কারণে আমি আজকের আমি হতে পেরেছি। আমার ভাইদের ব্যাপারে আমি কিছু বলবো না। তারা আমাকে সবসময়ই আদরের ছোটভাই হিসেবেই দেখেছে। আমাকে অনেকে বলেছে আমি বড় ভাইয়ের মত হয়েছি, অনেকে বলেছে মেজ ভাইয়ের মত হয়েছি। কিন্তু আমার মনে হয় আমি সবারই কিছু কিছু গুণ পেয়েছি। সেজ ভাইয়ের সাথে তো আর কি বলবো, সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ছিলাম। তার কাছ থেকে আমি শিখেছি সততা।




...and the best part is - I am myself, I am my own definition

...No other person can have this definition. Period.
Continue reading ...

উবুন্টুতে (ফুল অফলাইন) ডিকশনারি ইন্সটল করা

0 comments

ডিকশনারি - বিরক্তিকর, অথচ কাজের জিনিস:


ডিকশনারি দেখলেই মাথা ধরে যায়। এত ভারী বই, আর পড়ার টেবিলটাকে কতটা হিজিবিজি বানিয়ে রাখে! কত অসহ্য, কিন্তু কাজের সময় আবার খুবই প্রয়োজনীয় জিনিস!

ধরুন আপনি খুব মনযোগ দিয়ে একটা আর্টিকেল লিখছেন। লিখতে লিখতে হঠাৎ একটা শব্দের অর্থ জানার প্রয়োজন পড়লো। শুধু তাই নয়,সাথে সাথে একই অর্থের আরো সুন্দর প্রতিশব্দ আছে কিনা তা খুঁজে দেখতে ইচ্ছে করলো, কি করবেন? অভিধান ঘাটবেন? অভিধান যদি ধারে কাছে না থাকে? চিন্তা নেই, সমাধান আছে।

ডিজিটাল সমাধান


উবুন্টুতে নেট কানেকশন থাকলে কোন টেনশন নেই। ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েই শব্দের অর্থ বের করা যায়। ইন্টারনেটে এমন অঢেল সাইট আছে। শব্দটি লিখে সাথে meaning of দিয়ে সার্চ করলেই শব্দের অর্থ (Definition) এবং প্রতিশব্দ (Synonym) পাওয়া সম্ভব। কিন্তু যদি নেট কানেকশন না থাকে? অথবা কানেক্ট করা যদি ঝামেলার হয়? মনযোগ তো ধরে রাখা চাই, ঝামেলা করলে কি আর মনযোগ ধরে রাখা যাবে? তাহলে তো আপনার একটা অফলাইন ডিকশনারি লাগবে, তাই না? হ্যাঁ, উপায় আছে। সেটাই বলছি...

উবুন্টুর অফলাইন একটি দারুণ ডিকশনারি হচ্ছে Artha. অনেক সময় এটিকে আমার উইন্ডোজের ডিকশনারিগুলোর থেকেও ভাল মনে হয়। আরেকটি ডিকশনারি হচ্ছে GoldenDict. এটি আরেকটু কাস্টোমাইজেবল (এবং এটির উইন্ডোজের ভার্সনও আছে)। গোল্ডেনডিক্ট-এ Oxford বা Cambridge এর মত ডিকশনারিগুলো ব্যবহার করতে পারবেন (যদিও অবৈধভাবে)। তাছাড়া ফ্রি অনেক ডিকশনারিই ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ব্যবহারের আগে এটি কনফিগার করতে হবে। অন্যদিকে Artha (আর্থা) কনফিগার করতে হয় না, সেজন্য একটু সহজ।

প্রথমে সহজ অপশনটি দেখি...

Artha ইন্সটল করার পদ্ধতি:

Artha - offline linux or ubuntu dictionary

উবুন্টুতে Ctrl+Alt+T চেপে একটি টার্মিনাল উইন্ডো ওপেন করুন। এবং যদি আপনি কখনো apt-get update না করে থাকেন তাহলে নিচের কমান্ডটি লিখুন এবং এন্টার করুন:
sudo apt-get update

কিছুক্ষণ সময় নিয়ে আপনার সফটওয়্যার রিপোসিটরি আপডেট হবে।

এখন আপনার উবুন্টু সফটওয়্যার ইন্সটলের উপযোগী হয়ে গেছে। এখন নিচের কমান্ডটি লিখে এন্টার চাপুন:
sudo apt-get install artha

৮ মেগাবাইটের মত ডাউনলোড হবে এবং তারপর নিজে নিজেই Artha ইন্সটল হবে। ইন্সটল হবার পর Dash এ যান (বামদিকের বারটির সবার উপরের বাটনটিতে ক্লিক করে) এবং সার্চ করুন artha। ব্যস! চালু করুন আর শব্দের অর্থ খুঁজে বের করুন পরম আনন্দে!

এবার একটু এ্যাডভান্সড হয়ে যাবো... এবার দেখবো GoldenDict ইন্সটলেশন। Artha দিয়ে যদি আপনার মন না ভরে তাহলে গোলডেনডিক্ট ট্রাই করে দেখতে পারেন।

Goldendict ইন্সটল করার পদ্ধতি:

Goldendict - a cross platform offline and online dictionary

যেহেতু এ্যাডভান্সড ডিকশনারি তাই সংক্ষেপে বলবো, বুঝে নিতে হবে। তবে না বুঝতে পারলে কমেন্ট করে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

টার্মিনাল ওপেন করে এন্টার করুন:
sudo apt-get update;sudo apt-get install goldendict

৮ মেগাবাইটের মত ডাইনলোড হবে এবং গোলডেনডিকট ইন্সটল হবে। এখন এটার ডিকশনারির সফটওয়্যারটি কেবল ইন্সটল হয়েছে, কিন্তু এটার পেট একদম খালি অর্থাৎ এতে ডিকশনারি ডাটাবেজ দিতে হবে, তাহলে সে শব্দের অর্থ দেখাতে পারবে।

GoldenDict কনফিগার করা:


নিচের সাইটগুলো থেকে কিছু ডিকশনারি ফ্রি পেতে পারেন:

http://abloz.com/huzheng/stardict-dic/
http://www.stardict.org/download.php
http://goldendict.org/dictionaries.php


এছাড়া যদি আপনি অক্সফোর্ড এবং ক্যামব্রিজের মত ডিকশনারি ডাউনলোড করতে চান তাহলে আপনাকে টরেন্ট ব্যবহার করতে হবে। এরকম অনেক টরেন্ট পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি হল এটি (http://thepiratebay.se/torrent/5205813)। (টরেন্ট লিংক নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করবেন, এর মধ্যে থাকা কোন বিষয়বস্তুর জন্য আমি দায়ী থাকবো না।)

প্রতিটি ডিকশনারির জন্যই একটি ফোল্ডার/ডিরেকটরি থাকে, সেই ডিরেকটরির ভিতরে ডিকশনারির ফাইলগুলো থাকে। সেই ফোল্ডারগুলো কপি করতে হবে ~/.goldendict/dic ফোল্ডারে। নটিলাস/ফাইল ম্যানেজার ওপেন করুন। এটি Home ফোল্ডারে ওপেন হবে। এখন ctrl+H চাপুন যাতে হিডেন ফাইলগুলো শো হয়। এখন খুঁজে দেখুন .goldendict নামে একটি ফোল্ডার রয়েছে। সেটির ভিতরে dic নামে একটি ফোল্ডার তৈরি করুন এবং dic ফোল্ডারের ভিতর  ডিকশনারির ফোল্ডারগুলো কপি করুন।

এখন গোলডেনডিক্ট চালু করুন এবং F3 চাপুন। Add.. বাটনটি চাপুন। Home ফোল্ডার ওপেন হবে। Ctrl + H চাপুন। .goldendict/dic ডিরেক্টরিতে যান এবং Open ক্লিক করুন।  Rescan চাপুন। দেখবেন .goldendict/dic নামে লিস্টে একটি আইটেম যুক্ত হয়েছে। এটির ডানপাশে থাকা Recursive এর নিচে চেকবক্সটিতে চেক দিন। OK করে বের হয়ে আসুন। এখন যেকোন শব্দ লিখুন আর অর্থ দেখুন!


Continue reading ...

Monday, January 14, 2013

গল্প: নির্জন নিষ্ঠুর

0 comments
story about an orphan killing a boy by accident
লিখেছেন: আদনান শামীম

সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার – স্কুলে হাফ ডে। স্কুলের গেটের বাইরে দাড়িয়ে অরণ্য অপেক্ষা করছিল কখন আসিফ আসবে। এইতো, মাত্র সপ্তাহখানেক আগে তাদের বন্ধুত্ব হল। অথচ মনে হয় যেন কত যুগ ধরে তারা একে অপরকে চেনে।

একসময় বেরিয়ে এল আসিফ। অরণ্য অভিযোগের সুরে বলে উঠলো, ‘এতক্ষণ লাগে?’

আসিফ তাচ্ছিল্যহীনভাবে বললো, ‘শেষ ক্লাসে দুষ্টামি করেছিলাম, এজন্য হেডস্যারের রুমে যেতে হয়েছিল।’

অরণ্যের তো চোখ ছানাবড়া। ‘বলো কি? তারপর?’

আসিফ সেই তাচ্ছিল্যহীন ভাব নিয়েই বললো, ‘তারপর আরকি, দিল ধমক। বললো গার্জিয়ান নিয়ে আসতে হবে।’

আসিফের উদাস চেহারা দেখে অরণ্য রীতিমত অবাক – এতবড় একটা ঘটনা ঘটে গেল অথচ ওর মুখে কোনো চিন্তার ভাব নেই! ‘তাহলে?’

‘তাহলে আর কি, তোমাকে একটু কষ্ট করতে হবে – তুমি আমার মাকে গিয়ে বোঝাবে যে আমি নির্দোষ।’

‘কিন্তু আমি তো তোমার সেকশনে পড়ি না!’

‘মিথ্যা বলবে।’

এবার অরণ্য আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। বলেই ফেললো, ‘এতবড় ঘটনা ঘটে গেল অথচ তোমার কোনো টেনশন হচ্ছে না। ব্যাপার কী?’

‘আরে বন্ধু, এইটা বুঝবা না। এখন বাদ দাও তো এসব। চলো বাসায় চলো।’

‘কিন্তু আমি তো মিথ্যা...।’

‘আরে কিছু হবে না – চলো।’ হাত ধরে জোর করেই অরণ্যকে নিয়ে গেল আসিফ।
আসিফের বাসাটা মন্দ না – তিনতলা বাড়ি – নিজেদের। গাড়িও আছে। আবার গেটে দারোয়ান। এতকিছু দেখে অরণ্য আরো ভয় পেয়ে গেল – যদি মিথ্যা ধরতে পেরে দারোয়ান দিয়ে উত্তম মধ্যম দেয়! গেটের ভিতরে যেতেই অরণ্য বেরিয়ে যেতে চাইলো, ‘আজকে থাক – অন্যদিন আসবো।’

এবার ভদ্রতার তোয়াক্কা না করে আসিফ অরণ্যের হাত ধরে দিল এক হেচকা টান।

*  *  *

‘বসো’ আসিফ অরণ্যকে ড্রইংরুমে বসতে বলে ভিতরে গেল। মিনিট পাঁচেক পরে ফিরে এল। স্কুল ড্রেস ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে এসেছে সে। এখন অবশ্য তাকে একটু চিন্তিত মনে হচ্ছে। একটু অপরাধীর ভঙ্গি করে বললো, ‘অরণ্য, আসলে হয়েছে কি – ক্রিকেট খেলতে গিয়ে জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলেছি।’

এখন আর আসিফ অরণ্যের দিকে তাকাতে পারছে না। অপরাধীর মত অন্যদিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে।

‘আচ্ছা ঠিক আছে। তোমার আম্মুকে ডাকো। দেখছি কি করা যায়।’

‘ঠিক আছে।’ বলে আসিফ ভিতরে গেল।

কিছুক্ষণ পর আসিফ এলো তার মাকে নিয়ে। তার মা মধ্যবয়স্কা এক মহিলা। মায়ায় ভরা চেহারা, আর চেহারাতে হালকা একটা হাসি। ‘তুমি অরণ্য তাই না?’

অরণ্য দাড়িয়ে গেল, ‘জ্বি, আসসালামু আলাইকুম।’

‘ওয়ালাইকুম আসসালাম, বসো বসো।’ আসিফের মা বসলেন। অরণ্য বসতে বসতে খেয়াল করলো আসিফ চোখের দৃষ্টি দিয়ে বোঝাতে চাইছে ‘কিছু একটা করো প্লিজ!’

আসিফের মা বললেন, ‘কোথায় থাকো বাবা?’

‘এই তো, সামনের গলিতে – মুন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের পাশেই একটা বাড়িতে।’

‘ও, তাহলে তো কাছেই। তো এতদিন আসো নি কেন? ঘুরে যেতে পারতে। আমাদের বাড়ির পিছনে সুন্দর একটা ফুলের বাগান আছে। ওটাতে গেলে আর বাসায় যেতে মন চাইবে না!’

‘আসলে আসিফের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে কয়েকদিন আগে। বাগান আছে জানলে অবশ্য অনেক আগেই আসতাম।’ একটু মুচকি হাসলো অরণ্য।

‘হুম, আমি নিজ হাতে বাগানটি করেছি। খুব সুন্দর বাগান – চলো, বাগানটা ঘুরিয়ে নিয়ে আসি।’

‘না আন্টি, থাক। অন্য আরেকদিন। আসলে আমি আসতে চাই নি, আসিফই আমাকে জোড় করে নিয়ে এসেছে।’

‘ভালই তো করেছে। কত করে বলি তোর বন্ধুদের বাসায় নিয়ে আয় – বাগানটা ঘুরিয়ে দেখা – কই, একজনকেও নিয়ে আসে না। কিরে আসিফ, তুই তোর স্কুলের কোনো বন্ধুকে বাসায় আনিস না কেন? স্কুলে কিছু ঘটিয়েছিস নাকি?’

আসিফ মাথা চুলকে বললো, ‘আসলে মা হয়েছে কি ... ইয়ে মানে ...’

‘এত ইয়ে মানে ইয়ে মানে করছিস কেন, কি লুকাচ্ছিস বল।’

আসিফকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য অরণ্য বললো, ‘আসলে আন্টি হয়েছে কি আসিফ ভুলবশত একটা কাজ করে ফেলেছে।’

‘কি কাজ?’ আসিফের মা তো অবাক।

‘ও ক্রিকেট খেলতে গিয়ে স্কুলের জানালার একটা কাঁচ ভেঙে ফেলেছে।’

‘বলো কি, সত্যি? কিরে আসিফ সত্যি?’

আসিফের মুখ কালো হয়ে গেল। কিছু বলতে পারলো না। শুধু মাথা নেড়ে সায় দিল।

আসিফের মা বললো, ‘তোর বাবা আসুক – বলছি দাড়া।’

‘আসলে ওর কোনো দোষ নেই আন্টি। ও তো আর ইচ্ছে করে নি।’

‘আরে না, তুমি ওকে চেনো না। সারাদিন শুধু দুষ্টামি আর দুষ্টামি – বই তো ধরেই না।’

‘আসলে আন্টি, ও বুঝতে পারে নি বলটা ঠেকালেই জানালার দিকে যাবে। তারপরও সবাই তাকেই দোষ দেয়। বেচারা।’

আসিফের মার একটু যেন দয়া হল। ‘তারপর, ওকে কোনো শাস্তি দেয় নি?’

‘হুম, হেডস্যার বলেছে গার্জিয়ান নিয়ে যেতে।’

‘ঠিক আছে, চলিস।’ আসিফের মা রাগত একটা দৃষ্টিতে আসিফের দিকে তাকালো। ‘ছেলে যখন এমন তাহলে তো এসব সহ্য করতেই হবে।’ অরণ্যের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘বাবা তুমি বসো, আমি আসছি।’ বলে ভিতরে চলে গেলেন।

আসিফের মা চলে যাবার পর আসিফ অরণ্যের কাছে এসে বসে, ‘থ্যাংকস দোস্ত, অনেক থ্যাংকস।’

জবাবে অরণ্য শুধু একটু মুছকি হাসে। উদাস মনে কি যেন ভাবছে সে।

*  *  *

শনিবার দিন। স্কুল ছুটির পর প্রতিদিনের মতোই আসিফের জন্য দাড়িয়ে আছে অরণ্য। হঠাৎ অরণ্যের খেয়াল হল আজ তো আসিফের গার্জিয়ান নিয়ে আসার কথা। ঠিক সেই সময় আসিফের মাকে দেখতে পেল অরণ্য। অরণ্য ওনার দিকে এগিয়ে গেল, ‘আন্টি, আসসালামু আলাইকুম।’

‘ওয়ালাইকুম আসসালাম, ভাল আছো?’

‘জ্বি আন্টি ভাল।’

‘আর বলো না, ছেলেটার জন্য স্কুল পর্যন্ত আসতে হল।’

‘না আন্টি, এটা কোনো ব্যাপার নয়। আসিফ তো ভাল ছেলে।’

‘কি জানি বাবা। শুধু তোমার মুখেই ওর প্রশংসা শুনি।’

এমন সময় আসিফ চলে এলো, ‘চলো মা। অরণ্য, তুমি কি থাকবে, না চলে যাবে?’

‘আমি চলে যাই।’

আসিফের মা অরণ্যের চুলে হাত বুলিয়ে দিল ‘ভাল থেকো বাবা।’

আসিফের মা আর আসিফ বাড়ির দিকে চলে গেল আর অরণ্য তার বাড়ির দিকে। হাটতে হাটতে অরণ্য পেছন ফিরে আসিফের মাকে দেখছিল আর উদাসমনে কি ভাবছিল।

*  *  *

তখন রাত ৮টা। অরণ্যের পড়া প্রায় শেষ, শুধু বাংলাটা বাকি। পড়ায় মন বসছে না। উদাস মনে একটা কথা ভাবছে। আসিফের মাকে দেখলে কার কথা যেন মনে পড়ে যায়। চাচার বাসায় ওঠার আগের কিছু স্মৃতি মনে পড়ে যায় তার। চোখ ছলছল হয়ে উঠে। কিন্তু কি একটা ভেবে যেন পড়ায় মনযোগী হয়।

*  *  *

এভাবেই চলতে লাগলো। প্রতিদিন স্কুল শেষে আসিফ আর অরণ্য একসঙ্গে বাড়ি ফিরে। মাঝে মাঝে আসিফদের বাড়িতেও কিছুক্ষণ বেড়ায় অরণ্য। আসিফের মা-ও অরণ্যকে দেখে খুশি হয় ,অরণ্যেরও ওদের বাসায় বেড়াতে ভাল লাগে। বিশেষ করে আসিফদের ফুলের বাগানে বসে বিস্কুট কি কেক, কি এটা সেটা খেতে ভালই লাগে তার।

একদিন অরণ্য গেল আসিফদের বাসায়। অন্যদিনের মতই সেদিনও বাগানে বসে ছিল আসিফ আর অরণ্য।

‘আচ্ছা অরণ্য, একটা ক্রিকেট ব্যাট হলে কেমন হয় বল তো?’ আসিফ হঠাৎই প্রসঙ্গটা তুললো।

‘ভালই হয়। কেন রে?’

‘আছে আছে, পরে বলবো।’

‘পরে কেন, বল না। তুই কি ব্যাট কিনেছিস?’

‘উহুম, বলবো না।’

তখনই আসিফের মা এসে পড়লো ট্রে হাতে। ‘এই নাও অরণ্য, আমার নিজ হাতে বানানো পুডিং। খেয়ে দেখো কেমন হয়েছে।’

‘হুম খাচ্ছি।’ অরণ্য বললো, ‘আচ্ছা আন্টি, আসিফ কি ক্রিকেট ব্যাট কিনেছে?’

আসিফের মা জবাবে একটু হাসলো। ‘আরে না, সামনের শুক্রবারে আসিফের জন্মদিন। এজন্য ও তার বাবাকে বলে রেখেছে যে উপহার হিসেবে তার একটা ক্রিকেট ব্যাট লাগবে।’

‘জন্মদিন? এই আসিফ, তুই বলিস নাই ক্যান?’

আসিফ দুষ্ট হাসি দিয়ে বললো, ‘বললে কি আর মজা থাকতো?!’

আসিফের মা বললো, ‘অরণ্য, বাবা তুমি কিন্তু তোমার বাবা মাকে নিয়ে চলে এসো।’

অরণ্য কথাটা শুনে গম্ভীর হয়ে গেল। আসিফের মা একটু অবাক হল। ‘কি হয়েছে বাবা?’

অরণ্য উঠে দাড়িয়ে বাগানের বেড়ার কাছে এসে দাড়ালো। আসিফের মা উঠে এসে অরণ্যের পাশে এসে দাড়ালো। অরণ্যের কাধে হাত রাখলো। ‘অরণ্য?’

কোনো জবাব নেই। আসিফের মা অরণ্যের মুখের সামনে এসে দাড়ালো। অরণ্যের চোখে পানি। আসিফের মা বসে পড়লো, ‘কি হয়েছে অরণ্য?’

অরণ্য ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিল। সে কোনোরকমে বললো, ‘আমার মা বাবা নেই।’

আসিফের মা আবেগআপ্লুত হয়ে পড়লেন। তিনি অরণ্যকে জড়িয়ে ধরলেন। ‘কে বললো, আমি আছি না?’

আসিফ এতক্ষণ দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছিল সবকিছু। এখন সেও এসে দুজনকে জড়িয়ে ধরলো।

*  *  *

আসিফ অরণ্য এখন বড় হয়ে গেছে। ওরা এখন কলেজে পড়ে। ওদের মধ্যে এত গভীর বন্ধুত্ব যে যে কেউ তাদেরকে দেখলে আপন দুইভাই মনে করে। আসিফের মা-ও অরণ্যকে নিজ ছেলের মত দেখে।

আজ আসিফ-অরণ্যদের এইচ এস সি পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়ার কথা। খবরে শুনতে পেয়েছে দুপুর ১টায় রেজাল্ট দিবে। তারা দুজনে বারোটায়ই গিয়ে হাজির। অন্যদের মত তারাও উদগ্রীব হয়ে আছে রেজাল্ট জানার জন্য।

শেষমেশ সাড়ে বারোটায় রেজাল্ট দিল। আসিফ ভিড় ঠেলে নোটিশবোর্ডের কাছে চলে এলো। অরণ্য সামান্য পেছনে। আসিফ চিৎকার করে বললো, ‘অরণ্য, তুই এ প্লাস পেয়েছিস!’

অরণ্য বললো, ‘তোর কি এসেছে?’

‘দেখছি দাড়া।’ আসিফ খুঁজতে লাগলো – তার নিজের রেজাল্ট কোথায়। একসময় পেয়েও গেল, কিন্তু মুখে কিছু বললো না। মুখ কালো হয়ে গেল তার। চুপচাপ ভিড় থেকে বেরিয়ে এলো।

অরণ্য কিছু বুঝতে পারলো না, ‘কিরে কি হয়েছে?’

‘চল বাসায় চল।’

‘তোর রেজাল্ট কি হল বলবি তো।’

‘জানি না।’ বলে আসিফ হাটা শুরু করলো । অরণ্যও আসতে থাকলো তার পিছন পিছন।

কলেজ থেকে কিছুদূরে একটা চায়ের দোকান আছে। ওখানে তেমন লোকজন নেই। আসিফ সেখানে গিয়ে বসলো। অরণ্যও গিয়ে বসলো তার সাথে।

অরণ্য আগ্রহ ধরে রাখতে পারলো না, ‘আসিফ বল না, তোর রেজাল্ট কি।’ আসিফ চুপ। ‘কিরে বলছিস না কেন?’

আসিফ এবার রেগে মেগে বললো, ‘তোর এত ইচ্ছা থাকলে নিজে গিয়ে দেখে আয়।’

‘আসিফ, এত রাগ করছিস কেন?’

‘তুই কোনো কথা বলিস না তো।’ এখনও রেগে আছে সে।

‘কেন?’

আসিফ রাগান্বিত হয়ে উঠে দাড়ালো, ‘তোর এত মাথা ব্যাথা কেন?’

‘ওমা মাথা ব্যথা হবে না। তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড...’

‘বেস্ট ফ্রেন্ড? ... তুই আজকে থেকে আমার কেউ না।’

‘কিন্তু আমি কি করেছি?’

‘তুই যা, এতিমের বাচ্চা। যা ভাগ।’

অরণ্য এবার রাগ ধরে রাখতে পারলো না।

সে দোকানের দেয়ালে হাত দিয়ে একটা ধাক্কা দিল। কিছু বুঝে উঠার আগেই ঘটনাটা ঘটে গেল...

*  *  *

অরণ্যের চাচার বাসাটা চারতলা। চারতলার উপর এক বিশাল ছাদ। ছাদের কিনারে দশ ইঞ্চি মোটা দেয়াল। দেয়ালের উপর অরণ্য বসে বসে ভাবছে। আশেপাশে কেউ নেই, এমনকি প্রতিবেশীর ছাদেও কেউ নেই। নির্জন এক দুপুর বেলা।

ঐদিনের ঘটনাটা নিয়ে আজকাল খুব ভাবে সে। দুশ্চিন্তায় ঠিকমত খেতে পড়তে পারে না সে।

আসিফের মা-ও অরণ্যের সাথে এখন আর কথা বলে না। বলবে কি করে, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তিনি শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। অরণ্য কত বোঝাতে চেয়েছে, সে জানতো না যে দোকানের উপরে ওঠানো দরজাটা তার একটিমাত্র আঘাতে এভাবে ছুটে যাবে।

কোনো লাভ হয় নি। আসিফের মা একটা শব্দও উচ্চারণ করে নি। অরণ্য এতই নিকৃষ্ট, যে তাকে একটিবারের জন্যও জিজ্ঞেস করতে পারলো না – ‘কেন?’ একটা গালিও কি দিতে পারলো না, যেমনটা আসিফ তাকে দিয়েছিল? এই গম্ভীর নীরবতা অরণ্যের গায়ে এসে তীক্ষ্ণ সুঁইয়ের মত বিঁধে।

‘এতিমের বাচ্চা’ – মনে মনে হাসে সে। ভালই বলেছিল আসিফ। তার একমাত্র দোষ তো এটাই – সে এতিম। সে যদি এতিম না হত তাহলে আসিফের মার সঙ্গে এত আপন হত না, আসিফের সঙ্গে বাকবিতন্ডাও হত না, তার চাচার স্ট্রোকও হত না। কি নিষ্ঠুর এক পিশাচ সে। দু দুটো পরিবার নষ্ট করেছে সে।

আবার একটু আশেপাশে তাকালো সে। আশেপাশের ছাদে কেউ নেই। নির্জন এক দুপুর বেলা। শুধু দূরে একটা ছাদে কয়েকটা কাক এক টুকরো মাংস নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে। আর কোথাও কেউ নেই। দুরু দুরু বুকে নিচে তাকায় সে। বাহ, চাচার বাড়িটা তো অনেক উচু।


[ গল্পটি লেখার জন্য সত্য ঘটনা (কঙ্কাল) দিয়েছিলেন সাদ্দাম হোসেন অপু, সেটি থেকেই এত বড় গল্পের (পেশীবহুল মানবদেহের) উৎপত্তি। তবে গল্পটি সেই ঘটনাটি থেকে অনেকাংশে ভিন্ন। ]
(ফটোক্রেডিট: visualphotos.com)
Continue reading ...

Saturday, January 12, 2013

উবুন্টতে সিটিসেল ZTE AC682 মোডেম দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের উপায়

0 comments

ইন্টারনেট এবং আমার জুম


ইন্টারনেট থাকলে যেকোন অপারেটিং সিস্টেমেই যেকোন কিছু করা সম্ভব। ফেসবুকটা চেক করাই হোক, সার্চ করাই হোক, বা ইমেইল করাই হোক -- সবই তখন সম্ভব হয়। ইন্টারনেট না থাকলে মনে হয় যেন বাইরের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি। তাই ইন্টারনেট কানেক্ট করাটা অনেক জরুরী। আর উবুন্টুতে সফটওয়্যার ইন্সটল করার জন্য ইন্টারনেট বলতে গেলে একরকম must. (যদিও অফলাইন পিসিতেও সফটওয়্যার ইন্সটল করা সম্ভব। তবে ঝক্কি ঝামেলা আছে একটু!)



Citycell Zoom অনেকদিন চালাচ্ছি। আগে ব্যবহার করতাম ডায়ালআপ। অগ্নি, বোল, ওয়েস্টার্ন সবই ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ডায়ালআপের বেশিরভাগ কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জুম নিয়েছিলাম। Zoom-এর ১ জিবির পোস্টেইড লাইন ব্যবহার করি। আমার অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল উবুন্টুতে নেট ইউজ করবো। মোডেমের ভিতরে ইন্টারনাল স্টোরেজে উবুন্টুতে নেট কানেক্ট করার একটি পদ্ধতি ছিল। কিন্তু ১১.০৪ এর পরের ভার্সনগুলোতে কার্নেলে একটা পরিবর্তনের কারণে সেই পদ্ধতিটা কাজ করছিল না। প্রায় ১ বছর ঘাটাঘাটির পর ZTE AC682 মোডেম দিয়ে কানেক্ট করতে পেরেছি। তাই পদ্ধতিটি শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারছিনা।

কার্নেলে পরিবর্তন, নাকি usb_modeswitch?


উবুন্টুর Launchpad এর বাগ সাইটে অনেক শুনেছি কার্নেলে পরিবর্তন আসার জন্য নতুন উবুন্টুর নতুন ভার্সনগুলোতে অনেক USB মোডেম কাজ করছে না। USB Modem বা USB Dongle নিয়েই যত সমস্যা। তবে ওয়াই ফাই/নেটওয়ার্ক কেবল দিয়ে ঠিকই কানেক্ট করা যাচ্ছে। তবে খুঁজতে খুঁজতে সমাধান ঠিকই পেলাম। সমস্যাটি আসলে হয়েছে USB Modeswitch নামে একটি সফটওয়্যারের কারণে। USB Dongleগুলোতে সাধারণত দুটো মুড থাকে। একটি স্টোরেজ মোড,অন্যটি মোডেম মোড। স্টোরেজ মোডটিতে মোডেম ইন্সটলের জন্য সফটওয়্যারটি থাকে আর সেটা Eject করলে মোডেমটি ... উমম ... মোডেমে পরিণত হয় এবং তখন কানেক্ট করা যায়।

USB Modeswitch সফটওয়্যারটিকে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে করে স্টোরেজ মোডটিকে অটোমেটিক Eject করে দেয়া হয় এবং সেটি মোডেম মুডে চলে যায়। (এমনিতেও স্টোরেজ মোডে উবুন্টর জন্য উপকারি কোনকিছু সাধারণত থাকে না। ওতে উইন্ডোজের সফটওয়্যারটি শুধু শোভা পায়।)

USB Modeswitch একটি ভাল উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল, কিন্তু এটি ঠিকমত কনফিগার করা না থাকার কারণে এটি উল্টো জটিলতা সৃষ্টি করে। আমরা তাই এটিকে ডিস্যাবল করে কাজ করবো।

কার্নেলেও অবশ্য একটি পরিবর্তন এসেছে। এজন্য মোডেমগুলো আর নিজে নিজে মাউন্ট হয় না। তাই মোডেমকে আবার মাউন্ট করতে হয় (udisks --mount কমান্ড দিয়ে), তারপর ইজেক্ট করা।

স্টেপ-১: USB Modeswitch ডিস্যাবল করা


Ctrl+Alt+T চেপে একটি টার্মিনাল ওপেন করুন। এবং তাতে নিম্নের কমান্ডটি লিখে এন্টার চাপুন:

sudo chmod -x /usr/sbin/usb_modeswitch


এই কমান্ডটির মাধ্যমে আমরা usb_modeswitch Fileটিকে এক্সিটিউটেবল থেকে নরমাল ফাইলে রূপান্তর করলাম। এটি একবার করলেই চলবে।

(যদি কখনও আবার এনাবল করতে  হয় তাহলে নিচের কমান্ডটি ব্যবহার করুন:
sudo chmod +x /usr/sbin/usb_modeswitch
)

স্টেপ-২: ডায়াল/Connect করার প্রস্তুতি


এই স্টেপটি অনেকটা মোডেমের ড্রাইভার ইন্সটল করার মতই। মোডেমটি USB পোর্টে ইনসার্ট করুন এবং নিচের কমান্ড রান করুন:
udisks --mount /dev/sr1

(যদি আপনার সিডিরম না থাকে, যেমন:নোটবুকে, তাহলে sr1 এর জায়গায় sr0 ব্যবহার করুন।
মাঝে মাঝে অবশ্য সিডিরম না থাকলেও sr1 এ লোড হয়। সবচেয়ে ভাল হয় যদি dmesg|tail|grep sr কমান্ডটি রান করে দেখেন যে sr কততে সেটি ডিটেক্ট করেছে।)

এতে করে স্টোরেজ মোডটি লোড হবে। এখন আপনি চাইলে আমার পোস্ট বাদ দিয়ে আপনার মোডেমের ইন্সট্রাকশন অনুসরণ করতে পারেন।

এখন Nautilus বা ফাইল ম্যানেজার ওপেন করুন দেখবেন সেখানে Disc বা Zoom নামে একটি এন্ট্রি আছে। সেটিতে ক্লিক করলে আপনি লিনাক্সের জন্য একটি tar.gz ফাইল পাবেন। সেটি ওপেন করুন এবং এর ভিতরের release ফোল্ডারটি ডেস্কটপে Extract করুন। এখন ডেস্কটপে সদ্য এক্সট্রাক্ট হওয়া release ফোল্ডারটিতে যান। তারপর modem_application ফোল্ডারে যান। এখানের modem_on ফোল্ডারটিতে রাইট ক্লিক করে Copy To -> Home ক্লিক করুন। এখন Home ফোল্ডারে যান, তারপর modem_on ফোল্ডারে যান। modemon ফাইলটিকে রাইট ক্লিক করে Properties -> Permissions -> Execute চেকবক্সে চেক দিন।

এখন আবার Desktop/release ফোল্ডারে যান। Dialer script 3D ফোল্ডারে যান এবং ppp ফোল্ডারটি কপি করুন। এখন টার্মিনালে রান করুন:
sudo nautilus
এখন File system এ ক্লিক করুন। etc ফোল্ডারে যান। এবং খালি জায়গায় রাইট ক্লিক করে Paste করুন।

এখন টার্মিনালে রান করুন:
eject /dev/sr1

এখন মোডেমটি খুলে ফেলুন।


স্টেপ-৩: মোডেম কানেক্ট করা


১. মোডেম USB পোর্টে লাগান
২. udisks --mount /dev/sr1 (সিডিরম না থাকলে sr0) - এতে স্টোরেজ মোড ব্যবহারযোগ্য / মাউন্ট হবে
৩. eject /dev/sr1 (সিডিরম না থাকলে sr0) - এতে মোডেম মোড আসবে
৪. sudo -s
৫. modprobe usbserial vendor=0x19d2 product=0xffdd
৬. cd modem_on
৭. ./modemon
৮. pppd call cdmadialer &

টার্মিনাল উইন্ডোটি খোলা রেখে দিন। ফায়ারফক্স খুলে চেক করুন নেটে কানেক্ট করতে পারেন কিনা। সিটিসেলের নেটওয়ার্কের চাপ বেশি থাকলে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

স্টেপ-৪: ডিসকানেক্ট করার উপায়:

১. killall pppd
২. ./modemon

যদি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও কানেক্ট না হয় তাহলে ডিসকানেক্ট করে আবার কানেক্ট করুন। অপেক্ষা করুন। এভাবে একসময় কানেক্ট হবে।

উবুন্টুতে নেট কানেক্ট করতে পারলে সুবিধা হল ভাইরাসমুক্ত পরিবেশে ব্রাউজ করা যায়। আর তাছাড়া সফটওয়্যার ইন্সটল করার জন্য ইন্টারনেট কানেকশন অনেক জরুরী। আর নেট থাকলে আপনি বিভিন্ন অনলাইন সফটওয়্যারও ব্যবহার করতে পারবেন যা আপনাকে ক্রস-প্লাটফর্ম সফটওয়্যারের পূর্ণ আনন্দ দেবে। যেমন: http://html5games.com/ ওয়েবসাইটটিতে আপনি কোন সফটওয়্যার ডাউনলোড ছাড়াই মজার গেমস খেলতে পারবেন। http://mudcu.be/sketchpad/ ওয়েবসাইটে আপনি ফটোশপের মতই আঁকাআঁকি করতে পারবেন। Flash Player ইন্সটল করার পর আরো বেশি ওয়েবসাইট থেকে গেমস খেলতে পারবেন। এবং আরো উন্নত একটি আঁকার সফটওয়্যার ব্রাউজারে ব্যবহার করতে পারবেন। খুব সহজে ফ্ল্যাশ প্লেয়ার ইন্সটল করার পদ্ধতি দেখুন এখানে।

পদ্ধতিটি Ubuntu/Lubuntu/Kubuntu/Xubuntu 11.10, 12.04, 12.10, 13.04 এ কাজ করবে বলে আশা রাখি। একটু পরিবর্তন করে নিলে আগের ভার্সনগুলোতে এমনকি অন্য লিনাক্স ভেরিয়েন্টগুলোতেও কাজে লাগতে পারে। যেমন আমি এই ইন্সট্রাকশন অনুসরণ করে Knoppix, Puppy Linux, Slitaz, Linux Mint-এ সফলভাবে ইন্টারনেট চালিয়েছি।

তবে আপনার এখন উচিৎ হবে রিপোসিটরি আপডেট করা যাতে আপনি সহজেই সফটওয়্যার ইন্সটল করতে পারেন। এজন্য এখানে দেখুন।

Continue reading ...
 

Blogroll

Translate This Blog

Copyright © আদনানের ব্লগ Design by BTDesigner | Blogger Theme by BTDesigner | Powered by Blogger