Monday, January 14, 2013

গল্প: নির্জন নিষ্ঠুর

0 comments
story about an orphan killing a boy by accident
লিখেছেন: আদনান শামীম

সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার – স্কুলে হাফ ডে। স্কুলের গেটের বাইরে দাড়িয়ে অরণ্য অপেক্ষা করছিল কখন আসিফ আসবে। এইতো, মাত্র সপ্তাহখানেক আগে তাদের বন্ধুত্ব হল। অথচ মনে হয় যেন কত যুগ ধরে তারা একে অপরকে চেনে।

একসময় বেরিয়ে এল আসিফ। অরণ্য অভিযোগের সুরে বলে উঠলো, ‘এতক্ষণ লাগে?’

আসিফ তাচ্ছিল্যহীনভাবে বললো, ‘শেষ ক্লাসে দুষ্টামি করেছিলাম, এজন্য হেডস্যারের রুমে যেতে হয়েছিল।’

অরণ্যের তো চোখ ছানাবড়া। ‘বলো কি? তারপর?’

আসিফ সেই তাচ্ছিল্যহীন ভাব নিয়েই বললো, ‘তারপর আরকি, দিল ধমক। বললো গার্জিয়ান নিয়ে আসতে হবে।’

আসিফের উদাস চেহারা দেখে অরণ্য রীতিমত অবাক – এতবড় একটা ঘটনা ঘটে গেল অথচ ওর মুখে কোনো চিন্তার ভাব নেই! ‘তাহলে?’

‘তাহলে আর কি, তোমাকে একটু কষ্ট করতে হবে – তুমি আমার মাকে গিয়ে বোঝাবে যে আমি নির্দোষ।’

‘কিন্তু আমি তো তোমার সেকশনে পড়ি না!’

‘মিথ্যা বলবে।’

এবার অরণ্য আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। বলেই ফেললো, ‘এতবড় ঘটনা ঘটে গেল অথচ তোমার কোনো টেনশন হচ্ছে না। ব্যাপার কী?’

‘আরে বন্ধু, এইটা বুঝবা না। এখন বাদ দাও তো এসব। চলো বাসায় চলো।’

‘কিন্তু আমি তো মিথ্যা...।’

‘আরে কিছু হবে না – চলো।’ হাত ধরে জোর করেই অরণ্যকে নিয়ে গেল আসিফ।
আসিফের বাসাটা মন্দ না – তিনতলা বাড়ি – নিজেদের। গাড়িও আছে। আবার গেটে দারোয়ান। এতকিছু দেখে অরণ্য আরো ভয় পেয়ে গেল – যদি মিথ্যা ধরতে পেরে দারোয়ান দিয়ে উত্তম মধ্যম দেয়! গেটের ভিতরে যেতেই অরণ্য বেরিয়ে যেতে চাইলো, ‘আজকে থাক – অন্যদিন আসবো।’

এবার ভদ্রতার তোয়াক্কা না করে আসিফ অরণ্যের হাত ধরে দিল এক হেচকা টান।

*  *  *

‘বসো’ আসিফ অরণ্যকে ড্রইংরুমে বসতে বলে ভিতরে গেল। মিনিট পাঁচেক পরে ফিরে এল। স্কুল ড্রেস ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে এসেছে সে। এখন অবশ্য তাকে একটু চিন্তিত মনে হচ্ছে। একটু অপরাধীর ভঙ্গি করে বললো, ‘অরণ্য, আসলে হয়েছে কি – ক্রিকেট খেলতে গিয়ে জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলেছি।’

এখন আর আসিফ অরণ্যের দিকে তাকাতে পারছে না। অপরাধীর মত অন্যদিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে।

‘আচ্ছা ঠিক আছে। তোমার আম্মুকে ডাকো। দেখছি কি করা যায়।’

‘ঠিক আছে।’ বলে আসিফ ভিতরে গেল।

কিছুক্ষণ পর আসিফ এলো তার মাকে নিয়ে। তার মা মধ্যবয়স্কা এক মহিলা। মায়ায় ভরা চেহারা, আর চেহারাতে হালকা একটা হাসি। ‘তুমি অরণ্য তাই না?’

অরণ্য দাড়িয়ে গেল, ‘জ্বি, আসসালামু আলাইকুম।’

‘ওয়ালাইকুম আসসালাম, বসো বসো।’ আসিফের মা বসলেন। অরণ্য বসতে বসতে খেয়াল করলো আসিফ চোখের দৃষ্টি দিয়ে বোঝাতে চাইছে ‘কিছু একটা করো প্লিজ!’

আসিফের মা বললেন, ‘কোথায় থাকো বাবা?’

‘এই তো, সামনের গলিতে – মুন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের পাশেই একটা বাড়িতে।’

‘ও, তাহলে তো কাছেই। তো এতদিন আসো নি কেন? ঘুরে যেতে পারতে। আমাদের বাড়ির পিছনে সুন্দর একটা ফুলের বাগান আছে। ওটাতে গেলে আর বাসায় যেতে মন চাইবে না!’

‘আসলে আসিফের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে কয়েকদিন আগে। বাগান আছে জানলে অবশ্য অনেক আগেই আসতাম।’ একটু মুচকি হাসলো অরণ্য।

‘হুম, আমি নিজ হাতে বাগানটি করেছি। খুব সুন্দর বাগান – চলো, বাগানটা ঘুরিয়ে নিয়ে আসি।’

‘না আন্টি, থাক। অন্য আরেকদিন। আসলে আমি আসতে চাই নি, আসিফই আমাকে জোড় করে নিয়ে এসেছে।’

‘ভালই তো করেছে। কত করে বলি তোর বন্ধুদের বাসায় নিয়ে আয় – বাগানটা ঘুরিয়ে দেখা – কই, একজনকেও নিয়ে আসে না। কিরে আসিফ, তুই তোর স্কুলের কোনো বন্ধুকে বাসায় আনিস না কেন? স্কুলে কিছু ঘটিয়েছিস নাকি?’

আসিফ মাথা চুলকে বললো, ‘আসলে মা হয়েছে কি ... ইয়ে মানে ...’

‘এত ইয়ে মানে ইয়ে মানে করছিস কেন, কি লুকাচ্ছিস বল।’

আসিফকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য অরণ্য বললো, ‘আসলে আন্টি হয়েছে কি আসিফ ভুলবশত একটা কাজ করে ফেলেছে।’

‘কি কাজ?’ আসিফের মা তো অবাক।

‘ও ক্রিকেট খেলতে গিয়ে স্কুলের জানালার একটা কাঁচ ভেঙে ফেলেছে।’

‘বলো কি, সত্যি? কিরে আসিফ সত্যি?’

আসিফের মুখ কালো হয়ে গেল। কিছু বলতে পারলো না। শুধু মাথা নেড়ে সায় দিল।

আসিফের মা বললো, ‘তোর বাবা আসুক – বলছি দাড়া।’

‘আসলে ওর কোনো দোষ নেই আন্টি। ও তো আর ইচ্ছে করে নি।’

‘আরে না, তুমি ওকে চেনো না। সারাদিন শুধু দুষ্টামি আর দুষ্টামি – বই তো ধরেই না।’

‘আসলে আন্টি, ও বুঝতে পারে নি বলটা ঠেকালেই জানালার দিকে যাবে। তারপরও সবাই তাকেই দোষ দেয়। বেচারা।’

আসিফের মার একটু যেন দয়া হল। ‘তারপর, ওকে কোনো শাস্তি দেয় নি?’

‘হুম, হেডস্যার বলেছে গার্জিয়ান নিয়ে যেতে।’

‘ঠিক আছে, চলিস।’ আসিফের মা রাগত একটা দৃষ্টিতে আসিফের দিকে তাকালো। ‘ছেলে যখন এমন তাহলে তো এসব সহ্য করতেই হবে।’ অরণ্যের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘বাবা তুমি বসো, আমি আসছি।’ বলে ভিতরে চলে গেলেন।

আসিফের মা চলে যাবার পর আসিফ অরণ্যের কাছে এসে বসে, ‘থ্যাংকস দোস্ত, অনেক থ্যাংকস।’

জবাবে অরণ্য শুধু একটু মুছকি হাসে। উদাস মনে কি যেন ভাবছে সে।

*  *  *

শনিবার দিন। স্কুল ছুটির পর প্রতিদিনের মতোই আসিফের জন্য দাড়িয়ে আছে অরণ্য। হঠাৎ অরণ্যের খেয়াল হল আজ তো আসিফের গার্জিয়ান নিয়ে আসার কথা। ঠিক সেই সময় আসিফের মাকে দেখতে পেল অরণ্য। অরণ্য ওনার দিকে এগিয়ে গেল, ‘আন্টি, আসসালামু আলাইকুম।’

‘ওয়ালাইকুম আসসালাম, ভাল আছো?’

‘জ্বি আন্টি ভাল।’

‘আর বলো না, ছেলেটার জন্য স্কুল পর্যন্ত আসতে হল।’

‘না আন্টি, এটা কোনো ব্যাপার নয়। আসিফ তো ভাল ছেলে।’

‘কি জানি বাবা। শুধু তোমার মুখেই ওর প্রশংসা শুনি।’

এমন সময় আসিফ চলে এলো, ‘চলো মা। অরণ্য, তুমি কি থাকবে, না চলে যাবে?’

‘আমি চলে যাই।’

আসিফের মা অরণ্যের চুলে হাত বুলিয়ে দিল ‘ভাল থেকো বাবা।’

আসিফের মা আর আসিফ বাড়ির দিকে চলে গেল আর অরণ্য তার বাড়ির দিকে। হাটতে হাটতে অরণ্য পেছন ফিরে আসিফের মাকে দেখছিল আর উদাসমনে কি ভাবছিল।

*  *  *

তখন রাত ৮টা। অরণ্যের পড়া প্রায় শেষ, শুধু বাংলাটা বাকি। পড়ায় মন বসছে না। উদাস মনে একটা কথা ভাবছে। আসিফের মাকে দেখলে কার কথা যেন মনে পড়ে যায়। চাচার বাসায় ওঠার আগের কিছু স্মৃতি মনে পড়ে যায় তার। চোখ ছলছল হয়ে উঠে। কিন্তু কি একটা ভেবে যেন পড়ায় মনযোগী হয়।

*  *  *

এভাবেই চলতে লাগলো। প্রতিদিন স্কুল শেষে আসিফ আর অরণ্য একসঙ্গে বাড়ি ফিরে। মাঝে মাঝে আসিফদের বাড়িতেও কিছুক্ষণ বেড়ায় অরণ্য। আসিফের মা-ও অরণ্যকে দেখে খুশি হয় ,অরণ্যেরও ওদের বাসায় বেড়াতে ভাল লাগে। বিশেষ করে আসিফদের ফুলের বাগানে বসে বিস্কুট কি কেক, কি এটা সেটা খেতে ভালই লাগে তার।

একদিন অরণ্য গেল আসিফদের বাসায়। অন্যদিনের মতই সেদিনও বাগানে বসে ছিল আসিফ আর অরণ্য।

‘আচ্ছা অরণ্য, একটা ক্রিকেট ব্যাট হলে কেমন হয় বল তো?’ আসিফ হঠাৎই প্রসঙ্গটা তুললো।

‘ভালই হয়। কেন রে?’

‘আছে আছে, পরে বলবো।’

‘পরে কেন, বল না। তুই কি ব্যাট কিনেছিস?’

‘উহুম, বলবো না।’

তখনই আসিফের মা এসে পড়লো ট্রে হাতে। ‘এই নাও অরণ্য, আমার নিজ হাতে বানানো পুডিং। খেয়ে দেখো কেমন হয়েছে।’

‘হুম খাচ্ছি।’ অরণ্য বললো, ‘আচ্ছা আন্টি, আসিফ কি ক্রিকেট ব্যাট কিনেছে?’

আসিফের মা জবাবে একটু হাসলো। ‘আরে না, সামনের শুক্রবারে আসিফের জন্মদিন। এজন্য ও তার বাবাকে বলে রেখেছে যে উপহার হিসেবে তার একটা ক্রিকেট ব্যাট লাগবে।’

‘জন্মদিন? এই আসিফ, তুই বলিস নাই ক্যান?’

আসিফ দুষ্ট হাসি দিয়ে বললো, ‘বললে কি আর মজা থাকতো?!’

আসিফের মা বললো, ‘অরণ্য, বাবা তুমি কিন্তু তোমার বাবা মাকে নিয়ে চলে এসো।’

অরণ্য কথাটা শুনে গম্ভীর হয়ে গেল। আসিফের মা একটু অবাক হল। ‘কি হয়েছে বাবা?’

অরণ্য উঠে দাড়িয়ে বাগানের বেড়ার কাছে এসে দাড়ালো। আসিফের মা উঠে এসে অরণ্যের পাশে এসে দাড়ালো। অরণ্যের কাধে হাত রাখলো। ‘অরণ্য?’

কোনো জবাব নেই। আসিফের মা অরণ্যের মুখের সামনে এসে দাড়ালো। অরণ্যের চোখে পানি। আসিফের মা বসে পড়লো, ‘কি হয়েছে অরণ্য?’

অরণ্য ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিল। সে কোনোরকমে বললো, ‘আমার মা বাবা নেই।’

আসিফের মা আবেগআপ্লুত হয়ে পড়লেন। তিনি অরণ্যকে জড়িয়ে ধরলেন। ‘কে বললো, আমি আছি না?’

আসিফ এতক্ষণ দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছিল সবকিছু। এখন সেও এসে দুজনকে জড়িয়ে ধরলো।

*  *  *

আসিফ অরণ্য এখন বড় হয়ে গেছে। ওরা এখন কলেজে পড়ে। ওদের মধ্যে এত গভীর বন্ধুত্ব যে যে কেউ তাদেরকে দেখলে আপন দুইভাই মনে করে। আসিফের মা-ও অরণ্যকে নিজ ছেলের মত দেখে।

আজ আসিফ-অরণ্যদের এইচ এস সি পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়ার কথা। খবরে শুনতে পেয়েছে দুপুর ১টায় রেজাল্ট দিবে। তারা দুজনে বারোটায়ই গিয়ে হাজির। অন্যদের মত তারাও উদগ্রীব হয়ে আছে রেজাল্ট জানার জন্য।

শেষমেশ সাড়ে বারোটায় রেজাল্ট দিল। আসিফ ভিড় ঠেলে নোটিশবোর্ডের কাছে চলে এলো। অরণ্য সামান্য পেছনে। আসিফ চিৎকার করে বললো, ‘অরণ্য, তুই এ প্লাস পেয়েছিস!’

অরণ্য বললো, ‘তোর কি এসেছে?’

‘দেখছি দাড়া।’ আসিফ খুঁজতে লাগলো – তার নিজের রেজাল্ট কোথায়। একসময় পেয়েও গেল, কিন্তু মুখে কিছু বললো না। মুখ কালো হয়ে গেল তার। চুপচাপ ভিড় থেকে বেরিয়ে এলো।

অরণ্য কিছু বুঝতে পারলো না, ‘কিরে কি হয়েছে?’

‘চল বাসায় চল।’

‘তোর রেজাল্ট কি হল বলবি তো।’

‘জানি না।’ বলে আসিফ হাটা শুরু করলো । অরণ্যও আসতে থাকলো তার পিছন পিছন।

কলেজ থেকে কিছুদূরে একটা চায়ের দোকান আছে। ওখানে তেমন লোকজন নেই। আসিফ সেখানে গিয়ে বসলো। অরণ্যও গিয়ে বসলো তার সাথে।

অরণ্য আগ্রহ ধরে রাখতে পারলো না, ‘আসিফ বল না, তোর রেজাল্ট কি।’ আসিফ চুপ। ‘কিরে বলছিস না কেন?’

আসিফ এবার রেগে মেগে বললো, ‘তোর এত ইচ্ছা থাকলে নিজে গিয়ে দেখে আয়।’

‘আসিফ, এত রাগ করছিস কেন?’

‘তুই কোনো কথা বলিস না তো।’ এখনও রেগে আছে সে।

‘কেন?’

আসিফ রাগান্বিত হয়ে উঠে দাড়ালো, ‘তোর এত মাথা ব্যাথা কেন?’

‘ওমা মাথা ব্যথা হবে না। তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড...’

‘বেস্ট ফ্রেন্ড? ... তুই আজকে থেকে আমার কেউ না।’

‘কিন্তু আমি কি করেছি?’

‘তুই যা, এতিমের বাচ্চা। যা ভাগ।’

অরণ্য এবার রাগ ধরে রাখতে পারলো না।

সে দোকানের দেয়ালে হাত দিয়ে একটা ধাক্কা দিল। কিছু বুঝে উঠার আগেই ঘটনাটা ঘটে গেল...

*  *  *

অরণ্যের চাচার বাসাটা চারতলা। চারতলার উপর এক বিশাল ছাদ। ছাদের কিনারে দশ ইঞ্চি মোটা দেয়াল। দেয়ালের উপর অরণ্য বসে বসে ভাবছে। আশেপাশে কেউ নেই, এমনকি প্রতিবেশীর ছাদেও কেউ নেই। নির্জন এক দুপুর বেলা।

ঐদিনের ঘটনাটা নিয়ে আজকাল খুব ভাবে সে। দুশ্চিন্তায় ঠিকমত খেতে পড়তে পারে না সে।

আসিফের মা-ও অরণ্যের সাথে এখন আর কথা বলে না। বলবে কি করে, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তিনি শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। অরণ্য কত বোঝাতে চেয়েছে, সে জানতো না যে দোকানের উপরে ওঠানো দরজাটা তার একটিমাত্র আঘাতে এভাবে ছুটে যাবে।

কোনো লাভ হয় নি। আসিফের মা একটা শব্দও উচ্চারণ করে নি। অরণ্য এতই নিকৃষ্ট, যে তাকে একটিবারের জন্যও জিজ্ঞেস করতে পারলো না – ‘কেন?’ একটা গালিও কি দিতে পারলো না, যেমনটা আসিফ তাকে দিয়েছিল? এই গম্ভীর নীরবতা অরণ্যের গায়ে এসে তীক্ষ্ণ সুঁইয়ের মত বিঁধে।

‘এতিমের বাচ্চা’ – মনে মনে হাসে সে। ভালই বলেছিল আসিফ। তার একমাত্র দোষ তো এটাই – সে এতিম। সে যদি এতিম না হত তাহলে আসিফের মার সঙ্গে এত আপন হত না, আসিফের সঙ্গে বাকবিতন্ডাও হত না, তার চাচার স্ট্রোকও হত না। কি নিষ্ঠুর এক পিশাচ সে। দু দুটো পরিবার নষ্ট করেছে সে।

আবার একটু আশেপাশে তাকালো সে। আশেপাশের ছাদে কেউ নেই। নির্জন এক দুপুর বেলা। শুধু দূরে একটা ছাদে কয়েকটা কাক এক টুকরো মাংস নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে। আর কোথাও কেউ নেই। দুরু দুরু বুকে নিচে তাকায় সে। বাহ, চাচার বাড়িটা তো অনেক উচু।


[ গল্পটি লেখার জন্য সত্য ঘটনা (কঙ্কাল) দিয়েছিলেন সাদ্দাম হোসেন অপু, সেটি থেকেই এত বড় গল্পের (পেশীবহুল মানবদেহের) উৎপত্তি। তবে গল্পটি সেই ঘটনাটি থেকে অনেকাংশে ভিন্ন। ]
(ফটোক্রেডিট: visualphotos.com)
Continue reading ...

Saturday, January 12, 2013

উবুন্টতে সিটিসেল ZTE AC682 মোডেম দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের উপায়

0 comments

ইন্টারনেট এবং আমার জুম


ইন্টারনেট থাকলে যেকোন অপারেটিং সিস্টেমেই যেকোন কিছু করা সম্ভব। ফেসবুকটা চেক করাই হোক, সার্চ করাই হোক, বা ইমেইল করাই হোক -- সবই তখন সম্ভব হয়। ইন্টারনেট না থাকলে মনে হয় যেন বাইরের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি। তাই ইন্টারনেট কানেক্ট করাটা অনেক জরুরী। আর উবুন্টুতে সফটওয়্যার ইন্সটল করার জন্য ইন্টারনেট বলতে গেলে একরকম must. (যদিও অফলাইন পিসিতেও সফটওয়্যার ইন্সটল করা সম্ভব। তবে ঝক্কি ঝামেলা আছে একটু!)



Citycell Zoom অনেকদিন চালাচ্ছি। আগে ব্যবহার করতাম ডায়ালআপ। অগ্নি, বোল, ওয়েস্টার্ন সবই ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ডায়ালআপের বেশিরভাগ কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জুম নিয়েছিলাম। Zoom-এর ১ জিবির পোস্টেইড লাইন ব্যবহার করি। আমার অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল উবুন্টুতে নেট ইউজ করবো। মোডেমের ভিতরে ইন্টারনাল স্টোরেজে উবুন্টুতে নেট কানেক্ট করার একটি পদ্ধতি ছিল। কিন্তু ১১.০৪ এর পরের ভার্সনগুলোতে কার্নেলে একটা পরিবর্তনের কারণে সেই পদ্ধতিটা কাজ করছিল না। প্রায় ১ বছর ঘাটাঘাটির পর ZTE AC682 মোডেম দিয়ে কানেক্ট করতে পেরেছি। তাই পদ্ধতিটি শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারছিনা।

কার্নেলে পরিবর্তন, নাকি usb_modeswitch?


উবুন্টুর Launchpad এর বাগ সাইটে অনেক শুনেছি কার্নেলে পরিবর্তন আসার জন্য নতুন উবুন্টুর নতুন ভার্সনগুলোতে অনেক USB মোডেম কাজ করছে না। USB Modem বা USB Dongle নিয়েই যত সমস্যা। তবে ওয়াই ফাই/নেটওয়ার্ক কেবল দিয়ে ঠিকই কানেক্ট করা যাচ্ছে। তবে খুঁজতে খুঁজতে সমাধান ঠিকই পেলাম। সমস্যাটি আসলে হয়েছে USB Modeswitch নামে একটি সফটওয়্যারের কারণে। USB Dongleগুলোতে সাধারণত দুটো মুড থাকে। একটি স্টোরেজ মোড,অন্যটি মোডেম মোড। স্টোরেজ মোডটিতে মোডেম ইন্সটলের জন্য সফটওয়্যারটি থাকে আর সেটা Eject করলে মোডেমটি ... উমম ... মোডেমে পরিণত হয় এবং তখন কানেক্ট করা যায়।

USB Modeswitch সফটওয়্যারটিকে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে করে স্টোরেজ মোডটিকে অটোমেটিক Eject করে দেয়া হয় এবং সেটি মোডেম মুডে চলে যায়। (এমনিতেও স্টোরেজ মোডে উবুন্টর জন্য উপকারি কোনকিছু সাধারণত থাকে না। ওতে উইন্ডোজের সফটওয়্যারটি শুধু শোভা পায়।)

USB Modeswitch একটি ভাল উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল, কিন্তু এটি ঠিকমত কনফিগার করা না থাকার কারণে এটি উল্টো জটিলতা সৃষ্টি করে। আমরা তাই এটিকে ডিস্যাবল করে কাজ করবো।

কার্নেলেও অবশ্য একটি পরিবর্তন এসেছে। এজন্য মোডেমগুলো আর নিজে নিজে মাউন্ট হয় না। তাই মোডেমকে আবার মাউন্ট করতে হয় (udisks --mount কমান্ড দিয়ে), তারপর ইজেক্ট করা।

স্টেপ-১: USB Modeswitch ডিস্যাবল করা


Ctrl+Alt+T চেপে একটি টার্মিনাল ওপেন করুন। এবং তাতে নিম্নের কমান্ডটি লিখে এন্টার চাপুন:

sudo chmod -x /usr/sbin/usb_modeswitch


এই কমান্ডটির মাধ্যমে আমরা usb_modeswitch Fileটিকে এক্সিটিউটেবল থেকে নরমাল ফাইলে রূপান্তর করলাম। এটি একবার করলেই চলবে।

(যদি কখনও আবার এনাবল করতে  হয় তাহলে নিচের কমান্ডটি ব্যবহার করুন:
sudo chmod +x /usr/sbin/usb_modeswitch
)

স্টেপ-২: ডায়াল/Connect করার প্রস্তুতি


এই স্টেপটি অনেকটা মোডেমের ড্রাইভার ইন্সটল করার মতই। মোডেমটি USB পোর্টে ইনসার্ট করুন এবং নিচের কমান্ড রান করুন:
udisks --mount /dev/sr1

(যদি আপনার সিডিরম না থাকে, যেমন:নোটবুকে, তাহলে sr1 এর জায়গায় sr0 ব্যবহার করুন।
মাঝে মাঝে অবশ্য সিডিরম না থাকলেও sr1 এ লোড হয়। সবচেয়ে ভাল হয় যদি dmesg|tail|grep sr কমান্ডটি রান করে দেখেন যে sr কততে সেটি ডিটেক্ট করেছে।)

এতে করে স্টোরেজ মোডটি লোড হবে। এখন আপনি চাইলে আমার পোস্ট বাদ দিয়ে আপনার মোডেমের ইন্সট্রাকশন অনুসরণ করতে পারেন।

এখন Nautilus বা ফাইল ম্যানেজার ওপেন করুন দেখবেন সেখানে Disc বা Zoom নামে একটি এন্ট্রি আছে। সেটিতে ক্লিক করলে আপনি লিনাক্সের জন্য একটি tar.gz ফাইল পাবেন। সেটি ওপেন করুন এবং এর ভিতরের release ফোল্ডারটি ডেস্কটপে Extract করুন। এখন ডেস্কটপে সদ্য এক্সট্রাক্ট হওয়া release ফোল্ডারটিতে যান। তারপর modem_application ফোল্ডারে যান। এখানের modem_on ফোল্ডারটিতে রাইট ক্লিক করে Copy To -> Home ক্লিক করুন। এখন Home ফোল্ডারে যান, তারপর modem_on ফোল্ডারে যান। modemon ফাইলটিকে রাইট ক্লিক করে Properties -> Permissions -> Execute চেকবক্সে চেক দিন।

এখন আবার Desktop/release ফোল্ডারে যান। Dialer script 3D ফোল্ডারে যান এবং ppp ফোল্ডারটি কপি করুন। এখন টার্মিনালে রান করুন:
sudo nautilus
এখন File system এ ক্লিক করুন। etc ফোল্ডারে যান। এবং খালি জায়গায় রাইট ক্লিক করে Paste করুন।

এখন টার্মিনালে রান করুন:
eject /dev/sr1

এখন মোডেমটি খুলে ফেলুন।


স্টেপ-৩: মোডেম কানেক্ট করা


১. মোডেম USB পোর্টে লাগান
২. udisks --mount /dev/sr1 (সিডিরম না থাকলে sr0) - এতে স্টোরেজ মোড ব্যবহারযোগ্য / মাউন্ট হবে
৩. eject /dev/sr1 (সিডিরম না থাকলে sr0) - এতে মোডেম মোড আসবে
৪. sudo -s
৫. modprobe usbserial vendor=0x19d2 product=0xffdd
৬. cd modem_on
৭. ./modemon
৮. pppd call cdmadialer &

টার্মিনাল উইন্ডোটি খোলা রেখে দিন। ফায়ারফক্স খুলে চেক করুন নেটে কানেক্ট করতে পারেন কিনা। সিটিসেলের নেটওয়ার্কের চাপ বেশি থাকলে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

স্টেপ-৪: ডিসকানেক্ট করার উপায়:

১. killall pppd
২. ./modemon

যদি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও কানেক্ট না হয় তাহলে ডিসকানেক্ট করে আবার কানেক্ট করুন। অপেক্ষা করুন। এভাবে একসময় কানেক্ট হবে।

উবুন্টুতে নেট কানেক্ট করতে পারলে সুবিধা হল ভাইরাসমুক্ত পরিবেশে ব্রাউজ করা যায়। আর তাছাড়া সফটওয়্যার ইন্সটল করার জন্য ইন্টারনেট কানেকশন অনেক জরুরী। আর নেট থাকলে আপনি বিভিন্ন অনলাইন সফটওয়্যারও ব্যবহার করতে পারবেন যা আপনাকে ক্রস-প্লাটফর্ম সফটওয়্যারের পূর্ণ আনন্দ দেবে। যেমন: http://html5games.com/ ওয়েবসাইটটিতে আপনি কোন সফটওয়্যার ডাউনলোড ছাড়াই মজার গেমস খেলতে পারবেন। http://mudcu.be/sketchpad/ ওয়েবসাইটে আপনি ফটোশপের মতই আঁকাআঁকি করতে পারবেন। Flash Player ইন্সটল করার পর আরো বেশি ওয়েবসাইট থেকে গেমস খেলতে পারবেন। এবং আরো উন্নত একটি আঁকার সফটওয়্যার ব্রাউজারে ব্যবহার করতে পারবেন। খুব সহজে ফ্ল্যাশ প্লেয়ার ইন্সটল করার পদ্ধতি দেখুন এখানে।

পদ্ধতিটি Ubuntu/Lubuntu/Kubuntu/Xubuntu 11.10, 12.04, 12.10, 13.04 এ কাজ করবে বলে আশা রাখি। একটু পরিবর্তন করে নিলে আগের ভার্সনগুলোতে এমনকি অন্য লিনাক্স ভেরিয়েন্টগুলোতেও কাজে লাগতে পারে। যেমন আমি এই ইন্সট্রাকশন অনুসরণ করে Knoppix, Puppy Linux, Slitaz, Linux Mint-এ সফলভাবে ইন্টারনেট চালিয়েছি।

তবে আপনার এখন উচিৎ হবে রিপোসিটরি আপডেট করা যাতে আপনি সহজেই সফটওয়্যার ইন্সটল করতে পারেন। এজন্য এখানে দেখুন।

Continue reading ...

অবশেষে উবুন্টুতে ফ্ল্যাশ প্লাগইন ইন্সটল হল!

0 comments

ফ্ল্যাশ প্লাগইনের প্রয়োজনীয়তা:

ফ্ল্যাশ প্লাগইন দিয়ে একসময় শুধুই বিজ্ঞাপন দেখা যেত। কিন্তু এখন এটি দিয়ে বিভিন্ন গেম থেকে শুরু করে ফটোশপের মত সফটওয়্যারও চালানো যায়, কোনো ডাউনলোড ছাড়াই। আর এর সব থেকে সুবিধা হল এটি ব্রাউজার ভিত্তিক একটি প্রযুক্তি। একারণে এটি ক্রস-প্লাটফর্ম। উইন্ডোজ, লিনাক্স ও ম্যাকে এটি একইরকম কাজ করে। এতদিনে নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন ফেসবুকে একাধিক ছবি একসাথে আপলোড করতে গেলে ফ্ল্যাশ প্লেয়ার লাগে। এছাড়াও বিভিন্ন ওয়েবসাইটের বিভিন্ন মজার এ্যানিমেশন, গেমস ইত্যাদি উপভোগ করা যায়। সারাদিন বসে বসে ফ্রি রেডিও শোনা যায় (যেমন: http://www.lemon24.com , http://www.ronginradio.com ইত্যাদি)।


ফ্ল্যাশ প্লাগইন ইন্সটলের ব্যর্থ প্রচেষ্টা:

How to install flash player in ubuntu 12.04 লিখে সার্চ করলে একটাই সমাধান দেয়া থাকে  sudo apt-get install flashplugin-installer। কিন্তু আমি পন্ডিতী করে ফায়ারফক্সের একটি এ্যাড-অনের (Flash-Aid) মাধ্যমে ফ্ল্যাশ প্লেয়ার ইন্সটলের চেষ্টা করলাম। এতে করে ১৮ মেগাবাইট ডাউনলোড হল,কিন্তু কোনো লাভ হল না। উল্টো কমান্ড লিখে পুনরায় ইন্সটল করতে গেলে একটা এরর ম্যাসেজ দেখাতে লাগলো। flashplugin-installer ইন্সটল হল না:

The following packages have unmet dependencies:
 flashplugin-installer : Depends: libnspr4-0d but it is not going to be installed
E: Unable to correct problems, you have held broken packages.

সমাধান:

পরে সার্চ করে এই সমাধান পেলাম:

নিচের কমান্ডটি টাইপ করে এনটার চাপলাম। তারপর y চাপলাম। ব্যাস, ৬ মেগাবাইট ডাউনলোড হল, ফায়ারফক্স রিস্টার্ট দিতেই ফ্ল্যাশ প্লাগইন কাজ করা শুরু!
sudo apt-get -y install adobe-flashplugin


উপরের কমান্ডে কাজ না হলে এটা দিয়ে ট্রাই করুন:
sudo apt-get -y install flashplugin-nonfree


ইন্সটল হয়েছে তো?


ফ্ল্যাশ প্লেয়ার ঠিকমত ইন্সটল হয়েছে কিনা টেস্ট করার জন্য এই পেজে যেতে হবে:
http://www.adobe.com/software/flash/about/
এখানে পেজের ডানদিকে লেখা থাকবে You have version (অমুক) installed.


ম্যানুয়াল ইন্সটল

যদি এরপরও ইন্সটল না হয় তাহলে নিজে নিজে ম্যানুয়ালি ইন্সটল করতে পারেন। এটাও খুব কঠিন নয়।

১. http://www.adobe.com/go/getflash এই ঠিকানায় যান। ওখানে Select a version for download... ড্রপডাউন লিস্ট থেকে tar.gz অপশনটি সিলেক্ট করে ডাউনলোড করুন।

২. ডাউনলোডকৃত ফাইলটি এক্সট্রাক্ট করুন। এখন usr ফোল্ডারের ভিতরের ফাইলগুলো কপি করুন, Alt+F2 চাপুন এবং রান করুন:
gksudo nautilus
(Lubuntu ইউজাররা nautilus এর স্খানে pcmanfm লিখবেন।)
এতে করে আপনি রুট এক্সেস পাবেন এবং সিস্টেম ফোল্ডারগুলোতে ফাইল কপি করতে পারবেন। এখন /usr ফোল্ডারে গিয়ে Paste করুন (এবং ম্যাসেজ আসলে রিপ্লেস করুন)। ফাইল ম্যানেজারটি ক্লোজ করবেন না, আরো একটু কাজ বাকি আছে।

৩. এক্সট্রাক্ট করা ফোল্ডারে দেখুন libflashplayer.so নামে একটি ফাইল আছে। সেটি কপি করুন। ফাইলটি পেস্ট করতে হবে ব্রাউজারের প্লাগইন ডিরেক্টরিতে--

যারা Mozilla Firefox ব্যবহার করছেন তাদের প্লাগইন ডিরেক্টরি হবে:
~/.mozilla/plugins/
(Home folder এ .mozilla তার ভিতরে plugins folder। এটি তৈরি করা না থাকলে mkdir ~/.mozilla/plugins/ কমান্ড দিয়ে তৈরি করুন। .mozilla ফোল্ডারটি হিডেন করা থাকবে, তাই Ctrl+H চেপে হিডেন ফাইল শো করে নিন।)

যারা Chromium (গুগল ক্রোম নয়) ব্যবহার করছেন তাদের প্লাগইন ডিরেক্টরি হবে:
/usr/lib/chromium-browser/plugins

যারা Google Chrome ব্যবহার করছেন তাদের প্লাগইন ডিরেকটরি হবে:
/opt/google/chrome/
(গুগল ক্রোমে ডিফল্ট হিসেবে ফ্ল্যাশ প্লেয়ার ইন্সটল করা থাকে, তবে তা ডিস্যাবল করা করা থাকে। শুধু এনাবল করলেই চলে। বিস্তারিত দেখুন)

যারা SRWare Iron ব্যবহার করছেন তাদের প্লাগইন ডিরেক্টরি হবে:
/usr/share/iron/plugins
(যদি ডিরেক্টরিটি তৈরি  করা না থাকে তাহলে তৈরি করে নিন।)

এখন রুট এক্সেসওয়ালা ফাইল ম্যানেজার দিয়ে ফাইলটি প্লাগইন ডিরেক্টরিতে কপি করুন।

বিস্তারিত দেখুন এখানে:
http://www.ubunturoot.com/2011/07/how-to-install-flash-player-11-beta-for.html

একটি দুঃসংবাদ

এডবি কোম্পানি সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা লিনাক্সের জন্য আর ফ্ল্যাশ প্লেয়ার তৈরি করবে না। অর্থাৎ Flash Player 11.2.202.258 ভার্সনই তাদের শেষ আনুষ্ঠানিক রিলিজ। যাই হোক, এ ভার্সনটিতে অবশ্য লেটেস্ট প্রায় সব ফিচারই রয়েছে।

সহযোগিতা পেয়েছি এখান থেকে:
https://answers.launchpad.net/ubuntu/+source/flashplugin-nonfree/+question/165429

Continue reading ...

উবুন্টুতে ইউনিজয় দিয়ে টাইপ করা

0 comments

বাংলায় লুকিয়ে আছে স্বাধীনতা...

বাংলা ভাষা আমাদের আপন ভাষা। কোনকিছু লিখতে গেলে যেকোন ভাষায়ই লেখা যায়, কিন্তু বাংলায় লিখতে গেলে আমরা হৃদয় থেকে লিখতে পারি। আমাদের মনের গভীরের কথাগুলো কেমন অকপটে বলতে পারি।

কম্পিউটারে বাংলা লেখার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে বিজয়, আর ইউনিকোডে লিখতে গেলে ইউনিজয়। আজকে আমরা দেখবো উবুন্টুতে কিভাবে ইউনিজয় কিবোর্ড লেয়াউটে লেখা যায়।
Unijoy layout switching in Ubuntu 12.04

স্টেপ-১:আইবাস এম১৯এন ইন্সটল করা


নামটা শুনে ঘাবড়ে যাবেন না! নামটা যতই জটিল হোক, ইন্সটল করা শুধুই একটি লাইনের ব্যাপার। Ctrl+Alt+T চেপে একটি টার্মিনাল ওপেন করুন। এখন নিচের লাইনটি কপি করে টার্মিনালে পেস্ট করুন এবং এন্টার চাপুন:
sudo apt-get install ibus-m17n m17n-db m17n-contrib ibus-gtk

৩ মেগাবাইটের মত ডাউনলোড হবার কথা।

[[ ===
যারা Lubuntu (Ubuntu নয়) ব্যবহার করছেন তারা নিচের লাইনটি রান করুন। উবুন্টু ব্যবহার করলে এটি লাগবে না।
sudo apt-get install python-appindicator

লুবুন্টুতে python-appindicator ডিফল্ট হিসেবে ইন্সটল করা থাকে না। আর এটি না থাকলে প্যানেলে কোন ভাষাটি ব্যবহৃত হচ্ছে তা দেখাতে পারে না। তাই এটি ইন্সটল করতে হয় এবং ইন্সটলের পর রিস্টার্ট করতে হয় (লগআউট করে আবার লগইন করলেও কাজ হতেও পারে, নাও হতে পারে)।

আপডেট: লুবুন্টু ১২.১০ এ আইবাস ঠিকমত কাজ করাতে চাইলে এই কমান্ডটি আপনার কাজে লাগতে পারে:
sudo apt-get install libappindicator1 python-appindicator python-gconf python-glade2 python-pexpect ibus-gtk ibus-gtk3

Lubuntu 12.10 এ কিছু ডিপেন্ডেন্সি ডিফল্ট হিসেবে দেয়া থাকে না। তাই এগুলো আলাদাভাবে ইন্সটল করতে হয়।
=== ]]

স্টেপ-২: কনফিগার করা


IBus preference খুলুন। Input Method ট্যাবে যান। Customize active input methods চেকবক্সে চেক দিন। এখন Select an input method ড্রপডাউন বক্সে ক্লিক করুন, Bengali, তারপর unijoy (m17n) সিলেক্ট করুন। তারপর Add বাটনে ক্লিক করুন। এতে লিস্টে ইউনিজয় লেয়াউটটি যোগ হবে।

Close এ ক্লিক করুন।

স্টেপ-৩: টাইপ করা


এখন আপনার কাজ সহজ। Gedit বা Leafpad বা Nano ওপেন করুন। Ctrl+Space চাপুন, বাংলা টাইপ করুন। আবার Ctrl+Space চাপুন, ইংরেজি টাইপ হবে। এভাবে আপনি যেকোন এ্যাপ্লিকেশনে বাংলা টাইপ করতে পারবেন!

যদি কোন সফটওয়্যারে লিখতে না পারেন, তাহলে রিস্টার্ট করুন। আশা করি টাইপ করতে পারবেন। (আমি প্রথমবারে লিফপ্যাডে টাইপ করতে পারলেও ফায়ারফক্সে টাইপ করতে পারি নি। কিন্তু রিস্টার্ট করার পর ঠিকই পেরেছি।)

Ubuntu 12.10 এ কাজ না হলে নিম্নের কমান্ডটি রান করে রিস্টার্ট করে দেখতে পারেন:
sudo apt-get install ibus-qt4

রিস্টার্টের পর যদি ibus অটোমেটিক রান না হয় তাহলে বাংলা লেখার আগে ibus ম্যানুয়ালি রান করুন। আর যদি সেটা না করতে চান তাহলে স্টার্টআপ প্রোগ্রামে নিম্নের কমান্ডটি যোগ করুন:
ibus-daemon -xdr

এটি করতে চাইলে উবুন্টুতে ড্যাশ খুলে Startup applications লিখে একটি সফটওয়্যার পাবেন যেটি দিয়ে কমান্ডটি যোগ করতে পারবেন। (বিস্তারিত এখানে) লুবুন্টুতে /etc/xdg/lxsession/LXDE/autostart ফাইলটি এডিট করে উপরোক্ত এন্ট্রিটি যোগ করুন।লাইনটির আগে একটি @ চিহ্ন যুক্ত করুন। (বিস্তারিত এখানে)

আপডেট:
১. উবুন্টু, লুবুন্টু ১২.১০ সাপোর্ট

সহযোগিতা:
http://po-ru.com/diary/lubuntu-1210-problems-and-solutions
Continue reading ...

Friday, January 11, 2013

উবুন্টুতে সফটওয়্যার ইন্সটল করা (+রেপো আপডেট)

0 comments

রিপোসিটরি কি?


উবুন্টুর সফটওয়্যার রিপোসিটরিতে বিভিন্ন সফটওয়্যার রয়েছে। বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার, এমনকি রোবট নিয়ন্ত্রণের সফটওয়্যারও আছে! আছে রেসিপি লিখে রাখার সফটওয়্যারও। তাছাড়া আছে মজার মজার গেমস। তাহলে কি এই রিপোসিটরি? এটি হচ্ছে উবুন্টুতে ব্যবহার উপযোগী সকল সফটওয়্যারের একটি সংগ্রহ।

এই রিপোসিটরি ব্যবহারের জন্য আগে আমাদেরকে বলে দিতে হবে আমরা কোন রিপোসিটরি ব্যবহার করতে চাই এবং কোন দেশ থেকে (মিরর)।

ভূমিকা


আমি এই টিউটটি উবুন্টু ১২.০৪ (প্রিসাইস) -এর জন্য লিখেছি। অন্য ভার্সনে কোডগুলো পরিবর্তিত হবে। উবুন্টুর প্রতিটি ভার্সনের একটি নিকনেম/কোডনেম থাকে। যেমন: 12.04 = Precise Pangolin, 12.10 = Quantal Quetzal, 13.04 = Raring Ringtail। নিচের কোডে ১২.০৪ এর জন্য precise লেখা আছে। কোডনেমের প্রথম অংশটি ব্যবহার করে কোডটিকে আপডেট করা যেতে পারে (তবে নিজ দায়িত্বে!)। http://en.wikipedia.org/wiki/Ubuntu_%28operating_system%29#Releases এই ঠিকানায় গেলে সবগুলো ভার্সনের কোডনেম পাওয়া যাবে।

স্টেপ-১: উৎস! উৎস!! উৎস!!!


উৎস বা Source. আমরা সফটওয়্যারগুলোর উৎস দেখিয়ে দেব।

Ctrl+Alt+T চেপে টার্মিনাল ওপেন করুন। এবং নিচের কমান্ড লিখে এন্টার চাপুন:
sudo gedit /etc/apt/sources.list

deb cdrom ... এরকম একটি লাইন আছে। সেই লাইনের নিচের সব লেখা মুছে দিন।

এখন একটি টেক্সট এডিটর ওপেন হবে। এখন এতে কপি করে পেস্ট করুন:

###### Ubuntu Main Repos
deb http://ap-northeast-1.ec2.archive.ubuntu.com.s3.amazonaws.com/ubuntu/ precise main restricted universe multiverse
deb-src http://ap-northeast-1.ec2.archive.ubuntu.com.s3.amazonaws.com/ubuntu/ precise main restricted universe multiverse

###### Ubuntu Partner Repo
deb http://archive.canonical.com/ubuntu precise partner
deb-src http://archive.canonical.com/ubuntu precise partner

###### Ubuntu Extras Repo
deb http://extras.ubuntu.com/ubuntu precise main
deb-src http://extras.ubuntu.com/ubuntu precise main

এরপর ক্লোজ করুন সেভ করুন।

[ এই স্টেপটি শুধু একবারই অনুসরণ করতে হবে। ]

স্টেপ-২: রিপোসিটরি আপডেট করা


এখন আপনার উবুন্টু সকল সফটওয়্যারের বেসিক তথ্য ডাউনলোড করার জন্য প্রস্তুত!

এখন নিচের কমান্ড লিখে এন্টার চাপুন:
sudo apt-get update

এতে কিছু সময় লাগবে। অপেক্ষা করুন। একসময় কাজ শেষ হবে।

স্টেপ-৩: সফটওয়্যার ইন্সটল করা


উবুন্টুর সফটওয়্যার সেন্টার থেকে সফটওয়্যার হয়তো ইন্সটল করা যায়। কিন্তু কেন যেন কিছু কিছু সফটওয়্যারের প্রতি সফটওয়্যার সেন্টারের বিদ্বেষ আছে। সেগুলো ইন্সটল করা যায় না। তাই কমান্ড লাইনে কাজ করেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তবে উবুন্টু সফটওয়্যার সেন্টার থেকে কিভাবে ডাউনলোড করতে হবে তা একটু পরেই বর্ণনা করছি।

যেকোন সফটওয়্যার ইন্সটলের জন্য কমান্ড একই
sudo apt-get install <সফটওয়্যারের নাম>

যেমন: ভিএলসি মিডিয়া প্লেয়ার ইন্সটল করার জন্য: sudo apt-get install vlc

যেকোন সফটওয়্যারের নাম জানার জন্য সফটওয়্যার সেন্টারের সাহায্য নিতে পারেন। যেমন VLC লিখে সার্চ দিলে VLCর একটি পেজ পাবেন। এটির বিবরণের নিচে লেখা থাকবে vlc 2.xxxx এই ভার্সনের আগের লেখাটিই কমান্ডে লিখে দিতে হবে।

উবুন্টু সফটওয়্যার সেন্টার থেকে ইন্সটল করার পদ্ধতি

Ubuntu Software Center দিয়ে গ্রাফিকাল ইন্টারফেসে খুব আয়েশ করে সফটওয়্যার ডাউনলোড করা যায়।

উবুন্টু সফটওয়্যার সেন্টার খোলার জন্য বামদিকের ড্যাশ থেকে বাজারের ব্যাগ চিহ্নিত আইকনটিতে ক্লিক করুন।

এখন চাইলে আপনি ক্যাটাগরি দিয়ে ব্রাউজ করতে পারেন অথবা ম্যাগনিফাইং গ্লাস চিহ্নিত টেক্সটবক্সে টাইপ করে সার্চ করতে পারেন। আপনার কাঙ্ক্ষিত সফটওয়্যারটি সিলেক্ট করলে দেখবেন Install বাটনটি ডিস্যাবল হয়ে আছে। তবে ঘাবড়াবার কিছু নেই...

আপনি সোজা চলে যান File মেনুতে, তারপর ক্লিক করুন Install মেনু আইটেমে। ব্যাস! ইন্সটল হয়ে যাবে আশা করি।


এক্সট্রা টিপস!!!


আপনি যখনই sudo apt-get install xx লিখে কোনকিছু ইন্সটল করেন তখন সফটওয়্যার এবং তার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ফাইল একটি ডিরেক্টরিতে জমা হয়। আপনি যদি কোন সফটওয়্যার ইন্সটল করার পর /var/cache/apt/archives ডিরেক্টরিতে গেলে সেই ফাইলগুলো পাবেন।

এখন ধরুন নেটের বিল দিতে দিতে আপনার পকেট ফাঁকা। এখন আপনি চান যে ভিএলসি মিডিয়া প্লেয়ার ইন্সটল করে সেটার ব্যাকআপ রেখে দেবেন। যাতে করে দরকার মত নতুন ইন্সটলেশনে বা কখনও আনইন্সটল করলে আবার তা ইন্সটল করা যায় অফলাইনে থেকেই, ইন্টারনেট ছাড়াই। এখন কিভাবে কাজটা করবেন সেটা দেখে নিন:

১. ইন্সটল করা:

আপনি যদি আগে কোন সফটওয়্যার ইন্সটল করে থাকেন তাহলে ভিএলসি ইন্সটল করলে তার সাথে আগের সফটওয়্যারের ফাইলগুলো মিশে যাবে। তাই আগের ফাইলগুলো/ ক্যাশমেমরি পরিষ্কার করতে হবে। এজন্য:
sudo apt-get clean

তারপর ভিএলসি ইন্সটল করার জন্য:
sudo apt-get install vlc

২. ব্যাকআপ করা:

এখন /var/cache/apt/archives ডিরেক্টরিতে গিয়ে partial ও lock নামে দুটি আইটেম ছাড়া বাকি সব ফাইল কপি করে অন্য কোন পছন্দমত ফোল্ডারে রেখে দিন।

তারপর ক্যাশ পরিষ্কার করে দিতে পারেন। এতে করে আপনার স্পেস খালি থাকবে। এজন্য: sudo apt-get clean

৩. ব্যাকআপ থেকে ইন্সটল করা:

ধরে নিচ্ছি আপনার কম্পিউটারে ভিএলসি ইন্সটল করা নেই। অথবা আগে একসময় ইন্সটল করা থাকলেও আপনি আনইন্সটল করে ফেলেছেন। (আনইন্সটল করতে: sudo apt-get autoremove vlc রান করুন।) এখন ভিএলসি ছাড়া আপনার ভাল লাগে না, আপনি আপনার অনেক ভিডিও ফাইল দেখতে পারছেন না। চিন্তা নেই...

একটি টার্মিনাল উইন্ডো ওপেন করুন (Ctrl+Alt+T)। টাইপ করুন cd তারপর একটি স্পেস দিন। এখন যেখানে আপনি ভিএলসিকে ব্যাকআপ করেছিলেন সেই ফোল্ডারের ওখানে যান। ফোল্ডারটিকে মাউস দিয়ে টেনে টার্মিনালের উপর ছেড়ে দিন। এন্টার চাপুন। এখন টার্মিনাল ভিএলসির ব্যাকআপ ফোল্ডারে সকল কাজ করবে (ওয়ার্কিং ডিরেক্টরি হয়ে যাবে)।

এখন আমরা ফোল্ডারের ভিতরে থাকা .deb ফাইলগুলো (অর্থাৎ ডেবিয়ান প্যাকেজগুলো) ইন্সটল করবো। এজন্য:
sudo dpkg -i *.deb

এতে করে ওয়ার্কিং ডিরেক্টরির ভিতরে থাকা সকল .deb ফাইলগুলো ইন্সটল হয়ে যাবে।

এখন মনের আনন্দে সফটওয়্যার ইন্সটল করুন এবং ব্যাকআপ করুন উইন্ডোজের মতই।
Continue reading ...

Monday, January 7, 2013

পেনড্রাইভেই সেটাপ করুন উবুন্টু

3 comments

উবুন্টু কেন?


উবুন্টু হচ্ছে লিনাক্সের সবচেয়ে সহজ ভেরিয়েন্ট। এটি উইন্ডোজের মতই একটি অপারেটিং সিস্টেম। কয়েকদিন ধরে আমার HP-Mini নোটবুকে Ubuntu 12.04.1 LTS চালাচ্ছি। এজন্য অবশ্য আমি আমার হার্ডডিস্কে একটা আচড়ও পড়তে দেই নি। আমার পেনড্রাইভেই উবুন্টু সেটাপ করে নিয়েছি। যা ইন্সটল করার বা আনইন্সটল করার করি। সেটি পেনড্রাইভে সেভ হয়ে থাকে। তারপর সেই পেনড্রাইভটি যে কম্পিউটারে প্রবেশ করাই, তাতেই আমার সফটওয়্যারসহ উবুন্টু চলে আসে। এই আইডিয়াটি দারুণ লাগে আমার কাছে। যখন বিদ্যুত থাকে তখন হয়ত ডেস্কটপে বসে কাজ করছি, আবার বিদ্যুত চলে গেলে নোটবুকে ঔ একই সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারছি। এতে করে একই পরিবেশে বিভিন্ন মেশিনে কাজ করা যাচ্ছে। এমনকি যদি এমনও হয় যে আমার হার্ডডিস্ক ক্র্যাশ করেছে, তখনও এই পেনড্রাইভ দিয়ে কম্পিউটার চালাতে পারবো। এককথায় অসাধারণ!





সফটওয়্যার সম্ভার


উবুন্টুতে উইন্ডোজের সফটওয়্যার চলে না। তবে উবুন্টুতে উইন্ডোজের সফটওয়্যারগুলোর বিকল্প রয়েছে। এবং মজার ব্যাপার হল উবুন্টুর সেই সফটওয়্যারগুলো পেতে এক পয়সাও খরচ করতে হয় না - সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। যেমন: উবুন্টুতে এমএস অফিস আর ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্টের মতই রয়েছে Libre Office আর Writer, Calc, Impress । এগুলো উবুন্টতে নিজে নিজেই ইন্সটল হয়, তাই একগাদা সিডি নিয়ে দৌড়াদৌড়ির প্রয়োজন নেই। তাই আপনি যদি পেনড্রাইভে উবুন্টু সেটাপ করে রাখেন তাহলে সুবিধা হল আপনার যদি কোন ডকুমেন্ট দেখাতে হয় এবং সেখানে যদি উইন্ডোজ নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে আপনি উবুন্টুতেই ডকুমেন্টটি দেখাতে পারবেন। এটি তো কেবল একটি সুবিধা। এতে নিজস্ব ZIP/কমপ্রেশন সফটওয়্যার, অডিও/ভিডিও প্লেয়ার, সিডি বার্নার, পিডিএফ ভিউয়ার, ফায়ারফক্স, গেমস, ডিস্ক ইউটিলিটি, ইমেজ ভিউয়ার, পার্টিশন এডিটর, নেটওয়ার্ক টুল, ফটো ম্যানেজার ইত্যাদি সফটওয়্যার ডিফল্ট হিসেবে ইন্সটল হয়। উবুন্টু থেকে আরো অনেক সুবিধাই পাবেন যা আপনাকে এবং আপনার বন্ধু বান্ধবকে তাক লাগিয়ে দিতে বাধ্য।

আচ্ছা, এক মিনিট! আমি একটু আগে যা বললাম তা কিন্তু পুরোপুরি ঠিক নয়। উবুন্টুতে উইন্ডোজের সফটওয়্যার চালানো যায়। সেজন্য Wine নামে একটি সফটওয়্যার ইন্সটল করতে হয়। ওয়াইন দিয়ে উবুন্টতে এমএস অফিসও ইন্সটল করা সম্ভব। এমনকি বিজয়ও ইন্সটল করা সম্ভব। তবে সব সফটওয়্যারই যে ১০০% উইন্ডোজের মতই কাজ করবে এমন কোন গ্যারান্টি নেই।

ভাইরাসবিহীন জীবন

উবুন্টু চালালে ভাইরাস নিয়ে কোন টেনশন করতে হবে না। যত উদ্ভট ভাইরাস ওয়ালা পেনড্রাইভই হোক, উবুন্টু থেকে ওপেন করলে একদম নিরাপদ।

পেনড্রাইভে উবুন্টু সেটাপ করলে আরো একটি সুবিধা আছে, সেটি হল এটি দিয়ে আপনি উবুন্টুর কাজ শিখতে পারবেন। পছন্দ হলো না, তো পেনড্রাইভ থেকে একটা ফাইল মুছে দিয়ে সেই ফাইলটি তৈরি করে নিয়ে আবার নতুন করে শুরু করতে পারবেন। (ফাইলটির নামটি বলে রাখি: casper-rw) অনেকটা খেলাঘরের মত এটিকে ব্যবহার করতে পারবেন।

মেনু অনেক সহজ

উবুন্টুতে HUD নামে একটি অপশন আছে। ফটোশপের কতগুলো মেনু খেয়াল করেছেন? মাঝে মাঝে কোন একটি মেনুর জন্য হাতড়ে হাতড়ে মরতে হয়। আপনাকে যদি হঠাৎ বলি ইমেজটাকে Blur করার জন্য? কখনো কি আপনার মনে হয়েছে যে মেনুরও সার্চ করার অপশন থাকা উচিৎ? HUD ঠিক তাই করে। কোন সফটওয়্যার চালু করে Alt কি-টি চাপলেই একটি সার্চ অপশন পাবেন। এতে করে আপনি সফটওয়্যারের সকল মেনুতে সার্চ করবেন।

ভবিষ্যতে এই HUD প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আরো অনেক অপশন আসবে। যেমন আপনি হয়তো ভবিষ্যতের কোন উবুন্টুতে জিম্প (উবুন্টুর ফটোশপ) চালু করে মুখে বলবেন "ব্লার" আর ইমেজটি ব্লার হয়ে যাবে!!!

কাস্টোমাইজেবল - ঠিক আপনি যেমন চান

তাছাড়া ঝানু ইউজার এবং হ্যাকারদের কাছে উবুন্টু অনেক জনপ্রিয়, কারণ উবুন্টু খুটিনাটি প্রায় সবকিছুই কাস্টোমাইজ করা যায়। উইন্ডোজের চাইতেও এটি বহুগুণে বেশি কাস্টোমাইজেবল। উবুন্টু নিজে ব্যবহার না করলে আপনি আসলে বুঝতে পারবেন না এর মজাটা কোথায়।

উইন্ডোজ এবং উবুন্টু

আমি "উইন্ডোজ বনাম উবুন্টু" নামে কোন ঝগড়া করতে চাই না। আসলে উইন্ডোজ আর উবুন্টু দুটা দুই জিনিস। যার কাছে যেটা ভাল লাগে। যেমন: আপনি হয়তো চা পছন্দ করেন, আর আপনার বন্ধু হয়তো কফি বেশি পছন্দ করে। তাই বলে আপনারা নিশ্চয়ই এই ব্যাপারটি নিয়ে রোজ রোজ ঝগড়া করবেন না। এটা যার যার পছন্দের ব্যাপার। (তবে আমি শিকার করি অনেকে ওপেন সোর্স আন্দোলনের নামে অনেকটা আক্রমণাত্মক হয়ে যান! :-) তবে আমার মনে হয় তারা ওপেন সোর্সের প্রতি তাদের ভালবাসার দরুণই এ কাজটি করে থাকেন। Its just love. How can you judge that?! )

স্টেপ-১: উবুন্টু ডাউনলোড করা

পেনড্রাইভে উবুন্ট সেটাপ করার জন্য আমাদের উবুন্টুর সিডি ইমেজটি ডাউনলোড করতে হবে। সিডি ইমেজটি বা ISO ফাইলটিতে উবুন্টুরএকটি সিডি তৈরি করার জন্য সকল ফাইল থাকে। সকল ফাইলকে একটি ISO ফাইলে ডাউনলোড করা যায়। তবে আমরা ISO ফাইলটিকে দিয়ে সিডি নয় বরং একটি পেনড্রাইভ তৈরি করবো।
তাহলে দেরী না করে http://www.ubuntu.com/download/desktop এখান থেকে উবুন্টু ডাউনলোড করুন। আমি সাজেস্ট করবো 12.04.1 / LTS ভার্সনটি ব্যবহার করার জন্য। ১২.১০ ভার্সনটি এখনো অনেক বাগে ভরা। ISOটি ডাউনলোড করুন।

স্টেপ-২: পেন ড্রাইভ রেডি করা

আপনার যেকোন পেনড্রাইভেই উবুন্টু সেটাপ করা যাবে। তবে সেটিতে কমপক্ষে ১ গিগাবাইট স্পেস খালি থাকতে হবে। আজকাল ১ গিগাবাইট কোন ব্যাপার না। যেকোন কম্পিউটারের দোকানে গেলেই ৯০০ টাকায় ভাল মানের ৮ গিগাবাইট পেন ড্রাইভ পাওয়া যায়। যাই হোক, আপনার পেনড্রাইভে দেখুন ১ গিগাবাইট (বা কম করে হলেও ৭০০ মেগাবাইট) স্পেস খালি আছে কিনা। না থাকলে কিছু অদরকারী ফাইল ডিলিট করলে ক্ষতি নেই!

স্টেপ-৩: পেনড্রাইভে উবুন্টু ইনসটল করা


১. http://www.pendrivelinux.com/universal-usb-installer-easy-as-1-2-3/ এখান থেকে Universal USB Installer সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিন। এই সফটওয়্যারটি দিয়ে আমরা ISO ফাইল দিয়ে পেনড্রাইভটিতে উবুন্টু সেটাপ করতে পারবো। এই কাজটির জন্য অনেক সফটওয়্যার আছে। তবে এটিই সবচেয়ে ভাল বলে মনে হয়েছে। (কিছু কিছু সফটওয়্যারে পেনড্রাইভটি ফরম্যাট করে লিনাক্স পার্টিশন বানিয়ে ফেলে। তখন উইন্ডোজ থেকে পেনড্রাইভটি পড়া যায় না। কিন্তু এটি দিয়ে পেনড্রাইভটি সেটাপের পরও ব্যবহারযোগ্য থাকে।)

২. পেন ড্রাইভটি কম্পিউটারে প্রবেশ করান। দেখুন কোন ড্রাইভে আপনার পেন ড্রাইভটি লোড হয়েছে।

৩. Universal USB Installer টি চালু করুন। I Agree বাটনে প্রেস করুন।

 

৪. Step 1 এর নিচে ড্রপ ডাউন বক্সে Ubuntu 12.04 সিলেক্ট করুন।

৫. Step 2 তে Browse বাটনে ক্লিক করে আপনার ডাউনলোডকৃত ISO ফাইলটি দেখিয়ে দিন।

৬. Step 3 তে আপনার পেন ড্রাইভের ড্রাইভলেটারটি দিন। এবং নিচের স্লাইডারটি ডানে/বামে নিয়ে আপনার Persistent Storage কত হবে তা নির্ধারণ করে দিন। পারসিস্টেন্ট স্টোরেজ হল আপনার সেটিংস (যেমন ওয়ালপেপার, থিম ইত্যাদি) এবং সফটওয়্যার কতটুকু জায়গায় থাকবে, সেটা। আপনি যদি অনেক সফটওয়্যার ইন্সটল করার ইচ্ছা করে থাকেন তাহলে ১-২ গিগাবাইট বা তার বেশি স্পেস বরাদ্দ রাখতে পারেন। নাহলে যদি সেটিংস বা সফটওয়্যার কোনটিই স্টোর করে রাখতে না চান তাহলে ০ (শূণ্য)তেই রেখে দিন। এখানে দেয়া সাইজ অনুযায়ী casper-rw নামে একটি ফাইল তৈরি হবে। এই ফাইলটিতে আপনার Persistent স্টোরেজটি থাকবে। এটি একটি নকল পার্টিশনের মত। (Universal USB সফটওয়্যারটি ডিফল্ট হিসেবে Ext2 হিসেবে Casper-rw ফাইলটিকে তৈরি করে। পরে এটির আকার পরিবর্তন করে ছোট/বড় করা যায়।)

৭. Create বাটনে ক্লিক করুন। এখন ক্ষাণিকক্ষণ সময় দিন। মোটামুটিভাবে ১-৫ মিনিটের ভিতরে সেটাপটি হয়ে যাবে। একসময় সেটাপ সম্পন্ন হবে এবং একটি Close বাটন দেখতে পাবেন।

এখন পিসি রিস্টার্ট দিন। দেখুন উবুন্টুর বুট মেনু আসে কিনা। যদি উইন্ডোজ লোড হয় তাহলে বুঝবেন আরেকটু কাজ বাকী।

স্টেপ-৪: BIOS সেটাপ

যদি পেন ড্রাইভটি প্রবেশ করানো অবস্থায় Ubuntu'র বুট মেনু না আসে তাহলে আপনার Boot Device Priority নির্ধারণ করতে হবে।

কম্পিউটার চালু হবার সময় যখন বায়োস লোড হয় তখন Delete বা F2 বা Esc চাপুন (একেক মাদারবোর্ডে একেকটি প্রেস করতে হয়)। এতে আপনার বায়োস সেটাপ অপশন পাবেন। এখন Advanced Options বা Boot Options এ যান। একটি ডিভাইসের লিস্ট পাবেন যেখানে CD, HDD, USB Disk ইত্যাদি অপশন পাবেন। সেখানে Instruction দেখে USB Disk / USB HDD অপশনটিকে উপরে নিয়ে আসুন।

তারপর সেটিংস সেভ করে রিস্টার্ট দিন।

===

সতর্কতা:

নতুন ব্যবহারকারীর অনেকে উবুন্টুর ভিতর থেকে ইন্সটল অপশটিতে ক্লিক করে ইন্সটল করার চেষ্টা করে থাকেন। আপনি যদি পার্টিশন সম্পর্কে পটু না হন তবে কিন্তু এভাবে সেটাপ করবেন না। অসতর্ক হলে আপনার হার্ডডিস্কের ফাইল হারিয়ে যেতে পারে। ইন্সটল অপশনটিতে যাবারই দরকার নেই। যদি কম্পিউটারে সেটাপ করার ইচ্ছাই থাকে তাহলে Install inside windows নামে একটা অপশন আছে সেটা ব্যবহার করা যেতে পারে। এভাবে সেটাপ করলে যেকোন সফটওয়্যারের মতই এটি সহজে আনইন্সটল করা যায়।
===


তাহলে আপনার বুটেবল উবুন্টু পেনড্রাইভ রেডি! এতে আপনার পছন্দমত ওয়ালপেপার, সফটওয়্যার ইত্যাদি সেটাপ করুন। তারপর পেনড্রাইভটি পকেটে নিয়ে ঘুরুন, আর কম্পিউটার পেলেই চালিয়ে টেস্ট করুন - আপনার নিজের মনের মত করে সাজানো অপারেটিং সিস্টেমটি।
Continue reading ...
 

Blogroll

Translate This Blog

Copyright © আদনানের ব্লগ Design by BTDesigner | Blogger Theme by BTDesigner | Powered by Blogger