Monday, January 14, 2013

গল্প: নির্জন নিষ্ঠুর

story about an orphan killing a boy by accident
লিখেছেন: আদনান শামীম

সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার – স্কুলে হাফ ডে। স্কুলের গেটের বাইরে দাড়িয়ে অরণ্য অপেক্ষা করছিল কখন আসিফ আসবে। এইতো, মাত্র সপ্তাহখানেক আগে তাদের বন্ধুত্ব হল। অথচ মনে হয় যেন কত যুগ ধরে তারা একে অপরকে চেনে।

একসময় বেরিয়ে এল আসিফ। অরণ্য অভিযোগের সুরে বলে উঠলো, ‘এতক্ষণ লাগে?’

আসিফ তাচ্ছিল্যহীনভাবে বললো, ‘শেষ ক্লাসে দুষ্টামি করেছিলাম, এজন্য হেডস্যারের রুমে যেতে হয়েছিল।’

অরণ্যের তো চোখ ছানাবড়া। ‘বলো কি? তারপর?’

আসিফ সেই তাচ্ছিল্যহীন ভাব নিয়েই বললো, ‘তারপর আরকি, দিল ধমক। বললো গার্জিয়ান নিয়ে আসতে হবে।’

আসিফের উদাস চেহারা দেখে অরণ্য রীতিমত অবাক – এতবড় একটা ঘটনা ঘটে গেল অথচ ওর মুখে কোনো চিন্তার ভাব নেই! ‘তাহলে?’

‘তাহলে আর কি, তোমাকে একটু কষ্ট করতে হবে – তুমি আমার মাকে গিয়ে বোঝাবে যে আমি নির্দোষ।’

‘কিন্তু আমি তো তোমার সেকশনে পড়ি না!’

‘মিথ্যা বলবে।’

এবার অরণ্য আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। বলেই ফেললো, ‘এতবড় ঘটনা ঘটে গেল অথচ তোমার কোনো টেনশন হচ্ছে না। ব্যাপার কী?’

‘আরে বন্ধু, এইটা বুঝবা না। এখন বাদ দাও তো এসব। চলো বাসায় চলো।’

‘কিন্তু আমি তো মিথ্যা...।’

‘আরে কিছু হবে না – চলো।’ হাত ধরে জোর করেই অরণ্যকে নিয়ে গেল আসিফ।
আসিফের বাসাটা মন্দ না – তিনতলা বাড়ি – নিজেদের। গাড়িও আছে। আবার গেটে দারোয়ান। এতকিছু দেখে অরণ্য আরো ভয় পেয়ে গেল – যদি মিথ্যা ধরতে পেরে দারোয়ান দিয়ে উত্তম মধ্যম দেয়! গেটের ভিতরে যেতেই অরণ্য বেরিয়ে যেতে চাইলো, ‘আজকে থাক – অন্যদিন আসবো।’

এবার ভদ্রতার তোয়াক্কা না করে আসিফ অরণ্যের হাত ধরে দিল এক হেচকা টান।

*  *  *

‘বসো’ আসিফ অরণ্যকে ড্রইংরুমে বসতে বলে ভিতরে গেল। মিনিট পাঁচেক পরে ফিরে এল। স্কুল ড্রেস ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে এসেছে সে। এখন অবশ্য তাকে একটু চিন্তিত মনে হচ্ছে। একটু অপরাধীর ভঙ্গি করে বললো, ‘অরণ্য, আসলে হয়েছে কি – ক্রিকেট খেলতে গিয়ে জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলেছি।’

এখন আর আসিফ অরণ্যের দিকে তাকাতে পারছে না। অপরাধীর মত অন্যদিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে।

‘আচ্ছা ঠিক আছে। তোমার আম্মুকে ডাকো। দেখছি কি করা যায়।’

‘ঠিক আছে।’ বলে আসিফ ভিতরে গেল।

কিছুক্ষণ পর আসিফ এলো তার মাকে নিয়ে। তার মা মধ্যবয়স্কা এক মহিলা। মায়ায় ভরা চেহারা, আর চেহারাতে হালকা একটা হাসি। ‘তুমি অরণ্য তাই না?’

অরণ্য দাড়িয়ে গেল, ‘জ্বি, আসসালামু আলাইকুম।’

‘ওয়ালাইকুম আসসালাম, বসো বসো।’ আসিফের মা বসলেন। অরণ্য বসতে বসতে খেয়াল করলো আসিফ চোখের দৃষ্টি দিয়ে বোঝাতে চাইছে ‘কিছু একটা করো প্লিজ!’

আসিফের মা বললেন, ‘কোথায় থাকো বাবা?’

‘এই তো, সামনের গলিতে – মুন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের পাশেই একটা বাড়িতে।’

‘ও, তাহলে তো কাছেই। তো এতদিন আসো নি কেন? ঘুরে যেতে পারতে। আমাদের বাড়ির পিছনে সুন্দর একটা ফুলের বাগান আছে। ওটাতে গেলে আর বাসায় যেতে মন চাইবে না!’

‘আসলে আসিফের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে কয়েকদিন আগে। বাগান আছে জানলে অবশ্য অনেক আগেই আসতাম।’ একটু মুচকি হাসলো অরণ্য।

‘হুম, আমি নিজ হাতে বাগানটি করেছি। খুব সুন্দর বাগান – চলো, বাগানটা ঘুরিয়ে নিয়ে আসি।’

‘না আন্টি, থাক। অন্য আরেকদিন। আসলে আমি আসতে চাই নি, আসিফই আমাকে জোড় করে নিয়ে এসেছে।’

‘ভালই তো করেছে। কত করে বলি তোর বন্ধুদের বাসায় নিয়ে আয় – বাগানটা ঘুরিয়ে দেখা – কই, একজনকেও নিয়ে আসে না। কিরে আসিফ, তুই তোর স্কুলের কোনো বন্ধুকে বাসায় আনিস না কেন? স্কুলে কিছু ঘটিয়েছিস নাকি?’

আসিফ মাথা চুলকে বললো, ‘আসলে মা হয়েছে কি ... ইয়ে মানে ...’

‘এত ইয়ে মানে ইয়ে মানে করছিস কেন, কি লুকাচ্ছিস বল।’

আসিফকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য অরণ্য বললো, ‘আসলে আন্টি হয়েছে কি আসিফ ভুলবশত একটা কাজ করে ফেলেছে।’

‘কি কাজ?’ আসিফের মা তো অবাক।

‘ও ক্রিকেট খেলতে গিয়ে স্কুলের জানালার একটা কাঁচ ভেঙে ফেলেছে।’

‘বলো কি, সত্যি? কিরে আসিফ সত্যি?’

আসিফের মুখ কালো হয়ে গেল। কিছু বলতে পারলো না। শুধু মাথা নেড়ে সায় দিল।

আসিফের মা বললো, ‘তোর বাবা আসুক – বলছি দাড়া।’

‘আসলে ওর কোনো দোষ নেই আন্টি। ও তো আর ইচ্ছে করে নি।’

‘আরে না, তুমি ওকে চেনো না। সারাদিন শুধু দুষ্টামি আর দুষ্টামি – বই তো ধরেই না।’

‘আসলে আন্টি, ও বুঝতে পারে নি বলটা ঠেকালেই জানালার দিকে যাবে। তারপরও সবাই তাকেই দোষ দেয়। বেচারা।’

আসিফের মার একটু যেন দয়া হল। ‘তারপর, ওকে কোনো শাস্তি দেয় নি?’

‘হুম, হেডস্যার বলেছে গার্জিয়ান নিয়ে যেতে।’

‘ঠিক আছে, চলিস।’ আসিফের মা রাগত একটা দৃষ্টিতে আসিফের দিকে তাকালো। ‘ছেলে যখন এমন তাহলে তো এসব সহ্য করতেই হবে।’ অরণ্যের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘বাবা তুমি বসো, আমি আসছি।’ বলে ভিতরে চলে গেলেন।

আসিফের মা চলে যাবার পর আসিফ অরণ্যের কাছে এসে বসে, ‘থ্যাংকস দোস্ত, অনেক থ্যাংকস।’

জবাবে অরণ্য শুধু একটু মুছকি হাসে। উদাস মনে কি যেন ভাবছে সে।

*  *  *

শনিবার দিন। স্কুল ছুটির পর প্রতিদিনের মতোই আসিফের জন্য দাড়িয়ে আছে অরণ্য। হঠাৎ অরণ্যের খেয়াল হল আজ তো আসিফের গার্জিয়ান নিয়ে আসার কথা। ঠিক সেই সময় আসিফের মাকে দেখতে পেল অরণ্য। অরণ্য ওনার দিকে এগিয়ে গেল, ‘আন্টি, আসসালামু আলাইকুম।’

‘ওয়ালাইকুম আসসালাম, ভাল আছো?’

‘জ্বি আন্টি ভাল।’

‘আর বলো না, ছেলেটার জন্য স্কুল পর্যন্ত আসতে হল।’

‘না আন্টি, এটা কোনো ব্যাপার নয়। আসিফ তো ভাল ছেলে।’

‘কি জানি বাবা। শুধু তোমার মুখেই ওর প্রশংসা শুনি।’

এমন সময় আসিফ চলে এলো, ‘চলো মা। অরণ্য, তুমি কি থাকবে, না চলে যাবে?’

‘আমি চলে যাই।’

আসিফের মা অরণ্যের চুলে হাত বুলিয়ে দিল ‘ভাল থেকো বাবা।’

আসিফের মা আর আসিফ বাড়ির দিকে চলে গেল আর অরণ্য তার বাড়ির দিকে। হাটতে হাটতে অরণ্য পেছন ফিরে আসিফের মাকে দেখছিল আর উদাসমনে কি ভাবছিল।

*  *  *

তখন রাত ৮টা। অরণ্যের পড়া প্রায় শেষ, শুধু বাংলাটা বাকি। পড়ায় মন বসছে না। উদাস মনে একটা কথা ভাবছে। আসিফের মাকে দেখলে কার কথা যেন মনে পড়ে যায়। চাচার বাসায় ওঠার আগের কিছু স্মৃতি মনে পড়ে যায় তার। চোখ ছলছল হয়ে উঠে। কিন্তু কি একটা ভেবে যেন পড়ায় মনযোগী হয়।

*  *  *

এভাবেই চলতে লাগলো। প্রতিদিন স্কুল শেষে আসিফ আর অরণ্য একসঙ্গে বাড়ি ফিরে। মাঝে মাঝে আসিফদের বাড়িতেও কিছুক্ষণ বেড়ায় অরণ্য। আসিফের মা-ও অরণ্যকে দেখে খুশি হয় ,অরণ্যেরও ওদের বাসায় বেড়াতে ভাল লাগে। বিশেষ করে আসিফদের ফুলের বাগানে বসে বিস্কুট কি কেক, কি এটা সেটা খেতে ভালই লাগে তার।

একদিন অরণ্য গেল আসিফদের বাসায়। অন্যদিনের মতই সেদিনও বাগানে বসে ছিল আসিফ আর অরণ্য।

‘আচ্ছা অরণ্য, একটা ক্রিকেট ব্যাট হলে কেমন হয় বল তো?’ আসিফ হঠাৎই প্রসঙ্গটা তুললো।

‘ভালই হয়। কেন রে?’

‘আছে আছে, পরে বলবো।’

‘পরে কেন, বল না। তুই কি ব্যাট কিনেছিস?’

‘উহুম, বলবো না।’

তখনই আসিফের মা এসে পড়লো ট্রে হাতে। ‘এই নাও অরণ্য, আমার নিজ হাতে বানানো পুডিং। খেয়ে দেখো কেমন হয়েছে।’

‘হুম খাচ্ছি।’ অরণ্য বললো, ‘আচ্ছা আন্টি, আসিফ কি ক্রিকেট ব্যাট কিনেছে?’

আসিফের মা জবাবে একটু হাসলো। ‘আরে না, সামনের শুক্রবারে আসিফের জন্মদিন। এজন্য ও তার বাবাকে বলে রেখেছে যে উপহার হিসেবে তার একটা ক্রিকেট ব্যাট লাগবে।’

‘জন্মদিন? এই আসিফ, তুই বলিস নাই ক্যান?’

আসিফ দুষ্ট হাসি দিয়ে বললো, ‘বললে কি আর মজা থাকতো?!’

আসিফের মা বললো, ‘অরণ্য, বাবা তুমি কিন্তু তোমার বাবা মাকে নিয়ে চলে এসো।’

অরণ্য কথাটা শুনে গম্ভীর হয়ে গেল। আসিফের মা একটু অবাক হল। ‘কি হয়েছে বাবা?’

অরণ্য উঠে দাড়িয়ে বাগানের বেড়ার কাছে এসে দাড়ালো। আসিফের মা উঠে এসে অরণ্যের পাশে এসে দাড়ালো। অরণ্যের কাধে হাত রাখলো। ‘অরণ্য?’

কোনো জবাব নেই। আসিফের মা অরণ্যের মুখের সামনে এসে দাড়ালো। অরণ্যের চোখে পানি। আসিফের মা বসে পড়লো, ‘কি হয়েছে অরণ্য?’

অরণ্য ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিল। সে কোনোরকমে বললো, ‘আমার মা বাবা নেই।’

আসিফের মা আবেগআপ্লুত হয়ে পড়লেন। তিনি অরণ্যকে জড়িয়ে ধরলেন। ‘কে বললো, আমি আছি না?’

আসিফ এতক্ষণ দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছিল সবকিছু। এখন সেও এসে দুজনকে জড়িয়ে ধরলো।

*  *  *

আসিফ অরণ্য এখন বড় হয়ে গেছে। ওরা এখন কলেজে পড়ে। ওদের মধ্যে এত গভীর বন্ধুত্ব যে যে কেউ তাদেরকে দেখলে আপন দুইভাই মনে করে। আসিফের মা-ও অরণ্যকে নিজ ছেলের মত দেখে।

আজ আসিফ-অরণ্যদের এইচ এস সি পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়ার কথা। খবরে শুনতে পেয়েছে দুপুর ১টায় রেজাল্ট দিবে। তারা দুজনে বারোটায়ই গিয়ে হাজির। অন্যদের মত তারাও উদগ্রীব হয়ে আছে রেজাল্ট জানার জন্য।

শেষমেশ সাড়ে বারোটায় রেজাল্ট দিল। আসিফ ভিড় ঠেলে নোটিশবোর্ডের কাছে চলে এলো। অরণ্য সামান্য পেছনে। আসিফ চিৎকার করে বললো, ‘অরণ্য, তুই এ প্লাস পেয়েছিস!’

অরণ্য বললো, ‘তোর কি এসেছে?’

‘দেখছি দাড়া।’ আসিফ খুঁজতে লাগলো – তার নিজের রেজাল্ট কোথায়। একসময় পেয়েও গেল, কিন্তু মুখে কিছু বললো না। মুখ কালো হয়ে গেল তার। চুপচাপ ভিড় থেকে বেরিয়ে এলো।

অরণ্য কিছু বুঝতে পারলো না, ‘কিরে কি হয়েছে?’

‘চল বাসায় চল।’

‘তোর রেজাল্ট কি হল বলবি তো।’

‘জানি না।’ বলে আসিফ হাটা শুরু করলো । অরণ্যও আসতে থাকলো তার পিছন পিছন।

কলেজ থেকে কিছুদূরে একটা চায়ের দোকান আছে। ওখানে তেমন লোকজন নেই। আসিফ সেখানে গিয়ে বসলো। অরণ্যও গিয়ে বসলো তার সাথে।

অরণ্য আগ্রহ ধরে রাখতে পারলো না, ‘আসিফ বল না, তোর রেজাল্ট কি।’ আসিফ চুপ। ‘কিরে বলছিস না কেন?’

আসিফ এবার রেগে মেগে বললো, ‘তোর এত ইচ্ছা থাকলে নিজে গিয়ে দেখে আয়।’

‘আসিফ, এত রাগ করছিস কেন?’

‘তুই কোনো কথা বলিস না তো।’ এখনও রেগে আছে সে।

‘কেন?’

আসিফ রাগান্বিত হয়ে উঠে দাড়ালো, ‘তোর এত মাথা ব্যাথা কেন?’

‘ওমা মাথা ব্যথা হবে না। তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড...’

‘বেস্ট ফ্রেন্ড? ... তুই আজকে থেকে আমার কেউ না।’

‘কিন্তু আমি কি করেছি?’

‘তুই যা, এতিমের বাচ্চা। যা ভাগ।’

অরণ্য এবার রাগ ধরে রাখতে পারলো না।

সে দোকানের দেয়ালে হাত দিয়ে একটা ধাক্কা দিল। কিছু বুঝে উঠার আগেই ঘটনাটা ঘটে গেল...

*  *  *

অরণ্যের চাচার বাসাটা চারতলা। চারতলার উপর এক বিশাল ছাদ। ছাদের কিনারে দশ ইঞ্চি মোটা দেয়াল। দেয়ালের উপর অরণ্য বসে বসে ভাবছে। আশেপাশে কেউ নেই, এমনকি প্রতিবেশীর ছাদেও কেউ নেই। নির্জন এক দুপুর বেলা।

ঐদিনের ঘটনাটা নিয়ে আজকাল খুব ভাবে সে। দুশ্চিন্তায় ঠিকমত খেতে পড়তে পারে না সে।

আসিফের মা-ও অরণ্যের সাথে এখন আর কথা বলে না। বলবে কি করে, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তিনি শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। অরণ্য কত বোঝাতে চেয়েছে, সে জানতো না যে দোকানের উপরে ওঠানো দরজাটা তার একটিমাত্র আঘাতে এভাবে ছুটে যাবে।

কোনো লাভ হয় নি। আসিফের মা একটা শব্দও উচ্চারণ করে নি। অরণ্য এতই নিকৃষ্ট, যে তাকে একটিবারের জন্যও জিজ্ঞেস করতে পারলো না – ‘কেন?’ একটা গালিও কি দিতে পারলো না, যেমনটা আসিফ তাকে দিয়েছিল? এই গম্ভীর নীরবতা অরণ্যের গায়ে এসে তীক্ষ্ণ সুঁইয়ের মত বিঁধে।

‘এতিমের বাচ্চা’ – মনে মনে হাসে সে। ভালই বলেছিল আসিফ। তার একমাত্র দোষ তো এটাই – সে এতিম। সে যদি এতিম না হত তাহলে আসিফের মার সঙ্গে এত আপন হত না, আসিফের সঙ্গে বাকবিতন্ডাও হত না, তার চাচার স্ট্রোকও হত না। কি নিষ্ঠুর এক পিশাচ সে। দু দুটো পরিবার নষ্ট করেছে সে।

আবার একটু আশেপাশে তাকালো সে। আশেপাশের ছাদে কেউ নেই। নির্জন এক দুপুর বেলা। শুধু দূরে একটা ছাদে কয়েকটা কাক এক টুকরো মাংস নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে। আর কোথাও কেউ নেই। দুরু দুরু বুকে নিচে তাকায় সে। বাহ, চাচার বাড়িটা তো অনেক উচু।


[ গল্পটি লেখার জন্য সত্য ঘটনা (কঙ্কাল) দিয়েছিলেন সাদ্দাম হোসেন অপু, সেটি থেকেই এত বড় গল্পের (পেশীবহুল মানবদেহের) উৎপত্তি। তবে গল্পটি সেই ঘটনাটি থেকে অনেকাংশে ভিন্ন। ]
(ফটোক্রেডিট: visualphotos.com)

0 comments:

 

Blogroll

Translate This Blog

Copyright © আদনানের ব্লগ Design by BTDesigner | Blogger Theme by BTDesigner | Powered by Blogger