Tuesday, February 26, 2013

উবুন্টুতে দুই ক্লিকে ইন্টারনেটে কানেক্ট করার পদ্ধতি

0 comments
ইন্টারনেটের গুরুত্ব আপনার কাছে আর কি বলবো। আপনি এই মুহূর্তে একটি ব্লগ সাইট পড়ছেন। আপনি নিশ্চয়ই সুবিধাটা ভাল করেই জানেন।

ইউএসবি মোডেম দিয়ে উবুন্টুতে নেট কানেক্ট করা একটু কষ্টের। (এই কষ্টটা সিটিসেল/জুম ব্যবহারকারীদের জন্য বেশী। গ্রামীন বা বাংলালিংকের মোডেম দিয়ে নাকি এই পদ্ধতিতে কানেক্ট করা যায়। তবে আমি কখনো চেষ্টা করি নি।) কিন্তু (GSM) মোবাইল দিয়ে নেট কানেক্ট করা উইন্ডোজের চাইতে সহজ। শুধু ৫ থেকে ৬টা ক্লিক করেই সেটাপ, আর দুই ক্লিকে কানেক্ট করা যায়! এর চেয়ে সহজ আর কি হতে পারে।

আমি Symphony SOAP FT10 সেট দিয়ে রবির সিম ব্যবহার করে নেট কানেক্ট করেছি। তবে মোডেম সাপোর্ট করে এমন যেকোন সেট দিয়েই এভাবে ব্রাউজ করা সম্ভব। চায়না যেকোন মোবাইল দিয়ে আশা করি এভাবে অনায়াসে কানেক্ট করতে পারবেন।

ইন্টারনেট থাকলে লিনাক্সের সত্যিকার শক্তিটি উপলব্ধি করা যায়। তাহলে আর দেরী না করে শুরু করুন। এজন্য লাগবে:

১. একটি EDGE/GPRS সাপোর্টেড মোবাইল ফোন সেট যেটি কম পোর্টের সাহায্যে  মোডেম হিসেবে ব্যবহার করা যায়;
২. একটি GSM সিম (সিটিসেল ছাড়া যেকোন সিম);
৩. মোবাইলটির জন্য ডাটা কেবল;
৪. এবং উবুন্টু তো লাগবেই!

স্টেপ-১: ইন্টারনেট প্যাক কিনুন:

প্রথমে ডিফল্ট হিসেবে সিমগুলোতে Pay per use প্ল্যান এক্টিভেট করা থাকে। এটি মোবাইলের অল্প স্বল্প ব্রাউজের জন্য ভাল। কিন্তু কম্পিউটারে ব্রাউজ করতে গেলে ডাটা তো একটু বেশি লাগবেই। তাছাড়া ডাউনলোড করলে তো কথাই নেই। তাই আপনাকে মেগাবাইটের প্যাকেজে মাইগ্রেট করতে হবে। তখন আপনি সাশ্রয়ী রেটে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

আপনার সিম অনুযায়ী সেটাপ ভিন্ন হবে। তাই আমি এখানে বিস্তারিত উল্লেখ করছি না।

রবি

রবির দুটি প্যাক আমার খুব পছন্দের। একটি হচ্ছে ২০০মেগাবাইট @ ৫০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১ দিন। আরেকটি হচ্ছে ৪০০মেগাবাইট @ ৫০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ২দিন (রাত ১টা থেকে সকাল ৬টা)। দ্বিতীয় প্যাকটি আমি যতবারই ব্যবহার করেছি অনেকটা আনলিমিটেডের মতই ব্রাউজ করেছি এবং পুরোটা কোনবারই শেষ করতে পারি নি।

এছাড়াও রেগুলার ব্যবহারের জন্য আরেকটি প্যাক হল ১জিবি @ ২৭৫৳+ভ্যাট, মেয়াদ ৩০ দিন। সাশ্রয়ী আরেকটি প্যাক হচ্ছে ১০০মেগাবাইট @ ১০০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ৩০ দিন। এরকম ৩ জিবি থেকে ৫ জিবি পর্যন্ত Monthly packs আছে।

বিস্তারিত এখানে

গ্রামীণফোন

অনেক প্যাকেজ আছে। যদিও দাম একটু বেশি। ৯৯মেগাবাইট @ ৯৯৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১৫দিন একটি প্যাকেজ রয়েছে যেটি অনেকে পছন্দ করতে পারেন। রাতে যারা ব্রাউজ করতে চান তাদের জন্য ৫জিবি @ ২৫০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১ মাস (P3) প্ল্যানটি নিতে পারেন।১জিবি @ ৩০০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১ মাস (P6) দিয়ে রেগুলার ব্যবহার করতে পারেন।
বিস্তারিত এখানে

বাংলালিংক

এদেরও অনেক প্যাক আছে। ২০০ মেগাবাইট @ ৫০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১ দিন (P4) প্যাকটি হঠাৎ ব্যবহারের জন্য ভাল। তাদের P11 প্যাকটি একটু ভিন্ন - আনলিমিটেড ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা এবং বাকি সময় ১.০৩৳+ভ্যাট @ ২০৳। সকাল বেলা একটু বাদশাহী ভাব দেখাতে এই প্যাকটি মন্দ নয়। এছাড়াও রয়েছে ১ জিবি @ ২৭৫৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১মাস (P6)। যারা রাত জাগা পাখি তাদের জন্য আনলিমিটেড, রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা @ ৩০০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১ মাস (P3) প্ল্যানটি বেশ লোভনীয়। (সপ্তাহে ৩জিবির বেশি ব্রাউজ করলে অবশ্য একটু সমস্যা আছে।)
বিস্তারিত এখানে

টেলিটক

টেলিটকের প্যাকগুলো বেশ সাশ্রয়ী। ২জি/৩জি দুই প্রকার সিমের জন্য বিভিন্ন প্যাক  আছে। যারা ৩জি সিম ব্যবহার করছেন তারা ১জিবি পাবেন @ ১৭৫৳+ভ্যাট, মেয়াদ ৩০ দিন!! আরো অনেক প্ল্রান আছে যেগুলোতে ৫১২কেবিপিএস, ১এমবিপিএস, ২এমবিপিএস পর্যন্ত স্পিড পাওয়া যাবে। ২জির জন্য : ২৫০মেগাবাইট @ ১০০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ১৫দিন (D4)। ১জিবি @ ২০০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ৩০দিন (D5)। আনলিমিটেড @ ৬০০৳+ভ্যাট, মেয়াদ ৩০দিন (D6)।
বিস্তারিত এখানে

স্টেপ-২: সেটাপ করুন

১. প্রথমে ডাটা কেবল দিয়ে আপনার মোবাইলটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করুন।

২. লিস্ট থেকে COM port সিলেক্ট করুন।

৩. এখন নোটওয়ার্ক ইন্ডিকেটর আইকনে ক্লিক করে New mobile broadband (GSM) connection... মেনুতে ক্লিক করুন।

Click the  network indicator and then click new...

৪. Continue চাপুন।

৫. দেশ সিলেক্ট করুন... Bangladesh

৬. আপনার টেলিকম প্রতিষ্ঠান সিলেক্ট করুন। এখানে কিন্তু বাংলাদেশের সব টেলিকম কোম্পানিই আছে। অবাক হচ্ছেন? উবুন্টু অনেক আধুনিক এবং লোকালাইজেশন ফ্রেন্ডলি।

৭. APN সিলেক্ট করুন। এখানে উল্লেখ্য, আপনি যদি ঠিকমত এপিএন না দেন তাহলে আপনার বিল বেশি আসতে পারে। কাজেই সাবধানে এপিএনটি দিন। প্রয়োজনে উপরে বিস্তারিত লিংকগুলো থেকে প্যাকের জন্য সঠিক এপিএনটি জেনে নিন।


৮. এখন আপনার নেট কানেক্ট হবার চেষ্টা হবে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই নেট কানকশন পেয়ে যাবে


স্টেপ-৩: কানেক্ট করা

প্রথমবারে তো অটোমেটিক কানেক্ট হয়ে গেল। কিন্তু পরেরবার কিভাবে কানেক্ট করবেন? পদ্ধতিটি দেখে নিন।

১. আগের মতই ডাটা কেবল দিয়ে মোবাইলটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করুন এবং মোডেমের জন্য মোড সিলেক্ট করুন (Com port)।

২. শুধু নেটওয়ার্ক ইন্ডিকেটরে ক্লিক করে আপনার তৈরি করা কানেকশনটিতে ক্লিক করুন... ব্যস! কিছুক্ষণের মধ্যেই উপভোগ করুন ইন্টারনেট।



কানেক্ট হয়ে গেলে নেটওয়ার্ক বার দেখতে পাবেন, যেটি দেখাবে কতটুকু স্ট্রং নেটওয়ার্ক সিগনাল পাচ্ছে। এখন উপভোগ করুন একদম নিরাপদ ব্রাউজিং, কোনো ভাইরাসের টেনশন ছাড়া!

উবুন্টুতে এভাবে ইন্টারনেটে কানেক্ট করা খুব সহজ। শুধু হাতের কাছে একটা মোডেম সাপোর্টেড ফোন থাকলেই হল। এই কানেক্ট করার কাজটা উইন্ডোজে করতে গেলে খবর হয়ে যেত। মোবাইলের ড্রাইভার ছাড়া কানেক্ট করা ইম্পসিবল হত।

কানেক্ট করা অবস্থায় সিমটা এনগেজড দেখাবে এই আরকি! এই পদ্ধতিতে Lubuntu, Xubuntu, Kubuntu, Linux Mint ইত্যাদি ডিস্ট্রতে খুব সহজেই নেটে কানেক্ট করা সম্ভব।

(সতর্কতা: মোবাইলে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। লিথিয়াম আয়ন বা লিআয়ন ব্যাটারি তাপে এর ক্ষমতা অনেক তাড়াতাড়ি হারায়। মোবাইল দিয়ে নেট ব্যবহার করলে মোবাইল অত্যধিক গরম হয়ে যায়। এতে করে ব্যাটারিতে তাপ পৌছে গিয়ে ব্যাটারির কিছুটা ক্ষতি করতে পারে।)
Continue reading ...

Saturday, February 23, 2013

Windows key দিয়ে লুবুন্টু মেনু (Start Menu) খোলার পদ্ধতি

0 comments
আমরা যারা উইন্ডোজ ব্যবহার করে অভ্যস্ত তারা উইন্ডোজ বাটনের বেশ ফ্যান তা নয়। তবে আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা স্টার্ট মেনুটি কিবোর্ডের মধ্যে থাকা উইন্ডোজ বাটনটি দিয়ে খুলতে পছন্দ করেন। এই কাজটুকুই যদি না করা যেত তাহলে কেনই বা এই বাটনটি কিবোর্ডে দেয়া হয়, তাই না?

Lubuntuতে ডিফল্ট হিসেবে উইন্ডোজ কি-টির কোনো ফাংশন দেয়া নেই। তাই সেটি সারাদিন টিপলেও কোন লাভ হয়না। তবে... লিনাক্সের প্রায় সবকিছুই কাস্টোমাইজেবল। তাই উইন্ডোজ কি-টিকে দিয়ে আমরা লুবুন্টুর স্টার্ট মেনু খোলাতে পারবো। এজন্য নিচের গাইডলাইন অনুসরণ করুন:


  • Windows+E চেপে প্যাকম্যান ফাইল ম্যানেজার (এক্সপ্লোরার) ওপেন করুন
  • Ctrl+H চেপে হিডেন ফাইল শো করুন
  • এরপর .config তারপর openbox ফোল্ডারে যান। (তাহলে আমরা পৌছে যাবো /home/lubuntu/.config/openbox ফোল্ডারে)

  • এবারে lubuntu-rc.xml ফাইলটিতে ডাবল ক্লিক করুন।
  • Ctrl+F চাপুন এবং  লিখে এন্টার চাপুন। একটি লাইন খুঁজে পাবেন।

  • এই লাইনটির পরে এই কোডগুলো পেস্ট করুন:
<keybind key="Super_L"> <action name="Execute"> <command>lxpanelctl menu</command> </action> </keybind>
   

        (সতর্কতা: পেস্ট করার সময় লক্ষ্য রাখবেন যেন অন্য কোনো এবং এর মাঝে যেন কোডটি পেস্ট না হয়। এই xml টি উল্টোপাল্টা হলে কিন্তু লুবুন্টু রান নাও হতে পারে।সবচেয়ে ভাল হয় যদি আপনি ফাইলটির ব্যাকআপ রেখে দেন। )
  • File - Save মেনুতে ক্লিক করে অথবা Ctrl+S চেপে ফাইলটি সেভ করুন
  • এরপর Ctrl+Alt+T চেপে openbox --reconfigure কমান্ডটি লিখে এন্টার চাপুন। এখন উইন্ডোজ বাটনটি চাপলে লুবুন্টু মেনু (স্টার্ট মেনু) দেখতে পাবেন।

 এই তো! এখন আপনার স্টার্ট মেনুটি খুব সহজে খুলতে  পারবেন। মাঝে মাঝে মাউস দিয়ে কাজ করতে আলসেমী লাগলে উইন্ডোজ বাটন চেপেই স্টার্ট মেনু খুলতে পারবেন।

(এই টিপটি লুবুন্টু ১২.১০ এ সফলভাবে টেস্ট করা হয়েছে। তবে এর আগের বা পরের ভার্সনেও এটি ব্যবহৃত  হতে পারে।)

Ref:
Continue reading ...

Thursday, February 14, 2013

স্লো কানেকশনে ফাস্ট ব্রাউজ করুন (Image+HTML Compression)

0 comments
To gain speed you will have to compress the websites that you surf
বাংলাদেশে ফাস্ট ইন্টারনেটের কোন অস্তিত্ব নেই। যেখানে ১ এমবিপিএস কানেকশনকে উন্নয়নের জন্য রিকোয়্যারমেন্ট হিসেবে ধরা হয় সেখানে ৫১২ কেবিপিএস স্পিডই ঠিকমত পাওয়া যায় না। ডাউনলোড স্পিড কানেকশন ভেদে ১৫ থেকে ৩০ কেবিপিএস এর মধ্যে পাওয়া যায়। এমনও হয়েছে যে রাত ৮টার পর স্পিডটা কমে ১০ ভাগের এক ভাগ হয়ে গেছে (আর ডাউনলোড হয়ে যায় ২.৫০ কেবিপিএসের সেই পুরোনো আমলের ডায়াল আপ কানেকশনের মত)।

তাহলে কি করবেন? একটা উপায় আছে। আপনি যে ওয়েবসাইটগুলো ব্রাউজ করেন তা স্লো লোড হবার পিছনের কারণটা নিয়ে চিন্তা করুন তো। ওয়েবসাইটে যে ইমেজগুলো থাকে সেগুলোই স্লো লোডের পিছনে দায়ী। তাছাড়া মাঝে মাঝে পেজের HTML কোডও অনেক দীর্ঘ হয়। এটাও একটা কারণ। এজন্য ওয়েবসাইটগুলোতে যে ইমেজগুলো আছে সেগুলোকে কমপ্রেস করে ডাউনলোড করলে তাহলে আপনি ফাস্ট ব্রাউজ করতে পারবেন। আর তাছাড়া HTML কমপ্রেসও অনেক কাজের।

সমাধান ১: অপেরা + টারবো


অপেরার টারবো প্রযুক্তিটি এই কাজটি অনেক আগেই করে ফেলেছে। অপেরার ৯.১০ ভার্সন থেকেই Opera Browser এ যোগ হয়েছে এই টারবো নামে প্রযুক্তি, যেটি ডিফল্ট হিসেবে নিষ্ক্রিয় থাকে। এটি এনাবল করে নিলে আপনি যত ওয়েবসাইট ব্রাউজ করবেন সেগুলোর ইমেজগুলো কমপ্রেস হয়ে ডাউনলোড হবে। এতে করে ব্রাউজ করতে পারবেন দ্রুত। অপেরা ব্যবহার করে দেখেছি যে এতে খুব কম মেগাবাইট (ব্যান্ডওয়াইডথ) কাটে। আপনি ৬ মেগাবাইটে মোটামুটি সারাদিনের ব্রাউজ সারতে পারবেন। এতে করে আপনি ইন্টারনেটের বিলও কমাতে পারবেন।

Opera.com থেকে অপেরা ব্রাউজারটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিন।

অপেরা চালু করে নিচে বামদিকে একটি মিটারের মত চিহ্ন আছে। সেটি টারবোর আইকন। সেটিতে ক্লিক করে টারবো এনাবল করা যাবে।
enable opera turbo by clicking in the meter icon at the bottom


অপেরা ক্রস প্লাটফর্ম। এটি উইন্ডোজ/লিনাক্স/ম্যাক/এ্যানড্রোয়েড/চায়না ফোনগুলোতেও ব্যবহার করতে পারবেন।

সমাধান ২: টুনেল (ক্রস প্লাটফর্ম, ক্রস ব্রাউজার)


স্পিড তো এক কথা, মাস শেষে বিলও তো দিতে হবে। বিল কমানো আর স্পিড যদি পেতে চান এবং তা হয়তো ফায়ারফক্স বা ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার বা ক্রোম (ক্রোমিয়াম/আয়রন) অথবা প্রক্সি ব্যবহার করতে পারে এমন যেকোন ব্রাউজারে তাহলে আপনার লাগবে Toonel নামে ছোট্ট একটি সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটি জাভা দিয়ে তৈরি এজন্য এটি উইন্ডোজ, লিনাক্স, ম্যাক ওএস এবং জাভা সাপোর্টেড দুনিয়ার যেকোন অপারেটিং সিস্টেমে চলবে।

স্টেপ ১. এজন্য প্রথমে আপনার কম্পিউটারে Java Runtime Environment (JRE) থাকতে হবে। এটি টেস্ট করার সহজ উপায় হচ্ছে আপনার কন্ট্রোল প্যানেলে গিয়ে দেখুন যে জাভা নামে সেখানে কোনো আইটেম আছে কিনা।

থাকলে বুঝবেন যে আপনার কম্পিউটারে JRE ইন্সটল করা আছে। আর না থাকলে নিচের লিংক থেকে Offline ভার্সনটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করুন:
http://www.java.com/en/download/manual.jsp

স্টেপ ২. এখন http://toonel.net/download.html এই ওয়েবসাইটে গিয়ে টুনেল ডাউনলোড করুন। উইন্ডোজ/লিনাক্স/ম্যাকের জন্য Toonel Generic Swing Packageটি ডাউনলোড করুন। এতে একটি JAR ফাইল (toonel.jar) ডাউনলোড হবে।

স্টেপ ৩. ডাউনলোডকৃত জার ফাইলটিতে ডাবল ক্লিক করুন। এতে করে টুনেল অপেন হবে। এখন Web ট্যাবে গিয়ে দুটি সেটিংস স্ক্রিনশটের মত করে পরিবর্তন করুন। JPEG Quality যত কম দেবেন স্পিড তত বেশি পাবেন, তবে ততই কমপ্রেস লো কোয়ালিটির ইমেজ পাবেন।


স্টেপ ৪. এখন Mapping ট্যাবে গিয়ে 127.0.0.1 এ ক্লিক করুন। এখানে দুটি তথ্য থাকার কথা:
Hostname: 127.0.0.1
Port: 8080
এই তথ্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ। এখন আবার Stats ট্যাবে যান।


স্টেপ ৪: প্রক্সি সেটাপ করা:

ফায়ারফক্সের জন্য


ফায়ারফক্সের Option অপেন করুন। Advanced ট্যাবে গিয়ে Network ট্যাব থেকে Settings এ যান।

Manual অপশনটিতে ক্লিক করুন এবং Host name ও Port তথ্য দুটি প্রদান করুন।







যখন টুনেল ব্যবহার করতে না চাইবেন তখন Options - Advanced - Network - Settings এ গিয়ে No proxy দিতে হবে।

ক্রোম/আয়রন/ক্রোমিয়াম-এর জন্য


১. রেঞ্চ মেনুটিতে ক্লিক করুন এবং অপশনস এ যান

২. Under the hood এ যান। তারপর Network এ গিয়ে Change proxy settings বাটনে ক্লিক করুন।
যে ডায়লগ ব্ক্সটি আসবে তাতে আপনি প্রক্সি সেটিংস ঠিক করে দিতে পারবেন।

যখন টুনেল ব্যবহার করতে চান না তখন এই সেটিংস ডিস্যাবল করে দিতে হবে।

Toonel is saving lots of megabytes
Toonel দিয়ে ব্রাউজ করাতে এখানে ২৭% ডাটা ডাউনলোড করা লাগে নি


তাহলে তো হলই! যেকোন ব্রাউজারেই আপনি ফাস্ট ব্রাউজ করতে পারবেন। আর বিল বাঁচানোর জন্য আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবেন না! :-P
Continue reading ...

আমরা কি আসলেই ভালোবাসা চিনি?

5 comments
ভালোবাসা মানে কি? –এই প্রশ্নটার উত্তর দিতে অনেককে শুনেছি। বিভিন্ন সময়ে একেকজন একেকভাবে ভালোবাসাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। কেউ কেউ একে বলেছেন ‘এটি একটি আবেগ যার কারণে আমাদের কাউকে ভালো লাগে।’ কেউ কেউ বলেছেন, ‘কাউকে মন থেকে স্নেহ, মায়া, মমতা দেয়াই ভালোবাসা।’ অনেকে আবার আক্ষেপের সুরে বলেছেন, ‘ভালোবাসা হচ্ছে সিগারেটের মত, যার পরিণাম হচ্ছে পোড়া ছাই।’

আমি বিভিন্নজনের সাথে ভালোবাসা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দেখি যে তারা অনেক ভুল ধারণা নিয়ে আছেন। অনেকে কাউকে দেখে পছন্দ হলে বলে ফেলেন, ‘আমি তাকে ভালোবেসে ফেলেছি।’ আসলে এটা ঠিক নয়। এটা ভালোবাসা নয়। এটা হচ্ছে ভালো লাগা।

আমার মতে কাউকে ভালোবাসতে গেলে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। আমার এখনও মনে আছে- রঙ পেন্সিল একাডেমির বর্ষবরণ ১৪১৮ অনুষ্ঠান যেদিন হল সেদিনই বিকালে আমি আমার বন্ধু মেহেদীকে নিয়ে ছাদে গিয়েছিলাম। সেদিন কথায় কথায় ভালোবাসা নিয়ে কথা উঠলো। আমি মেহেদীকে ভালোবাসা সম্পর্কে যা বলেছিলাম – আমার মনে হয় তা সংরক্ষণ করে রাখা দরকার। তাই এই লেখা।

ভালোবাসা খারাপ নয়। ভালোবাসা অশ্লীলও নয়। ভালোবাসা হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম একটি অনুভূতি। ভালোবাসা যদি খারাপ কিছুই হত তাহলে আমি রঙ পেন্সিল একাডেমির ছোট ছোট বাচ্চাদের সামনে ভালোবাসা নিয়ে কথা বলতে পারতাম না।

আপনি যদি অশ্লীলতা নিয়ে বিব্রতবোধ করে থাকেন তবে আপনাকে আস্বস্ত করছি যে এই প্রবন্ধটি অশ্লীল নয়। ভালোবাসা সম্পর্কে আমি শুধু ততটুকুই লিখছি যতটুকু প্রতিটি নর-নারীরই জানা থাকা প্রয়োজন।

আপনি যদি ভালোবাসা নিয়ে কোনো সন্দেহে থেকে থাকেন, আমার মনে হয় আপনার এই প্রবন্ধটি পড়ে দেখা উচিৎ। এতে আপনি হয়তো এটাও জানতে পারবেন যে আপনি কাউকে ভালোবাসেন কিনা বা কাউকে ভালোবাসার পথে আপনি
কতটুকু দূরে। আবার আপনি যদি ভালোবাসা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ (!) হন তাহলে আমার এই থিউরি সম্পর্কে আলোচনা, সমালোচনাও করতে পারবেন।

আমার মতে ভালোবাসার কিছু ধাপ আছে:


এই ধাপগুলো সবার জন্য এক না-ও হতে পারে। কেউ কেউ ভালো লাগা থেকে সরাসরি যোগাযোগ বা ভালোবাসার ধাপে চলে যেতে পারেন। আবার অনেকে যোগাযোগ থেকে শুরু করে ভালোবাসায় যেতে পারেন। আবার অনেকে হয়তো Crush-এ এসেই শেষ! মূল কথা, এটি ফ্লেক্সিবল (পরিবর্তনশীল)।

এবার ধাপগুলো সম্পর্কে একটু বলি।

১ম ধাপ – ভালো লাগা: ভালো লাগা বলতে বোঝায় ভালো লাগা আরকি। কাউকে খারাপ না লাগা। কাউকে পছন্দ হওয়া। কারো সাথে সময় কাটাতে ইচ্ছে করা।
আমরা প্রতিদিনই বিভিন্ন ছেলে-মেয়েকে দেখি। এদের মধ্যে অনেককেই আমাদের দেখে ভালো লাগে। এক্ষেত্রে বাহ্যিক যে সৌন্দর্য্য, সেটিই প্রাধান্য পায়। অনেক সময় চেহারার এক্সপ্রেশন (ভাবভঙ্গি), পোশাক-আশাক, কথা বলার ধরণ আমাদের ভালো লাগে। অনেকে ভালো লাগাকে ভালোবাসা বলে ভুল করেন। আসলে ভালোবাসা অনেক বড় জিনিস। এটি শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্য্যের উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি না হওয়াটাই স্বাভাবিক। মনের চিন্তারও মিল থাকা জরুরী।

ভালো লাগার রেশটা ভালো লাগা পর্যন্তই শেষ। যদি সেটা দীর্ঘায়িত হয় তখন তাহলে চলে যাবে পরবর্তী ধাপে—

২য় ধাপ – Crush: Crush মানে হচ্ছে কাউকে ভুলতে না পারা। ভালো লাগাটা কাটতে না চাইলে তখন সেটা হয়ে যায় Crush.
Crush হচ্ছে একটা অস্থায়ী অনুভূতি। কারো জন্য সাময়িক চাওয়া। এটাকে সময় দিলে এমনিতেই কেটে যায়। অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে Crush –এর ভুক্তিতে উদাহরণ দেয়া আছে: He’s got a crush on his history teacher. সেই উদাহরণটির মতই বলা যায়, crush যে কোন সময় যে কোন অবস্থায়ই হতে পারে। টিচারের প্রতিও Crush হতে পারে, আবার বয়সে খুব বড় এমন কারো প্রতিও Crush হতে পারে। তবে এটা সিরিয়াস নাকি শুধুই সাময়িক আবেগ সেটাও ভেবে দেখার বিষয়।

আচ্ছা, আমরা যদি আমাদের আলোচিত দুটো ধাপ একটি সিনেমার মাধ্যমে দেখি, তাহলে কেমন হয়? আসুন দেখি। তবে ঘাবড়াবেন না। এতে অশ্লীল কিছু নেই। কোনো নাচ-গান নেই। আটার বস্তা, চাউলের বস্তাসদৃশ নায়িকা নেই। আছে শুধু সুন্দর একটা আবেগের evolution (বিবর্তন), বেড়ে উঠা।

ধরি, আমাদের সিনেমার নায়ক মিহির। তার এইচএসসি পরীক্ষা সবেমাত্র শেষ হল। এখন তার হাতে অফুরন্ত সময়। এমন একটা সময়ে মিহিরের ছোট মামার বিয়ের কথা শুরু হল। মিহির তো মহাখুশি – ছোটমামার জন্য মেয়ে দেখতে বিভিন্ন পাত্রীর বাসায় যাবে, অবসর সময়ও কেটে যাবে। একসময় পাত্রী দেখা শুরু হল। মিহির তার মামাকে নিয়ে মুরব্বীসমেত বিভিন্ন বাড়িতে যেতে লাগলো।

একদিন ছোটমামাকে নিয়ে মিহির গেল সম্ভ্রান্ত পরিবারের এক মেয়েকে দেখতে। ছোটমামার মেয়েটাকে পছন্দ হল। পাত্রীর একটা ছোট বোন ছিল – নাম লাবণ্য। বয়স তারই মত। মিহিরের যেন কি হল। এটা হয়তো চারিদিকে বিয়ে বিয়ে আমেজেরই ফল – মিহিরের লাবণ্যকে খুব ভালো লাগলো। অবশ্য লাবণ্যের সাথে মিহিরের কোনো কথাবার্তা হয় নি। শুধু এমনিতেই দেখা, দেখে ভালো লাগা।

পাত্রী ঐ মেয়েটার সাথে ছোটমামার বিয়ে ঠিক হল। ছোটমামার ইচ্ছে ছিল খুব বেশি আয়োজন না করে বিয়েটা সেড়ে ফেলা। কিন্তু কনেপক্ষ ব্যাপারটা মানবেই না। ধনী পরিবারের মেয়ে – তাই ঠিক হল ধুমধাম করে বিয়ে দিবে মেয়েটার।

বিয়ের আয়োজন বেশ ভালই হয়েছে। মিহিরও আয়োজনে হাত লাগিয়ে এখন বেশ একটু অবসর। তার এক বন্ধুর সাথে কথা বলছিল। এমন সময় লাবণ্যকে দেখতে পেল মিহির। বিয়ের আয়োজনের সাথে মানিয়ে আজ একটা লাল শাড়ি পড়েছে সে। মিহির তো দেখে যেন তাকে চিনতেই পারছিল না। দেখে কথা বলার লোভ সামলাতে পারলো না। এগিয়ে গেল কথা বলার জন্য। বেশ কথাবার্তা, হাসি-ঠাট্টা হল তাদের মাঝে। তারা খুব ভাল বন্ধু হয়ে গেল একে অপরের। দুজনের মোবাইল নাম্বার বিনিময় করলো।

সেদিনের অনুষ্ঠানের পর মিহির লাবন্যকে ভুলতে পারছিল না। তাকে ফোন করবে কিনা ভেবে পাচ্ছিল না। ফোন করলে যদি আবার কিছু হয়, যদি সম্পর্কটা আরো খারাপ হয়ে যায়? ভাবতে ভাবতে বৌভাতের দিন চলে এলো। আগামীকাল বৌভাত। যা থাকে কপালে ভেবে লাবন্যকে ফোন দিল সে। যা ভেবেছিল সেরকম কিছু হল না। বরং খুব ভাল লাগলো লাবণ্যের সাথে কথা বলে। সে এখন যেন আর দেখা করার জন্য অপেক্ষা করতে পারছে না। আমাদের নায়ক মশাই বোধহয় তাহলে Crush-এ পড়েছে! হুম? কি বলেন?

৩য় ধাপ – যোগাযোগ বা Communication: Crush-এর পরে এই ধাপটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগে যদি গলদ হয়ে যায় তাহলে আগের ধাপগুলোর যত বৈশিষ্ট্য ছিল, উপকার ছিল সব হারাতে হয়।

যোগাযোগ বলতে এক পক্ষের একটি কথা বা মনের ভাব অন্য পক্ষকে জানানো বোঝায়।

যোগাযোগ ফোনের মাধ্যমে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে, সরাসরি দেখা করে, এসএমএসের মাধ্যমে বা অন্য কোনো মাধ্যমে হতে পারে। আর শুধু কথা বলাই যোগাযোগ নয়, মনের ভাব প্রকাশ করাও যোগাযোগের মধ্যে পড়ে। অনেক সময় দেখা যায় eye contact (চোখের চাহনি) অনেক কিছু বলে দেয়। আমাদের চোখেরও একটা ভাষা আছে। এই ভাষা দিয়ে আমরা অনেক কিছু বোঝাতে পারি। এবং এর জন্য চোখ টিপও দেয়ার প্রয়োজন হয় না, আমাদের মনের ভিতরের আবেগই এর জন্য যথেষ্ট।

আমরা যখন কোনো কারণে আনন্দিত হই তখন আমাদের চোখে একরকম Spark দেখা দেয়, একটা অন্যরকম রূপ দেখা দেয়। অনেকে হাসলে মনে হয় যেন চোখও হাসছে। অনেক সময় একটা মুচকি হাসি দিয়েও অনেক কিছু বলা যায়। অনেক সময় নীরব থেকেও অনেক কিছু প্রকাশ করা যায় – শুধু চোখে চোখ রেখেই সেটা সম্ভব হতে পারে।

এখন আমাদের সিনেমাতে আবার ফিরে যাই। বৌভাতে মিহির আর লাবণ্যের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে গেল। মিহির জানতে পারলো যে লাবণ্যও এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তারা দুজনে মিলে ঠিক করলো যে তারা একই ভার্সিটি ভর্তি কোচিংয়ে ভর্তি হবে।

কোচিংয়ের ক্লাস শেষে কাছেই একটা পার্কে বসে তারা। এবং বই-খাতা খুলে ক্লাসের পড়াগুলো নিয়ে আলোচনা করে। পড়ার মাঝে মাঝে একটু হাসি ঠাট্টা, একটু গল্প-গুজব তো আছেই। আর বাসায় ফিরে কল, এসএমএস তো আছেই।

মাঝে মাঝে একে অপরের বাসায়ও যায় তারা – গ্রুপ স্টাডি করার জন্য। এভাবে দুই পরিবারের মধ্যেও ভাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়ে গেল।

ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা সামনে। ফরম তুলতে হবে, পূরণ করতে হবে, জমা দিতে হবে – অনেক কাজ! লাবণ্য একটু দিশেহারা হয়ে গেছে, কিভাবে এতগুলো কাজ করবে সে। মিহির লাবণ্যকে আশ্বাস দিলো – সবকিছুতে ও-ই সাহায্য করবে। মিহির অনেক ঝুট ঝামেলার পর ফরম পূরণ করে ইন্টারনেটে জমা দিল। লাবণ্য শুধু লাইনে দাড়িয়ে এডমিট কার্ডটা তুলে আনলো।

যোগাযোগ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমায়। আমরা যোগাযোগের আগে ভাবি অমুক লোকটা জানি কেমন। কিন্তু যোগাযোগের পর দেখি যে হয়তো লোকটি সেরকম নয়। ভালোবাসার জন্য যোগাযোগটা জরুরী। ভুল বোঝাবুঝি দূরে রাখতে যোগাযোগ রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।

৪র্থ ধাপ – ভালোবাসা: হুম, এইতো! এতক্ষণ যেটার জন্য ধৈর্য্য ধরে ছিলেন – সেই আবেগ, যেটি আমাদেরকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়, স্বপ্ন দেখতে শেখায়, ত্যাগ-তিতীক্ষা-ধৈর্য্য শেখায়। এখন সেই আবেগ নিয়েই আমরা কথা বলবো।

আমি এই প্রবন্ধে ভালোবাসা শুধু প্রণয় অর্থে ব্যবহার করেছি। কিন্তু ভালোবাসা স্নেহ, মায়া, মমতা থেকেও আসে। নতুন একটি শিশুর জন্ম হলে মা তাকে লালন পালন করে। শিশুটি সময়ে অসময়ে জ্বালাতন করে – কাঁদে, ঠিকমত ঘুমায় না, খায় না ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এতকিছুর পরও যে কারণে মা তার সন্তানটিকে ফেলে রেখে যেতে পারে না তা হল – ভালোবাসা।

অনেক সময় ভালোবাসা আসে শ্রদ্ধা, সম্মান থেকে। যেমন: আমরা আমাদের বাবা-মা, দাদা-দাদীকে শ্রদ্ধাভরে ভালবাসি।

প্রণয় অর্থেই হোক, আর মায়া-মমতা-সম্মান অর্থেই হোক, ভালবাসা মানে হল কারো ভাল চাওয়া।

এখন আবার একটু প্রণয়ের দিকেই ফিরে আসি। যখন একটা ছেলে একটা মেয়েকে ভালোবাসে তখন তারা একে অপরের ব্যাপারে care করে, ভাবে। একজন আরেকজনের ব্যাপারে ছোটখাট বিষয় নিয়েও মাথা ঘামায়। একজন আরেকজনের ক্ষতি দেখতে পারে না বরং সবসময় তার ভাল চিন্তা করে। একজন আরেকজনকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে। একে অপরকে সবসময় দেখতে ইচ্ছে করে, একসাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত মনের ভিতর আগলে রাখতে ইচ্ছে করে। একজন আরেকজনকে দেখলে বুকের ভেতরে একটা শান্তির অনুভূতি সৃষ্টি হয়। একজন আরেকজনের দিকে তাকালে মনে হয় যেন, ‘দুচোখ ভরে দেখি।’ ভালোবাসা মানে জাস্ট আপন করে পাওয়া – একে অপরের প্রতি অধিকার সৃষ্টি হওয়া। এই তো! আরো কিছু আছে কি? থাকতেই পারে। তাই আপনার ভাবনাগুলোর জন্য কিছুটা জায়গা ফাঁকা রাখলাম, অনেকটা বিরতির মত। এই বিরতিতে আপনিও একটু ভাবুন, আপনার কাছে ভালোবাসা মানে কি।

...

...

...

আমাদের সিনেমার নায়ক নায়িকাদের মধ্যে কিন্তু এখন ভালোলাগাটা অনেক গভীর হয়েছে। তারা একজন আরেকজনকে না দেখে থাকতে পারে না। ওদের ভাগ্য ভাল যে ওরা দুজনেই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছে, যদিও দুজনে ভিন্ন বিষয়ে লেখাপড়া করছে।

ফার্স্ট ইয়ারের শেষের দিকে তারা এখন। ছোটমামার শ্বশুরবাড়ির ওদিক থেকে একটা বনভোজনের প্রস্তাব এলো। ছোটমামাও না করতে পারলো না। কিন্তু সমস্যা হল সিট নিয়ে। সব আত্মীয়-স্বজনকে জায়গা দিতে গেলে মিহিরের আর জায়গা হয় না। অবস্থাটা এমন যে মিহিরকে নিতে গেলে আরেকটা বাস শুধু ওর জন্য ভাড়া করতে হবে। এদিকে মিহির না গেলে লাবণ্যও যাবে না।

ভালোবাসার অন্যতম আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে Sacrifice (ত্যাগ স্বীকার করা)। ভালোবাসার মানুষটির জন্য অনেক সুবিধা ছেড়ে দেয়া বরং অনেকটা আনন্দের বিষয় হয়ে থাকে। যেমন: বাবা-মায়েরা নিজেদের জন্য খরচ না করে সন্তানদের জন্য খরচ করে। বাবা-মায়েদের ভালোবাসা আসলে ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

যাই হোক, পরে একদম বলতে গেলে শেষ মুহূর্তে দেখা গেল মেজো মামার অফিসে একটা জরুরী কাজ চলে এসেছে। ওনাকে সপ্তাহখানেকের জন্য দেশের বাইরে যেতে হবে। তাই ওনার সিটটা এখন মিহিরের জন্য খালি। ব্যস! লাবণ্য মিহির দুজনেই মহাখুশি – তারা একসাথে কক্সবাজার যাবে।

যাওয়ার পথে অনেক মজা হল। গান-বাজনা-কৌতুক, এটা সেটা করতে করতে কক্সবাজার এসে হাজির। কক্সবাজারের সি-বিচটা এর আগে মিহির লাবণ্য কখনো দেখে নি, অন্তত সামনা সামনি নয়। সমুদ্র সৈকতটা এক অদ্ভুত জায়গা। সমুদ্রের গর্জন, খোলা বাতাস, আর মানুষের কলকাকলিতে ভরপুর। মন-প্রায় উভয়ই জুড়িয়ে যায়।

লাবণ্য মিহির কিছুক্ষণ খালিপায়ে বিচের বালিতে হাটলো। মাঝে মাঝেই সমুদ্রের ঢেউ এসে তাদের পা ভিজিয়ে দিলো। সময় যে কোনদিক দিয়ে ফুরিয়ে গেল তারা টেরই পায় নি। একসময় সূর্যাস্তের সময় হয়ে এলো। তারা বিচের একটু পেছনের দিকে এসে পড়েছিল। একটু একাকী কথা বলার জন্য। সেখানে দাড়িয়ে তারা সূর্যাস্ত দেখছিল। নিজ চোখে না দেখলে বোঝার উপায় নেই যে সূর্যাস্তের দৃশ্যটা কত মনোমুগ্ধকর। সূর্যটা আস্তে আস্তে সমুদ্রের বুকে বিলীন হয়ে যাচ্ছিল।

মিহির লাবণ্যের দিকে তাকালো। লাবণ্যের সেদিকে খেয়াল নেই। লাবণ্য একাগ্রচিত্তে সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করছিল। সূর্যের যতটুকু আলো অবশিষ্ট ছিল তার মধ্যেই লাবণ্যের চেহারাটা অদ্ভুত সুন্দর লাগছিল। কি যেন কি হয়ে গেল, হঠাৎ করে সে লাবণ্যের মুখোমুখি এসে হাটু গেড়ে বসে পড়লো। মিহির নরম গলায় বললো, ‘আমি অনেকদিন চেষ্টা করেছি বলার। কিন্তু আজ যদি না বলি তাহলে কখনোই হয়তো বলা হবে না। ... লাবণ্য, আমি তোমায় ভালবাসি।’

লাবণ্য হাত ধরে মিহিরকে তুললো, আর বললো, ‘আমিও তোমায় ভালবাসি। আমিও তোমার মনের কথা জানার অনেক চেষ্টা করেছি। আমিও তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম।’

...

আপনারা কি লাবণ্য আর মিহিরের মধ্যে থাকা ভালোবাসা টের পেয়েছেন? যদি সেই ভালোবাসা বুঝতে পারেন তাহলে আমার লেখা স্বার্থক হয়েছে।


আমি এই লেখাটি এজন্য লিখলাম কারণ আমি বর্তমান প্রজন্মের মাঝে ভালোবাসার ব্যাপারে অনেক ভুল ধারণা দেখেছি। আমি চেষ্টা করেছি শুদ্ধ ভালোবাসা কি সেটা বোঝাতে। অনেকে প্রেম করাকে একটা “যোগ্যতা” মনে করে। এবং প্রেমের সংখ্যা নিয়ে গর্ব করে। এটা আসলে ছোট মনের পরিচয় প্রকাশ করে।

অনেক ছেলে-মেয়েকে আমি একসাথে বসে থাকতে দেখেছি অথচ তাদের মধ্যে শুধু ভালো লাগা দেখতে পেয়েছি, ভালোবাসা নয়।

ভালোবাসা দেখানোর প্রয়োজন হয় না, ভালোবাসা এমনিতেই প্রকাশ পায়।

ভালোবাসার জন্য তাড়াহুড়ো করা উচিৎ নয়। বন্ধু বান্ধবরা যতই বলুক ‘তুই এ্যাফেয়ার করিস না ক্যান? ব্যাকডেটেড কোথাকার!’ তাদের কথায় কান দিতে নেই। আমাকেও এরকম অনেক কথা শুনতে হয়েছে। এবং এটা একরকম বিরক্তিকর ব্যাপার। চাইলেই কাউকে ভালোবাসা যায় না। জোর করে কাউকে ভালোবাসা যায় না। এজন্য মনের ভেতর থেকে অনুভূতি তৈরি হওয়া প্রয়োজন।

আমি মানবপ্রমে বিশ্বাসী, অর্থাৎ সবাইকে ভালোবাসি। আমি যখন কথা বলি তখন প্রতি মুহূর্তেই খেয়াল রাখি যেন সামনের মানুষটিকে আমি দুঃখ না দিই। আমার নিতান্ত অপছন্দের না হলে আমি কাউকে ঘৃণা করি না। আমি আমার Teenage বয়সটা রাসূল (স.)-এর মত হওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি জানি ওনার মত আমি হতে পারবো না, কিন্তু অন্তত চেষ্টা করে দেখতে তো ক্ষতি নেই। তিনি একজন মানবপ্রেমী ছিলেন। সবসময়ই সবার সাথে ভদ্র আচরণ করতেন।  আমিও চেষ্টা করি যথাসম্ভব উত্তেজিত না হয়ে সবার সাথে মিশতে। (লজ্জার কথা আর কি বলবো, আমি একজন introvert. সামাজিকতা অত ভাল পারি না। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাই।)

আমি কখনো কাউকে সেরকম অর্থে ভালোবেসেছি কিনা –অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করে। আমি সন্দিহান – কিভাবে উত্তরটা দিব। উত্তরটা দেয়ার পর হয়তো এই লেখাটা আপনার কাছে বিশ্বাসযোগ্য হবে না। তাই উত্তরটা লেখায় না নিয়ে আমার কাছ থেকে সামনা সামনি পেলে বোধহয় ভালো হয়।

ভালোবাসা আমাদের চারিদিকেই আছে। এটাকে মুরব্বীরাও অস্বীকার করতে পারবেন না। ভালোবাসা অশ্লীল নয়, কিন্তু আমরা সেটাকে অশ্লীল বানিয়ে ফেলেছি। আধুনিকতার নামে আমরা ভালোবাসাকে একরকম Torture করছি। ‘ডেট করলাম, ডাম্প করলাম’ এরকম একটা যুগে ভালোবাসার শালীন রূপটার দেখা পাওয়াও আসলে কঠিন। তারপরও আমি চেষ্টা করেছি আমার দৃষ্টি থেকে ভালোবাসার আসল রুপটা আপনাদেরকে দেয়ার জন্য। ভালোবাসা কোনো পাপ নয়, এটা একটা glue যেটা পৃথিবীকে এখনও একসাথে করে রেখেছে, মনুষ্যত্ব টিকিয়ে রেখেছে। একজন অন্ধ মানুষ রাস্তা পার না হতে পারলে আমরা তাকে পার করে দিই – এটা ভালোবাসারই রূপ।

আমরা জেনে, না জেনে অনেককে ভালোবাসি। ভালোবাসা আমাদের মাঝে আছে। কিন্তু আমরা বুঝতে পারি না এর উপস্থিতিটা কোথায়। অথবা বুঝতে পারলেও সেটাকে নোংরা বানিয়ে ফেলি।

সবকিছুতেই আমরা ভেজাল মিশিয়ে ফেলেছি, ইবাদতেও পর্যন্ত। কিন্তু অন্তত একটা জিনিস তো খাঁটি থাকা উচিৎ, কি বলেন?

আদনান শামীম

(২৯ আগস্ট ২০১১)
Continue reading ...

Sunday, February 3, 2013

What I stand for... (আমার নিজের সংজ্ঞা)

2 comments
জীবনে অনেক সংজ্ঞা পড়েছি। কিন্তু নিজের সংজ্ঞা নিয়ে কখনো ভাবি নি। কথায় আছে- নিজেকে জানো (Know thyself). কথাটা অনেকবার শুনেও কখনো নিজেকে জানার চেষ্টা করি নি। আজ বিকেলে হঠাৎ করেই নিজেকে আবিষ্কার করতে ইচ্ছা করলো। তাই এই লেখা। এই আবিষ্কারটি কোন ল্যাবে ক্ষণিকের প্রচেষ্টায় উৎপন্ন নয়, বরং সারাজীবনের চড়াই উৎরাইয়ের মাধ্যমে তৈরি।

এই লেখাকে অনেকে দাম্ভিক মনে করতে পারেন। তবে এটি সে অর্থে লেখা নয়। এটি নিজেকে বড় প্রমাণ করার জন্য নয় বরং ক্ষুদ্রতার অস্বীকৃতিস্বরূপ লেখা।

গ্রিক ভাষায় লেখা γνῶθι σεαυτόν (Know thyself) [~wikipedia]


আমি আর্ট / শৈল্পিক কাজ পছন্দ করি


শৈল্পিক সৌন্দর্য সবসময়ই আমাকে আকর্ষণ করে। আর্ট ছাড়া আমাদের জীবন তো রসকষহীন, মলিন। আমাদের বাসস্থান থেকে শুরু করে আমাদের পরনের জামা কাপড় পর্যন্ত শিল্পকর্ম। আর্ট আমাদের জীবনে বৈচিত্র নিয়ে আসে। আর্ট/শিল্প হচ্ছে নিজেকে প্রকাশ করার পন্থা। আমি নিজে যদ্দুর শিল্পকে বুঝি তাতে মনে হয়, শিল্প হচ্ছে নিজের মত করে কোন কিছুকে প্রকাশ করা। তা একটি চিত্রকর্মই হোক, ভাস্কর্যই হোক, বা সুন্দর করে কথা বলাই হোক।

আমি ক্রিয়েটিভ কাজ পছন্দ করি


হঠাৎ করে যদি একটি সুন্দর করে আঁকা ছবি দেখি, যদি দেখি তাতে ক্রিয়েটিভিটি আছে, তাতে আমার চোখ অনেকক্ষণ আঁটকে থাকে। কোন একটা ক্রিয়েটিভ বিজ্ঞাপন বা মিউজিক ভিডিও দেখলে সেটি সংগ্রহ করতে ইচ্ছে করে এবং তা বার বার দেখি। এগুলোই তো আমার জীবনের অন্যতম ইন্সপিরেশন।

বিভিন্ন থিউরিকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পছন্দ করি


বিভিন্ন মানুষের সুশৃঙ্খল বিশ্বাসগুলোকে আমরা সাধারণত বই-পুস্তকে থিউরি আকারে পাই। নানাজনের নানা বিশ্বাস রয়েছে। সেগুলোর বাস্তব জীবনে প্রয়োগ এবং সময় অনুযায়ী এর নতুন ইমপ্লিমেন্টেশন নিয়ে ভাবতে পছন্দ করি। বিভিন্ন সংজ্ঞা নিয়েও প্রায়ই ভাবি। যেমন কিছুক্ষণ আগেও একটি মিউজিক ভিডিও দেখতে দেখতে সাহিত্যের সংজ্ঞা নিয়ে ভাবছিলাম। জীবনের বিভিন্ন দিককে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করাকে সাহিত্য বলে - এমনটাই জেনেছি। আবার আমার লিটারেচার পড়ুয়া ভাইয়ের কাছ থেকে জেনেছি সাহিত্য শুধু লেখা অব্স্থায়ই থাকবে - এমনটা নয়। একটি বক্তৃতা বা অডিও রেকর্ডিংও সাহিত্য হতে পারে - যদি সেটি জীবনের বিভিন্ন দিককে তুলে ধরে। আমি যে মিউজিক ভিডিওটি দেখছিলাম তা পুরোই একটি সাহিত্যকর্মের মত। এর প্রতিটি ফ্রেমেই যেন শৈল্পিক সৌন্দর্য, ক্রিয়েটিভিটি এবং জীবনের বিভিন্ন দিক ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে। ভিডিওটি ছিল Royksopp এর Only this moment. আমি একেও সাহিত্যই বলবো, হোক তা একটি ভিডিও। (পরে অবশ্য উইকিপিডিয়ায় "Literature" আর্টিকেলে দেখতে পেলাম যে আজকাল prose হিসেবে ফিল্ম, ভিডিও এমনকি সিরিয়ালকেও সাহিত্যের কাতারে ফেলা হয়।)

সবসময় নিজেকে উন্নত করতে চাই (জীবনকে, ক্যারিয়ারকে) ["সবকিছুই ভাল হবে এবং হতে থাকবে..."]


আমি আমার স্কুল জীবনে চারটি স্কুলে পড়েছি। এবং প্রতিবারই দেখেছি নতুন স্কুলটি আগেরটির চেয়ে একটু উন্নত। কলেজ হিসেবে ইমপিরিয়াল কলেজ ছিল সর্বশেষ স্কুল থেকে একটু প্রসিদ্ধ এবং বিবিএ করছি সিটি কলেজ থেকে যেটি ইমপিরিয়াল থেকে আরেকটু প্রসিদ্ধ। আমার ক্যারিয়ার এখনো বলতে গেলে শুরুই হয় নি। আমি বর্তমানে রঙ পেন্সিল একাডেমিতে শখের একটা শিক্ষকতার চাকরি করি। তাই বলে ক্যারিয়ার নিয়ে পজিটিভ চিন্তা করতে পারবো না তা তো নয়। ... ক্যারিয়ারের চেয়ে উপরে হচ্ছে জীবন। জীবনকেও ক্রমাগত "আপডেট" করে চলেছি। অনেককিছু শিখছি, আয়ত্ব করছি, বুঝছি এবং এগিয়ে চলছি। দিন শেষে বলতে পারি অনেক সুখে আছি, কারণ সকল জ্ঞানীর উপরে আছেন যিনি তার উপর আমার বিশ্বাস আছে অনেক। তিনি আমাকে কখনো নিরাশ করেননি। ক্ষাণিকের অন্ধকার দিলেও পরক্ষণেই তার চেয়েও বেশি আলো দিয়ে জীবনকে ভরে দিয়েছেন। যিনি অহংকার করার একাই অধিকার রাখেন অথচ অহংকার করেন না - আমি তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।

ব্যক্তিত্বকে উন্নত করতে চাই


ব্যক্তিত্বের একটা বড় দিক হচ্ছে কথা, অর্থাৎ কণ্ঠস্বর দিয়ে কতিপয় শব্দের উচ্চারণ। অথচ আমি অবাক হই যখন এই নিছক কয়েকটি শব্দের উচ্চারণ দিয়ে পৃথিবীতে বিশাল ঝড় তোলা যায়। বিভিন্ন বিপ্লবের পেছনে রয়েছে কিছু  অমূল্য শব্দের উচ্চারণ। ...আমি আমার নিজের মত করে নিজেকে গড়ে তুলেছি, আমার নিজের ধ্যান ধারণা দিয়ে। আমি নিজেকে গড়ে তুলতে চাই এমনভাবে যেন আমি সেই শব্দের উচ্চারণের মাধ্যমে মানুষের চেহারায় আলোর ঝলকানি এনে দিতে পারি। আমার জীবনে পাওয়া ক্ষীণ আলোটিকে হাজারগুণে ম্যাগনিফাই করে ছড়িয়ে দিতে চাই অন্যের মাঝে। অন্যকে ছোট করে নয়, বরং পৃথিবীতে তার প্রয়োজনটি উপলব্ধি করিয়ে তার মন জয় করতে চাই। এবং আমার মনে হয় আমি পেরেছিও।

সত্যকে প্রাধান্য দেই / সৎ মানুষকে ভালবাসি / সৎ মানুষের জন্য অতিরিক্ত কিছু করতে আমার আপত্তি নেই


মিথ্যা জীবনের জটিলতা বাড়ায়। মিথ্যা মানুষকে মানুষের বিপরীত বানিয়ে ফেলে। মানুষ যা নয় তাকে দিয়ে তাই করায় - যেমনটা শয়তান করায়। পথভ্রষ্ট হবার চেয়ে পথ চেনা ভাল এবং তাতে পদচারণা ভাল। ভাল সবসময় মানুষের হৃদয়ে ভালরই অনুভূতি জাগায়। আমি এমন মানুষ পছন্দ করি না, যার সাথে কথা বলতে গেলে সাবধানে কথা বলতে হবে, যে আমাকে আমার নিজের কথা দিয়েই আঁটকানোর চেষ্টা করবে সবসময়, আমার চলার পথে বাধা হয়ে দাড়াবে, আমাকে ডাবানোর চেষ্টা করবে। আমি আমার বন্ধু চয়নের সময় সাধারণত খেয়াল করি যে সে লেখাপড়ার ব্যাপারে সিরিয়াস কিনা এবং সে সততাকে প্রাধান্য দেয় কিনা। এধরণের মানুষ সাধারণত কারো ক্ষতি করতে চায় না। আমার সৎ বন্ধুদের জন্য আমি অনেক কিছুই করি যা হয়তো না করলেও চলতো।

আমি যতই নিচে ডেবে যাই ততই উপরে উঠতে পছন্দ করি (Phoenix এর মত)


আত্মার উপলব্ধির চেয়ে বড় কিছু আর নেই। যে ভেতর থেকে উন্নত তাকে কেউ কখনো ছোট করতে পারে না। আমি অনেকবার ডেবে গেছি। মনে হয়েছে যে আর উঠতে পারবো না। কিন্তু ধৈর্য্য রেখেছি সবসময়। কারণ ডেবে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার আগেও হয়েছে। শেষমেশ উঠে এসেছি। মিথোলজিতে একটা অদ্ভূত পাখির কথা লেখা আছে। নাম ফিনিক্স। সেই পাখিটি নতুন একটি ফিনিক্সের জন্ম দেয়ার জন্য নিজের দেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার থেকে আবার নতুন একটি ফিনিক্স জন্ম নেয়। আমি সেই যেন ফিনিক্স পাখির ছাইভষ্ম হয়ে যাই মাঝে মাঝে। আবার সেখান থেকে উঠে আসি। ইস! কখনো যদি এমন একটি পাখি পালতে পারতাম!

নিজের সম্পর্কে নতুন কিছু শিখতে / জানতে পছন্দ করি (এবং প্রতিনিয়তই শিখছি) ...and feel good about myself. ["Rediscovering myself."]


আমাকে যিনি তৈরি করেছেন, তিনি আমাকে এমনভাবে তৈরি করেছেন যে আমি কখনো পুরোনো হই না! প্রতিনিয়তই নতুন কিছু শিখছি - এই আমার ব্যাপারেই। নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করছি। আমার গুণগুলো, আমার দোষগুলো জানতে পেরে আমি আরো উন্নত করছি নিজেকে। নিরন্তর।

নিজে যা বুঝি তাতে বিশ্বাস করি / নিজের জ্ঞানকে প্রাধান্য দেই, ধারণাগুলোকে প্রাধান্য দেই [ অন্যের বিশ্বাসগুলো আমাকে ডাবিয়ে ফেলতে পারে। তবে আমার জ্ঞান যদি আমাকে বলে তাহলে আমার ধারণা পরিবর্তন করতে পিছপা হই না। ]


নিজের ভাল নাকি পাগলেও বুঝে - আর আমি তো... পাগল। মানে হচ্ছে আমি পাগল নই। শুনেছি পাগল কোনদিন নিজেকে পাগল বলে না, তাই বললাম আরকি! যাই হোক, আমি দেখেছি আমার মত অবস্থানে এসে অন্যরা যেখানে ভেঙে পড়ে, আমার মনে হয় আমার যাত্রা সেখান থেকেই যেন আরো তরান্বিত হয়। নদীর স্রোতকে রুখে দিলে যেমন সেটি আরো তীব্র বেগে ছুটে চলতে চায় সেরকমই। ...অন্য মানুষের সাথে আমার বিশ্বাসগুলো অনেকসময় মিলে না। আমি নিজের বিশ্বাসগুলোকে নিজের মত করে তৈরি করেছি। মানুষের বিশ্বাসগুলো নিয়েছি, কিন্তু নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী না হলে নয়। অন্যরা কোনকিছুকে তুচ্ছ করলেও আমি হয়তো সেটারই নতুন উপযোগ খুঁজে পেতে চাই।

আমার বিশ্বাসগুলো অনেক সিম্পল। যেমন আমি বিশ্বাস করি বন্ধু চয়নের ব্যাপারে লেখাপড়া আর সততা - এদুটো দেখলেই চলে। বাকি সবকিছু অটোমেটিক মিলে যাবে। -এটা আমার বিশ্বাস। অন্যকেউ কিছু বললে হুট করে তা বিশ্বাস করার কোন মানে নেই। কোরআন শরীফের বাংলা অনুবাদগুলো এত জঘণ্য, যে কোরআনের অর্থ জানার ইচ্ছাই প্রায় চলে গিয়েছিল। ভুলভাল অনুবাদ আমি হুট করে বিশ্বাস করি নি। কিছুদিন ঘেটে আমি খুঁজে পেলাম "Tafsir Ibn Katheer" (ইংরেজি pdf) এবং কোরআনের প্রতি আমার ধারণাই পাল্টে গেল। তখন আমি আরো দ্বিগুণ বিশ্বাসের সাথে অনুবাদ পড়তে লাগলাম।

I enjoy my silent intelligence (and am ashamed of my babblings)


আমি ছোটবেলা থেকেই কথা কম বলি। যদিও আমার লেখা দেখে তা মনে হয় না! দুঃখিত আমি লেখার সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমার এক জ্ঞানী-গুণী স্যার বলেছিলেন, কেউ খুব বেশি কথা বলা মানে এই নয় যে সে খুব জ্ঞানী হয়ে গেছে এবং তার আশেপাশের চুপচাপ মানুষগুলো নির্বোধ।

ক্রিয়েটিভ চিন্তা করতে পছন্দ করি


আমি অন্যদের মত করে সবকিছু না করে আমার নিজের মত করে করতে পছন্দ করি। এবং ক্রিয়েটিভ চিন্তা করতে পছন্দ করি। হয়তো স্টপ মোশন এ্যানিমেশন, স্কেচ, ফিল্মমেকিং, ডিজাইন, টেকনোলজি নিয়ে চিন্তা করছি। কখন যে খাবার দাবার ঠাণ্ডা হয়ে পানি হয়ে গেছে তা খেয়াল নেই। আর আম্মার বকুনি!

নিজেকে ক্রিয়েটিভলি প্রকাশ করতে পছন্দ করি (through creative works)


প্রতিটি মানুষই আলাদা। তার নিজেকে প্রকাশ করাটাও তাই আলাদা হওয়া উচিৎ। আমি ক্রিয়েটিভিটিকে প্রাধান্য দেই। আমার কাজেও ক্রিয়েটিভিটি আনতে পছন্দ করি।

মানুষের আচরণকে ব্যাখ্যা করতে পছন্দ করি


মানুষের প্রতিটি আচরণের পেছনেই একটি কারণ থাকে। আমি আচরণের এভোলিউশন নিয়ে ভাবতে পছন্দ করি। মানুষ আজকে যা, তা আসলে তার জীবনে ঘটে যাওয়া সব ঘটনার সামারি। সে সেরকমই আচরণ করবে যার প্রভাব তার উপর সবচেয়ে বেশি। কেউ একজন হয়তো গরিব মানুষ দেখতে পারে না। তাকে সমাজ হয়তো ভাল চোখে দেখতে পারবে না। কিন্তু হয়তো এমন ঘটনা তার জীবনে ঘটেছে যে সে গরিবদেরকে বিশ্বাস করতে পারে না। হয়তো কোন মানুষ তাকে দারিদ্র্যতা দেখিয়ে তার সাথে প্রতারণা করেছে। তার আচরণই বলে দেবে সে কোন ঘটনার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছে।

I am proud about my family


আমার আব্বার কাছে ছোটবেলায় যখন টাকা চাইতাম তখন হুট করে আমাকে দিত না। আমাকে হয়তো আব্বার ব্যায়ামের মেশিন বা আরাম কেদারাটা পরিষ্কার করতে দিত, অথবা ঘরের কোন কাজ। পরিষ্কার করতে পারলে তখন টাকা পেতাম। এতে করে আমার মধ্যে কখনো অহংকার কাজ করেনি। বরং শ্রমের মূল্য বুঝতে শিখেছি। আমার আম্মা কখনো কারো সাথে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে কখনো ঝগড়া করে নি। অন্তত আমি দেখি নি। সবসময়ই ধীরস্থির এবং শান্ত বলেই জানি। আমার আম্মার কাছ থেকে আমি ধৈর্য্যের শিক্ষা পেয়েছি। আমার আব্বা-আম্মা দুজনেই আমার গর্বের কারণ। তারাই আমার ভিত তৈরি করেছেন - যার কারণে আমি আজকের আমি হতে পেরেছি। আমার ভাইদের ব্যাপারে আমি কিছু বলবো না। তারা আমাকে সবসময়ই আদরের ছোটভাই হিসেবেই দেখেছে। আমাকে অনেকে বলেছে আমি বড় ভাইয়ের মত হয়েছি, অনেকে বলেছে মেজ ভাইয়ের মত হয়েছি। কিন্তু আমার মনে হয় আমি সবারই কিছু কিছু গুণ পেয়েছি। সেজ ভাইয়ের সাথে তো আর কি বলবো, সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ছিলাম। তার কাছ থেকে আমি শিখেছি সততা।




...and the best part is - I am myself, I am my own definition

...No other person can have this definition. Period.
Continue reading ...

উবুন্টুতে (ফুল অফলাইন) ডিকশনারি ইন্সটল করা

0 comments

ডিকশনারি - বিরক্তিকর, অথচ কাজের জিনিস:


ডিকশনারি দেখলেই মাথা ধরে যায়। এত ভারী বই, আর পড়ার টেবিলটাকে কতটা হিজিবিজি বানিয়ে রাখে! কত অসহ্য, কিন্তু কাজের সময় আবার খুবই প্রয়োজনীয় জিনিস!

ধরুন আপনি খুব মনযোগ দিয়ে একটা আর্টিকেল লিখছেন। লিখতে লিখতে হঠাৎ একটা শব্দের অর্থ জানার প্রয়োজন পড়লো। শুধু তাই নয়,সাথে সাথে একই অর্থের আরো সুন্দর প্রতিশব্দ আছে কিনা তা খুঁজে দেখতে ইচ্ছে করলো, কি করবেন? অভিধান ঘাটবেন? অভিধান যদি ধারে কাছে না থাকে? চিন্তা নেই, সমাধান আছে।

ডিজিটাল সমাধান


উবুন্টুতে নেট কানেকশন থাকলে কোন টেনশন নেই। ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েই শব্দের অর্থ বের করা যায়। ইন্টারনেটে এমন অঢেল সাইট আছে। শব্দটি লিখে সাথে meaning of দিয়ে সার্চ করলেই শব্দের অর্থ (Definition) এবং প্রতিশব্দ (Synonym) পাওয়া সম্ভব। কিন্তু যদি নেট কানেকশন না থাকে? অথবা কানেক্ট করা যদি ঝামেলার হয়? মনযোগ তো ধরে রাখা চাই, ঝামেলা করলে কি আর মনযোগ ধরে রাখা যাবে? তাহলে তো আপনার একটা অফলাইন ডিকশনারি লাগবে, তাই না? হ্যাঁ, উপায় আছে। সেটাই বলছি...

উবুন্টুর অফলাইন একটি দারুণ ডিকশনারি হচ্ছে Artha. অনেক সময় এটিকে আমার উইন্ডোজের ডিকশনারিগুলোর থেকেও ভাল মনে হয়। আরেকটি ডিকশনারি হচ্ছে GoldenDict. এটি আরেকটু কাস্টোমাইজেবল (এবং এটির উইন্ডোজের ভার্সনও আছে)। গোল্ডেনডিক্ট-এ Oxford বা Cambridge এর মত ডিকশনারিগুলো ব্যবহার করতে পারবেন (যদিও অবৈধভাবে)। তাছাড়া ফ্রি অনেক ডিকশনারিই ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ব্যবহারের আগে এটি কনফিগার করতে হবে। অন্যদিকে Artha (আর্থা) কনফিগার করতে হয় না, সেজন্য একটু সহজ।

প্রথমে সহজ অপশনটি দেখি...

Artha ইন্সটল করার পদ্ধতি:

Artha - offline linux or ubuntu dictionary

উবুন্টুতে Ctrl+Alt+T চেপে একটি টার্মিনাল উইন্ডো ওপেন করুন। এবং যদি আপনি কখনো apt-get update না করে থাকেন তাহলে নিচের কমান্ডটি লিখুন এবং এন্টার করুন:
sudo apt-get update

কিছুক্ষণ সময় নিয়ে আপনার সফটওয়্যার রিপোসিটরি আপডেট হবে।

এখন আপনার উবুন্টু সফটওয়্যার ইন্সটলের উপযোগী হয়ে গেছে। এখন নিচের কমান্ডটি লিখে এন্টার চাপুন:
sudo apt-get install artha

৮ মেগাবাইটের মত ডাউনলোড হবে এবং তারপর নিজে নিজেই Artha ইন্সটল হবে। ইন্সটল হবার পর Dash এ যান (বামদিকের বারটির সবার উপরের বাটনটিতে ক্লিক করে) এবং সার্চ করুন artha। ব্যস! চালু করুন আর শব্দের অর্থ খুঁজে বের করুন পরম আনন্দে!

এবার একটু এ্যাডভান্সড হয়ে যাবো... এবার দেখবো GoldenDict ইন্সটলেশন। Artha দিয়ে যদি আপনার মন না ভরে তাহলে গোলডেনডিক্ট ট্রাই করে দেখতে পারেন।

Goldendict ইন্সটল করার পদ্ধতি:

Goldendict - a cross platform offline and online dictionary

যেহেতু এ্যাডভান্সড ডিকশনারি তাই সংক্ষেপে বলবো, বুঝে নিতে হবে। তবে না বুঝতে পারলে কমেন্ট করে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

টার্মিনাল ওপেন করে এন্টার করুন:
sudo apt-get update;sudo apt-get install goldendict

৮ মেগাবাইটের মত ডাইনলোড হবে এবং গোলডেনডিকট ইন্সটল হবে। এখন এটার ডিকশনারির সফটওয়্যারটি কেবল ইন্সটল হয়েছে, কিন্তু এটার পেট একদম খালি অর্থাৎ এতে ডিকশনারি ডাটাবেজ দিতে হবে, তাহলে সে শব্দের অর্থ দেখাতে পারবে।

GoldenDict কনফিগার করা:


নিচের সাইটগুলো থেকে কিছু ডিকশনারি ফ্রি পেতে পারেন:

http://abloz.com/huzheng/stardict-dic/
http://www.stardict.org/download.php
http://goldendict.org/dictionaries.php


এছাড়া যদি আপনি অক্সফোর্ড এবং ক্যামব্রিজের মত ডিকশনারি ডাউনলোড করতে চান তাহলে আপনাকে টরেন্ট ব্যবহার করতে হবে। এরকম অনেক টরেন্ট পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি হল এটি (http://thepiratebay.se/torrent/5205813)। (টরেন্ট লিংক নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করবেন, এর মধ্যে থাকা কোন বিষয়বস্তুর জন্য আমি দায়ী থাকবো না।)

প্রতিটি ডিকশনারির জন্যই একটি ফোল্ডার/ডিরেকটরি থাকে, সেই ডিরেকটরির ভিতরে ডিকশনারির ফাইলগুলো থাকে। সেই ফোল্ডারগুলো কপি করতে হবে ~/.goldendict/dic ফোল্ডারে। নটিলাস/ফাইল ম্যানেজার ওপেন করুন। এটি Home ফোল্ডারে ওপেন হবে। এখন ctrl+H চাপুন যাতে হিডেন ফাইলগুলো শো হয়। এখন খুঁজে দেখুন .goldendict নামে একটি ফোল্ডার রয়েছে। সেটির ভিতরে dic নামে একটি ফোল্ডার তৈরি করুন এবং dic ফোল্ডারের ভিতর  ডিকশনারির ফোল্ডারগুলো কপি করুন।

এখন গোলডেনডিক্ট চালু করুন এবং F3 চাপুন। Add.. বাটনটি চাপুন। Home ফোল্ডার ওপেন হবে। Ctrl + H চাপুন। .goldendict/dic ডিরেক্টরিতে যান এবং Open ক্লিক করুন।  Rescan চাপুন। দেখবেন .goldendict/dic নামে লিস্টে একটি আইটেম যুক্ত হয়েছে। এটির ডানপাশে থাকা Recursive এর নিচে চেকবক্সটিতে চেক দিন। OK করে বের হয়ে আসুন। এখন যেকোন শব্দ লিখুন আর অর্থ দেখুন!


Continue reading ...
 

Blogroll

Translate This Blog

Copyright © আদনানের ব্লগ Design by BTDesigner | Blogger Theme by BTDesigner | Powered by Blogger