Sunday, February 3, 2013

What I stand for... (আমার নিজের সংজ্ঞা)

জীবনে অনেক সংজ্ঞা পড়েছি। কিন্তু নিজের সংজ্ঞা নিয়ে কখনো ভাবি নি। কথায় আছে- নিজেকে জানো (Know thyself). কথাটা অনেকবার শুনেও কখনো নিজেকে জানার চেষ্টা করি নি। আজ বিকেলে হঠাৎ করেই নিজেকে আবিষ্কার করতে ইচ্ছা করলো। তাই এই লেখা। এই আবিষ্কারটি কোন ল্যাবে ক্ষণিকের প্রচেষ্টায় উৎপন্ন নয়, বরং সারাজীবনের চড়াই উৎরাইয়ের মাধ্যমে তৈরি।

এই লেখাকে অনেকে দাম্ভিক মনে করতে পারেন। তবে এটি সে অর্থে লেখা নয়। এটি নিজেকে বড় প্রমাণ করার জন্য নয় বরং ক্ষুদ্রতার অস্বীকৃতিস্বরূপ লেখা।

গ্রিক ভাষায় লেখা γνῶθι σεαυτόν (Know thyself) [~wikipedia]


আমি আর্ট / শৈল্পিক কাজ পছন্দ করি


শৈল্পিক সৌন্দর্য সবসময়ই আমাকে আকর্ষণ করে। আর্ট ছাড়া আমাদের জীবন তো রসকষহীন, মলিন। আমাদের বাসস্থান থেকে শুরু করে আমাদের পরনের জামা কাপড় পর্যন্ত শিল্পকর্ম। আর্ট আমাদের জীবনে বৈচিত্র নিয়ে আসে। আর্ট/শিল্প হচ্ছে নিজেকে প্রকাশ করার পন্থা। আমি নিজে যদ্দুর শিল্পকে বুঝি তাতে মনে হয়, শিল্প হচ্ছে নিজের মত করে কোন কিছুকে প্রকাশ করা। তা একটি চিত্রকর্মই হোক, ভাস্কর্যই হোক, বা সুন্দর করে কথা বলাই হোক।

আমি ক্রিয়েটিভ কাজ পছন্দ করি


হঠাৎ করে যদি একটি সুন্দর করে আঁকা ছবি দেখি, যদি দেখি তাতে ক্রিয়েটিভিটি আছে, তাতে আমার চোখ অনেকক্ষণ আঁটকে থাকে। কোন একটা ক্রিয়েটিভ বিজ্ঞাপন বা মিউজিক ভিডিও দেখলে সেটি সংগ্রহ করতে ইচ্ছে করে এবং তা বার বার দেখি। এগুলোই তো আমার জীবনের অন্যতম ইন্সপিরেশন।

বিভিন্ন থিউরিকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পছন্দ করি


বিভিন্ন মানুষের সুশৃঙ্খল বিশ্বাসগুলোকে আমরা সাধারণত বই-পুস্তকে থিউরি আকারে পাই। নানাজনের নানা বিশ্বাস রয়েছে। সেগুলোর বাস্তব জীবনে প্রয়োগ এবং সময় অনুযায়ী এর নতুন ইমপ্লিমেন্টেশন নিয়ে ভাবতে পছন্দ করি। বিভিন্ন সংজ্ঞা নিয়েও প্রায়ই ভাবি। যেমন কিছুক্ষণ আগেও একটি মিউজিক ভিডিও দেখতে দেখতে সাহিত্যের সংজ্ঞা নিয়ে ভাবছিলাম। জীবনের বিভিন্ন দিককে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করাকে সাহিত্য বলে - এমনটাই জেনেছি। আবার আমার লিটারেচার পড়ুয়া ভাইয়ের কাছ থেকে জেনেছি সাহিত্য শুধু লেখা অব্স্থায়ই থাকবে - এমনটা নয়। একটি বক্তৃতা বা অডিও রেকর্ডিংও সাহিত্য হতে পারে - যদি সেটি জীবনের বিভিন্ন দিককে তুলে ধরে। আমি যে মিউজিক ভিডিওটি দেখছিলাম তা পুরোই একটি সাহিত্যকর্মের মত। এর প্রতিটি ফ্রেমেই যেন শৈল্পিক সৌন্দর্য, ক্রিয়েটিভিটি এবং জীবনের বিভিন্ন দিক ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে। ভিডিওটি ছিল Royksopp এর Only this moment. আমি একেও সাহিত্যই বলবো, হোক তা একটি ভিডিও। (পরে অবশ্য উইকিপিডিয়ায় "Literature" আর্টিকেলে দেখতে পেলাম যে আজকাল prose হিসেবে ফিল্ম, ভিডিও এমনকি সিরিয়ালকেও সাহিত্যের কাতারে ফেলা হয়।)

সবসময় নিজেকে উন্নত করতে চাই (জীবনকে, ক্যারিয়ারকে) ["সবকিছুই ভাল হবে এবং হতে থাকবে..."]


আমি আমার স্কুল জীবনে চারটি স্কুলে পড়েছি। এবং প্রতিবারই দেখেছি নতুন স্কুলটি আগেরটির চেয়ে একটু উন্নত। কলেজ হিসেবে ইমপিরিয়াল কলেজ ছিল সর্বশেষ স্কুল থেকে একটু প্রসিদ্ধ এবং বিবিএ করছি সিটি কলেজ থেকে যেটি ইমপিরিয়াল থেকে আরেকটু প্রসিদ্ধ। আমার ক্যারিয়ার এখনো বলতে গেলে শুরুই হয় নি। আমি বর্তমানে রঙ পেন্সিল একাডেমিতে শখের একটা শিক্ষকতার চাকরি করি। তাই বলে ক্যারিয়ার নিয়ে পজিটিভ চিন্তা করতে পারবো না তা তো নয়। ... ক্যারিয়ারের চেয়ে উপরে হচ্ছে জীবন। জীবনকেও ক্রমাগত "আপডেট" করে চলেছি। অনেককিছু শিখছি, আয়ত্ব করছি, বুঝছি এবং এগিয়ে চলছি। দিন শেষে বলতে পারি অনেক সুখে আছি, কারণ সকল জ্ঞানীর উপরে আছেন যিনি তার উপর আমার বিশ্বাস আছে অনেক। তিনি আমাকে কখনো নিরাশ করেননি। ক্ষাণিকের অন্ধকার দিলেও পরক্ষণেই তার চেয়েও বেশি আলো দিয়ে জীবনকে ভরে দিয়েছেন। যিনি অহংকার করার একাই অধিকার রাখেন অথচ অহংকার করেন না - আমি তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।

ব্যক্তিত্বকে উন্নত করতে চাই


ব্যক্তিত্বের একটা বড় দিক হচ্ছে কথা, অর্থাৎ কণ্ঠস্বর দিয়ে কতিপয় শব্দের উচ্চারণ। অথচ আমি অবাক হই যখন এই নিছক কয়েকটি শব্দের উচ্চারণ দিয়ে পৃথিবীতে বিশাল ঝড় তোলা যায়। বিভিন্ন বিপ্লবের পেছনে রয়েছে কিছু  অমূল্য শব্দের উচ্চারণ। ...আমি আমার নিজের মত করে নিজেকে গড়ে তুলেছি, আমার নিজের ধ্যান ধারণা দিয়ে। আমি নিজেকে গড়ে তুলতে চাই এমনভাবে যেন আমি সেই শব্দের উচ্চারণের মাধ্যমে মানুষের চেহারায় আলোর ঝলকানি এনে দিতে পারি। আমার জীবনে পাওয়া ক্ষীণ আলোটিকে হাজারগুণে ম্যাগনিফাই করে ছড়িয়ে দিতে চাই অন্যের মাঝে। অন্যকে ছোট করে নয়, বরং পৃথিবীতে তার প্রয়োজনটি উপলব্ধি করিয়ে তার মন জয় করতে চাই। এবং আমার মনে হয় আমি পেরেছিও।

সত্যকে প্রাধান্য দেই / সৎ মানুষকে ভালবাসি / সৎ মানুষের জন্য অতিরিক্ত কিছু করতে আমার আপত্তি নেই


মিথ্যা জীবনের জটিলতা বাড়ায়। মিথ্যা মানুষকে মানুষের বিপরীত বানিয়ে ফেলে। মানুষ যা নয় তাকে দিয়ে তাই করায় - যেমনটা শয়তান করায়। পথভ্রষ্ট হবার চেয়ে পথ চেনা ভাল এবং তাতে পদচারণা ভাল। ভাল সবসময় মানুষের হৃদয়ে ভালরই অনুভূতি জাগায়। আমি এমন মানুষ পছন্দ করি না, যার সাথে কথা বলতে গেলে সাবধানে কথা বলতে হবে, যে আমাকে আমার নিজের কথা দিয়েই আঁটকানোর চেষ্টা করবে সবসময়, আমার চলার পথে বাধা হয়ে দাড়াবে, আমাকে ডাবানোর চেষ্টা করবে। আমি আমার বন্ধু চয়নের সময় সাধারণত খেয়াল করি যে সে লেখাপড়ার ব্যাপারে সিরিয়াস কিনা এবং সে সততাকে প্রাধান্য দেয় কিনা। এধরণের মানুষ সাধারণত কারো ক্ষতি করতে চায় না। আমার সৎ বন্ধুদের জন্য আমি অনেক কিছুই করি যা হয়তো না করলেও চলতো।

আমি যতই নিচে ডেবে যাই ততই উপরে উঠতে পছন্দ করি (Phoenix এর মত)


আত্মার উপলব্ধির চেয়ে বড় কিছু আর নেই। যে ভেতর থেকে উন্নত তাকে কেউ কখনো ছোট করতে পারে না। আমি অনেকবার ডেবে গেছি। মনে হয়েছে যে আর উঠতে পারবো না। কিন্তু ধৈর্য্য রেখেছি সবসময়। কারণ ডেবে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার আগেও হয়েছে। শেষমেশ উঠে এসেছি। মিথোলজিতে একটা অদ্ভূত পাখির কথা লেখা আছে। নাম ফিনিক্স। সেই পাখিটি নতুন একটি ফিনিক্সের জন্ম দেয়ার জন্য নিজের দেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার থেকে আবার নতুন একটি ফিনিক্স জন্ম নেয়। আমি সেই যেন ফিনিক্স পাখির ছাইভষ্ম হয়ে যাই মাঝে মাঝে। আবার সেখান থেকে উঠে আসি। ইস! কখনো যদি এমন একটি পাখি পালতে পারতাম!

নিজের সম্পর্কে নতুন কিছু শিখতে / জানতে পছন্দ করি (এবং প্রতিনিয়তই শিখছি) ...and feel good about myself. ["Rediscovering myself."]


আমাকে যিনি তৈরি করেছেন, তিনি আমাকে এমনভাবে তৈরি করেছেন যে আমি কখনো পুরোনো হই না! প্রতিনিয়তই নতুন কিছু শিখছি - এই আমার ব্যাপারেই। নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করছি। আমার গুণগুলো, আমার দোষগুলো জানতে পেরে আমি আরো উন্নত করছি নিজেকে। নিরন্তর।

নিজে যা বুঝি তাতে বিশ্বাস করি / নিজের জ্ঞানকে প্রাধান্য দেই, ধারণাগুলোকে প্রাধান্য দেই [ অন্যের বিশ্বাসগুলো আমাকে ডাবিয়ে ফেলতে পারে। তবে আমার জ্ঞান যদি আমাকে বলে তাহলে আমার ধারণা পরিবর্তন করতে পিছপা হই না। ]


নিজের ভাল নাকি পাগলেও বুঝে - আর আমি তো... পাগল। মানে হচ্ছে আমি পাগল নই। শুনেছি পাগল কোনদিন নিজেকে পাগল বলে না, তাই বললাম আরকি! যাই হোক, আমি দেখেছি আমার মত অবস্থানে এসে অন্যরা যেখানে ভেঙে পড়ে, আমার মনে হয় আমার যাত্রা সেখান থেকেই যেন আরো তরান্বিত হয়। নদীর স্রোতকে রুখে দিলে যেমন সেটি আরো তীব্র বেগে ছুটে চলতে চায় সেরকমই। ...অন্য মানুষের সাথে আমার বিশ্বাসগুলো অনেকসময় মিলে না। আমি নিজের বিশ্বাসগুলোকে নিজের মত করে তৈরি করেছি। মানুষের বিশ্বাসগুলো নিয়েছি, কিন্তু নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী না হলে নয়। অন্যরা কোনকিছুকে তুচ্ছ করলেও আমি হয়তো সেটারই নতুন উপযোগ খুঁজে পেতে চাই।

আমার বিশ্বাসগুলো অনেক সিম্পল। যেমন আমি বিশ্বাস করি বন্ধু চয়নের ব্যাপারে লেখাপড়া আর সততা - এদুটো দেখলেই চলে। বাকি সবকিছু অটোমেটিক মিলে যাবে। -এটা আমার বিশ্বাস। অন্যকেউ কিছু বললে হুট করে তা বিশ্বাস করার কোন মানে নেই। কোরআন শরীফের বাংলা অনুবাদগুলো এত জঘণ্য, যে কোরআনের অর্থ জানার ইচ্ছাই প্রায় চলে গিয়েছিল। ভুলভাল অনুবাদ আমি হুট করে বিশ্বাস করি নি। কিছুদিন ঘেটে আমি খুঁজে পেলাম "Tafsir Ibn Katheer" (ইংরেজি pdf) এবং কোরআনের প্রতি আমার ধারণাই পাল্টে গেল। তখন আমি আরো দ্বিগুণ বিশ্বাসের সাথে অনুবাদ পড়তে লাগলাম।

I enjoy my silent intelligence (and am ashamed of my babblings)


আমি ছোটবেলা থেকেই কথা কম বলি। যদিও আমার লেখা দেখে তা মনে হয় না! দুঃখিত আমি লেখার সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমার এক জ্ঞানী-গুণী স্যার বলেছিলেন, কেউ খুব বেশি কথা বলা মানে এই নয় যে সে খুব জ্ঞানী হয়ে গেছে এবং তার আশেপাশের চুপচাপ মানুষগুলো নির্বোধ।

ক্রিয়েটিভ চিন্তা করতে পছন্দ করি


আমি অন্যদের মত করে সবকিছু না করে আমার নিজের মত করে করতে পছন্দ করি। এবং ক্রিয়েটিভ চিন্তা করতে পছন্দ করি। হয়তো স্টপ মোশন এ্যানিমেশন, স্কেচ, ফিল্মমেকিং, ডিজাইন, টেকনোলজি নিয়ে চিন্তা করছি। কখন যে খাবার দাবার ঠাণ্ডা হয়ে পানি হয়ে গেছে তা খেয়াল নেই। আর আম্মার বকুনি!

নিজেকে ক্রিয়েটিভলি প্রকাশ করতে পছন্দ করি (through creative works)


প্রতিটি মানুষই আলাদা। তার নিজেকে প্রকাশ করাটাও তাই আলাদা হওয়া উচিৎ। আমি ক্রিয়েটিভিটিকে প্রাধান্য দেই। আমার কাজেও ক্রিয়েটিভিটি আনতে পছন্দ করি।

মানুষের আচরণকে ব্যাখ্যা করতে পছন্দ করি


মানুষের প্রতিটি আচরণের পেছনেই একটি কারণ থাকে। আমি আচরণের এভোলিউশন নিয়ে ভাবতে পছন্দ করি। মানুষ আজকে যা, তা আসলে তার জীবনে ঘটে যাওয়া সব ঘটনার সামারি। সে সেরকমই আচরণ করবে যার প্রভাব তার উপর সবচেয়ে বেশি। কেউ একজন হয়তো গরিব মানুষ দেখতে পারে না। তাকে সমাজ হয়তো ভাল চোখে দেখতে পারবে না। কিন্তু হয়তো এমন ঘটনা তার জীবনে ঘটেছে যে সে গরিবদেরকে বিশ্বাস করতে পারে না। হয়তো কোন মানুষ তাকে দারিদ্র্যতা দেখিয়ে তার সাথে প্রতারণা করেছে। তার আচরণই বলে দেবে সে কোন ঘটনার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছে।

I am proud about my family


আমার আব্বার কাছে ছোটবেলায় যখন টাকা চাইতাম তখন হুট করে আমাকে দিত না। আমাকে হয়তো আব্বার ব্যায়ামের মেশিন বা আরাম কেদারাটা পরিষ্কার করতে দিত, অথবা ঘরের কোন কাজ। পরিষ্কার করতে পারলে তখন টাকা পেতাম। এতে করে আমার মধ্যে কখনো অহংকার কাজ করেনি। বরং শ্রমের মূল্য বুঝতে শিখেছি। আমার আম্মা কখনো কারো সাথে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে কখনো ঝগড়া করে নি। অন্তত আমি দেখি নি। সবসময়ই ধীরস্থির এবং শান্ত বলেই জানি। আমার আম্মার কাছ থেকে আমি ধৈর্য্যের শিক্ষা পেয়েছি। আমার আব্বা-আম্মা দুজনেই আমার গর্বের কারণ। তারাই আমার ভিত তৈরি করেছেন - যার কারণে আমি আজকের আমি হতে পেরেছি। আমার ভাইদের ব্যাপারে আমি কিছু বলবো না। তারা আমাকে সবসময়ই আদরের ছোটভাই হিসেবেই দেখেছে। আমাকে অনেকে বলেছে আমি বড় ভাইয়ের মত হয়েছি, অনেকে বলেছে মেজ ভাইয়ের মত হয়েছি। কিন্তু আমার মনে হয় আমি সবারই কিছু কিছু গুণ পেয়েছি। সেজ ভাইয়ের সাথে তো আর কি বলবো, সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ছিলাম। তার কাছ থেকে আমি শিখেছি সততা।




...and the best part is - I am myself, I am my own definition

...No other person can have this definition. Period.

2 comments:

John said...

Great content shared. Thanks for the best article. Unique strong dog names

happy wheels said...

Your feedback helps me a lot, A very meaningful event, I hope everything will go well

 

Blogroll

Translate This Blog

Copyright © আদনানের ব্লগ Design by BTDesigner | Blogger Theme by BTDesigner | Powered by Blogger