Wednesday, May 15, 2013

উবুন্টু 13.04: ব্যবহারের জন্য কাজের কিছু টিপস

0 comments
উবুন্টু ১৩.০৪ ব্যবহারের আগে প্রস্তুত করে নিন
উবুন্টু ১৩.০৪ ব্যবহার করে অনেক মজা পাচ্ছি। আগে যেমন উুবুন্টু'র ইউনিটিকে স্লো মনে হত, এখন তা মনে হচ্ছে না। উইন্ডো সুইচিং এবং সাইডবারের কিছু ফিচার দেখে আমি মুগ্ধ। কিন্তু কিছু ডিফল্ট সেটিংস পরিবর্তন করে নিলে আপনার অভিজ্ঞতা আরো আনন্দদায়ক ও আরামদায়ক হবে। এগুলোরই একটি সংক্ষিপ্ত লিস্ট এই পোস্টে দিচ্ছি।

১২.১০-এর ঝক্কি আর ঝামেলা

১২.১০ (Quantal Quetzal) ব্যবহার করে আমি হতাশ হয়েছিলাম। পেনড্রাইভ থেকে চালিয়ে দেখি NTFS ড্রাইভ মাউন্ট হয় না। অর্থাৎ আমি আমার হার্ডডিস্ক এ্যাক্সেস করতে পারছি না! পরে আমার ল্যাপটপে সার্চ দিয়ে সমাধান বের করলাম পরে এক্সেস করতে পারলাম। আর ১২.১০ কে আমার ল্যাপটপে ইউজ করতে গিয়ে দেখি সেটি কমান্ড লাইনে বুট হয়! গ্রাফিকাল উন্টারফেসই আসে না!! গ্রাফিকাল ইন্টারফেস আনার জন্য আবার একটা ফাইল এডিট করতে হয়। তারপরও পারফরমেন্স ভাল নয়, ভিডিও থেমে থেমে দেখায়। এসব ঝামেলার জন্য ১২.১০ থেকে ১০০ হাত দূরে ছিলাম। ১২.০৪.১ ই ব্যবহার করছিলাম। যদিও নতুন নতুন ফিচারগুলো মিস করছিলাম।

১৩.০৪-এর সুবিধা

তবে ১৩.০৪ (Raring Ringtail) দেখে আমার মন ভরে গেল। ইউনিটি ইন্টারফেস এখন আর আগের মত বোরিং রঙের মনে হচ্ছিল না। সবকিছুই কেমন যেন উজ্জ্বল-ঝলমলে। সাইডবার এ্যানিমেশনগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক ফাস্ট। হার্ডডিস্ক ড্রাইভগুলো সব সাইডবারেই স্থান পাচ্ছে। উইন্ডো সুইচিং এখন আগের চেয়ে ফাস্ট হয়েছে। কোনো প্রোগ্রামের (যেমন ফাইল ম্যানেজারের অনেকগুলো উইন্ডো খোলা থাকলে) তার আইকনের উপর মাউস রেখে মাউস স্ক্রল করলেই সুইচ করা যাবে সবগুলো উইন্ডোর মধ্যে। আবার ক্লিক করলে Compiz Spread আকারে সব উইন্ডো স্ক্রিনে আসবে (যেটি আগের ভার্সনগুলোর মত ঝামেলাজনক নয়, বরং অনেক ফাস্ট যা কাজে বাধা সৃষ্টি করে না।)

ড্যাশে এখন স্টুপিড টাইপিং করা যাবে এবং তারপরও সঠিক প্রোগ্রামটি খুঁজে বের করতে পারবে। যেমন: rite লিখলেও, যদিও সেটি বানান ভুল তারপরও LiberOffice Writer এনে দেখাবে। ড্যাশের কোন প্রোগ্রামে রাইট ক্লিক করলে প্রোগ্রামটি সম্পর্কে বিস্তারিত দেখাবে।

আমি ১৩.০৪ ব্যবহার করবো বলে ঠিক করেছি। তবে এটির কিছু ফিচার এবং সেটিংস ঠিকঠাক করে নিলে এটি আরো বেশি ব্যবহার-উপযোগী হবে।

পেনড্রাইভে উবুন্টু ইন্সটল করার পদ্ধতি

আপনার যদি ২জিবি বা তার বেশি স্পেসওয়ালা পেন ড্রাইভ থেকে থাকে তাহলে এটি দিয়ে আপনি কম্পিউটারে উবুন্টু ব্যবহার করতে পারবেন। এমনকি আপনার ইন্সটল করা সমস্ত সফটওয়্যার ও সেটিংসও আপনার পেনড্রাইভে সংরক্ষিত থাকবে। আপনি জাস্ট যেকোন কম্পিউটারে BIOS সেটাপের Boot অপশন থেকে পেনড্রাইভকে এনাবল করে, বা পেনড্রাইভ ডিভাইসটিকে লিস্টের উপরে নিয়ে পেনড্রাইভটি থেকে উবুন্টু চালু করতে পারবেন। এবং কাজ শেষে আপনার উবুন্টুটিকে পকেটে নিয়ে ঘুরতে পারবেন! কোনো কম্পিউটারে হার্ডডিস্ক নেই? সমস্যা নেই! পেনড্রাইভটি দিয়ে দিব্যি সেই কম্পিউটারটি চালাতে পারবেন, হার্ডডিস্ক ছাড়াই!!

এজন্য আপনার পেনড্রাইভে 1.5GB এর মত বা তার বেশি জায়গা থাকতে হবে। আপনি এতে অন্যান্য ফাইলও রাখতে পারবেন নরমাল পেনড্রাইভের মতই। (তবে ফরম্যাট করলে কিন্তু সব ফাইল চলে যাবে।) প্রথমেই Ubuntu.com থেকে ubuntu 13.04 এর desktop ISO টি নামিয়ে নিন। তারপর এই ওয়েবপেজ থেকে Universal USB Installer ডাউনলোড করুন। এখন Universal USB Installer (UUI) চালু করুন।


Ubuntu 13.04 সিলেক্ট করুন। আপনার পেন ড্রাইভের ড্রাইভ লেটারটি দেখিয়ে দিন। (Format অপশনটি ডিস্যাবল করে রাখলে আপনার পেনড্রাইভে থাকা ফাইলগুলোর কিছু হবে না।) এখন Persistent ফাইল তৈরির অপশনও দেখতে পাবেন। আপনার সেটিংস ও সফটওয়্যার সেভ করে রাখার জন্য  একটি Persistent ফাইলের প্রয়োজন হবে (ফাইলটির নাম হবে casper-rw)। এটি আপনি পরে রিসাইজও করতে পারবেন। চাইলে মুছে আবার নতুন করে তৈরিও করতে পারবেন। এজন্য TopoResize নামে একটি প্রোগ্রাম রয়েছে। (বিস্তারিত এখানে)

পারসিস্টেন্ট ফাইলটি মোটামুটিভাবে 600MB রাখা উচিৎ। তবে আপনি যদি আরো সফটওয়্যার ইন্সটল করতে চান তাহলে এটিকে 4GB পর্যন্ত ম্যাক্সিমাম বাড়াতে পারবেন। Create বাটনে ক্লিক করুন। একসময় পেন ড্রাইভটি তৈরি হয়ে যাবে।

Try/Install Screen দূর করা

উবুন্টুর পেনড্রাইভটি লোড করলে দেখবেন প্রতিবার একটি Try It / Install Ubuntu এরকম একটি ডায়লগবক্স এসে আপনাকে বিরক্ত করবে। Ubiquity নামক এই সেটাপ অপশনটিকে ডিস্যাবল করার জন্য বুট অপশনে quiet যোগ করে দিন। যারা জানেন না তাদের জন্য পদ্ধতিটা বলছি:
বুট হবার সময় দেখবেন একসময় খালি স্ক্রিনে নিচের দিকে একটা কিবোর্ড আর একটা মানুষের চিহ্ন আছে। সেই স্ক্রিনটি আসা মাত্রই দেরি না করে যেকোন একটি Key প্রেস করুন। ভাষা নির্বাচনের জন্য এন্টার চাপুন। এখন F6 চাপুন, তারপর Esc চাপুন। এখন আপনি বুট প্যারামিটারগুলো দেখতে পাবেন। এখন একটা স্পেস চেপে quiet লিখে এন্টার চাপুন। এখন আপনার দেয়া বুট প্যারামিটার অনুযায়ী বুট হবে। দেখবেন Ubiquity আর আসছে না।

যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে এটাকে স্থায়ীভাবে বুট অপশনে যোগ করে দিতে পারেন। আপনার পেনড্রাইভের syslinux/txt.cfg ফাইলের label live লাইনটির নিচে দেখুন splash -- লেখা আছে। splash কথাটির পরে quiet শব্দটি যোগ করে দিয়ে সেভ করুন। খেয়াল রাখবেন যেন quiet শব্দটির আগে ও পরে অন্তত একটি স্পেস থাকে। (সূত্র)

আমার ওয়ালপেপার পরিবর্তনের পরও দেখছিলাম যে রিবুটের পর উবুন্টু সেটি মনে রাখছে না। এটি ব্যবহার করে দেখলাম আমার ওয়ালপেপার মনে রাখছে! ভালই হল, এক ঢিলে দুই পাখি!

ড্যাশে অনলাইন বিজ্ঞাপন/ওয়েবসাইট সার্ভিস বন্ধ করা

উবুন্টু ১৩.০৪-এ ড্যাশে আপনি যখন সার্চ করবেন তখন আপনার সার্চ টার্ম অনুযায়ী বিভিন্ন বিজ্ঞাপন বা ওয়েবসাইট থেকে ডাটা নিয়ে আসবে। এতে করে আপনার প্রাইভেসি লঙ্ঘিত হতে পারে বা আপনার ইন্টারনেট খরচ বেড়ে যেতে পারে। এজন্য:

ড্যাশে গিয়ে সার্চ করুন privacy এবং Privacy তে ক্লিক করুন। When searching in the dash: include online search results এর ডান পাশে সুইচটি Off করে দিন।

সোয়াপ ফাইল কমিয়ে উবুন্টুকে ফাস্ট করা (+ল্যাপটপকে ঠাণ্ডা রাখা)

উবুন্টু ডিফল্ট হিসেবে সোয়াপ সেটিংস 60 করে রাখে। এতে করে হার্ডডিস্কে বেশিবার এ্যাক্সেস করতে হয় আর তখন পিসি স্লো হয়ে যায়, কারণ হার্ডডিস্ক র‍্যামের তুলনায় স্লো। তাই বেশিরভাগ কাজ যেন র‍্যামেই হয় সেজন্য সোয়াপ সেটিংস কমিয়ে রাখা উচিৎ। এতে একদিকে যেমন কম্পিউটার ফাস্ট হবে তেমনি হার্ডডিস্কের উপর চাপ কমবে। এছাড়াও যারা ল্যাপটপে উবুন্টু ব্যবহার করতে চান তারা অবশ্যই এটি সেট করতে ভুলবেন না (এতে ল্যাপটপ দীর্ঘক্ষণ ঠাণ্ডা থাকবে)।

টার্মিনাল খুলুন (Ctrl+Alt+T) এবং রান করুন:
cat /proc/sys/vm/swappiness

এখন আপনার Swap সেটিংস বা Swappiness দেখাবে। 60 হচ্ছে ডিফল্ট সেটিংস। আমরা এটিকে কমাবো।

রান করুন:
gksudo gedit /etc/sysctl.conf

সবার নিচের লাইনে কপি-পেস্ট করুন:
# Decrease swap usage to a workable level
vm.swappiness=10

(বি.দ্র.: যদি আপনার RAM 1GB এর কম হয় তাহলে 10 এর জায়গায় 5 দিন।)

সেভ করে বেরিয়ে আসুন এবং রিস্টার্ট করুন। রিস্টার্টের পর cat /proc/sys/vm/swappiness রান করে দেখুন এখন 10 বা 5 দেখাবে, যেটি আপনি সেট করেছেন।

(বিস্তারিত দেখুন এখানে)

সফটওয়্যার রেপো আপডেট করে ইন্সটলের প্রস্তুতি নেয়া

ডিফল্ট হিসেবে সফটওয়্যারের ডাটাবেজটিতে সবগুলো রেপো সোর্স ব্যবহৃত হয় না। আমরা এভাবে সব সফটওয়্যার ইন্সটল করতে পারবো না। এজন্য আমাদেরকে সব সফটওয়্যারের ডাটা আপডেট করতে হবে।

ড্যাশ খুলে সার্চ করুন software । Software & Updates -এ ক্লিক করুন। এখানে main, universe, restricted, multiverse এবং source code এই ৫টি চেকবক্সে চেক/টিক দিন। মিরর সার্ভার অপশনে বাংলাদেশের কোনো মিরর (যেমন: ispros.com.bd) সিলেক্ট করে দিলে ডাউনলোড স্পিড ভালো পাবেন। Close এ ক্লিক করুন।

এখন দুটি উপায়ে আপডেট করতে পারেন:
১. ড্যাশে গিয়ে update লিখুন এবং Software Updater এ ক্লিক করে... অথবা
২. Terminal এ sudo apt-get update রান করতে পারেন।

এখন Software Center বা sudo apt-get install xxxyyyzzz এর মাধ্যমে সফটওয়্যার ইন্সটল করতে পারবেন।

ইউনিটি অনেক স্লো হলে করণীয় (বিকল্প Gnome ইন্টারফেস ব্যবহার)

Unity2D এখন বিলুপ্ত। এখন ইউনিটির ইন্টারফেস থ্রিডি ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে চলে, তাই এটির নাম Unity3D। অনেক সময় গ্রাফিক্স কার্ড থ্রিডি ক্যাপাবল/GPU enabled না হলে ইউনিটি অনেক স্লো কাজ করতে পারে। ইউনিটি থ্রিডি যারা চালাতে পারেন না তাদেরকে বলা হয় Xubuntu বা Lubuntu চালানোর জন্য। কিন্তু আমি একটা উপায় বের করেছি। এজন্য বিকল্প Gnome ইন্টারফেস ব্যবহার করা যেতে পারে। আমি এটা আমার Live USB পেনড্রাইভের জন্য ব্যবহার করি। যখনই কোনো কম্পিউটারে ইউনিটি স্লো হবে তখনই লগআউট করে Gnome ইন্টারফেসে লগইন করি। আমার ইন্সটল করা সব সফটওয়্যারই সেখানে ব্যবহার করা যায়, তবে ফাস্ট এনভায়রনমেন্টে!

(এখানে আরেকটি অপশন আছে যেটি আমার ক্ষ্রেত্রে কাজ করে নি। তবে ট্রাই করে দেখতে পারেন।)

এজন্য টার্মিনালে রান করুন:
sudo apt-get install gnome-panel

এখন লগআউট করুন (উপরে ডানদিকে কাঁটার মত চিহ্নওয়ালা System menu টি থেকে লগআউট অপশনটি পাবেন)।
[[[
আপনি যদি LiveUSB থেকে উবুন্টু রান করেন তাহলে হয়তো লগআউটের অপশনটি পাবেন না। লগআউটের জন্য টার্মিনালের একটি কমান্ড রয়েছে:
/usr/lib/indicator-session/gtk-logout-helper --logout

লগআউটের কাজটি সহজ করতে-
Alt+F2 চাপুন এবং রান করুন:
gedit ~/.bash_aliases
ফাইলটিতে নিচের লাইনটি যোগ করুন:
alias log-out="/usr/lib/indicator-session/gtk-logout-helper --logout"
সেভ করুন এবং জিএডিট ক্লোজ করুন।
এখন আপনি টার্মিনাল বা Alt+F2 Run Dialog-এ log-out লিখলেই লগ আউট করতে পারবেন।
]]]

এখন লগইন স্ক্রিন দেখতে পাবেন। এখানে উবুন্টুর চিহ্ন ওয়ালা বাটনটিতে ক্লিক করুন এবং GNOME Fallback (No effects) এ ক্লিক করুন। তারপর আপনার উইজারনেম আর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। (LiveUSB তে ইউজারনেম চাইলে ubuntu লিখে এন্টার করুন এবং পাওয়ার্ড চাইলে কিছু না লিখে এন্টার চাপুন।)

ডেস্কটপে রাইট ক্লিক মেনু এনাবল করা

উবুন্টু ১৩.০৪-এ ডেস্কটপে রাইট ক্লিক মেনু ডিফল্ট হিসেবে ডিস্যাবল করা থাকে। অবাক হবার মতই কথা! তবে সেটিকে এনাবল করার জন্য টার্মিনালে রান করুন:
gsettings set org.gnome.desktop.background show-desktop-icons true

এরপর রিস্টার্ট করুন।

ওয়ালপেপার এনাবল করা

উবুন্টু ১৩.০৪ এ ওয়ালপেপার সেটিংস সেভ হয়ে থাকে না। সেভ করে রাখার জন্য:
gsettings set org.gnome.settings-daemon.plugins.background active true

এরপর রিস্টার্ট করুন।

স্টার্টআপ এ্যাপ্লিকেশন বাছাই করা (স্টার্টআপ ফাস্ট করুন)

ড্যাশ থেকে startup লিখে Startup Applications এ যান। এখানে উবুন্টু স্টার্ট হবার সময় যত এ্যাপ্লিকেশন লোড হয় সেগুলো এখানে দেখানোর কথা। অনেকটা উইন্ডোজের msconfig এর মত। দেখবেন সেটি খালি। তাহলে কি উবুন্টু চালু হবার সময় কিছুই রান হয় না? হয়, কিন্তু সেগুলো লুকানো অবস্থায় থাকে।

উইন্ডোটি ক্লোজ করে টার্মিনালে রান করুন:
sudo sed -i 's/NoDisplay=true/NoDisplay=false/g' /etc/xdg/autostart/*.desktop

এটি একবার রান করলেই যথেষ্ট, পরবর্তীতে আর রান করতে হবে না।

এখন আবার Startup Applications এ যান। এখন দেখবেন সেখানে সব আইটেম দেখাচ্ছে। আমি এখান থেকে যেসব ফিচার ব্যবহার করি না সেগুলো ডিস্যাবল করে দিয়েছি। যেমন: Backup monitor, Ubuntu One, Update Notifier ইত্যাদি। আপনার ক্ষেত্রে ডিস্যাবল করা আইটেমগুলো অন্যরকম হতে পারে কারণ সবাই একই ফিচার ব্যবহার করে না। আপনি যেগুলো ব্যবহার করেন না সেগুলো ডিসাবল করে দেখতে পারেন। তবে এটা করবেন নিজ দায়িত্বে। যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে আমি দায়ী নই!

টার্মিনাল নির্দিষ্ট ডিরেক্টরিতে ওপেন করুন রাইট ক্লিক করে

ডিরেক্টরির ভিতরের ডিরেক্টরি, তার ভিতর আবার ডিরেক্টরি। এমন অবস্থায় cd করে সবচেয়ে গভীরের ডিরেক্টরিতে যাওয়া যে কতটা বিরক্তিকর ও সময়ের কাজ তা অনেকেই জানেন। এজন্য একটি প্যাকেজ আছে যেটি ইন্সটল করে নিলে যেকোন ফোল্ডারে টার্মিনাল ওপেন করা যাবে। সফটওয়্যারটি হচ্ছে nautilus-open-terminal। ইন্সটল করতে টার্মিনালে রান করুন:

sudo apt-get install nautilus-open-terminal

তারপর নটিলাসকে রিসেট করার জন্য রান করুন:

nautilus -q

অডিও ভিডিও কোডেক সাপোর্ট

উবুন্টুতে ডিফল্ট হিসেবে অডিও ভিডিও কোডেক ইন্সটল করা থাকে না। তাই কমন মিডিয়া ফাইল যেমন mp3, wma, wav, mp4, avi, flv, mkv ফাইলগুলো চালানো যায় না। এজন্য নিচের কমান্ডটি রান করুন:

sudo apt-get install ubuntu-restricted-extras

আমার এটাতেই হয়ে যায়। তবে অনেকে এনক্রিপটেড ডিভিডি চালান যেজন্য আরো কিছু কাজ করতে হবে। বিস্তারিত এখানে দেখুন

VLC Media Player ইন্সটল করা

VLC Media Player এমন একটি প্লেয়ার যেটিতে সব ফরম্যাটের অডিও-ভিডিও চলে। এটি খুব জনপ্রিয় একটি মিডিয়া প্লেয়ার তা নিশ্চয়ই আর বলার প্রয়োজন নেই।

VLC Media Player ক্রস-প্লাটফর্ম। তাই উবুন্টুর নেটিভ ভার্সন ব্যবহার করতে পারবেন। ইন্সটলের জন্য রান করুন:
sudo apt-get install vlc

যদি আপনি ভাল ফ্রেম রেটে ভিডিও দেখতে না পান তাহলে নিচে "স্লো ভিডিও সমস্যার সমাধান" শিরোনামটি দেখুন।

ফ্ল্যাশ প্লেয়ার ইন্সটল করা


টার্মিনাল খুলে রান করুন:
sudo apt-get -y install adobe-flashplugin

ইন্সটল হবার পর এই পেজে যান। এখানে যদি ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ভার্সন দেখায় (যেমন 11.2.xyz) তাহলে বুঝবেন যে ফ্ল্যাশ প্লেয়ার ইন্সটল হয়েছে।

এতে কাজ না হলে এখানে দেখুন

ইউনিজয় দিয়ে বাংলায় টাইপ করা

আমরা বাংলা লিখতে বিজয় কিবোর্ড লেয়াউটে অভ্যস্থ। বাংলাদেশে বিজয় লেযাউট মুদ্রিত কিবোর্ড দেদারসে পাওয়া যায়। ইউনিকোডে লিখতে গেলে ইউনিজয় লেয়াউটটা বিজয়ের কাছাকাছি যায়। উবুন্টুতে ইউনিজয় দিয়ে টাইপ করা যায় সহজেই।

টার্মিনালে রান করুন:
sudo apt-get install ibus-m17n m17n-db m17n-contrib ibus-gtk

এখন ড্যাশ খুলে ibus রান করুন। ibus কে স্টার্টআপে Service হিসেবে চালু করবে কিনা এরকম একটি ম্যাসেজ আসবে। তাতে Yes চাপুন। এখন যে ডায়লগটি আসবে তার Input Method ট্যাবে যান এবং Customize active input methods চেকবক্সে চেক দিন। Select an input method ড্রপডাউন মেনু থেকে Bengali > unijoy (m17n) এ ক্লিক করুন। Add বাটনে ক্লিক করুন।
(স্ক্রিনশটসহ বিস্তারিত দেখুন এখানে)

এখন চাইলে আপনি ওকে করে বেরিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু এতে করে Ctrl+Space চেপে আপনাকে টাইপের ভাষা পরিবর্তন করতে হবে। তবে আপনি যদি উইন্ডোজের মত Left Alt + Left Shift দিয়ে টাইপের ভাষা পরিবর্তন করতে চান তাহলে একটু কষ্ট করতে হবে। General ট্যাবে গিয়ে Next Input Method বক্সের কিবোর্ড শর্টকাটটিকে Control+Alt+Shift_L এ রূপান্তরিত করুন। তারপর Enable or Disable বক্সে Alt+Shift_L যোগ করুন।

যদি উবুন্টুর নিজস্ব কিবোর্ড লেয়াউট অপশনটি আপনার পথে বাধা সৃষ্টি করে তাহলে সেটিতে ক্লিক করুন, Keyboard Layout Settings... এ যান এবং English (US) অপশনটি ছাড়া সবগুলো লেয়াউট একে একে সিলেক্ট করে মাইনাস (-) চিহ্নিত বাটনটি দিয়ে ডিলিট করে দিন।

স্লো ভিডিও সমস্যার সমাধান

উবুন্টুর ডিফল্ট মিডিয়া প্লেয়ার হচ্ছে Totem। এটির ভিডিও প্লেব্যাক ভালই, তবে লো কনফিগারেশনে এটিতে ভিডিও দেখতে গেলে খবর হয়ে যায়। ভিডিও এমন আঁটকে আঁটকে চলবে যে ভিডিও দেখার মজাই চলে যাবে। আমার HPMini 110TU, N2600 Intel Atom dualcore 2GHz, 2 GB RAM, GMA3600 -তে এই সমষ্যা হয়, কারণ Intel বাদরামি করে গ্রাফিক্সকার্ড GMA3600 এর ড্রাইভার আপডেট করে নি। তাই GPUটা পুরোই অকাজের রয়ে গেছে। এজন্য অবশ্য ইন্টেলের নামে অনেকে অনেক অভিযোগও করেছে, কিন্তু কোনো লাভ হয় নি।

Parole নামে একটি মিডিয়া প্লেয়ার আছে যেটি Totem এর চাইতেও ভাল ফ্রেম রেটে ভিডিও দেখাতে পারে। Parole, Xubuntu এর ডিফল্ট মিডিয়া প্লেয়ার। সেখান থেকেই এর সন্ধান পাওয়া।

টার্মিনাল খুলে রান করুন:
sudo apt-get install parole

এতে প্যারোল মিডিয়া প্লেয়ার ইন্সটল হবে। এটি চালু করুন এবং ভিডিও চালিয়ে টেস্ট করুন। যদি কোনো ম্যাসেজ দিয়ে প্লে না হয় তাহলে নিচের কমান্ডটি একবারই রান করুন:
parole --xv false

প্যারোল বন্ধ করে আবার চালু করুন এবং টেস্ট করুন। আশা করি কাজ হবে।

System Program Problem Detected এরর ম্যাসেজ দূর করা

এটা ইদানীংকার উবুন্টুগুলোতে খুব দেখা যায়। ১০.১০ বা তার আগের উবুন্টুগুলোতে এটা আসতো না। সবচেয়ে বিরক্তিকর ব্যাপার হল এটি একবার দেখালেই শেষ না। রিবুট করার পরও একই এরর বার বার দেখায়। এই বিরক্তিকর অবস্থা দূর করার জন্য টার্মিনালে রান করুন:
sudo rm /var/crash/*

(সূত্র)

Ubuntu has experienced an internal error বা The application xyz has closed unexpectedly এরর ম্যাসেজ দূর করা (Apport ডিস্যাবল করা)


Apport নামে একটি প্রোগ্রাম কোনো এ্যাপ্লিকেশন ক্র্যাশ করলে ক্র্যাশটি সম্পর্কে তথ্য উবুন্টু টিমের কাছে পাঠায়। এটির কোনো প্রয়োজন নেই। তাই এটি ডিস্যাবল করতে পারেন।

টার্মিনালে রান করুন:
sudo gedit /etc/default/apport

enabled=1 লাইনটির 1 মুছে 0 লিখে সেভ করে বেরিয়ে আসুন। রিস্টার্ট করুন বা লগআউট করে লগইন করুন। (সূত্র)

মাইক্রোসফট অফিস ২০০৭ ইন্সটল করা

আমরা যারা লেখালেখি করি তারা মাইক্রোসফট অফিস ব্যবহার করি। যদিও উবুন্টুতে LibreOffice ডিফল্ট হিসেবে ইন্সটল করা থাকে তবে কম্প্যাবিলিটির কথা চিন্তা করে এমএস অফিসও ইন্সটল করতে পারেন। এমএস অফিস ইন্সটল করার জন্য আপনার পারসিসটেন্স স্টোরেজ ফাইলটি (casper-rw) -তে কমপক্ষে ১ থেকে ১.৫জিবি জায়গা খালি থাকা উচিৎ। কত স্পেস খালি আছে তা দেখতে উবুন্টু থেকে ফাইল ম্যানেজার খুলে Computer অপশনে ক্লিক করুন। এখন খালি জায়গায় রাইট ক্লিক করে Properties এ ক্লিক করলে Free Space কতটুকু আছে  তা দেখতে পাবেন। আর ইন্সটল করার সময় আজেবাজে জিনিস যেমন Groove,Infopath,Outlook ইত্যাদি Do not install দিয়ে দেয়া ভাল। এতে করে আপনার স্পেস খামখা নষ্ট হবে না। এজন্য Install Now না দিয়ে Custom Install দিলে ভাল।

Wine+Winetricks ইন্সটল করুন:
sudo apt-get install wine1.4 winetricks wine-gecko1.4

ওয়াইন ইন্সটল হবার পর আপনার অফিস ২০০৭ এর সিডি প্রবেশ করান (বা নোটবুকের ক্ষেত্রে পেনড্রাইভে কপি করে নিতে পারেন)। এখন Setup.exe তে রাইট ক্লিক করে Wine Program Loader সিলেক্ট করুন। এখন আপনি উইন্ডোজের মতই সেটাপটি করতে পারবেন। (তবে আরো ভাল একটি গাইডের জন্য এখানে বিস্তারিত দেখুন)

(আমি এতে বিজয় ২০০৩ কাজ করাতে পারি নি। যদিও Puppy Linux এ wine1.1 দিয়ে খুব ভালই বিজয়ে টাইপ করতে পেরেছি। উবুন্টুতেও wine1.1 দিয়ে বিজয় ২০০৩ কাজ করতে পারে। ট্রাই করে দেখতে পারেন।)

দরকারী কিছু সফটওয়্যার

উবুন্টু ব্যবহার করতে গেলে কিছু কমন সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। উইন্ডোজের সফটওয়্যারগুলো Wine দিয়ে সেটাপ+চালানো সম্ভব। তবে আপনি যদি নেটিভ সফটওয়্যার চান তাহলে উবুন্টুতে বিকল্প সফটওয়্যার রয়েছে:

[ উইন্ডোজের সফটওয়্যার -> উবুন্টুতে বিকল্প ]
ফটোশপ -> Gimp
ইলাস্ট্রেটর -> Inkscape
CoolEdit/Sony SoundForge -> Audacity
VLC Media Player -> VLC Media Player (ভিএলসির উবুন্টু ভার্সনও আছে!)
CuteFTP -> Filezilla
কোয়ার্ক এক্সপ্রেস -> Scribus
থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স/Maya -> Blender
Adobe Premier/Sony Vegas -> Avidemux
গুগল টক/Yahoo! ম্যাসেঞ্জার/MSN Messenger -> Pidgin
Opera -> Opera
Google Chrome -> Chromium / Iron
WAMPP -> XAMPP
WinZip/WinRAR -> 7-zip
Adobe Acrobat Reader -> Evince (ডিফল্ট), SumatraPDF
Adobe Acrobat -> PDFEdit
MS Office Frontpage -> Kompozer

এছাড়াও...
ওয়েবক্যামের জন্য -> guvcview / cheese
টিভি কার্ড ব্যবহারের জন্য -> TVTime
এনক্রিপশনের জন্য -> TrueCrypt
এ্যাপলিকেশন ডেভেলপমেন্টের জন্য -> Eclipse, Netbeans, Lazarus, Monodevelop
Source code/plain text এডিট করার জন্য  -> Editra, Medit, SciteTE
হিসাব রাখার জন্য -> Homebank (ব্যক্তিগত), GnuCash (প্রাতিষ্ঠানিক)
এ্যানিমেশন তৈরি করার জন্য -> Synfig
ফ্রিহ্যান্ড আঁকার জন্য ->  MyPaint, Pencil, Xara Xtreme for Linux
এবং আরো হাজার হাজার এ্যাপস রয়েছে আপনার নির্দিষ্ট কাজের জন্য। সফটওয়্যার সেন্টারে গিয়ে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত সফটওয়্যার।

Software Center থেকে সার্চ করে খুব সহজেই এগুলো ইন্সটল করতে পারবেন। সফটওয়্যারের পেজ থেকে File মেনু থেকে Install দিতে হবে (Install বাটনটি কাজ করে না)।

আরো কিছু কাজের লিংক

উবুন্টুতে কিছু কমন bug বা ত্রুটি আছে। এগুলোর সমাধান পেতে পারেন এখানে
Ubuntu 13.04 এ কিছু জানা শোনা ত্রুটি আছে যেগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন এখানে
এখানে একটা মেগা পোস্ট আছে উবুন্টু ১৩.০৪ নিয়ে: To do list after installing Ubuntu 13.04

Continue reading ...
 

Blogroll

Translate This Blog

Copyright © আদনানের ব্লগ Design by BTDesigner | Blogger Theme by BTDesigner | Powered by Blogger